হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের চালানের কাঠের পাটাতনের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার নিরাপত্তা, পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কীভাবে বিদেশ থেকে আসা ফলের চালানের সঙ্গে কার্গো ভিলেজ পর্যন্ত পৌঁছাল, চালানটি কোন কোন ধাপ অতিক্রম করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল-এসব বিষয় এখন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলের চালানের পাটাতনে ১৬ কেজি স্বর্ণ
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিমানবন্দরের বর্তমান আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের গেট ৮(এ)-এর অভ্যন্তরে বিজিএমইএ শেডের পেছনে সন্দেহজনক একটি ফলের চালান শনাক্ত করা হয়। পরে চালানটি স্ক্যান ও ইনভেন্টরির জন্য কাস্টমস হাউস, ঢাকার অধীন এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিটের গেট-৯ এলাকায় নেওয়া হয়।
প্রথম দফায় ফলের চালানের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে চালানটি যে কাঠের সমতল পাটাতনের ওপর রাখা ছিল, সেটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পাটাতনটি স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করলে এর ভেতরে স্বর্ণসদৃশ ধাতব বস্তুর অস্তিত্বের প্রাথমিক আলামত পাওয়া যায়।
এরপর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাঠের পাটাতন খুলে হলুদ রঙের স্কচটেপে মোড়ানো ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন এক কেজি করে। অর্থাৎ মোট ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়। জব্দ তালিকায় বারগুলোর গায়ে সিরিয়াল নম্বর এবং কয়েকটির গায়ে ‘KILO’ লেখা থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্বর্ণ পরীক্ষক দি নিউ ইসলাম জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজুল ইসলাম বারগুলোর ওজন ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে প্রত্যয়ন দেন। ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে স্বর্ণগুলো জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, স্বর্ণের বারগুলো ফলের চালানের কাঠামোর মধ্যে লুকানো ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস চালানটি শনাক্ত করে স্বর্ণ উদ্ধার করে। কার্গো এলাকায় স্ক্যানিং মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানে কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা জড়িত নন বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
নিরাপত্তা নিয়ে কী বলছে বেবিচক
কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তা দুর্বল-এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তবে ১৬ কেজির মতো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ফলের চালানের কাঠের পাটাতনের ভেতরে লুকিয়ে কার্গো এলাকায় পৌঁছানোর ঘটনা বিদ্যমান নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আমদানিকারকসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান Food Link-এর স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চালানটি খালাসের জন্য ASYCUDA World System-এ A. RAZZAQUE TRADING নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্টকে ট্যাগ করা ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিলের নথিতে FASTRACK CARGO SOLUTIONS LTD. নামের একটি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের তথ্যও পাওয়া যায়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মাস্টার ও হাউস এয়ারওয়ে বিলের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্য ১৯ জুলাই ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভের কাছে ডেলিভারি দেওয়া হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহজনক চালানটির প্রাথমিক কার্যক্রমের সময় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে একজন কাস্টমস সরকার উপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ের কার্যক্রম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা প্রতিনিধির বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।
অভিযান ও জব্দ প্রক্রিয়ার ভিডিও ফুটেজও বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় এবং পরে চাহিদার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেনড্রাইভে সরবরাহ করা হয়েছে বলে কাস্টমসের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ফলে চালানটি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কারা এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং কার্গো ভিলেজে প্রবেশ থেকে স্বর্ণ শনাক্ত হওয়া পর্যন্ত এটি কী কী নিরাপত্তা ও ছাড়করণ ধাপ অতিক্রম করেছে-এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত উদ্ধার ৬০ কেজির বেশি স্বর্ণ
কাস্টমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৬০ কেজি ১৮৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের এই তথ্য চোরাচালানের প্রবণতা এবং বিমানবন্দরের কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে একাধিক বড় চালান শনাক্ত হওয়ার পর পণ্য পরীক্ষা, স্ক্যানিং সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ
১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-চাঁদাবাজি, রোস্টার প্রভাবিত করা, পণ্য ছাড়করণে অনিয়ম এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাস, কর্মী নম্বর পি-৩৬৭৩৯-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রটিতে ৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কার্গো শাখার সিএন্ডএফ এজেন্ট, রপ্তানি পণ্যের ফরওয়ার্ডার, হেলপার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ বা চাঁদা আদায় করা হতো। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বদলি, চাকরিচ্যুতি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য ও তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।
চার শিপমেন্টের কাগজপত্র নিয়েও অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বরের একটি ঘটনায় চারটি শিপমেন্টের কাগজপত্র ও এক্সিট নম্বর নিয়ে অনিয়ম হয়েছিল। বিমান কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে দায় নির্ধারণ করা হলেও পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়।
এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিপমেন্টের নথি, এক্সিট রেকর্ড, ডেলিভারি তথ্য এবং তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই প্রয়োজন।
১,৯২১ কেজি পণ্যের হদিস নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগপত্রে চীন থেকে আমদানি করা ইলেকট্রনিক পণ্যের একটি চালান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৭৮৪-৬৯২৫৩৩৬৫-এর অধীনে ৫৬ পিস, মোট ১ হাজার ৯২১ কেজি পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ওই পণ্য সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বের করে নেওয়া হয় এবং পরে পণ্যগুলোর হদিস পাওয়া যায়নি। এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও কাস্টমসের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
অভিযোগে এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৬১৯-১০৭৭১৬৮১-এর অধীনে ১৩২ পিস এবং প্রায় ৩ হাজার ২৩৯ কেজি কার্গো পণ্য ছাড়করণ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জাল কাগজপত্র ব্যবহার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে ওই পণ্য ছাড় করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে মইনউদ্দিন লোটাস ডেলিভারি গেটে দায়িত্বে ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিল, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, কাস্টমস ডকুমেন্ট, ডেলিভারি রেকর্ড, এক্সিট নম্বর এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
‘বকশিশ’ নেওয়ার বক্তব্য
অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত বলে দাবি করা হাতে লেখা দুটি বক্তব্যেও কার্গোতে অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে টাকা পাওয়ার প্রসঙ্গ রয়েছে।
মো. আলী-আশরাফুজ্জামান, জি-৫২৭৯৬-এর নামে থাকা একটি বক্তব্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সেটিকে কাজের বিনিময়ে ‘বকশিশ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে মোরশেদ ও আশরাফের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
অন্য একটি বক্তব্যে কার্গো হেলপার খোরশেদ আলম, জি-৫২৫০৯-এর নামে অতিরিক্ত কাজ, নাইট চেকিং ও মালামাল লোডিংয়ের সঙ্গে বকশিশ পাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।
রোস্টার ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও অভিযোগ
কার্গো বিভাগের রোস্টার প্রণয়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেকশনে বারবার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং স্বাভাবিক রোটেশন অনুসরণ করা হয়নি। নিরাপত্তা বিভাগেও একই এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য অন্তত গত এক বছরের ডিউটি রোস্টার, সংশোধিত রোস্টার, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং দায়িত্ব পরিবর্তনের অনুমোদনপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
যা বলছেন মইনউদ্দিন লোটাস ও বিমান কর্তৃপক্ষ
অভিযোগের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাসের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেননি। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়গুলো যাচাই করছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে মইনউদ্দিন লোটাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সেগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ফলের চালানের কাঠের পাটাতনে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা শুধু একটি চোরাচালান মামলা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চালানটির প্রবেশ, সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং ও ছাড়করণ প্রক্রিয়ায় কারা দায়িত্বে ছিলেন, কোথায় নজরদারির ঘাটতি ছিল এবং কার্গো শাখাকে ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলোর সঙ্গে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার যোগসূত্র রয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতীয় বেতন কমিশন
পদোন্নতির সুযোগ না থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য দুটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা কমানোর জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
নতুন বেতন কাঠামোতে আগের মতোই ১০ ও ৬ বছরের সময়সীমা বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চাকরির ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে ৫ ও ৫ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করে। পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের বঞ্চনা কমাতে এই সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চতর গ্রেড ২০১৫ সালের পে স্কেলের মতোই ১০ ও ৬ বছরের সময়সীমা বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ, পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের পাঁচ বছর পরপর বেতন বাড়ালে সরকারে আর্থিক ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
গত সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ শুরুর জন্য গেজেট প্রকাশের জন্য কাজ করছে অর্থ বিভাগ।
সাবেক অর্থ সচিব ও জাতীয় বেতন কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান গতকাল বুধবার বলেন, উচ্চতর গ্রেডের সময়সীমা কেন কমানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা আছে। অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেটা জানা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে এসআরও জারি না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। নিয়ম বা পরিবর্তনগুলো প্রজ্ঞাপন জারির পরই স্পষ্ট হবে।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারের যেগুলো ব্লক পদ, সেই দপ্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই। তাদের যৌক্তিক সময়ে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধি করা উচিত। কারণ, এটা ছাড়া তাদের বেতন বৃদ্ধির কোনো পথ নেই।
জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী নিম্ন বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারীরা চাকরির ৮, ১০, ১২ ও ১৫ বছর পূর্তিতে চারটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-তে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে চাকরির ১০ ও ৬ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান করা হয়।
কর্মচারী নেতারা জানান, জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা আগের বেতন স্কেলে কর্মচারীদের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়কাল কমিয়ে আনার অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে চাকরির ৫ ও ৫ বছর অন্তর দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন কর্মচারী নেতারা।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম বলেন, একজন কর্মচারী যে পদে চাকরিতে যোগদান করেন, অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে সেই একই পদেই কর্মরত থাকতে হয়। ফলে যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীরা পরবর্তী ধাপে উন্নীত হতে পারেন না।
তিনি বলেন, অর্থ বিভাগ থেকে বেতন কমিশনের সুপারিশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের পদোন্নতি না হলেও নির্দিষ্ট সময় পর আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে জাতীয় পে স্কেল ২০১৫-তে। একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকলেও পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের জন্য দুই দফা উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ রাখা হয় ওই বেতন কাঠামোয়।
জাতীয় পে স্কেল ২০১৫-এর ৭(১) উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করলে এবং তাঁর চাকরি সন্তোষজনক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১১তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। এ ছাড়া ৭(২) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে পদোন্নতি না হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন কর্মচারী। তবে এই সুবিধা নিয়ে কোনো কর্মচারী তৃতীয় বা তার ওপরের গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন না।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর ও শিষ্টের পালনে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা ও ব্যাপক প্রচারণার ওপরও রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে, বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানান। দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন আইজিপি। রাষ্ট্রপতিও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ছবি : সংগৃহীত
গ্যাসের সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরের জন্য লিফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ১ টাকা ৩ পয়সা। এতে সবচেয়ে ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।
জুলাইয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। আগস্টে এক লাফে ৭০ টাকা বাড়ার পর চলতি মাসে সামান্য কমলেও জুলাইয়ের তুলনায় ভোক্তাকে এখনও সিলিন্ডারপ্রতি ৫৭ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে রান্নার জন্য এলপিজির ওপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ায় এই মূল্যের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে মধ্যবিত্তের বাজেটে।
বিইআরসি জানায়, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত (৩৫:৬৫) অনুযায়ী গড় সৌদি সিপি (কার্গো মূল্য) দাঁড়িয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এর সঙ্গে জাহাজভাড়া, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা হিসাব করে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, অন্যান্য সিলিন্ডারের মধ্যে ৫.৫ কেজি ৭২৭ টাকা, ১২.৫ কেজি ১৬৫২ টাকা, ১৫ কেজি ১৯৮২ টাকা, ১৬ কেজি ২১১৩ টাকা, ১৮ কেজি ২৩৭৮ টাকা, ২০ কেজি ২৬৪২ টাকা, ২২ কেজি ২৯০৭ টাকা, ২৫ কেজি ৩৩০৩ টাকা, ৩০ কেজি ৩৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজি ৪৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজি ৪৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৫৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা। এছাড়া রেটিকুলেটেড এলপিজি প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৩৭ পয়সা করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা অপরিবর্তিত রয়েছে।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রোপেন ও বিউটেনের দর (সৌদি সিপি) এবং ডলারের বিনিময় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে আদেশ পুনর্ব্যক্ত করে কমিশন জানিয়েছে—মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক বা খুচরা—কোনো পর্যায়ই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া যাবে না।
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম কমিটি গঠনের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সভাপতি করে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ ফরিদুল কবির তালুকদার, মোহাম্মদ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান চৌধুরী, মোসাম্মৎ শামীমা সুলতানা, মোহাম্মদ গোলাম রসূল, মোহাম্মদ রায়হান সাঈদী।
মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়াকে সভাপতি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, মো. জাহাঙ্গীর আলম মিয়া, মোসা. তাহসিনা রুশদী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, আতিকুর রহমান মুজাহিদ।
রকিবুল ইসলামকে সভাপতি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, হাবিবুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমিন দুলাল, মো. শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং মো. মতিয়ার রহমান।
আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে সভাপতি করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ জসিম উদ্দিন আহমেদ, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, মাছুম মোস্তফা এবং মোহাম্মদ আবু তালিব।
কলিম উদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মো. আবুল খায়ের ভূইয়া, মো. তমিজ উদ্দিন, মো. হারুনুর রশিদ, মোবাশ্বের আলম ভূইয়া, মানসুরা আক্তার, মো. কেরামত আলী, সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
মো. আমানউল্লাহ আমানকে সভাপতি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, ইয়াসের খান চৌধুরী, নরসিংদী-৫ আসনের মো. আশরাফ উদ্দিন, জামালপুর-৩ আসনের মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, মো. মজিবুর রহমান, নিলুফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার।
মোহাম্মদ জি কে গউছকে সভাপতি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সরোয়ার আলমগীর, সুলতানা জেসমিন, মো. মাহবুবুল আলম, মো. আব্দুল আলীম এবং মো. আবুল কালাম আজাদ।
নাসের রহমানকে সভাপতি করে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, সরদার সরফ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, এরশাদুল্লাহ, সুলতানা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং মাহমুদুল্লাহ।
রফিকুল ইসলাম জামালকে সভাপতি করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), মোহাম্মদ শামীম কায়সার আতাউর রহমান খান, নূরুল আমিন, নিপুন রায় চৌধুরী, সূবর্না সিকদার, মো. নূরুল আমিন, মো. আবুল হাসান এবং মো. আব্দুল খালেক।
সেলিমা রহমানকে সভাপতি করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস বেগম।
অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সভাপতি (চেয়ারম্যান) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে ০৫ (পাঁচ) বছর বা তাঁর ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে বহাল থাকবেন।
এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। এরপর পদটি শূন্য হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ পিএসসির ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। একই সঙ্গে মক্কা প্যাক্টের সদস্য দেশগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, ‘বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে কোনো সমস্যা নেই। মক্কা প্যাক্টের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার করতে পারবে।’
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাতারএনার্জি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ বা চুক্তিগত দায়মুক্তির সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পরও বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের এলএনজি জাহাজের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে মক্কা প্যাক্টে ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ইরানি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ইরান মক্কা প্যাক্টকে নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পে হামলা করেছে, কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে হামলা করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, ‘আমরা মক্কা প্যাক্টকে আমাদের বিপক্ষে দেখছি না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আমরা শুধু আমেরিকার ক্যাম্পে আক্রমণ করেছি, ইসলামিক কোনো রাষ্ট্রকে নয়।’
ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা প্যাক্টে আমন্ত্রণ জানানো হলে তাতে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘মক্কা প্যাক্টে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালে ইরান গ্রহণ করবে।’
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও বর্তমানে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।