ছবি : সংগৃহীত
নতুন করে বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের কাছে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, সরকারি নির্দেশের পরও জমা পড়েনি ২০ হাজারের বেশি অস্ত্র। ২৪ এর অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশই উদ্ধার হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক সক্ষমতা থাকলেই কেউ অস্ত্র রাখতে পারবে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের সুযোগে থানা থেকে অস্ত্র লুটে নেয় দুবৃত্তরা। যায় বেশিরভাগই এখনো উদ্ধার হয়নি।
এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ সন্ত্রাসীদের হাতে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে বেড়ে চলা অপরাধের নানা ঘটনায় এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা তা নিয়েও জনমনে আতঙ্ক আছে। এই উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের কাছে নতুন আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পুরোনো অস্ত্রের হিসাবই যখন মিলছেনা; তখন নতুন অস্ত্রের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে কতটা নিশ্চিত হচ্ছে নিরাপত্তা?
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে ৫৩ হাজার ৭০২টি। এর মধ্যে ব্যক্তিগত লাইসেন্সের বিপরীতে আছে ৪৮ হাজার ২৮৩টি অস্ত্র।
গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্যক্তিগত অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়ে ২৭ হাজার ৯৯৫টি। জমা পড়েনি ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র। ঢাকায় নিবন্ধিত ৩ হাজার ৯৯১টি অস্ত্রের মধ্যে জমা পড়েনি ৭৪০টি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে ২০ হাজার ১৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ তখন রাজনৈতিক বিবেচনায় বহু লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিলো।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী বলছেন, সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেক্ষেত্রে হাতেগোনা কয়েকজনের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে আরো বিশৃংখলা তৈরি হবার শঙ্কা আছে।
রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক সক্ষমতা থাকলেই কেউ অস্ত্র রাখার এখতিয়ার পাবেন কিনা সেটিও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।
অস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত যাচাই, প্রকৃত প্রয়োজন নির্ধারণ ও অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ বলছেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
প্রবাসীদের অর্থ-সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার, যা প্রবাসীদের যে কোনো ধরনের সংকটে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ এর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রম রপ্তানি করা। অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকরা শ্রমের মূল্য কম পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ অসাধু ব্যাবসায়ীরা। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। আর এ জন্য সরকার নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ আদালত গঠন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যে আদালতে প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের সমস্যা, সংকট, প্রবাসীদের মামলা পরিচালনা হবে। শিগগিরই এটি আলোর মুখ দেখবে। এ ধরনের আদালত গঠনের বিষয়টি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে আছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তোপের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস।
আট নম্বর টার্মিনালে পৌঁছালে কয়েকজন প্রবাসী তাকে লক্ষ করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন।
স্যোশাল মিডিয়ায ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’, ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’, ‘ইউ কিল্ড থাউজেন্ডস অব পুলিশ’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করেন উপস্থিত প্রবাসীরা। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা সেখান থেকে তাকে দ্রুত নিয়ে যান।
এ সময় ড. ইউনূস ও তার সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদ দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে চলে যান বলে জানিয়েছেন উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি।
তবে এ ঘটনায় প্রবাসীদের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাইমা রহমান
দাদা বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট, দাদি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, বাবা বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক। এমন পরিবারের একজন সদস্যকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মুশফিকুল ফজল আনসারী তার ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন।
জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশ স্বাভাবিক উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তার কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এসব আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সেই আলোচনায় তার ব্যক্তিগত অর্জনের জায়গাটিও যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন।
তিনি লিখেছেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় আছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং স্ট্রাগল তার জীবনের এক নিজস্ব অধ্যায়।
জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।
মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন—এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়। পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ বানালে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার হয় না।
এখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কাঠামোটিও জানা প্রয়োজন উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ৪০ জন স্টাফের মধ্যে ৮ জনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত, ৪ জন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে, ২০ জন সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে কর্মরত এবং ৮ জন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।
তিনি লিখেছেন, জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া পদটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে রয়েছে। অর্থাৎ, এটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, আমি নিজেও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা ছাড়াও মাঝে একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছি। কানেকশন থাকাটা অযোগ্যতা নয় বরং যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়।
বেতন-ভাতার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, জাতিসংঘের পেশাগত পদের বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক সমন্বয় যুক্ত হয়। তাই বেতনের কোনো অঙ্ক আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য সুবিধার নিয়মও বিবেচনায় নিতে হয়।
তিনি আরও লিখেছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির নিজের বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধাদি জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেই তা বহন করতে হবে। তবে জাতিসংঘ দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমে দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে আগ্রহ, প্রশ্ন ও তার কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত উল্লেখ করে এই রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, সেই মূল্যায়নে তার নিজের প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যেন যথাযথ স্থান পায়। পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য তার প্রতি মানুষের আগ্রহের যেমন যৌক্তিক কারণ, তেমনি তার নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়—এই প্রত্যাশাসহ জায়মা রহমানের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ সচিবালয়
সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এখন থেকে দুপুর ১২টার আগে কোনো দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদে থাকা কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের জন্য দর্শনার্থী পাস দেওয়ার সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সভার কার্যপত্র অনুযায়ী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দিনে সর্বোচ্চ ১০টি দর্শনার্থী পাস দিতে পারবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্যসচিব এবং সিনিয়র সচিব বা সচিবেরা সর্বোচ্চ পাঁচটি পাস দিতে পারবেন। অতিরিক্ত সচিবেরা তিনটি এবং যুগ্মসচিবেরা দুটি পাস দিতে পারবেন।
সচিবালয়ে প্রবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিয়ন্ত্রিত করতে প্রতিটি ভবনে পৃথক অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভবনভিত্তিক প্রবেশাধিকার যাচাই করা হবে।
এ ছাড়া বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হবে। তাদের পরিচয়, আসার উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা দপ্তরের তথ্য এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সংরক্ষণ করতে হবে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ৬১টি ফ্লাইটের অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী। এসব ফ্লাইটের মধ্যে ২২টি সরাসরি ও ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ হিসাবে রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইটের যাত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ, এয়ারলাইনসটি এখনো যাত্রীসংখ্যা জানায়নি। তথ্য পাওয়ার পর যাত্রীর হিসাব হালনাগাদ করা হবে।
স্থগিত হওয়া ২২টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নয়টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি, সৌদিয়ার চারটি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি করে, সালামএয়ারের তিনটি ও ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
এর আগে, বেবিচক জানিয়েছিল, ৫১টি ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। সর্বশেষ হিসাবে, স্থগিত ফ্লাইট ও ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। এসব ঘটনার পর ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। আজ সোমবার প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সৌদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।
এ ছাড়া এসব ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দূতাবাসের কয়েকটি হটলাইন নম্বরও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৫
পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৬
ডিপ্লোমেটিক উইং: ৮০০১০০০১২৪
মৃত্যুসংক্রান্ত হটলাইন: +৯৬৬৫৭০২১২১৮০
সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের একের পর এক হামলার পর বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সে দেশে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সৌদি আরব ভ্রমণের ব্যাপারে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে।
হুতিদের হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দুই বিমানবন্দরে আজ সোমবার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে।