হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের দশম দিনের মাথায় আজ শনিবার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপিকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বলেন, ‘এইমাত্র আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।’
এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে ত্রিশূলী-৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁরা দুজনই নেপালের নাগরিক। তাঁদের একজন সঞ্জয় শাহ, অন্যজন কবির মহারাজন। দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত বলেছিলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারেও অভিযান চলছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে গতকাল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সঞ্জয় শাহরও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছিলেনন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকুক। আমরা আশা হারাইনি।
২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ হন শত শত জলবিদ্যুৎকর্মী। তাঁদের মধ্যে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা বলছে, এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জনের বেশি।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগে তিব্বত অংশে ৩১ জন নিহত হয়েছে। ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে দুই দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৭৫ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।
ছবি : সংগৃহীত
ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে কলকাতায় গিয়ে থাকার জায়গা না পেয়ে রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষজন। কলকাতার নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শহরজুড়ে হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় নিউমার্কেট এলাকা ছাড়াও ঠাকুরপুকুর ও মুকুন্দপুরের বহু হোটেল, গেস্টহাউস ও লজে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরের হাসপাতাল এলাকায় আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম সংকটে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কম খরচের অধিকাংশ হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যেসব হোটেল খোলা রয়েছে, সেখানেও অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
থাকার জায়গা না পেয়ে অনেক বাংলাদেশি রোগীর স্বজনকে হাসপাতালের আশপাশের ফুটপাত কিংবা রাস্তার ধারের বিভিন্ন স্থানে রাত কাটাতে দেখা যাচ্ছে। একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও।
বর্ষার মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মশার উপদ্রবের পাশাপাশি ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার আশঙ্কার মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে অসুস্থ রোগীদের স্বজনদের। অনেকের জন্য পর্যাপ্ত স্নান ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই। ফলে তাদের হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু রাস্তার পাশে রাত কাটানোর কারণে যানবাহনের শব্দ, হর্ন এবং শহরের ব্যস্ত পরিবেশে রোগীদের বিশ্রামও ব্যাহত হচ্ছে। এতে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
ঠাকুরপুকুরের হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, রাস্তার ধারে পরপর শুয়ে বা বসে আছেন চিকিৎসা করাতে আসা বহু বাংলাদেশি নাগরিক। কারও মাথার পাশে লাগেজ, কারও পাশে ওষুধপত্র। তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
বাংলাদেশি নাগরিকদের অভিযোগ, কলকাতায় আগে কম খরচে যেসব হোটেলে থাকা যেত, সেগুলোর অনেকগুলোই এখন বন্ধ। আর যেগুলো খোলা রয়েছে, সেখানে ভাড়া তিন গুণ বা তারও বেশি চাওয়া হচ্ছে। ফলে সীমিত সামর্থ্যের মানুষের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের যশোরের বাসিন্দা খুরশিদ আলম শাশুড়ির ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরে এসেছেন। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর হোটেল না পেয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফুটপাতেই রাত কাটাচ্ছেন।
খুরশিদ আলম বলেন, আগে যে হোটেলে তারা থাকতেন, সেখান থেকে হোটেল বন্ধ হয়ে যাবে বলে চলে যেতে বলা হয়েছে। এরপর থেকে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে সারাদিন সেখানে থাকার পর রাতে রাস্তায় এসে সময় কাটাতে হচ্ছে। কত দিন এভাবে থাকতে হবে, সেটিও তারা জানেন না।
কই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারাও। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা দুলাল দাস জানান, তার ছেলের ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে। আগে হোটেলে থেকে চিকিৎসা করালেও এখন থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তাকে রাত কাটাতে হচ্ছে রাস্তার ফুটপাতে।
বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা মোহাম্মদ পাবেলও মায়ের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরে এসেছেন। তিনি বলেন, আশপাশে কোনো হোটেলে জায়গা না পাওয়ায় রাতের পর রাত ফুটপাতেই বসে বা শুয়ে কাটাতে হচ্ছে।
সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’
সোনিয়া গান্ধীর বহুলপ্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ অবশেষে ভারতে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। পাণ্ডুলিপিসংক্রান্ত মতভেদের জেরে দেশের অন্যতম প্রধান প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া সম্প্রতি বইটি প্রকাশের প্রকল্প বাতিল করে দিলেও পাঠকদের হতাশ না করে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশনী সংস্থা হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া এটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে।
পেঙ্গুইন প্রকাশনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার এক সপ্তাহের মাথায় শুক্রবার হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনন্ত পদ্মনাভন সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের খবর জানাচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১০ নভেম্বর পাঠকের হাতে পৌঁছাতে পারে সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত বইটি।
অবশ্য ভারতে প্রকাশনা থেকে পিছিয়ে গেলেও আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে বইটি প্রকাশ করবে তাদেরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান আলফ্রেড এ. নফ। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাণ্ডুলিপির তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সুপারিশ করা প্রকাশকের দায়িত্বের অংশ।
তবে লেখক সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, এমন যুক্তি দেখিয়ে ভারতে বইটি প্রকাশ না করার ঘোষণা দিয়েছিল পেঙ্গুইন। তাদের এমন সিদ্ধান্ত গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেক পাঠক ও বিশ্লেষক অভিযোগ তোলেন সেন্সরশিপের।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বইটি প্রকাশের স্বত্ব নেওয়ায় পাঠক মহলে প্রশংসায় ভাসছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের ‘মেরুদণ্ড থাকা প্রকাশক’ আখ্যা দিয়ে প্রশংসা করছেন।
হার্পারকলিন্স জানিয়েছে, সোনিয়া গান্ধীর এই বইটি কোনো সাধারণ স্মৃতিকথা নয়, বরং বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী রচনা। এতে উঠে এসেছে ভারতের রাজনীতি, প্রেম, পরিচয় ও নিজস্ব দায়িত্বের গভীর ব্যক্তিগত অথচ নাটকীয় মেলবন্ধন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দেশটির প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রধান হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির ইতিহাসেও সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মেলোনি। ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার পর্যন্ত তিনি ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় রয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিরতার জন্য পরিচিত দেশটিতে গত আট দশকে ৬৮টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির দ্বিতীয় সরকারের। এর আগে চার মেয়াদে সবচেয়ে বেশি দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার ইতিহাস গড়েছিলেন প্রয়াত সিলভিও বেরলুসকোনি। তবে কোনো একক মেয়াদে টানা ১ হাজার ৪১২ দিন ক্ষমতায় থাকার যে রেকর্ড বেরলুসকোনির ছিল, তা এবার ছাড়িয়ে গেল মেলোনির কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি।
২০২২ সালের অক্টোবরে দেশটির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন মেলোনি। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বারিতে এই রেকর্ড উদযাপন করা হচ্ছে।
ইতালির সংবাদপত্র ইল সোলে ২৪ ওরে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
ইতালির তরুণ আইনপ্রণেতা গ্রাৎসিয়া দি মাজ্জো এই অর্জনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জর্জিয়া মেলোনি ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং ডানপন্থি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে উঠে আসায় কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা শর্টকাট ছাড়া লড়াই করেই তাকে এ অবস্থানে পৌঁছাতে হয়েছে।
অতীতে বেনিটো মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের কারণে ইতালিতে ডানপন্থি রাজনীতি নিয়ে যে ভীতি ছিল, তা থেকে দলকে দূরে রাখার ঘোষণাও আগেই দিয়েছিলেন মেলোনি।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক
জর্জিয়া মেলোনি সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানকে নতুন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক। রোমা ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকালীন ইতিহাসের শিক্ষক পাওলো কারুসি জানান, সরকারের মেয়াদকাল দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মাপা যায় না। তিনি বলেন, মেলোনি সরকারের দীর্ঘদিন টিকে থাকার পেছনে ২০১৮ সালের নির্বাচনি আইন একটি বড় ভূমিকা রেখেছে, যার সুবাদে ডানপন্থি জোট সহজেই সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এছাড়া সরকারের টিকে থাকার স্বার্থে দলটি তাদের অনেক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকেও সরে এসেছে।
বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক পিয়েরো ইনিয়াজির মতে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এই স্থবিরতা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ও সর্বোচ্চ সরকারি ঋণের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া নাগরিক অধিকার ও প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অন্তত ৫২টি নতুন অপরাধের আইন প্রণয়ন করায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে রয়েছে মেলোনি প্রশাসন।
নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা
ইতালির প্রধানমন্ত্রীর এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় তিনি বন্ধু জর্জিয়া মেলোনিকে যুদ্ধোত্তর ইতালির দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য শুভেচ্ছা জানান। লিখেছেন, ‘এই রেকর্ড থেকেই বোঝা যায় যে, ইতালির মানুষ মেলোনির ওপর কতটা আস্থা রাখেন।’
পাশাপাশি শুভেচ্ছাবার্তায় ভারত ও ইতালির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশের বন্ধুত্ব আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মোদি। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার কথা উল্লেখ করে মোদি লেখেন, ‘আগামী দিনগুলোতে তার (মেলোনি) সাফল্যের ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা জানাই।’
খবর- এএফপি ও আলজাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
পিঠের চুলকানি মেটানোর অভিনব ব্যবসা খুলে মাসে প্রায় ১ লাখ ইউয়ান (১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা) আয় করছেন চীনের শেনজেন শহরের ৩২ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ঝাং শাওছিয়াও। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঝাংয়ের প্রতিষ্ঠিত ‘সুমা’ নামের স্পা-ধর্মী প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকরা নির্ধারিত শয্যায় শুয়ে বিশেষ সুচালো নখযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে পিঠ চুলকানোর সেবা নেন। প্রতি এক ঘণ্টার জন্য গ্রাহকদের গুনতে হয় ৩০০ ইউয়ান (৫ হাজার ৫০০ টাকা)।
শেনজেনের বাওআন ও ফুসিয়ান এলাকায় দুটি শাখা চালু করে অল্প সময়ের মধ্যেই লাভজনক এই ব্যবসার সূচনা করেন ঝাং। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপে থাকা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীরাই মূল গ্রাহক হলেও গ্রাহকদের প্রায় ৭০ শতাংশ পুরুষ এবং বাকিরা নারী।
একটি অনলাইন ভিডিও দেখে এবং শৈশবে বাবার পিঠ চুলকে দেওয়ার স্মৃতির অনুপ্রেরণায় ঝাং এই ধারণাকে ব্যবসায় রূপ দেন। তিনি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সুনির্দিষ্ট কৌশল শেখান যা গ্রাহকদের স্নায়ু শিথিল করে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে।
বর্তমানে সূচনার খরচ তুলে নিয়ে দেশজুড়ে ১০০টি শাখা খোলার স্বপ্ন দেখছেন ঝাং এবং এই কাজটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী চুলকানোর ফলে স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে মস্তিষ্ককে আরামের অনুভূতি দেয়, যদিও দীর্ঘস্থায়ী চুলকানির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। মেরিল্যান্ডের জেলা বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
তিনি বলেছেন, আদেশটি আগের উদ্যোগের মতোই ‘প্রায় নিশ্চিতভাবে’ অসাংবিধানিক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারক বোর্ডম্যান এ আদেশ দেন।
এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের একই ধরনের উদ্যোগকে সংবিধানবিরোধী বলে রায় দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গত ৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশে ‘বার্থ ট্যুরিজমকে’ লক্ষ্য করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে এসে দেশটিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা সাধারণত এ নামে উল্লেখ করা হয়।
আদেশটিতে কয়েকটি শ্রেণির বিদেশি নাগরিকের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে- এমন বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তানদেরও এর আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়।
এই আদেশে বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, আদালতের আওতাভুক্ত শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আদেশ প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক। কারণ সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই ‘বারবারা’ মামলায় সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, ওই শ্রেণির শিশুরা জন্মের সময়ই মার্কিন নাগরিক।
বিচারক আরও বলেন, এসব শিশুর নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন ঠেকাতে আবারও প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা আদালতের দায়িত্ব।
‘বারবারা’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আওতায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সুরক্ষিত।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কী?
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অর্থ হলো- কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যে কোনো ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করবেন। তবে কূটনীতিকদের সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণকারী কোনো বাহিনীর সন্তানদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বছরের পর বছর ধরে একাধিক মামলায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি বহাল রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা হলো ‘যুক্তরাষ্ট্র বনাম ওং কিম আর্ক’। চীনা বাবা-মায়ের ঘরে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে মামলাটি হয়েছিল।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম পরিবর্তন করাও ছিল তার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
ট্রাম্প ও তার মিত্রদের যুক্তি, অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী কিংবা নথিবিহীন অভিবাসীদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য নয়। তাদের দাবি, এসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের অধীনে নয়।
তবে গত জুনে সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও ট্রাম্প প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ করার বিভিন্ন আইনি পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ উদ্যোগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবার। তাদের মধ্যে অ্যাসাইলাম সিকার অ্যাডভোকেসি প্রজেক্টসহ কয়েকটি সংগঠন রয়েছে।
এর আগেও এসব সংগঠন বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যানের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছিল। ওই আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন বন্ধ করা হয়।
গত সপ্তাহে বিচারক বোর্ডম্যান বাদীদের অভিযোগ সংশোধনের নির্দেশ দেন এবং নতুন নির্বাহী আদেশকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে বলেন। একই সঙ্গে প্রথম নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের একই তথ্যের ওপর নির্ভর না করার নির্দেশ দেন তিনি।
তখনই ট্রাম্পের সর্বশেষ উদ্যোগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বোর্ডম্যান। তিনি এটিকে ‘নজিরবিহীন’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। বুধবারের রায়েও তিনি সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আদালতের আওতাভুক্ত শ্রেণির শিশুরা জন্মের সময় থেকেই মার্কিন নাগরিক।
সূত্র: আল-জাজিরা
প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের মতো রোগ ছড়াতে সক্ষম একটি আক্রমণাত্মক মশার প্রজাতি লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বাড়িতে প্রজনন করছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির এসব মশা এর আগে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হলেও এবারই প্রথম দেশটিতে তাদের প্রজনন করতে দেখা গেছে। সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ুর দেশগুলোতে এই মশার বিস্তার বেশি।
ধারণা করা হচ্ছে, লাগেজ, যানবাহন অথবা গাছপালার সঙ্গে দুর্ঘটনাক্রমে এসব মশা যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। মশার লার্ভা ধ্বংস করতে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মশা ধরার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম। এসব মশার মাধ্যমে কোনো মানুষ আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে কয়েক দফা তাপপ্রবাহ দেখা গেলেও দেশটির সামগ্রিক জলবায়ু এখনো এডিস ইজিপ্টাইয়ের দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা বলে জানিয়েছে ইউকেএইচএসএ। সংস্থাটি ‘মসকুইটো ওয়াচ’ কর্মসূচির মাধ্যমে মশাগুলো শনাক্ত করেছে। যুক্তরাজ্যে আক্রমণাত্মক মশার প্রজাতি শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
ইউকেএইচএসএ -এর মেডিকেল এনটোমোলজি বিভাগের প্রধান ড. জোলিয়ন মেডলক বলেন, এসব মশার কারণে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। একই সঙ্গে আশপাশের জনসাধারণের ব্যবহৃত এলাকায় মশা বা তাদের লার্ভা পাওয়া গেছে, এমন প্রমাণও এখন পর্যন্ত নেই।
তিনি বলেন, এ ধরনের আক্রমণাত্মক মশা যুক্তরাজ্যে ভবিষ্যতেও দেখা যেতে পারে। জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মশা দেশটিতে টিকে থাকতে পারছে, এমন ঘটনার খবর আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের ড. সিজার লোপেজ-কামাচো ঘটনাটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আবিষ্কার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে শনাক্ত হওয়া মশাগুলোর লার্ভা ধ্বংস করার পাশাপাশি নজরদারি ও ফাঁদ পেতে মশা ধরার কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি