ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী ঢলের এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়েছে। এই দুর্যোগে রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ কক্ষে অনেক কর্মী আটকা পড়েছেন। সেখানে আটকা পড়া কয়েক ডজন কর্মী এখনো জীবিত আছেন বলে নেপাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর অন্তত ৬৩৯ কর্মী এখনো নিখোঁজ আছেন।


গত সপ্তাহে নেপাল ও চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসে সৃষ্ট তীব্র পানির ঢল ও কাদা-পাথরের তোড়ে প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগই ধ্বংস হয়ে যায়।


বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাহাড়ি ঢলটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মাইল (১৬০ কিমি) বেগে নদী উপত্যকা ধরে ৬০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।


এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ।


জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ভবন, পাথর ও পলিমাটি মিলিয়ে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল পাথর ও ঢলের পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলো প্লাবিত করে প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক সুড়ঙ্গ গভীর কাদায় তলিয়ে গেছে।


এসব সুড়ঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা বাতাসের বুদ্‌বুদের (এয়ার পকেট) কারণে শ্রমিকেরা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকতে পারেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এ পর্যন্ত ২৭১ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।




বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ দিন পর আজ শুক্রবার ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।


গত বুধবার কর্মকর্তারা বলেছেন, রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে ৪৬ জন মানুষ এখনো জীবিত আছেন বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ চলছে।


নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের পর্ষদ সদস্য অংশু কিরণ শাহি রয়টার্সকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ পরও তাঁরা বেঁচে আছেন বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। কারণ, ওই ভবনের ভেতরে তাঁদের জন্য খাবার ও পানি ছিল।’ তবে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা কাটছে না। ৬০ বছর বয়সী দুর্গা গুরুংয়ের ভাই ঝাপ্পাদ ভূজেলও একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন।


দ্য গার্ডিয়ানকে দুর্গা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করছি।’ সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


দুর্গা আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ আমাদের কিছুই বলেনি। অনেক দিন পার হয়ে গেছে। এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, অলৌকিক কোনো ঘটনা ছাড়া আমাদের আর কোনো আশা নেই।’


দুর্গা বলেন, ‘আমাদের স্বজনেরা অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতরে বসে আছেন। তাঁরা আর কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারবেন?’


কিরণ শাহি জানিয়েছেন, চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। এর মধ্যে রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে প্রায় ৯০ জন নিখোঁজ আছেন। এসব স্থানে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস থাকার কারণে কর্মীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বেশি।


রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নেপালের রাসুয়া জেলায়, তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া। এখনো সেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব।


অংশু কিরণ শাহি বলেন, এটি একমাত্র প্রকল্প, যেখানে সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব। তিন দিন আগে সেনাবাহিনী সুড়ঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করলেও কক্ষটি খুঁজে পায়নি। আবারও সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।


বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি প্রকল্প আপার ত্রিশূলী-৩এ। সেখানে ঘন কাদার কারণে সুড়ঙ্গের সন্ধান পেতেই উদ্ধারকর্মীদের প্রায় ছয় দিন লেগেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সেখানে ৩০ থেকে ৪০ জন এখনো জীবিত থাকতে পারেন।


নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত ২ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি সেখানে জীবিত মানুষ পাওয়া যাবে। কারণ, আমাদের জানানো হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে একটি শুকনা জায়গা আছে। এখন আমরা সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা করছি।’


এদিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের আশা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ অভিযান চলবে। একই সঙ্গে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।


বাসনেত আরও বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকেও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছেন।


নেপাল পাহাড়জুড়ে জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। দেশটির জন্য এই বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বড়। 


প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, বন্যায় ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হবে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাবে ধারণা করা হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেল থেকে দুইজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বরফ, পাথর ও কাদার ধসে উপত্যকা বিপর্যস্ত হওয়ার নয় দিন পর তাদের উদ্ধার করা হলো।


উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উজানে হিমবাহ ধসে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়েছিলেন।


নেপালে ওই ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২৫২ জন নিহত হয়েছেন। চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী শহর ও গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও স্কুল ভেসে গেছে। 


এখনো ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চীনের পক্ষ থেকে তিব্বতে ২১ জন নিহত ও ৫৪১ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানানো হয়েছে।


উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন আপার ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


নেপালি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কবির মহার্জনকে মাটির একটি গর্ত থেকে উদ্ধার করে স্ট্রেচারে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন উল্লাস করেন। অপরদিকে সঞ্জয় সাহকে একজন উদ্ধারকর্মীর পিঠে করে টানেলের বাইরে আনা হয়। তার শরীর ও মুখ কাদায় ঢাকা ছিল।


উদ্ধারের পর সেনাবাহিনীর চিকিৎসকেরা টানেলের কাছে একটি তাঁবুতে সঞ্জয় সাহের চিকিৎসা দেন। তাকে অক্সিজেন মাস্ক পরানো অবস্থায় দেখা যায়। 


এক সেনা কর্মকর্তা জানান, ‘তার নাম সঞ্জয় সাহ। তিনি মেকানিক্যাল কন্ট্রোল রুমে কাজ করতেন।’


জ্বালানিমন্ত্রীর এক সহকারী জানান, কবির মহার্জন হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। তবে সঞ্জয় সাহের আঘাত গুরুতর নয়। দুজনকেই চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হবে।


কবিরের ভাই আমির মহার্জন বলেন, এখনো সরকারি কোনো সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে খবর পাইনি। তবে হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে। সংবাদে শুনেছি আমার ভাইকে পাওয়া গেছে। পুরো পরিবার খুবই খুশি।


সূত্র : রয়টার্স 

সর্বশেষ সব খবর

৮৬ টন স্বর্ণ সরাল নেদারল্যান্ডস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ এএম

‘ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার’ কারণ দেখিয়ে উত্তর আমেরিকা থেকে শত শত কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডস। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ডিএনবি)। খবর বিবিসির।


ডিএনবি জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে চলা এক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব স্বর্ণ বর্তমানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। ব্যাংকটির মতে, ‘যেকোনও সংকটময় পরিস্থিতিতে’ সেখান থেকে এই মূল্যবান ধাতু আরও সহজে লেনদেন করা সম্ভব।


ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লাইপেন জানান, ‘আমাদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিল।’


যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত সামনে এলো। বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশই একে অপরের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।


ডিএনবি জানায়, মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে চলা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নিউইয়র্ক ও অটোয়া থেকে ২৭ টন স্বর্ণের বার নেদারল্যান্ডসের জাইস্ট শহরে সরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ঠিক একই পরিমাণের স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়। এক্ষেত্রে স্বর্ণর বারগুলো গলানোর কোনও প্রয়োজন পড়েনি।


আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ঠিক কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পরিবহন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ব্যাংকটি জানায়, বাকি অংশটি নিউইয়র্কে বিক্রি করে পরবর্তীতে আবার লন্ডন থেকে তা কিনে নেয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কেনাবেচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি পরিবহনের সমন্বয় ঘটানোর ফলে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ স্থানান্তরের মতো জটিল কাজের ঝুঁকি এড়ানো গেছে।’


‘ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে সম্পর্কে ডিএনবি স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। 


তবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে এক অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাণিজ্যেও। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কারণে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও গাড়ি শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে আগস্টে কানাডার প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।


ডিএনবি জানায়, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত স্বর্ণকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সহজে লেনদেনযোগ্য স্বর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়’। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় মজুত থাকার চেয়ে যেকোনও সংকটে এসব স্বর্ণ আরও দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব।

সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ পিএম

বাস্তুচ্যুত হয়ে বিদেশে অবস্থান করা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের এই প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে। 


তবে ‘রোহিঙ্গা’ নামে দেশটিতে কোনো জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেছে তারা। মালয়েশিয়া থেকে দেড় হাজার মানুষের আসন্ন প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশের পর মিয়ানমার সরকার থেকে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হলো।


মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও বলেছে, তারা নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এ কারণে দেশে ফেরানোর রোহিঙ্গারা আবারও বিপদে পড়তে পারে।


জুলাই মাসে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, মিয়ানমার পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারে এই গোষ্ঠীটি চরম সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।


দুই দেশই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রথম ধাপে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবে মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিক। তবে এর মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যাচাই-বাছাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’


২০১৭ সালে শুরু হওয়া সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যায়। এর ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি গণহত্যার মামলা চলছে। সীমান্ত পেরিয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থীশিবিরে বসবাস করছে। তবে তাদের দেশে ফেরানোর আলোচনা খুব সামান্যই এগিয়েছে।


এর বাইরে আরও ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় বাস করছে। সেখানে মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত নাগরিকেরাও রয়েছে। মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আলাদা কোনো ঐতিহ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের বংশধর। এমনকি তারা ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতেও রাজি নয়।


আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও তাদের সেই পুরোনো দাবি তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি দিয়ে এমন এক জাতিগত পরিচয়ের মিথ্যা দাবি করা হয়, যার অস্তিত্ব মিয়ানমারে কখনোই ছিল না। এ ছাড়া সম্প্রতি কয়েকটি দেশে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ পালনেরও নিন্দা জানিয়েছে তারা।


মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, দেশে ফিরলে ‘যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বা জীবনের ঝুঁকি থাকে’, তবে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠাবে না তাঁর দেশ।


কিন্তু অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, যেই দেশে রোহিঙ্গাদের পরিচয়ই মুছে ফেলা হয়েছে, সেখানে তাদের ফেরত পাঠালে নতুন করে আবার নির্যাতনের পথ তৈরি হবে।


গতকাল বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ বর্তমানে (মিয়ানমারে) নেই।’


মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসীকে আটককেন্দ্রে (ডিটেনশন সেন্টার) আটকে রাখা হয়েছে। তাই দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি তারা স্বাধীনভাবে নিতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ সব খবর

জোহরান মামদানি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪২ পিএম

শিশুদের শিক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর। বুধবার শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এক বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। 


যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই স্কুল বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তটি সারা দেশেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়বে পাবলিক স্কুলের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর। তবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ হলেও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা (যাদের বয়স সাধারণত ১৪ বা তার বেশি) সীমিত কিছু পাইলট প্রোগ্রামে এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং তাদের বছরে দুবার এআই সাক্ষরতা ক্লাস করানো হবে।


বিশেষভাবে মানসিক সহায়তার জন্য ডিজাইন করা কম্প্যানিয়ন চ্যাটবটগুলো সব গ্রেডেই (শ্রেণি) নিষিদ্ধ থাকবে।


এক বিবৃতিতে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘প্রযুক্তি শিল্প আমাদের এটা বিশ্বাস করাতে চায় যে, এআই-চালিত প্রারম্ভিক শিক্ষা (আর্লি এডুকেশন) কেবল অনিবার্যই নয়, বরং প্রয়োজনীয়। আমরা বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘শিখতে এবং বেড়ে উঠতে শিশুদের শিক্ষক এবং মানবিক সংযোগের প্রয়োজন। তাদের সহপাঠীদের সাথে দক্ষতা বিকাশ করতে হবে, শিক্ষকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং নিজেদেরই কঠিন সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে হবে।’ 


তবে শিক্ষকরা পাঠ পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য এখনও এআই ব্যবহারের অনুমতি পাবেন।


২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ জুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স তাদের ফলাফল প্রকাশের আগে এই স্থগিতাদেশের প্রভাব মূল্যায়ন করতে মিলিত হবে।


নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল বুধবার বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি যেন আমাদের শিশুদের এবং তাদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে বরং তাদের সহায়তা করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে।


সূত্র: এএফপি

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

নেপালের জন্য সাধারণত বর্ষা মৌসুমই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়। এ সময় ভারী বৃষ্টিতে দেশটির নদীগুলো ফুলেফেঁপে ওঠে। ‘রান অব দ্য রিভার’ অর্থাৎ নদীর পানি দিয়ে চালিত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তখন উৎপাদন বাড়ে। যার ফলে নেপাল নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে বিক্রি করতে পারে। আর সেই নদীই এবার হয়ে উঠল বিপর্যয়ের উৎস।


গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। যার ফলে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রপ্তানিও কমিয়ে ফেলতে হয়েছে দেশটিকে। এ দিকে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সম্প্রতি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া শুরু করেছিল বাংলাদেশ। বন্যায় সেটিও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।


কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে ২ হাজার ৯৩২ কোটি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ আমদানি করেছে দেশটি। ফলে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের নিট উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি।


বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করত। এখন তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। শুষ্ক শীত মৌসুমে, বিশেষ করে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকার পর নেপাল যখন নিজেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন এই বিঘ্ন দেখা দিল।


২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো। গত সপ্তাহ থেকে দুটি প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।


চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। অন্যদিকে ত্রিশূলী প্রকল্পের অনুমোদন ছিল ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। ভারত হয়ে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পেয়েছিল নেপাল। আর বাংলাদেশে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য ডলারে পায় দেশটি।


নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রকল্পের বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে আমরা ভারতকে অনুরোধ করেছি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্য।’


তবে ক্ষয়ক্ষতি শুধু এই দুটি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নেই। বন্যার পর থেকে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।


সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুঙ্গি প্রকল্পকে ‘আইসোলেটেড মোডে’ রেখেছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এর অর্থ, প্রকল্পগুলো জাতীয় গ্রিডের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং শুধু আশপাশের এলাকার চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।


তবে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বিঘ্ন শুধু বন্যার কারণে হয়নি। যে সময়ে নেপাল সাধারণত ভারতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি করে, সেই সময়েও ভারত তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদন নবায়ন না করায় দেশটি ওই প্রকল্পগুলো থেকে ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না।


৩৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ জুন শেষ হয়েছে। তবে তা এখনো নবায়ন করা হয়নি। ২৪ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সেতি রিভার এবং ১০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার তাদি খোলা প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ জুলাই।


অনুমোদনগুলো নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রকল্প তিনটির সম্মিলিত ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতে বিক্রি করতে পারবে না। এসব অনুমোদন প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়।


ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ আমদানি ও রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি করার আগে নেপালকে ওই সংস্থার অনুমোদন নিতে বা বিদ্যমান অনুমোদন নবায়ন করতে হয়।


নেপাল বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করলেও এই সমস্যাটি দেশটির সামনে থাকা সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে।


এ পর্যন্ত নেপাল ৩৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। চিলিমে ও ত্রিশূলীও এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল।


নেপাল ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের ডে-অ্যাহেড ও রিয়েল-টাইম বাজারের মাধ্যমে ভারতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে। এ ছাড়া ভারতের হরিয়ানা ও বিহার রাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মধ্যমেয়াদি বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তির আওতায়ও বিদ্যুৎ বিক্রি করে দেশটি।


৪০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার ঢালকেবর–মুজাফফরপুর সঞ্চালন লাইন এবং ১৩২ কিলোভোল্ট ক্ষমতার তানকপুর–মহেন্দ্রনগর, কাটাইয়া–কুশাহা, রাকসৌল–পরওয়ানীপুর, গান্ধক–রামনগর ও মাইনাহিয়া–সম্পতিয়া সঞ্চালন লাইনসহ বেশ কয়েকটি সংযোগের মাধ্যমে দুই দেশ বিদ্যুৎ বাণিজ্য করে।


বাংলাদেশের বাজার এই ব্যবস্থায় আরও একটি জটিলতার মাত্রা যোগ করেছে।


২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় নেপাল ও বাংলাদেশের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি আরও ২০ মেগাওয়াট বাড়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল।


প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করতেও তারা সম্মত হয়। তবে পরে ভারত জানায়, সঞ্চালন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা সম্ভব নয়।


জুনে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে নেপাল আবারও অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানায়।


৪৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার তামা কোশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদনও চেয়েছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে চীনা বিনিয়োগ, চীনা ঠিকাদার অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে চীনা সরঞ্জাম যুক্ত প্রকল্পগুলোর জন্য ভারতের অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না।


আপার তামা কোশি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রকল্পটির হাইড্রোমেকানিক্যাল, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজের চুক্তি ভারতীয় কোম্পানিগুলো পেলেও বেসামরিক নির্মাণকাজ করেছে একটি চীনা কোম্পানি। এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন এখনো দেয়নি ভারত।


দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি বৈঠকগুলোতে নেপাল বারবার বিষয়টি উত্থাপন করেছে।


আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধটি এমন প্রকল্পের বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে কিন্তু ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ খাত সহযোগিতাবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই—এমন তৃতীয় কোনো দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। তবে নেপালি কর্মকর্তা ও জ্বালানি খাতের অংশীজনেরা বলছেন, চীনা ঠিকাদার বা চীনা সরঞ্জাম যুক্ত প্রকল্প থেকেও বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারত অনিচ্ছুক। এমনকি প্রকল্পগুলোতে চীনা বিনিয়োগ না থাকলেও এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।


তাঁদের যুক্তি, নেপাল যদি বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে চায়, তাহলে কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন হবে।


সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী কুলমান ঘিসিং বলেন, ‘বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন বা নতুন অনুমোদন পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করতে হয়। কখনো কর্মকর্তাদের সঙ্গে, কখনো নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে, আবার কখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আলোচনা করতে হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের আলোচনা করতে হবে এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অনুমোদন পাওয়া ও নবায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।’


ঘিসিং বলেন, তিনি প্রতি ইউনিট ৫ দশমিক ৪৫ ভারতীয় রুপিতে ভারতে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে নেপাল ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে পারেনি।


২০২১ সালে নেপাল বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করার পর এই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। এর মাধ্যমে এমন একটি দেশের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছিল, যে দেশটি আগে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে বন্দুক হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। এএফপি ও এপির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।


পুলিশের মুখপাত্র গ্যারেট পার্টেন জানান, স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর মিনিয়াপোলিসের ডাউনটাউনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। ভবনটির ভেতরে ঢোকার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ হতাহতদের দেখতে পায়।


পার্টেন জানান, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে আরও একজন মারা যান।


হাসপাতালে নেওয়া তিন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হেনেপিন কাউন্টি মেডিকেল সেন্টার জানিয়েছে, তিন পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থাই স্থিতিশীল।


সন্দেহভাজন হামলাকারী কীভাবে মারা গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। হামলার উদ্দেশ্য এবং আহত অন্যদের অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিনিয়াপোলিস কনভেনশন সেন্টারের কাছে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন লক্ষ্য করে পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র তাক করে থাকতে দেখা যায়।


মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ডাউনটাউন মিনিয়াপোলিসে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে রাজ্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।


একই দিন ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়েনসবোরো শহরের ওয়েস্টউড হিলস এলিমেন্টারি স্কুলেও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯ বছর বয়সী এক বন্দুকধারী স্কুলে জোর করে ঢুকে এক কর্মীকে গুলি করে আহত করার পর আত্মহত্যা করে।


এর আগে রোববার ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো ও নিউ জার্সির ট্রেন্টনে পৃথক বন্দুক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ১৮ জন আহত হন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


সূত্র: আলজাজিরা

সর্বশেষ সব খবর