ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ এএম

জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন থাকা হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।


ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, এ হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে গেছে।


তবে হামলায় কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান।


এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’–এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ক্যাম্পটির বেশ কয়েকটি স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস করা হয়েছে।


আইআরজিসি বলেছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।


এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।


জর্ডানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক মুখপাত্র বলেন, অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে। এতে কোনো হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।


এ ছাড়া আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানের ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন সেনা ব্যারাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সূত্রটি জানায়, মার্কিন বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করেছে।


উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোরও কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম থাকা গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে।


বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।


এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ হামলা প্রতিহত করেছে। এ ঘটনাকে তারা ইরানের আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানান, যেসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কর্তৃক ড্রোন ভূপাতিত করার ফলে হয়েছে।


ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা এবং রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে।


সেনাবাহিনী জানায়, হামলাটি তাদের ‘অপারেশন থান্ডার’ নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপের অংশ। তাদের দাবি অনুযায়ী, শেখ ইসা ঘাঁটিটি পারস্য উপসাগরে মার্কিনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোনের যন্ত্রপাতি ও নজরদারি উড়োজাহাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।


এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে বেশ কিছু এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাই মাসের পর রোববার রাতে প্রথমবার দুই দেশের সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের এ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।


ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আল–জাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এ হামলার জবাবে ইরান যদি পাল্টা আঘাত হানে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ এএম

ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিকে ওই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বুধবার ভোরে কুহেস্তাক শহরের একটি আবাসিক ভবনে হামলাটি চালানো হয়। ইরানের প্রেস টিভিও অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে।


সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে জানান, হামলায় আরও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫০ জন নারী ও শিশু। তাদের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।


ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বক্তব্যও প্রকাশ করেছে। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরপরই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অনেকে আহত হন।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সম্পদ, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ও যোগাযোগকেন্দ্রে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।


মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের হামলার চেষ্টার জবাবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।


সূত্র: আল জাজিরা


ড্যান ড্রিসকল।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। তাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ড্রোন গাই’ বলা হতো। ৪১ বছর বয়সী ড্রিসকল ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আর্মি সেক্রেটারি। বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে তার বিরোধ চলছিল।


হোয়াইট হাউস সিবিএসকে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রিসকল ট্রাম্পের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এবং সামরিক অভিযানে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।


এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সম্প্রতি পদত্যাগ করা উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের তালিকায় ড্রিসকল সর্বশেষ নাম। এর আগে গত এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানও হঠাৎ পদত্যাগ করেন।


এ ছাড়া সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনও পদ ছেড়েছেন।


পেন্টাগনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এক ডজনেরও বেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন, যার মধ্যে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।


ড্রিসকল ও হেগসেথের মধ্যে পর্দার আড়ালের বিরোধের কারণ পরিষ্কার নয়। তবে সিবিএস উল্লেখ করেছে, ড্রিসকল সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, যাকে হেগসেথ পদত্যাগ করতে বলেছিলেন বলে জানা গেছে।


আর্মি সেক্রেটারি মার্কিন সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ বেসামরিক পদ। নিয়মিত সেনাবাহিনী ছাড়াও ন্যাশনাল গার্ড এবং রিজার্ভ ফোর্সের সৈন্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব থাকে এই পদের ওপর।


ড্রিসকল ২০০৭ সালে কর্মকর্তা হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে ইরাকে একটি ক্যাভালরি প্লাটুনের নেতৃত্ব দেন।


আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে ড্রোন ও আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের কারণে তিনি ট্রাম্পের ‘ড্রোন গাই’ হিসেবে পরিচিতি পান।


গত বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


ড্রিসকল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের পরিচয় হয়েছিল ইয়েল ল স্কুলে।


আর্মি সেক্রেটারি থাকাকালীন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং একইসঙ্গে তিনি ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।


নেপালে বন্যায় মৃত্যু ৯০৩

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে; এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। নেপাল সরকারের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে সোমবার এ খবর জানিয়েছে কাঠমান্ডু পোস্ট।


দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) সকাল ৯টায় প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৯০৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।


চিতওয়ান জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর পূর্ব নবলপুরে ২০৭টি এবং পশ্চিম নবলপুরে ১৫১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া নুয়াকোটে ৯৫, গোর্খায় ৬২, ধাদিংয়ে ৫৫, তানাহুনে ৩৭ এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।


গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটির ধস নদীতে পড়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানি ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুতগতিতে নদী উপত্যকা দিয়ে নেমে এসে বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভাসিয়ে নেয়।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানির তীব্র স্রোতে মানুষ ভেসে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরেও মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে।


নিখোঁজের সংখ্যাও বেড়েছে। নুওয়াকোটে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং রাসুয়ায় ৮৬৫ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন, ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।


নিখোঁজদের মধ্যে ৮৩ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তাদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫, নেপাল পুলিশের ২৫ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ সদস্য রয়েছেন।


সরকার জানিয়েছে, বন্যায় ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছয়টি বিশেষায়িত সার্জারি চিকিৎসক দল কাজ করছে।


উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ২০ হাজার ৮১৯ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


তবে বন্যায় নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। বিভিন্ন জেলার ২১টি হাসপাতালে শনাক্ত না হওয়া মরদেহ রাখা হয়েছে।


নিখোঁজ ও শনাক্ত না হওয়া মরদেহের তথ্য নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পেজ এবং নেপাল পুলিশের দুর্যোগবিষয়ক পোর্টালে প্রকাশ করা হচ্ছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০০ পিএম

চার দশকেরও বেশি সময় আগে সাদ্দাম হোসেনের ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইরান। দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি চেয়েছিলেন, ইরাকের শাসক গোষ্ঠীর অবসান ঘটাতে। সাদ্দাম হোসেন তখন ওয়াশিংটনের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছিলেন। ইরাকের ওই সংঘাত আধুনিক সময়ের ইরানের জন্য বেশ গুরুত্ব বহন করে। ওই সংঘাতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের মতাদর্শই এখন তেহরানের ক্ষমতার মসনদে আধিপত্য বিস্তারি অবস্থানে রয়েছে। 


ইরাক সংঘাতের সময় ইরানের অবস্থান ছিল অনেকটা এ রকম- কে কত ক্ষমতাশীল তা এখানে বিষয় না, যে যত দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে, সে বিজয়ী হবে। ওই যুদ্ধের পর অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। 


গত ছয় মাস ধরে চলছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ। তবে এখনও তেহরানের অবস্থান আগের মতোই আছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়টি নিয়ে ইরানের ভেতরে তৈরি হয়েছে বিভক্তি। এক পক্ষ চায় বর্তমান অবস্থান থেকে বিজয় ঘোষণা করে সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে ফেলতে। অন্য পক্ষ চায় বিষয়টিকে আরও টেনে নিয়ে যেতে। বিজয় ঘোষণা করে সব অবসানের পক্ষে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্য পক্ষে রয়েছে কট্টরপন্থিরা। মধ্যপন্থিরা প্রকাশ্যেই সতর্ক করেছেন- সংঘাত নিরসনের সময় ফুরিয়ে আসছে। 


চলতি মাসে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘যুদ্ধ একটা সময়ে শেষ হতে হবে। এটি আজ শেষ হওয়াই ভালো, যখন আমরা দৃঢ়তা ও সম্মানের অবস্থানে রয়েছি এবং পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করে নিচ্ছে।’ 


তবে কট্টরপন্থিদের বিশ্বাস, ওয়াশিংটন ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েই এসেছে। তারা আপসে রাজি নন। উল্টো নিজেদের কর্মকর্তাদের ‘পশ্চিমঘেঁষা’ বলে সমালোচনা করে জনমত নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।


লন্ডনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত অনির্ভরযোগ্য একটি সত্তা হিসেবে দেখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মনোভাব হলো, যুদ্ধে না হারার অর্থ তারা জিতেছে।’


কট্টরপন্থিরা পেজেশকিয়ানকে দুর্বল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখে। তাদের মতে, আগের প্রেসিডেন্ট বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার কারণে দৈবক্রমে পেজেশকিয়ান ওই পদে আসীন হয়েছেন। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে।


কট্টরপন্থিরা অভিযোগ তুলেছেন, কর্মকর্তারা ইচ্ছা করে অর্থনৈতিক সংকটকে ভুল পথে পরিচালিত করে জনসাধারণকে চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করছেন। অনেকে আবার অভিযোগ তুলেছেন, সরকার জ্বালানি সংকট তৈরি করে সমঝোতাকে আবশ্যক করে তুলছে।


এদিকে ট্রাম্পও মধ্যপন্থিদের বেকায়দায় ফেলছেন বারবার। এই মুহূর্তে তিনি বলছেন, ইরানকে তিনি মহান করবেন। আবার পরক্ষণেই বলছেন, ইরানকে বোমা ফেলে ধ্বংস করে দেবেন। সব মিলিয়ে ইরানের ভেতরেই এক ধরনের অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি। অন্যদিকে, এসবের মধ্যে নীরব রয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও। দেখে মনে হচ্ছে, অনির্ভরযোগ্য ট্রাম্পের ওপর ভিত্তি করে তিনি কোনো পক্ষই বেছে নিতে চাইছেন না।


তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মুসলিম বিশ্বকে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘আসল শত্রুর’ বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি শত্রুদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।


ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি এই মন্তব্য করেন। তাঁর বার্তাটি ইসলামিক ইউনিটি উইক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছে। নিজ বার্তায় তিনি বলেন, যারাই মুসলিমদের মধ্যে ‘জেনে বা না জেনে’ বিভক্তি তৈরি করছে, তারাই ইসলামের শত্রুদের সহায়তা করছে। খামেনি প্রশ্ন রাখেন, ফিলিস্তিনিরা ‘এত অসহায়’ অবস্থায় থাকত কিনা, যদি মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য থাকত।


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রকাশ্যে আসেননি মোজতবা খামেনি। তাঁর বাবা ও পরিবারের ওপর হওয়া ওই হামলা দিয়েই সূচনা হয় ইরান যুদ্ধের। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, গত শুক্রবার একই ধরনের বিবৃতি তিনি ইরানিদের উদ্দেশ করেও দিয়েছেন। 


অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট। টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যখন সংকট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে, তখন বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটবে না ভাবলে বোকামি হবে। কেন্টের মতে, পুরো বিষয়টিই বাস্তবসম্মত। 


এর আগে কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া স্পেশাল ফোর্সেস ও সিআইএতেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানে পারমাণবিক আঘাত হানার আভাস দিয়েছিলেন। 


তিনি সেই সময় হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের দাবি না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। কেন্ট মনে করছেন, ওয়াশিংটন যদি আগের মতো এখনও ইরানে শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটাতে ও দেশটির নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চায়, তাহলে শুধু দুটি পথ খোলা রয়েছে ট্রাম্পের হাতে। এর প্রথমটি হলো, স্থল অভিযান, আর দ্বিতীয়টি পারমাণবিক হামলা।


  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। 


আজ সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে এসেছে।


হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় জাহাজ কোম্পানিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রণালিটি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ হামলার শিকার হওয়া এড়াতে কিছু জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ করে রাখে।


পণ্য বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো ছিল ছোট আকারের। এগুলোর মধ্যে দুটি ছিল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবহনকারী জাহাজ।


জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, এর একটি ইরানের দিকের পথ দিয়ে প্রণালি থেকে বেরিয়ে গেছে, আর অন্যটি রাতের আঁধারে প্রণালি পার হয়ে ভারত অভিমুখে চলে গেছে।


এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মোট ১৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে একটি ছিল ২০ লাখ ব্যারেল কাতারি অপরিশোধিত তেলবোঝাই বিশাল আকারের ট্যাংকার, যেটি জাহাজটির অবস্থান শনাক্তকারী সংকেত যন্ত্র বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই প্রণালি থেকে বেরিয়ে গেছে।


যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) গতকাল রোববার জানায়, গত শনিবার হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে ওই সংস্থার জানানো তৃতীয় হামলার ঘটনা।


গতকাল রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রথম হামলা। হামলায় সেনা ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে জানিয়ে সেদিনই এর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।


গতকাল রোববার দিবাগত রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে ইরান। জর্ডানের সামরিক বাহিনী আজ সোমবার জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।


সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ সোমবার ভোরে জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে।’


  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১৪ পিএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর এক নারী ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ওই নারীর কান্না ও অসহায় অবস্থার একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।


ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ 


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী ২৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম কল্পনা মিশ্র। প্রথম সন্তান জন্ম দিতে গত ২৫ আগস্ট রাতে তাকে রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। এর কিছুক্ষণ পরই কল্পনা ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়।


মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে কল্পনাকে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে কাঁদতে ও চিৎকার করতে দেখা যায়। তিনি স্বজনদের কাছে যেতে চাইছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কয়েকজন নার্স তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করছিলেন।


ভিডিওতে কল্পনাকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বাঁচব না। দয়া করে আমাকে বাঁচান, আমার জীবন ঝুঁকিতে।’


পরিবারের অভিযোগ, কল্পনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকরা যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি। তার বাবা রামশরণ মিশ্রের দাবি, তিনি বারবার চিকিৎসকদের কাছে মেয়েকে দেখার ও তার অবস্থা পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করেছিলেন; কিন্তু সেই অনুরোধ যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।


পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কল্পনার আর জ্ঞান ফেরেনি। অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।


মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন কল্পনার বাবা। তিনি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।


ঘটনার পর কল্পনার স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তারা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। প্রায় চার ঘণ্টা হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছিল। পরে হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল ও হাসপাতাল সুপার রাহুল মিশ্র ঘটনাস্থলে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর মরদেহের ময়নাতদন্তে সম্মতি দেয় পরিবার।


এরপর দায়িত্বে থাকা দুই নার্স সাধনা ভার্মা ও সীমা মুজালদেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পুরো ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল বলেন, মা ও শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। পরিবারের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কেন কল্পনার জ্ঞান ফেরেনি, সেটিও তদন্তের অংশ।


তবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের সুপার রাহুল মিশ্র। তিনি বলেন, কল্পনাকে চিকিৎসার নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা হয়নি। তবে পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


এই ঘটনার পেছনে মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জনবল সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ২০২৫-২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রায় ৭২ শতাংশ পদই খালি।


রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ৫ হাজার ৪৪৩টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ৪৯৫ জন। খালি রয়েছে ৩ হাজার ৯৪৮টি পদ। চিকিৎসক সংকট শুধু বিশেষজ্ঞ পর্যায়েই নয়। মেডিকেল অফিসারের ৬ হাজার ৫১৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২ হাজার ৬৮৯টি পদও খালি।