• প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৭ পিএম

ঘটনার তারিখের বহুপূর্ব থেকেই যিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, এমন এক প্রবাসীকে মামলার ‘প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী’ হিসেবে দেখানো এবং তার মিথ্যা জবানবন্দি রেকর্ড করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই অপেশাদার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কিশোরগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নি:) মো: মাহাসীনুল হকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


গত ২৭ সেপ্টেম্বর  কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: দেলোয়ার হোসেন এই আদেশ দেন। 


কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থানার জি.আর ৩২৮/২০২৫ (কিশোরগঞ্জ) মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: মাহাসীনুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার শুনানিকালে আসামীপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী আদালতকে জানান যে, মামলার সাক্ষী মো: আশরাফুল ইসলাম (পিতা-মৃত জামাজ্জল হক, সাং- মাগুড়া সবুজপাড়া, নামাটারী, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী) ঘটনার তারিখের অনেক আগে থেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তা হীন উদ্দেশ্যে তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় তার মিথ্যা জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। 


পরবর্তীতে ​আদালতের নির্দেশে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।


আদালত তার পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সত্যতা নিরুপণের জন্যই পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এজাহারকারীর উপস্থাপিত সাক্ষীকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা কোনো তদন্ত কর্মকর্তার কাজ নয়।


​আদালত আরও বলেন, তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং সত্য-মিথ্যা উদঘাটন করে প্রকৃত ঘটনা আদালতের সামনে তুলে ধরাই তদন্ত কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব। কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেবল এজাহারকারীর কথা শুনে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার অজুহাতে তদন্ত কর্মকর্তা দায় এড়াতে পারেন না। একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে কোনো প্রকার যাঁচাই-বাছাই ছাড়াই এমনভাবে উপস্থাপন করা চরম অপেশাদারিত্বের শামিল, যা কেবল তদন্ত প্রতিবেদনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, পুলিশের কার্যক্রমকে জনগণের সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আদালতের পক্ষে অপরাধ আমলে নেওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে। 


​তদন্ত কর্মকর্তার এই ধরনের কর্মকাণ্ড অসদাচরণের সামিল বলে গণ্য করে আদালত তার বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তা লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করার জন্য তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আইনগত সহায়তা প্রদানে সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর রেফারেল পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় রংপুরে নেটওয়ার্কিং সভা হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এতে সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। 


ব্লাস্ট রংপুরের সমন্বয়কারী অ্যাড. দিলরুবা রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল আলম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শাকিল, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার সরকার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সেলোয়ারা বেগম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নুসরাত ফাতেমা, পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের এএসআই নবয়িন আক্তার চম্পা, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়কারী ডাঃ সোহেলী বিনতে মোস্তফা, রংপুর আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আফতাব উদ্দিন, ব্লাষ্টের আইনজীবি অ্যাড. মোনালিসা আক্তারসহ অন্যরা।


সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষত নারী, শিশু, দলিত, সমতল ভূমির আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জলবায়ু-প্রভাবিত এলাকার মানুষ প্রতিনিয়তই ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবায় প্রবেশগম্যতার ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। এ প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর রেফারেল পদ্ধতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। তাই নানা ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আইনগত সহায়তা প্রদানে  জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা-বেসরকারী সংস্থা একসাথে কাজ করতে হবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, সরকার ফৌজদারী অপরাধ ব্যতিত অন্য মামলা আপোষ মিমাংসার উপর জোর দিয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের অর্থ খরচ ও হয়রানি হতে হচ্ছে না। সেই সাথে বিরোধ নিস্পত্তি হওয়ায় ভবিষ্যতে নতুন করে কোন বিরোধ সৃষ্টির সুযোগ থাকছে না। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনা খরচে আইনগত সহায়তা প্রদানসহ আপোস মিমাংসার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং অসহায় বিচার প্রার্থীরা ন্যায্য বিচার পাবে। 


ব্লাস্টের আয়োজনে এ সভায় জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, হাসপাতাল, জেলা আইনগত সহায়তা কমিটি, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং স্থানীয় অন্যান্য বেসরকারি আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থারা অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৮ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীর মরকুনে মাদ্রাসাতুল মদিনার এতিম শিশুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছেন আলোকিত গাজীপুর মানবিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এ মানবিক আয়োজন করা হয়। 


এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুম রানা, সভাপতি মোস্তাকিম খান, গাজীপুর জেলা রিপোর্টাস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ ফরিদ, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ, সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ সরকার, আলী শিকদার, হানিফ হোসেন ও সহিদসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। 


আয়োজনের মধ্য দিয়ে এতিম শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শিশুদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।


এ সময় মাদ্রাসাতুল মদিনার মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি তানবীর আল মাহমুদি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের অসহায় ও এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন এগিয়ে এলে এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আবু তাহের আজাদ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১১ পিএম

মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আবু তাহের আজাদকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে চাটখিল থানা পুলিশ তার নিজ এলাকা রেজ্জাকপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করে। পরদিন শনিবার (১০ অক্টোবর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।


জিডি থেকে ওয়ারেন্ট


চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. হোসেন তানভীর (৩৪) ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেই জিডির প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্ট জারি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।


হোসেন তানভীর অভিযোগ করে বলেন, "চাটখিল উপজেলা বিএনপি নেতা মো. আবু তাহের আজাদ এবং চাটখিলের বাসিন্দা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মো. কাজী পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে আসছে। প্রবাসে থাকা পারভেজের প্ররোচনায় আবু তাহের আজাদ আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ফেসবুকে ও ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।"


তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত এমন হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন জানিয়ে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় চাটখিল থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।


দলীয় ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন


গ্রেফতারের বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক আরেক নেতা আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেজ্জাকপুর ওয়ার্ডে আবু তাহের আজাদ দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে চলেছেন। তার ভাষ্য, চাঁদাবাজি, নলকূপ, বাথরুম ও পুকুরের গাইড ওয়াল-জাতীয় সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ এবং সালিশ বাণিজ্যের মাধ্যমে মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি।


আহসান হাবিব চাটখিল উপজেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যার এসব অপকর্মের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, "আসামির বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মিরপুর মডেল থানায় জিডি ছিল। ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকল আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।"


তিনি আরও বলেন, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মক সচেষ্ট রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

স্পীকারের সাথে মতবিনিময় বরিশাল বিভাগ সমিতির নেতৃবৃন্দের

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৫ পিএম

আজ ১৪ অক্টোবর (বুধবার) সকাল ১০.০০ ঘটিকায় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এর সাথে বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু'র নেতৃত্বে ৭ সদস্য প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে মত বিনিময় করেন। 


এ সময় বরিশাল সমিতির নেতৃবৃন্দ মাননীয় স্পীকারের নিকট বরিশাল বিভাগের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী দাওয়া তথা ভাঙ্গা - কুয়াকাটা ৬ লেন সড়ক নির্মান, ঢাকা - ভাঙ্গা - বরিশাল - কুয়াকাটা রেললাইন স্থাপন, বরিশাল - ভোলা সেতু নির্মাণ, বরিশাল - ভোলা সড়ক নির্মান এবং ভোলার গ্যাস বরিশাল বিভাগের সর্বত্র সরবরাহের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। 


নেতৃবৃন্দ মাননীয় স্পীকার এর নিকট সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত শের ই  বাংলা এ কে ফজলুল হক এর স্মরনে স্মরনিকা হস্তান্তর করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময়ে সমিতির সহ-সভাপতি ও সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শওকত উল ইসলাম, সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মোহাম্মদ শাহ আলম, সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহবায়ক এডভোকেট রুবেল হাওলাদার, সদস্য সচিব ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো: আবুল কালাম, দপ্তর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুর রাজ্জাক, নির্বাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ গোলাম কিবরিয়া উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

ওয়াহিদুজ্জামান শামীম

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৮ পিএম

সাতক্ষীরার দেবহাটায় আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে গণ‌পিটু‌নির পর অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীমের কয়েকটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই অডিওতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।


বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তার বাড়িতে যান। এ সময় শামীম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।


পরে তার ভাইয়েরা তাকে উদ্ধার করে কুলিয়া এলাকার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করেন।


এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কুলিয়ার ওই চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।


রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে ঘেরাও করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কিছু লোক হাসপাতালে ঢুকে তাকে দ্বিতীয় দফা মারধর করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

*তৃণমূলের আইনি সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন, নেতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ


রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলা ও গ্রেপ্তারের চাপে বিপর্যস্ত কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশ। কেউ কারাগারে, কেউ আত্মগোপনে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির জেলা, শহর ও সদর থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা এবং তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্র।


অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা কিংবা তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতাদের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট নেতাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা হাতবদলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। 


কারাগারে কর্মীরা, নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ


জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদরউদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এবং সদর থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন কর্মীর স্বজন।


তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সাধারণ কর্মীদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হলেও সংকটের সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নেতাদের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। কারাগারে থাকা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


এক কর্মীর স্বজনের ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় যেসব নেতার নির্দেশনায় কর্মীরা মাঠে থাকতেন, সংকটের সময়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাইসেন্স নিয়ে অভিযোগ


কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের জেলা ও শহর পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ইটভাটা, বড় বাস, তামাক পরিবহন ও তামাক ব্যবসা, প্লাইউড কারখানায় শেয়ার এবং সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে।


এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে নেওয়া লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে আয় করার অভিযোগও করেছেন কয়েকটি সূত্র। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও এসব ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে তেমন প্রভাব পড়েনি; কিছু ক্ষেত্রে অন্যের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।


তবে কোন প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কার নামে, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের প্রকৃতি কী, সেগুলো আইনসম্মতভাবে হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া হয়েছে কি না এবং ব্যবসা পরিচালনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না- এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ও জাপান টোব্যাকোর সঙ্গে  তাদের পূর্বের ব্যবসা হাত বদলের মাধ্যমে চলমান।


তৃণমূলে বাড়ছে হতাশা


কর্মীদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা কর্মীরা বিপদে পড়লে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কার?


কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশা, শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা এবং তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রামাণ্য নথি গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা জেলার নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে বারবার দাবি করে আসছেন। 


তবে বাস্তবে কারাগারে থাকা নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জেলা আওয়ামী লীগের এসব শীর্ষ নেতার কাছ থেকে কোনো ধরনের আইনি বা আর্থিক সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতার কথা বলা হলেও সংকটের সময়ে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট নেতাদের। ফলে নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল পর্যায়ে।

সর্বশেষ সব খবর