প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ এএম

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের মতো রোগ ছড়াতে সক্ষম একটি আক্রমণাত্মক মশার প্রজাতি লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বাড়িতে প্রজনন করছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির এসব মশা এর আগে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হলেও এবারই প্রথম দেশটিতে তাদের প্রজনন করতে দেখা গেছে। সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ুর দেশগুলোতে এই মশার বিস্তার বেশি।


ধারণা করা হচ্ছে, লাগেজ, যানবাহন অথবা গাছপালার সঙ্গে দুর্ঘটনাক্রমে এসব মশা যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। মশার লার্ভা ধ্বংস করতে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মশা ধরার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।


যুক্তরাজ্য হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম। এসব মশার মাধ্যমে কোনো মানুষ আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।


সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে কয়েক দফা তাপপ্রবাহ দেখা গেলেও দেশটির সামগ্রিক জলবায়ু এখনো এডিস ইজিপ্টাইয়ের দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা বলে জানিয়েছে ইউকেএইচএসএ। সংস্থাটি ‘মসকুইটো ওয়াচ’ কর্মসূচির মাধ্যমে মশাগুলো শনাক্ত করেছে। যুক্তরাজ্যে আক্রমণাত্মক মশার প্রজাতি শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।


ইউকেএইচএসএ -এর মেডিকেল এনটোমোলজি বিভাগের প্রধান ড. জোলিয়ন মেডলক বলেন, এসব মশার কারণে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। একই সঙ্গে আশপাশের জনসাধারণের ব্যবহৃত এলাকায় মশা বা তাদের লার্ভা পাওয়া গেছে, এমন প্রমাণও এখন পর্যন্ত নেই।


তিনি বলেন, এ ধরনের আক্রমণাত্মক মশা যুক্তরাজ্যে ভবিষ্যতেও দেখা যেতে পারে। জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মশা দেশটিতে টিকে থাকতে পারছে, এমন ঘটনার খবর আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।


অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের ড. সিজার লোপেজ-কামাচো ঘটনাটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আবিষ্কার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।


বর্তমানে শনাক্ত হওয়া মশাগুলোর লার্ভা ধ্বংস করার পাশাপাশি নজরদারি ও ফাঁদ পেতে মশা ধরার কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


সূত্র: বিবিসি



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩১ পিএম

জেনারেশন জির বিক্ষোভের পর এবার শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাজপথে নেমেছে জেন আলফা বা স্কুল শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


উত্তরপ্রদেশের সমূহি ভাটপুরওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ও নিম্নমানের মধ্যাহ্নভোজনের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। 


সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্ব নিয়ে জেন জি-র নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ধারাবাহিকতায় এই নতুন আন্দোলন শুরু হয়।


সিজেপি গত ১৫ আগস্ট থেকে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীদের মতে, বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিই) ২০০৯ সত্ত্বেও ভারতের বহু সরকারি স্কুলে মৌলিক সুবিধার চরম অভাব রয়েছে।


প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে,, এই গণবিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তরুণ ও এই শিশু শিক্ষার্থীরা ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে নতুন ভোটার হিসেবে প্রভাব ফেলবে।


সূত্র: আল জাজিরা




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী ঢলের এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়েছে। এই দুর্যোগে রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ কক্ষে অনেক কর্মী আটকা পড়েছেন। সেখানে আটকা পড়া কয়েক ডজন কর্মী এখনো জীবিত আছেন বলে নেপাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর অন্তত ৬৩৯ কর্মী এখনো নিখোঁজ আছেন।


গত সপ্তাহে নেপাল ও চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসে সৃষ্ট তীব্র পানির ঢল ও কাদা-পাথরের তোড়ে প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগই ধ্বংস হয়ে যায়।


বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাহাড়ি ঢলটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মাইল (১৬০ কিমি) বেগে নদী উপত্যকা ধরে ৬০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।


এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ।


জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ভবন, পাথর ও পলিমাটি মিলিয়ে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল পাথর ও ঢলের পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলো প্লাবিত করে প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক সুড়ঙ্গ গভীর কাদায় তলিয়ে গেছে।


এসব সুড়ঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা বাতাসের বুদ্‌বুদের (এয়ার পকেট) কারণে শ্রমিকেরা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকতে পারেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এ পর্যন্ত ২৭১ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।




বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ দিন পর আজ শুক্রবার ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।


গত বুধবার কর্মকর্তারা বলেছেন, রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে ৪৬ জন মানুষ এখনো জীবিত আছেন বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ চলছে।


নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের পর্ষদ সদস্য অংশু কিরণ শাহি রয়টার্সকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ পরও তাঁরা বেঁচে আছেন বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। কারণ, ওই ভবনের ভেতরে তাঁদের জন্য খাবার ও পানি ছিল।’ তবে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা কাটছে না। ৬০ বছর বয়সী দুর্গা গুরুংয়ের ভাই ঝাপ্পাদ ভূজেলও একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন।


দ্য গার্ডিয়ানকে দুর্গা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করছি।’ সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


দুর্গা আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ আমাদের কিছুই বলেনি। অনেক দিন পার হয়ে গেছে। এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, অলৌকিক কোনো ঘটনা ছাড়া আমাদের আর কোনো আশা নেই।’


দুর্গা বলেন, ‘আমাদের স্বজনেরা অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতরে বসে আছেন। তাঁরা আর কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারবেন?’


কিরণ শাহি জানিয়েছেন, চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। এর মধ্যে রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে প্রায় ৯০ জন নিখোঁজ আছেন। এসব স্থানে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস থাকার কারণে কর্মীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বেশি।


রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নেপালের রাসুয়া জেলায়, তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া। এখনো সেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব।


অংশু কিরণ শাহি বলেন, এটি একমাত্র প্রকল্প, যেখানে সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব। তিন দিন আগে সেনাবাহিনী সুড়ঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করলেও কক্ষটি খুঁজে পায়নি। আবারও সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।


বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি প্রকল্প আপার ত্রিশূলী-৩এ। সেখানে ঘন কাদার কারণে সুড়ঙ্গের সন্ধান পেতেই উদ্ধারকর্মীদের প্রায় ছয় দিন লেগেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সেখানে ৩০ থেকে ৪০ জন এখনো জীবিত থাকতে পারেন।


নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত ২ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি সেখানে জীবিত মানুষ পাওয়া যাবে। কারণ, আমাদের জানানো হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে একটি শুকনা জায়গা আছে। এখন আমরা সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা করছি।’


এদিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের আশা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ অভিযান চলবে। একই সঙ্গে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।


বাসনেত আরও বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকেও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছেন।


নেপাল পাহাড়জুড়ে জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। দেশটির জন্য এই বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বড়। 


প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, বন্যায় ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হবে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাবে ধারণা করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেল থেকে দুইজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বরফ, পাথর ও কাদার ধসে উপত্যকা বিপর্যস্ত হওয়ার নয় দিন পর তাদের উদ্ধার করা হলো।


উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উজানে হিমবাহ ধসে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়েছিলেন।


নেপালে ওই ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২৫২ জন নিহত হয়েছেন। চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী শহর ও গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও স্কুল ভেসে গেছে। 


এখনো ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চীনের পক্ষ থেকে তিব্বতে ২১ জন নিহত ও ৫৪১ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানানো হয়েছে।


উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন আপার ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


নেপালি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কবির মহার্জনকে মাটির একটি গর্ত থেকে উদ্ধার করে স্ট্রেচারে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন উল্লাস করেন। অপরদিকে সঞ্জয় সাহকে একজন উদ্ধারকর্মীর পিঠে করে টানেলের বাইরে আনা হয়। তার শরীর ও মুখ কাদায় ঢাকা ছিল।


উদ্ধারের পর সেনাবাহিনীর চিকিৎসকেরা টানেলের কাছে একটি তাঁবুতে সঞ্জয় সাহের চিকিৎসা দেন। তাকে অক্সিজেন মাস্ক পরানো অবস্থায় দেখা যায়। 


এক সেনা কর্মকর্তা জানান, ‘তার নাম সঞ্জয় সাহ। তিনি মেকানিক্যাল কন্ট্রোল রুমে কাজ করতেন।’


জ্বালানিমন্ত্রীর এক সহকারী জানান, কবির মহার্জন হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। তবে সঞ্জয় সাহের আঘাত গুরুতর নয়। দুজনকেই চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হবে।


কবিরের ভাই আমির মহার্জন বলেন, এখনো সরকারি কোনো সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে খবর পাইনি। তবে হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে। সংবাদে শুনেছি আমার ভাইকে পাওয়া গেছে। পুরো পরিবার খুবই খুশি।


সূত্র : রয়টার্স 

সর্বশেষ সব খবর

৮৬ টন স্বর্ণ সরাল নেদারল্যান্ডস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ এএম

‘ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার’ কারণ দেখিয়ে উত্তর আমেরিকা থেকে শত শত কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডস। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ডিএনবি)। খবর বিবিসির।


ডিএনবি জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে চলা এক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব স্বর্ণ বর্তমানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। ব্যাংকটির মতে, ‘যেকোনও সংকটময় পরিস্থিতিতে’ সেখান থেকে এই মূল্যবান ধাতু আরও সহজে লেনদেন করা সম্ভব।


ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লাইপেন জানান, ‘আমাদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিল।’


যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত সামনে এলো। বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশই একে অপরের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।


ডিএনবি জানায়, মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে চলা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নিউইয়র্ক ও অটোয়া থেকে ২৭ টন স্বর্ণের বার নেদারল্যান্ডসের জাইস্ট শহরে সরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ঠিক একই পরিমাণের স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়। এক্ষেত্রে স্বর্ণর বারগুলো গলানোর কোনও প্রয়োজন পড়েনি।


আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ঠিক কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পরিবহন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ব্যাংকটি জানায়, বাকি অংশটি নিউইয়র্কে বিক্রি করে পরবর্তীতে আবার লন্ডন থেকে তা কিনে নেয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কেনাবেচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি পরিবহনের সমন্বয় ঘটানোর ফলে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ স্থানান্তরের মতো জটিল কাজের ঝুঁকি এড়ানো গেছে।’


‘ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে সম্পর্কে ডিএনবি স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। 


তবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে এক অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাণিজ্যেও। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কারণে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও গাড়ি শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে আগস্টে কানাডার প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।


ডিএনবি জানায়, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত স্বর্ণকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সহজে লেনদেনযোগ্য স্বর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়’। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় মজুত থাকার চেয়ে যেকোনও সংকটে এসব স্বর্ণ আরও দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব।

সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ পিএম

বাস্তুচ্যুত হয়ে বিদেশে অবস্থান করা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের এই প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে। 


তবে ‘রোহিঙ্গা’ নামে দেশটিতে কোনো জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেছে তারা। মালয়েশিয়া থেকে দেড় হাজার মানুষের আসন্ন প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশের পর মিয়ানমার সরকার থেকে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হলো।


মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও বলেছে, তারা নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এ কারণে দেশে ফেরানোর রোহিঙ্গারা আবারও বিপদে পড়তে পারে।


জুলাই মাসে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, মিয়ানমার পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারে এই গোষ্ঠীটি চরম সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।


দুই দেশই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রথম ধাপে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবে মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিক। তবে এর মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যাচাই-বাছাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’


২০১৭ সালে শুরু হওয়া সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যায়। এর ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি গণহত্যার মামলা চলছে। সীমান্ত পেরিয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থীশিবিরে বসবাস করছে। তবে তাদের দেশে ফেরানোর আলোচনা খুব সামান্যই এগিয়েছে।


এর বাইরে আরও ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় বাস করছে। সেখানে মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত নাগরিকেরাও রয়েছে। মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আলাদা কোনো ঐতিহ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের বংশধর। এমনকি তারা ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতেও রাজি নয়।


আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও তাদের সেই পুরোনো দাবি তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি দিয়ে এমন এক জাতিগত পরিচয়ের মিথ্যা দাবি করা হয়, যার অস্তিত্ব মিয়ানমারে কখনোই ছিল না। এ ছাড়া সম্প্রতি কয়েকটি দেশে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ পালনেরও নিন্দা জানিয়েছে তারা।


মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, দেশে ফিরলে ‘যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বা জীবনের ঝুঁকি থাকে’, তবে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠাবে না তাঁর দেশ।


কিন্তু অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, যেই দেশে রোহিঙ্গাদের পরিচয়ই মুছে ফেলা হয়েছে, সেখানে তাদের ফেরত পাঠালে নতুন করে আবার নির্যাতনের পথ তৈরি হবে।


গতকাল বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ বর্তমানে (মিয়ানমারে) নেই।’


মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসীকে আটককেন্দ্রে (ডিটেনশন সেন্টার) আটকে রাখা হয়েছে। তাই দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি তারা স্বাধীনভাবে নিতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ সব খবর

জোহরান মামদানি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪২ পিএম

শিশুদের শিক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর। বুধবার শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এক বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। 


যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই স্কুল বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তটি সারা দেশেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়বে পাবলিক স্কুলের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর। তবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ হলেও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা (যাদের বয়স সাধারণত ১৪ বা তার বেশি) সীমিত কিছু পাইলট প্রোগ্রামে এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং তাদের বছরে দুবার এআই সাক্ষরতা ক্লাস করানো হবে।


বিশেষভাবে মানসিক সহায়তার জন্য ডিজাইন করা কম্প্যানিয়ন চ্যাটবটগুলো সব গ্রেডেই (শ্রেণি) নিষিদ্ধ থাকবে।


এক বিবৃতিতে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘প্রযুক্তি শিল্প আমাদের এটা বিশ্বাস করাতে চায় যে, এআই-চালিত প্রারম্ভিক শিক্ষা (আর্লি এডুকেশন) কেবল অনিবার্যই নয়, বরং প্রয়োজনীয়। আমরা বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘শিখতে এবং বেড়ে উঠতে শিশুদের শিক্ষক এবং মানবিক সংযোগের প্রয়োজন। তাদের সহপাঠীদের সাথে দক্ষতা বিকাশ করতে হবে, শিক্ষকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং নিজেদেরই কঠিন সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে হবে।’ 


তবে শিক্ষকরা পাঠ পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য এখনও এআই ব্যবহারের অনুমতি পাবেন।


২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ জুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স তাদের ফলাফল প্রকাশের আগে এই স্থগিতাদেশের প্রভাব মূল্যায়ন করতে মিলিত হবে।


নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল বুধবার বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি যেন আমাদের শিশুদের এবং তাদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে বরং তাদের সহায়তা করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে।


সূত্র: এএফপি

সর্বশেষ সব খবর