সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’
সোনিয়া গান্ধীর বহুলপ্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ অবশেষে ভারতে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। পাণ্ডুলিপিসংক্রান্ত মতভেদের জেরে দেশের অন্যতম প্রধান প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া সম্প্রতি বইটি প্রকাশের প্রকল্প বাতিল করে দিলেও পাঠকদের হতাশ না করে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশনী সংস্থা হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া এটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে।
পেঙ্গুইন প্রকাশনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার এক সপ্তাহের মাথায় শুক্রবার হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনন্ত পদ্মনাভন সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের খবর জানাচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১০ নভেম্বর পাঠকের হাতে পৌঁছাতে পারে সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত বইটি।
অবশ্য ভারতে প্রকাশনা থেকে পিছিয়ে গেলেও আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে বইটি প্রকাশ করবে তাদেরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান আলফ্রেড এ. নফ। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাণ্ডুলিপির তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সুপারিশ করা প্রকাশকের দায়িত্বের অংশ।
তবে লেখক সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, এমন যুক্তি দেখিয়ে ভারতে বইটি প্রকাশ না করার ঘোষণা দিয়েছিল পেঙ্গুইন। তাদের এমন সিদ্ধান্ত গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেক পাঠক ও বিশ্লেষক অভিযোগ তোলেন সেন্সরশিপের।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বইটি প্রকাশের স্বত্ব নেওয়ায় পাঠক মহলে প্রশংসায় ভাসছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের ‘মেরুদণ্ড থাকা প্রকাশক’ আখ্যা দিয়ে প্রশংসা করছেন।
হার্পারকলিন্স জানিয়েছে, সোনিয়া গান্ধীর এই বইটি কোনো সাধারণ স্মৃতিকথা নয়, বরং বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী রচনা। এতে উঠে এসেছে ভারতের রাজনীতি, প্রেম, পরিচয় ও নিজস্ব দায়িত্বের গভীর ব্যক্তিগত অথচ নাটকীয় মেলবন্ধন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দেশটির প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রধান হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির ইতিহাসেও সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মেলোনি। ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার পর্যন্ত তিনি ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় রয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিরতার জন্য পরিচিত দেশটিতে গত আট দশকে ৬৮টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির দ্বিতীয় সরকারের। এর আগে চার মেয়াদে সবচেয়ে বেশি দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার ইতিহাস গড়েছিলেন প্রয়াত সিলভিও বেরলুসকোনি। তবে কোনো একক মেয়াদে টানা ১ হাজার ৪১২ দিন ক্ষমতায় থাকার যে রেকর্ড বেরলুসকোনির ছিল, তা এবার ছাড়িয়ে গেল মেলোনির কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি।
২০২২ সালের অক্টোবরে দেশটির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন মেলোনি। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বারিতে এই রেকর্ড উদযাপন করা হচ্ছে।
ইতালির সংবাদপত্র ইল সোলে ২৪ ওরে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
ইতালির তরুণ আইনপ্রণেতা গ্রাৎসিয়া দি মাজ্জো এই অর্জনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জর্জিয়া মেলোনি ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং ডানপন্থি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে উঠে আসায় কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা শর্টকাট ছাড়া লড়াই করেই তাকে এ অবস্থানে পৌঁছাতে হয়েছে।
অতীতে বেনিটো মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের কারণে ইতালিতে ডানপন্থি রাজনীতি নিয়ে যে ভীতি ছিল, তা থেকে দলকে দূরে রাখার ঘোষণাও আগেই দিয়েছিলেন মেলোনি।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক
জর্জিয়া মেলোনি সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানকে নতুন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক। রোমা ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকালীন ইতিহাসের শিক্ষক পাওলো কারুসি জানান, সরকারের মেয়াদকাল দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মাপা যায় না। তিনি বলেন, মেলোনি সরকারের দীর্ঘদিন টিকে থাকার পেছনে ২০১৮ সালের নির্বাচনি আইন একটি বড় ভূমিকা রেখেছে, যার সুবাদে ডানপন্থি জোট সহজেই সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এছাড়া সরকারের টিকে থাকার স্বার্থে দলটি তাদের অনেক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকেও সরে এসেছে।
বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক পিয়েরো ইনিয়াজির মতে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এই স্থবিরতা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ও সর্বোচ্চ সরকারি ঋণের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া নাগরিক অধিকার ও প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অন্তত ৫২টি নতুন অপরাধের আইন প্রণয়ন করায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে রয়েছে মেলোনি প্রশাসন।
নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা
ইতালির প্রধানমন্ত্রীর এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় তিনি বন্ধু জর্জিয়া মেলোনিকে যুদ্ধোত্তর ইতালির দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য শুভেচ্ছা জানান। লিখেছেন, ‘এই রেকর্ড থেকেই বোঝা যায় যে, ইতালির মানুষ মেলোনির ওপর কতটা আস্থা রাখেন।’
পাশাপাশি শুভেচ্ছাবার্তায় ভারত ও ইতালির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশের বন্ধুত্ব আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মোদি। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার কথা উল্লেখ করে মোদি লেখেন, ‘আগামী দিনগুলোতে তার (মেলোনি) সাফল্যের ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা জানাই।’
খবর- এএফপি ও আলজাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
পিঠের চুলকানি মেটানোর অভিনব ব্যবসা খুলে মাসে প্রায় ১ লাখ ইউয়ান (১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা) আয় করছেন চীনের শেনজেন শহরের ৩২ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ঝাং শাওছিয়াও। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঝাংয়ের প্রতিষ্ঠিত ‘সুমা’ নামের স্পা-ধর্মী প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকরা নির্ধারিত শয্যায় শুয়ে বিশেষ সুচালো নখযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে পিঠ চুলকানোর সেবা নেন। প্রতি এক ঘণ্টার জন্য গ্রাহকদের গুনতে হয় ৩০০ ইউয়ান (৫ হাজার ৫০০ টাকা)।
শেনজেনের বাওআন ও ফুসিয়ান এলাকায় দুটি শাখা চালু করে অল্প সময়ের মধ্যেই লাভজনক এই ব্যবসার সূচনা করেন ঝাং। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপে থাকা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীরাই মূল গ্রাহক হলেও গ্রাহকদের প্রায় ৭০ শতাংশ পুরুষ এবং বাকিরা নারী।
একটি অনলাইন ভিডিও দেখে এবং শৈশবে বাবার পিঠ চুলকে দেওয়ার স্মৃতির অনুপ্রেরণায় ঝাং এই ধারণাকে ব্যবসায় রূপ দেন। তিনি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সুনির্দিষ্ট কৌশল শেখান যা গ্রাহকদের স্নায়ু শিথিল করে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে।
বর্তমানে সূচনার খরচ তুলে নিয়ে দেশজুড়ে ১০০টি শাখা খোলার স্বপ্ন দেখছেন ঝাং এবং এই কাজটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী চুলকানোর ফলে স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে মস্তিষ্ককে আরামের অনুভূতি দেয়, যদিও দীর্ঘস্থায়ী চুলকানির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। মেরিল্যান্ডের জেলা বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
তিনি বলেছেন, আদেশটি আগের উদ্যোগের মতোই ‘প্রায় নিশ্চিতভাবে’ অসাংবিধানিক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারক বোর্ডম্যান এ আদেশ দেন।
এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের একই ধরনের উদ্যোগকে সংবিধানবিরোধী বলে রায় দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গত ৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশে ‘বার্থ ট্যুরিজমকে’ লক্ষ্য করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে এসে দেশটিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা সাধারণত এ নামে উল্লেখ করা হয়।
আদেশটিতে কয়েকটি শ্রেণির বিদেশি নাগরিকের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে- এমন বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তানদেরও এর আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়।
এই আদেশে বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, আদালতের আওতাভুক্ত শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আদেশ প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক। কারণ সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই ‘বারবারা’ মামলায় সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, ওই শ্রেণির শিশুরা জন্মের সময়ই মার্কিন নাগরিক।
বিচারক আরও বলেন, এসব শিশুর নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন ঠেকাতে আবারও প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা আদালতের দায়িত্ব।
‘বারবারা’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আওতায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সুরক্ষিত।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কী?
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অর্থ হলো- কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যে কোনো ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করবেন। তবে কূটনীতিকদের সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণকারী কোনো বাহিনীর সন্তানদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বছরের পর বছর ধরে একাধিক মামলায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি বহাল রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা হলো ‘যুক্তরাষ্ট্র বনাম ওং কিম আর্ক’। চীনা বাবা-মায়ের ঘরে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে মামলাটি হয়েছিল।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম পরিবর্তন করাও ছিল তার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
ট্রাম্প ও তার মিত্রদের যুক্তি, অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী কিংবা নথিবিহীন অভিবাসীদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য নয়। তাদের দাবি, এসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের অধীনে নয়।
তবে গত জুনে সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও ট্রাম্প প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ করার বিভিন্ন আইনি পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ উদ্যোগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবার। তাদের মধ্যে অ্যাসাইলাম সিকার অ্যাডভোকেসি প্রজেক্টসহ কয়েকটি সংগঠন রয়েছে।
এর আগেও এসব সংগঠন বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যানের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছিল। ওই আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন বন্ধ করা হয়।
গত সপ্তাহে বিচারক বোর্ডম্যান বাদীদের অভিযোগ সংশোধনের নির্দেশ দেন এবং নতুন নির্বাহী আদেশকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে বলেন। একই সঙ্গে প্রথম নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের একই তথ্যের ওপর নির্ভর না করার নির্দেশ দেন তিনি।
তখনই ট্রাম্পের সর্বশেষ উদ্যোগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বোর্ডম্যান। তিনি এটিকে ‘নজিরবিহীন’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। বুধবারের রায়েও তিনি সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আদালতের আওতাভুক্ত শ্রেণির শিশুরা জন্মের সময় থেকেই মার্কিন নাগরিক।
সূত্র: আল-জাজিরা
প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের মতো রোগ ছড়াতে সক্ষম একটি আক্রমণাত্মক মশার প্রজাতি লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বাড়িতে প্রজনন করছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির এসব মশা এর আগে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হলেও এবারই প্রথম দেশটিতে তাদের প্রজনন করতে দেখা গেছে। সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ুর দেশগুলোতে এই মশার বিস্তার বেশি।
ধারণা করা হচ্ছে, লাগেজ, যানবাহন অথবা গাছপালার সঙ্গে দুর্ঘটনাক্রমে এসব মশা যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। মশার লার্ভা ধ্বংস করতে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মশা ধরার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম। এসব মশার মাধ্যমে কোনো মানুষ আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে কয়েক দফা তাপপ্রবাহ দেখা গেলেও দেশটির সামগ্রিক জলবায়ু এখনো এডিস ইজিপ্টাইয়ের দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা বলে জানিয়েছে ইউকেএইচএসএ। সংস্থাটি ‘মসকুইটো ওয়াচ’ কর্মসূচির মাধ্যমে মশাগুলো শনাক্ত করেছে। যুক্তরাজ্যে আক্রমণাত্মক মশার প্রজাতি শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
ইউকেএইচএসএ -এর মেডিকেল এনটোমোলজি বিভাগের প্রধান ড. জোলিয়ন মেডলক বলেন, এসব মশার কারণে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। একই সঙ্গে আশপাশের জনসাধারণের ব্যবহৃত এলাকায় মশা বা তাদের লার্ভা পাওয়া গেছে, এমন প্রমাণও এখন পর্যন্ত নেই।
তিনি বলেন, এ ধরনের আক্রমণাত্মক মশা যুক্তরাজ্যে ভবিষ্যতেও দেখা যেতে পারে। জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মশা দেশটিতে টিকে থাকতে পারছে, এমন ঘটনার খবর আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের ড. সিজার লোপেজ-কামাচো ঘটনাটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আবিষ্কার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে শনাক্ত হওয়া মশাগুলোর লার্ভা ধ্বংস করার পাশাপাশি নজরদারি ও ফাঁদ পেতে মশা ধরার কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি
ছবি : সংগৃহীত
জেনারেশন জির বিক্ষোভের পর এবার শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাজপথে নেমেছে জেন আলফা বা স্কুল শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের সমূহি ভাটপুরওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ও নিম্নমানের মধ্যাহ্নভোজনের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্ব নিয়ে জেন জি-র নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ধারাবাহিকতায় এই নতুন আন্দোলন শুরু হয়।
সিজেপি গত ১৫ আগস্ট থেকে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীদের মতে, বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিই) ২০০৯ সত্ত্বেও ভারতের বহু সরকারি স্কুলে মৌলিক সুবিধার চরম অভাব রয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে,, এই গণবিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তরুণ ও এই শিশু শিক্ষার্থীরা ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে নতুন ভোটার হিসেবে প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী ঢলের এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়েছে। এই দুর্যোগে রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ কক্ষে অনেক কর্মী আটকা পড়েছেন। সেখানে আটকা পড়া কয়েক ডজন কর্মী এখনো জীবিত আছেন বলে নেপাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর অন্তত ৬৩৯ কর্মী এখনো নিখোঁজ আছেন।
গত সপ্তাহে নেপাল ও চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসে সৃষ্ট তীব্র পানির ঢল ও কাদা-পাথরের তোড়ে প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগই ধ্বংস হয়ে যায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাহাড়ি ঢলটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মাইল (১৬০ কিমি) বেগে নদী উপত্যকা ধরে ৬০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ভবন, পাথর ও পলিমাটি মিলিয়ে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল পাথর ও ঢলের পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলো প্লাবিত করে প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক সুড়ঙ্গ গভীর কাদায় তলিয়ে গেছে।
এসব সুড়ঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা বাতাসের বুদ্বুদের (এয়ার পকেট) কারণে শ্রমিকেরা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকতে পারেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এ পর্যন্ত ২৭১ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ দিন পর আজ শুক্রবার ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
গত বুধবার কর্মকর্তারা বলেছেন, রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে ৪৬ জন মানুষ এখনো জীবিত আছেন বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ চলছে।
নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের পর্ষদ সদস্য অংশু কিরণ শাহি রয়টার্সকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ পরও তাঁরা বেঁচে আছেন বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। কারণ, ওই ভবনের ভেতরে তাঁদের জন্য খাবার ও পানি ছিল।’ তবে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা কাটছে না। ৬০ বছর বয়সী দুর্গা গুরুংয়ের ভাই ঝাপ্পাদ ভূজেলও একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন।
দ্য গার্ডিয়ানকে দুর্গা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করছি।’ সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দুর্গা আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ আমাদের কিছুই বলেনি। অনেক দিন পার হয়ে গেছে। এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, অলৌকিক কোনো ঘটনা ছাড়া আমাদের আর কোনো আশা নেই।’
দুর্গা বলেন, ‘আমাদের স্বজনেরা অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতরে বসে আছেন। তাঁরা আর কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারবেন?’
কিরণ শাহি জানিয়েছেন, চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। এর মধ্যে রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে প্রায় ৯০ জন নিখোঁজ আছেন। এসব স্থানে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস থাকার কারণে কর্মীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বেশি।
রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নেপালের রাসুয়া জেলায়, তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া। এখনো সেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব।
অংশু কিরণ শাহি বলেন, এটি একমাত্র প্রকল্প, যেখানে সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব। তিন দিন আগে সেনাবাহিনী সুড়ঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করলেও কক্ষটি খুঁজে পায়নি। আবারও সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি প্রকল্প আপার ত্রিশূলী-৩এ। সেখানে ঘন কাদার কারণে সুড়ঙ্গের সন্ধান পেতেই উদ্ধারকর্মীদের প্রায় ছয় দিন লেগেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সেখানে ৩০ থেকে ৪০ জন এখনো জীবিত থাকতে পারেন।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত ২ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি সেখানে জীবিত মানুষ পাওয়া যাবে। কারণ, আমাদের জানানো হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে একটি শুকনা জায়গা আছে। এখন আমরা সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা করছি।’
এদিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের আশা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ অভিযান চলবে। একই সঙ্গে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।
বাসনেত আরও বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকেও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছেন।
নেপাল পাহাড়জুড়ে জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। দেশটির জন্য এই বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বড়।
প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, বন্যায় ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হবে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাবে ধারণা করা হয়েছে।