পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বদলি ট্রাক চালকের নামে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বন্দরে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চালকেরা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে খোয়া যাচ্ছে তাদের হাজার হাজার টাকা। এতে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দাবী সিএনএফ এজেন্টদের। এতে কমে আসবে রাজস্ব আয়। বদলি চালকের নামে সিন্ডিকেট মুক্ত চায় রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা।
রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের অভিযোগ, তাদের কাগজপত্র সবকিছু ঠিক থাকলেও বাংলাবান্ধায় ট্রাক আটকিয়ে দেয় স্থানীয় চালকেরা।তাদেরকে বাধ্য করে বদলি চালক নিতে। তাদের কথা অমান্য করে গেলেও ফুলবাড়ি চেকপোস্টে তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফিরিয়ে দেয় গাড়ী। এতে হয়রানি স্বীকার হতে হয় অনেক বেশী। বদলি চালককে দিলে কেউ কেউ গাড়ি দূর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি করে নিয়ে আসে।
জানা যায়, দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ টি গাড়ীতে রপ্তানি হচ্ছে ভুসি, ঝুট ও শিশু খাদ্য প্রাণের মালামাল।দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চালকেরা আসলে, গাড়ি আটকিয়ে বদলি চালক তুলে দেয় সিন্ডিকেট চক্রটি। ট্রাক প্রতি হাতিয়ে নেয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত।
গাজীপুর থেকে আসা ট্রাক চালক ইকবাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ঢাকা থেকে ট্রাকে পণ্য নিয়ে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত আসছি। এখানে আসে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজের দাম নাই। বদলি চালক দেওয়ার জন্য আটকিয়ে দেয় স্থানীয় শওকত মেম্বার নামের এক ব্যক্তি। পরে তাদেরকে বদলি চালকের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। যদি রাত থাকতে হয় তাহলে আরো ৫০০ টাকা দিতে হবে।গাড়িতে আমি টাকা পাবো ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা, আমার আরো খরচ রয়েছে। সেখান থেকে বদলি চালক দিলে আমার কিছু থাকবেনা।
যশোর থেকে আসা ট্রাক চালক রাহিদুল ইসলাম বলেন, যতবড়ই কাগজ থাকুক কিন্তু গাড়ি নিয়ে পণ্য খালাস করতে যাইতে পারবেননা।আমার ভারী যানবাহন চালকের লাইসেন্স রয়েছে, যশোর থেকে আসছি। কিন্তু আর ১ কিলোমিটার যাইতে পারবোনা। বদলি চালক দেওয়ার নামে আমাদের পেটের ভাত কেরে নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা থেকে আসা ট্রাক চালক নেওয়াজ উদ্দিন, শসসের আলী, মসলিম উদ্দিনসহ আরো অনেকে জানান, গাড়ি বাংলাবান্ধায় পৌঁছানোর পর বদলি চালকদের সিন্ডিকেট চক্রটি গাড়ি আটকিয়ে চালকের স্মার্ট কার্ড খোঁজে। যেখানে স্মার্ট কার্ড সরকার গত কয়েক বছর ধরে দেয়না, সেখানে আমরা কোথায় পাবো। অনলাইন থেকে লাইসেন্স নিয়ে আমরা ব্যবহার করি।
অভিযুক্ত শওকত মেম্বার বলেন,জোর করে কোন বদলি চালক দেওয়া হয়না। যারা নিতে চায় তাদেরকে দেওয়া। বাংলাবান্ধায় ২০০০ ও ২৬৪ শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। সবাই এক সাথে কাজ করছি।
বাংলাবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি কিছু ঝামেলা আছে, আমরা আগামীকালকে
ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে উথুরা ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী ‘সমগ্র দেশব্যাপী শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভালুকার বাস্তবায়নে এ প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
প্রকল্পের আওতায় উথুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯১ লাখ ১৫ হাজার ৫১৫ টাকা। অন্যদিকে, হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩০২ টাকা ৫০ পয়সা। সব মিলিয়ে দুটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু ও গুলজার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ভবন নির্মাণের ফলে উথুরা ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে ভূমিসেবা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, ভূমি অফিস মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাকেন্দ্র। ভালুকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ভূমিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষ যেন এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালুকার মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
নেপালে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি এবং অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে তাঁরা নেপালের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে একটি শোকবার্তা প্রদান করেন।
শোকবার্তায় তাঁরা সাম্প্রতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত সুস্থতা এবং দুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কার্যকর উদ্যোগের কামনা করেন।
এ সময় তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আরও সুদৃঢ় হবে। নেপালের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণ নেপালের মানুষের পাশে রয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ। মাদক থেকে দূরে থাকি, খেলাধুলার সাথে থাকি’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে স্থানীয় থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় দক্ষিণ শিয়ালকাঠী যুব সংঘকে পরাজিত করে পৌরসভা জুনিয়র একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে প্রাইজমানি তুলে দেন ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর রায়, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে এবং খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আস্থা আরও সুদৃঢ় করাও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ির চমচম এবং স্থানীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ওই জমকালো উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে ওই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তাঁতশিল্পের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো পৌর উদ্যানকে সাজানো হয়েছে এক অপরূপ সাজে। সারিবদ্ধ ২২টি স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে টাঙ্গাইলের আদি ও আসল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। মিষ্টিপ্রেমীদের জিভে জল আনতে স্টলে স্টলে শোভা পাচ্ছে কিংবদন্তিতুল্য পোড়াবাড়ির চমচম, রসালো রসমালাই, রসে টইটম্বুর কালোজাম এবং যুগ যুগ ধরে প্রসিদ্ধ দই-সন্দেশসহ নানা পদের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। মেলায় আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে জিআই স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি। এছাড়া তাঁতি ও কারিগরদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প এবং স্থানীয় কুটির শিল্প পণ্যের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করছে।
উদ্বোধনের পর সময় গড়ানোর সাথে সাথে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের নিয়ে মেলায় ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান।
মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, একই ছাদের নিচে টাঙ্গাইলের খাঁটি ও বিখ্যাত সব মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী শাড়ি দেখার এই সুযোগ সত্যি প্রশংসনীয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে টাঙ্গাইলের শতবর্ষী ইতিহাস তুলে ধরতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখছে।
আয়োজকদের মতে, এই সুইট ফেস্টিভ্যাল কেবল একটি মেলা নয়; এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনমেলা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মিষ্টি প্রস্তুতকারক, কারিগর, তাঁতশিল্পী ও তরুণ উদ্যোক্তারা এখানে তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও টাঙ্গাইলের পণ্যের এক বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী ওই প্রাণের উৎসব আগামি ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, টাঙ্গাইল একটি ভীষণ সম্ভাবনাময় জেলা। এই জেলার পর্যটন সম্ভাবনা অফুরন্ত। সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে- যার অন্যতম সুইট ফেস্টিভ্যাল।
তিনি জানান, এ উৎসবের তিনটি প্রধান লক্ষ্য হলো ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল হিসেবে শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বে তুলে ধরা, ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে জেলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু এ জেলার নয়, বরং বাংলাদেশের গর্ব। টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের খলীলপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে ছেড়ে আসা আইকনিক পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৪৫৫৫ নম্বরের বাসটি খলীলপুর এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। ওই সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। দ্রুতগতির পাশাপাশি চালকের ঘুমের ঢুলুনির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটির ভেতর থেকে আহত যাত্রীদের বের করে আনে। পরে গুরুতর আহত ছয়জনকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ট্র্যাফিক ও উদ্ধারকারী দলের টিম লিডার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বাস থেকে ছয়জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
মাদারীপুরের শিবচরে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল কলেজ মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা ২ দিনব্যাপী ৫৩ তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা -২০২৬ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
০৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার সকালে শিবচর পৌর এলাকা শতবর্ষের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী শিবচর নন্দকুমার মডেল ইনস্টিটিউশন এর মাঠে শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় স্কুল,মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি আয়োজিত দুইদিনব্যাপী ৫৩ তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পীরজাদা সাঈদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা এমপি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান। শিবচর উপজেলার ৪৪ টি স্কুল ১৭ টি মাদ্রাসা ২ টি কলেজের শিক্ষার্থীরা গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন।
৫৩ তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়,সাতার, দাবা ও কাবাডি এই চারটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ সাইদুর রহমান, শিবচর নন্দকুমার মডেল ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন- উর- রশিদ মিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বৃন্দ।