অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন
বরিশালে মাদকের আসরে অভিযান চালিয়ে আটককৃত পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন থানা থেকে পালিয়ে গেছে। এদিকে, তাকে আটকে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক হন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়। অভিযানে ওই পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন (৩৮), বাগেরহাটের নোয়াপাড়ার বাসিন্দা নাহিদ হাসান (২৮), পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলাম (৩৪) ও ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)। আটকের পর অভিযুক্ত এএসআই দেলোয়ারকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের মধ্যে দুইজনের ডোপটেস্টে ইয়াবা সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এর আগেই এএসআই দেলোয়ার থানা থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানার এএসআই ও খুলনা সদরের শেরেবাংলা রোড এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের ছেলে।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, ওই এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর কি করে পালালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে, অভিযানের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের বাসিন্দা মিরাজের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের আসর বসত। এমন খবরে বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বাসায় থাকাদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তখন তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বাসা থেকে ইয়াবা সেবনের ফয়েল পেপার, লাইটারসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
সংগীতশিল্পী আঞ্জু আরা (সুমি)
নীলফামারীতে মাদক ব্যবসায়ীর গ্রেপ্তারের সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করায় সংগীতশিল্পী আঞ্জু আরা (সুমি) কে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার(৮ অক্টোবর) নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল কবিরাজপাড়ায় এলাকার উত্তরবঙ্গের মমতাজ খ্যাত সংগীতশিল্পী আঞ্জু আরা (সুমি) নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
ভুক্তভোগী কণ্ঠশিল্পী আঞ্জু আরা সুমি বলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নে টেক্সটাইল বন্দরপাড়া শাহজাহান আলীর বাড়িতে এলাকায় স্থানীয় যুবক ও সচেতন এলাকাবাসী মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্যসহ আটক করেন। পরে পুলিশ সেখানে এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তাকে মাদকসহ আটকের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে দেখা যায়। পরে আমি একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করি।
গতকাল বিকেলের দিকে আমি পৌরমার্কেটে কেনাকাটার করার জন্য গেলে সেখানে শাহজাহান আলীর মেয়ে স্বপ্নার সঙ্গে দেখা হয়। এসময়ে সে এবং তার স্বামী আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে আমাকে মারধর করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সে চলে যায়। পরে রাতের দিকে সে ফেসবুক লাইভ করে আমাকে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং হত্যা করার হুমকি দেয়। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করছি।
এবিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এবিষয়টি ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাশেদুল ইসলাম
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া নিয়ে বিরোধের জেরে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে রাশেদুল ইসলাম (৪১) নামে এক পোশাককর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের মৃত সুরমান আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাশেদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে সাভার এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। পরে তাঁরা সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় জমি কিনে ছেলে সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। একই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ায় জড়িত থাকার সন্দেহ করতেন স্ত্রী হাসনা বেগম। এরই জেরে বৃহস্পতিবার ভোরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসনা বেগম ধারালো ছুরি দিয়ে স্বামীর পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাশেদুল গুরুতর আহত হন এবং তাঁর নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে অটোরিকশাযোগে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হাসনা বেগম তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রেখে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সিলেট নগরীর সুরমা নদীর উপর নির্মিত কিনব্রিজের পাশে ফের নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েেছে। নতুন সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে শুক্রবার কিনব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে তিনি সুরমা নদীতে প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করবেন।
ব্রিটিশ আমলে সুরমা নদীর উপর লোহার কাঠামোর দৃষ্টিনন্দন কিনব্রিজ নির্মাণ করা হয়। টানা দুই বছর নির্মাণকাজ শেষে ১৯৩৬ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন অসম প্রদেশের গভর্নর মাইকেল কিনের নামে এই সেতুর নামকরণ হয় ‘কিনব্রিজ’। প্রায় ৯ দশক ধরে সচল সেতুটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং সিলেট অঞ্চলে সুরমা নদীর ওপর প্রথম সেতু। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ ফুট।লোহার এই সেতু দীর্ঘদীদিন ধরে জরাজীর্ন অবস্থায় আছে। বন্ধ রয়েছে ভারী যান চলাচল।
কিনব্রিজের পাশে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের দাবি সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের। সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী কিনব্রিজের পাশে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়েছিলেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান কিনব্রিজ ভেঙে এই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে সে সমসয় ঐতিহ্য হিসেবে কিনব্রিজটি না ভাঙার দাবি উঠে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, স্বপ্নের সেই সেতু বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছিল বিদেশি সংস্থা ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি)’। প্রকল্পে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছিল ব্যাংকটি। কিন্তু এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জায়গা নেই এমন অজুহাতে ঝুলন্ত সেতুর প্রকল্প পরবর্তীতে বাতিল করা হয়। এরপর ২০২২ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. একে আব্দুল মোমেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের পাশে আরেকটি সেতু নির্মান করা হবে বলে জানান। তবে সে উদ্যোগও আর এগোয়নি। এবার সিলেট-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির কিনব্রিজের পাশে সুরমা নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা মন্ত্রীর সফরসূচি থেকে জানা যায়, শুক্রবার নতুন সেতু নির্মাণের জন্য কিনব্রিজ এলাকা পরিদর্শনে আসবেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন মন্ত্রী। এরপর সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। বিকেল ৩টায় ক্বীনব্রীজ এলাকায় সুরমা নদীতে সেতু নির্মাণের নিমিত্তে স্থান পরিদর্শন করবেন মন্ত্রী। স্থান পরিদর্শনের পর বিকেল ৪টায় মন্ত্রী কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক জাতীয় মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের বাদাঘাট অংশ পরিদর্শন করবেন।
এরপর বিকেল ৫টায় লাক্কাতুরা থেকে দলদলি পর্যন্ত ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করবেন। এর আগে সকালে সিলেট এসে বাণিজ্যমন্ত্রী নগর ভবনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর পূজা মন্ডপগুলোর মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। মন্ত্রীর সফর শেষে রাতে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ফসলি জমি থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়
কুমিল্লায় নিখোঁজের চার দিন পর জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিলেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। আবদুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। নগরের রেইসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় সড়কের পাশে একটি ধানের জমিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাস্থলের কাছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বনিক বলেন, সকালে জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল এবং মুখ মাটির দিকে চেপে রাখা ছিল।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারের সময় মরদেহের পরিচয় জানা যায়নি। পরে খবর পেয়ে দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বলেন, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তার মেয়ে। এরপর বিভিন্ন সময় মেয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়।
তিনি বলেন, বুধবার গভীর রাতে তাজমিন তাকে একটি মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠায়। সেখানে তাকে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। কিন্তু তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজটি দেখার পর ওই লাইভ লোকেশন অনুযায়ী ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেখতে পান।
তাজমিনের বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে কুমিল্লা শহর থেকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
তাজমিন নিখোঁজ হওয়ার পর গত চার দিনে তিনি কার সঙ্গে কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, ৪ অক্টোবর তাজমিন কুমিল্লা শহরে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। তবে পুলিশের তদন্তে ওই দিন তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরদিন ৫ অক্টোবর তিনি কুমিল্লায় ফেরেন। এরপর ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তাজমিন। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তার যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই অটোরিকশা থেকেই একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, ভ্যানিটি ব্যাগটি তাজমিনের নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাজমিন গত চার দিন কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তাজমিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ফসলি জমিতে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাজমিনের গত চার দিনের অবস্থান, তার সঙ্গে কারা ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক হানিফ মজুমদার বলেন, সপ্তম শ্রেণির হাজিরা খাতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের পর তাজমিনের আর উপস্থিতির তথ্য নেই। তিনি অন্য কোনো স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন কি না, কিংবা পড়াশোনায় বিরতি নিয়েছিলেন কি না, তা তারা নিশ্চিত নন।
ঝালকাঠির নলছিটিতে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা ও ত্রাণের চাল বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল এগারোটায় নলছিটি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি নলছিটি-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
সভাপতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ড। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনিচুর রহমান খান হেলাল, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা সালু, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান সোহাগ, নলছিটি উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা, নলছিটি উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পলাশ সজ্জনসহ আরো উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা, ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বৃন্দ।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং পূজার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয় এবং উপজেলার ২২টি পূজামণ্ডপে ৬০০ শতকেজি করে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম।
ফেসবুকে প্রেম মোবাইলে বিয়ে
প্রায় ছয় মাস আগের কথা। ইতালি প্রবাসী খোরশেদ আলীর (৪৮) সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় সুমাইয়া নামের এক নারীর। মেসেঞ্জারে কথোপকথনের পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে মুঠোফোনেই বিয়ের কাজ সারেন। এরপর ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলেও নানান অজুহাতে নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন সুমাইয়া।
গতকাল বুধবার দুপুরে সুমাইয়াকে ভিডিও কল দিলে সেটি ধরেন নাটোরের লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। ওসি খোরশেদকে জানান, নারী ভেবে যাঁকে তিনি বিয়ে করেছেন, তিনি আসলে নারী নন। তিনি শান্ত আলী নামের এক তরুণ। মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে তিনি এত দিন খোরশেদ আলীকে ঠকিয়ে টাকা নিয়েছেন।
খোরশেদের দাবি, বিয়ের পর গত কয়েক মাসে ভরণপোষণসহ নানান কাজে তাঁর কাছ থেকে তিন লাখের বেশি টাকা নেন ওই তরুণ। ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলে মুঠোফোনের সামনের ক্যামেরা অকেজো থাকার কথা জানাতেন কথিত সুমাইয়া। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতেও নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, প্রতারণার অভিযোগে গতকাল সকালে লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শান্ত আলী ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের আটকের পরই কথিত সুমাইয়ার পরিচয় প্রকাশ পায়।
পুলিশ ভিডিও কলে প্রথমবারের মতো কথিত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার নামধারী শান্ত আলীকে দেখালে খোরশেদ আলী বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন ধরনের প্রতারক থাকতে পারে, তা আমি কখনোই ভাবিনি। ওর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
পুলিশ জানায়, ২০ বছর বয়সী শান্ত আলী লেখাপড়া জানেন না। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ। মুঠোফোনে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি নারী কণ্ঠে কথা বলতে এবং খুদে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারেন।
শুধু তা-ই নয়, মুঠোফোনে বিয়ের পর কথিত সুমাইয়ার (শান্ত আলী) বাবা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বহুবার শ্বশুর হিসেবে কথা বলেছেন খোরশেদ আলী। তাঁর কথাবার্তায়ও শান্ত আলীর প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়েনি।
পুলিশের ভাষ্য, শহিদুল ইসলাম বিষয়টি জেনেও ছেলেকে প্রতারণার কাজে সহায়তা করেছেন।
গতকাল সকালে শান্ত ও শহিদুলকে গ্রেপ্তারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এসব মুঠোফোনে খোরশেদ আলীর সঙ্গে খুদে বার্তা বিনিময়ের বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে।
খোরশেদ আলীর বরাত দিয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্ত আলী প্রথমে একজন নারীর ছবি দিয়ে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে ওই প্রবাসীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে পরিচিত হন এবং কথাবার্তা শুরু করেন। ফেসবুকে ব্যবহৃত ওই নারীর তিনটি ছবিও তিনি খোরশেদ আলীকে পাঠান।
ওসি বলেন, বাড়ির পাশের জমি কেনার কথা বলে একদিনে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছেন শান্ত আলী। এ ছাড়া দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন। এভাবে মোট তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।