কলকাতা ভ্রমণের আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেই হোটেলের বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বাংলাদেশি নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগী এং তাদের সফরসঙ্গীদের (অ্যাটেনডেন্ট) ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কলকাতা উপ-হাইকমিশন বলেছে, ১৯ আগস্ট কলকাতায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আবাসনের ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশিদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলকাতায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম চলছে কি না, কক্ষের প্রাপ্যতা এবং অবস্থান সম্পর্কেও যথাযথভাবে জেনে নেওয়ার পর ভ্রমণ করতে বলা হয়েছে।
চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগীদের সফরসঙ্গীদের ক্ষেত্রে হোটেল বুকিংয়ের পাশাপাশি কক্ষের প্রাপ্যতা ও বুকিংয়ের বৈধতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হোটেল থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের দূরত্ব এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও আগেই নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।
উপ-হাইকমিশন বলেছে, কলকাতায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে এসব হোটেল আবার চালু হতে এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় গিয়ে আবাসনের সমস্যায় পড়া এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।
কলকাতায় গত ১৯ অগাস্ট এক আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকসহ নয়জনের মৃত্যুর পর শহরের হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত কলকাতায় যান। বিশেষ করে কলকাতার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ হাসপাতালের আশপাশের হোটেল বা অতিথিশালায় অবস্থান করেন। ফলে অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়া বাংলাদেশিরা বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন।
আজ শুভ জন্মাষ্টমী
আজ শুভ জন্মাষ্টমী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি। হিন্দুধর্মানুসারে, পৃথিবী থেকে দুরাচারী দুষ্টদের দমন আর সজ্জনদের রক্ষার জন্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই দিনে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দ্বাপর যুগের শেষ দিকে এই মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণের এই আবির্ভাবতিথিকে ভক্তরা শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে উদ্যাপন করেন।
রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন মন্দিরে আজ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন ও নামযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। মন্দির ছাড়াও ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে জন্মাষ্টমীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করবেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন।
দেশের হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বাণীতে বলেন, শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন পরোপকারী, দক্ষ রাজনীতিক ও সমাজ সংস্কারক। তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন সত্য, ন্যায়, মানবতা ও কল্যাণের প্রতীক হয়ে।
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে ধর্মীয় কারণে মানুষে মানুষে সংঘাত, হানাহানি ও বিভেদ বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। শ্রীকৃষ্ণের দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের বার্তা ও শিক্ষা সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
কেউ যেন সম্প্রীতির পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রত্যেককে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচি
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় মন্দির শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানিয়েছে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ দেশজুড়ে কর্মসূচি নিয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি দুই দিন অনুষ্ঠানের কর্মসূচি পালন করবে।
আজ সকাল আটটায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় শ্রী শ্রী গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ ও মিশন। বেলা তিনটায় ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। বেলা তিনটায় পলাশীর মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন হবে। এই মিছিল প্রতিবছরের মতো পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। রাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি নিয়েছে।
আজ ইসকনের স্বামীবাগ মন্দিরে সকাল আটটায় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে তাদের কর্মসূচি শুরু হবে। পরে ধারাবাহিকভাবে কীর্তন মেলা, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের রহস্য, আলোচনা সভা হবে। সন্ধ্যায় সন্ধ্যা আরতি ও শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত হবে। মহাভিষেক অনুষ্ঠিত হবে রাত নয়টায়।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনেও জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান শুরু হবে আজ সকালে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে। পরে ভজন ও প্রসাদ বিতরণ হবে। সন্ধ্যায় হবে শ্রীকৃষ্ণপূজা ও শ্রীশ্যামনাম সংকীর্তন। তারপর হবে শ্রীশ্রী মহামায়ার কাঠামো পূজা।
জাতীয় সংসদ অধিবেশন (ছবি-সংগৃহীত)
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন এলিট ফোর্স স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের জন্য জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে র্যাব ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬-ও উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
পরে বিলটি চার দিনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ ও দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ, বিশেষায়িত ও জবাবদিহিমূলক ইউনিট থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার জন্যও এটি প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, র্যাবের সব জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত, দায়, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার এবং নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ও আদালতের কার্যক্রমসংক্রান্ত ২০০৫ সালের বিদ্যমান বিধিমালা কার্যকর থাকবে।
বিল অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক করা হবে।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিলটি উত্থাপন করলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি এসআরবি নামে নতুন এলিট ফোর্স গঠনের আগে সংসদে বিশদ আলোচনার দাবি জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই আহ্বান জানান। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বিতর্ক হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন সেলের কারণে র্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল র্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিএনপিও এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, র্যাব ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এটি বিলুপ্ত করা উচিত। যদি একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়, তাহলে আগে সংসদে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তখন উপদেষ্টা পরিষদে তিনি যদি এই প্রস্তাব দিতেন, তাহলে খুশি হতাম। কিন্তু ১৮ মাসে তার এ কথা মনে হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর। এ কারণে কি আমরা পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব?
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আমরা র্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করি। তিনি বলেন, এটি বিলুপ্ত করা উচিত। নতুন কোনো সংস্থা গঠনের বিষয়ে আরও চিন্তা-ভাবনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা যে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করছি, সেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে... কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত হলে এখন তদন্ত ও বিচারের জন্য একটি সংস্থা থাকবে, যা আগে ছিল না।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর বিলটি চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬
স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬-ও সংসদে উত্থাপন করেন। বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর অধীনে এপিবিএন গঠন ও পরিচালিত হবে।প্রস্তাবিত বিলে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে এপিবিএন সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এই ইউনিটের কোনো সদস্য কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না বা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তবে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো বা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্বার্থে তারা পেশাজীবী সমিতি বা সংগঠনে যোগ দিতে পারবেন। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া এই ইউনিটের কোনো সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করতে, প্রকাশে সহায়তা করতে বা প্রকাশের ব্যবস্থা করতে পারবেন না।
মির্জা আব্বাস
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে যোগ দেন।
এর আগে, তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনে নিজ অফিসে দাপ্তরিক কাজ করেন। পরে হুইলচেয়ারে করে তিনি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'দীর্ঘ ৫ মাস চিকিৎসার পর আপনি দেশে ফিরে এসেছেন। আমরা আপনাকে এই সংসদে স্বাগত জানাচ্ছি।'
বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এক পর্যায়ে মির্জা আব্বাসকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতে মির্জা আব্বাস সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, 'আপনারা জানেন আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন ছিলাম এবং আছি। নির্বাচনের পরপর কোনো এক মিটিংয়ে গুরুতর রোগাক্রান্ত হই। তারপর থেকে আমি বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম, এখনো আছি।'
তিনি বলেন, 'আবেগ-ভালোবাসার কারণে আমাকে আসতে হয়েছে। আমার চিকিৎসা শেষ হয়নি।' এরপর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, 'আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও বিশেষ স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আজ আমি মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি সংসদ সদস্য হিসেবে।'
'এমন আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে? অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে বর্তমান সংসদ যাত্রা শুরু করার পর পরই গত ১১ মার্চ স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। দীর্ঘসময় চিকিৎসার জন্য আমাকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া থাকতে হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসদের অধিবেশনের নিয়মিত উপস্থিত হতে পারিনি। চিকিৎসা শেষে বলা ভুল হবে, আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। চিকিৎসার মাঝপথে প্রথমবারের মতো আমি সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি,' বলেন তিনি।
দোয়া ও খোঁজখবর নেওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ আরও বলেন, 'আমার অসুস্থতার সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সার্বক্ষণিক আমার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। এজন্য আমি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আপনাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।'
স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখেছেন। যদিও আমি আপনাকে দেখতে পারিনি, আমি তখন অচেতন ছিলাম। আমি পরে জেনেছি। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সুন্দর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।'
এরপর আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা আব্বাস আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি শুধু মানুষের মতপার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।'
'আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দেন যেন আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময়টুকু আরও নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারি। ২০০৬ সালের পর আজ আবার এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমি শুধু এই কথা বলতে চাই, আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য,' বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
পুরো সময় পাশে বসা ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান তাকে সহযোগিতা করেন বক্তব্য দিতে।
ছবি : সংগৃহীত
অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে ৩৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৯৬ জনকে আটক করেছে ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার গ্রাদিসকা বর্ডার পুলিশ।
দেশটির সংবাদমাধ্যম সারাজিভো টাইমস ও ফার্স্ট বলকান মিডিয়ায় আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, গ্রাদিসকা বর্ডার পুলিশ দেশটির কনফেডারেশন রিপাবলিকা সের্পস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বুধবার দুটি পৃথক অভিযান চালিয়ে এই ৯৬ জনের বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশের বরাতে খবরে বলা হয়, বুধবার বিকেলের দিকে বিস্ত্রিকা শহরে ৬৩ জনের সীমান্ত অতিক্রমের একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানের এবং ২৩ জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রসিকিউটর অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৌঁসুলির নির্দেশনায় ঘটনাস্থল থেকে দুটি নৌকা জব্দ ও মানবপাচারে জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়।
একই দিন রাতে বিস্ত্রিকা শহরে আরও ৩৩ জনের বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রতিরোধ করা হয়। ওই দলে ১৩ বাংলাদেশি, ১৮ জন আফগান ও ২ পাকিস্তানি ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ঘটনার বিষয়ে ‘সার্ভিস ফর ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স’-এর বানিয়া লুকা ফিল্ড সেন্টারকে অবহিত করা হয়েছে এবং মামলাটির আইনি কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়ি (ইনসেটে মন্ত্রী)
উল্টো পথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে এ ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রাফিক পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, সকাল ৯টার দিকে সার্কিট হাউস সড়কের উল্টো পথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল মন্ত্রীর গাড়িটি। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয়। পরে উল্টো পথে চলার অভিযোগে গাড়িটির বিরুদ্ধে একটি ও চালকের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়। দুই মামলায় তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ‘রেঞ্জ রোভার’ এ গাড়ির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মন্ত্রীর গাড়ি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অতিক্রম করছিল।
ওই ঘটনার সময় গাড়িতে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত ছিলেন। এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের শীর্ষ মহল থেকে আমাদের কাজ করার সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টো পথে চলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এটা নজিরবিহীন। সাধারণ মানুষেরও আইন ভঙ্গ করার আর সুযোগ থাকবে না।’
এদিকে মন্ত্রীর গাড়ি উল্টো পথে চলায় মামলা ঠুকার খবর এদিন সচিবালয়ে ব্যাপক আলোচনার খোরাক জোগায়।
কী বার্তা দিলো পুলিশ
পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে সচিবালয়ে যাওয়া-আসা করছেন। যানজটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছে। সেখানে মন্ত্রী কিংবা সচিবের গাড়ি উল্টোপথে যাওয়ার এই ঘটনার পরিণতি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য একটি বার্তা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা
দেশের ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার অন্য আসামি হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ওই তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের অনুকূলে তহবিল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতিসাধন করে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা ‘পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে’ ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে সংগ্রহ করেন।