ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনে তেল স্থাপনা খালি করার নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুতিরা। হামলার পর সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মীরা। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশে অবস্থানরত কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয় হুতিরা। গোষ্ঠীটি এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করে।
হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির ওই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
জোটের নির্দেশের জবাবে সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সানায় যেকোনো হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এর পরপরই সৌদি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিকে, রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোতে হামলা, ইয়েমেনে তেল স্থাপনা ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এবং রিয়াদমুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
পোপ চতুর্দশ লিও
ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছে। তবে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান ফুসফুসের আক্রান্ত অংশটি কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভ্যাটিকানের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, অস্ত্রোপচার ‘সফল’ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি।
মঙ্গলবার রোমের জেমেল্লি হাসপাতালে ৭১ বছর বয়সী পোপের অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় তার ডান ফুসফুসের 'লোয়ার লোব' বা নিচের অংশটি পুরোপুরি কেটে বাদ দেওয়া হয়।
পরে ভ্যাটিকানের এক মেডিকেল বুলেটিনে বলা হয়, "জ্ঞান ফেরার পর পোপ স্বাভাবিক ছিলেন এবং কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে নিজের কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।"
অস্ত্রোপচারের সময় অপসারণ করা ফুসফুসের টিস্যু পরীক্ষায় তার ‘পালমোনারি অ্যাডেনোকারসিনোমা’ শনাক্ত হয়। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি সাধারণ ধরন। অস্ত্রোপচারের আগে করা পরীক্ষাতেও এই ক্যানসারের সন্দেহ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান।
পোপের প্রধান সার্জন ডা. স্তেফানো মার্গারিটোরা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. লুইগি কার্বোনের নেতৃত্বে ‘ভিডিও-অ্যাসিস্টেড’ প্রযুক্তির সাহায্যে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
মূলত ক্যানসার আক্রান্ত সব টিস্যু নির্মূল করার জন্যই ফুসফুসের ওই অংশটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ভ্যাটিকান জানিয়েছে। ক্যানসারটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় পোপের ফুসফুসে একটি অস্বাভাবিক গুটি ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসকরা সেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের পরামর্শ দেন। তবে তার শরীরে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ ছিল না।
২০ অক্টোবর পর্যন্ত সব প্রকাশ্য কর্মসূচি বাতিল
সুস্থ হয়ে উঠতে পোপকে প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পোপের সব প্রকাশ্য কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
গত রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে প্রার্থনা শেষে সমবেত মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় পোপ নিজেই ফুসফুসে গুটি শনাক্ত হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেছিলেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়েছে এবং নির্দিষ্ট একটি অংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর রোগটির পর্যায়, এটি লসিকাগ্রন্থিসহ শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না এবং পরবর্তী চিকিৎসা কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুসফুসের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ স্টিফেন লিউ বলেন, রোগের পূর্বাভাস বুঝতে টিউমারের আকার এবং লসিকাগ্রন্থিতে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, তা জানা জরুরি।
“ক্যানসার ছোট হলে এবং লসিকাগ্রন্থিতে না ছড়ালে অস্ত্রোপচারেই রোগ নিরাময় হতে পারে। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ক্যানসারের বিস্তার বেশি পাওয়া গেলে পরিস্থিতি কম আশাব্যঞ্জক হতে পারে।”
পোপের সুস্থতা কামনায় ভক্তরা
পোপের অস্ত্রোপচারের খবর বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, পোপের অস্ত্রোপচারের খবর তাকে উদ্বিগ্ন করেছে।
তবে অসুস্থতার বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত হওয়ায় এবং পোপ শান্ত থাকার কারণে তার সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। পোপের সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার রোমের জেমেল্লি হাসপাতালের বাইরে জড়ো হন অনেক মানুষ। তাদের কেউ কেউ তাকে শুভকামনা জানাতে এবং প্রার্থনা করতে সেখানে অপেক্ষা করেন।
হাসপাতালে যাওয়ার সময় গাড়ির পেছনের জানালা দিয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন পোপ। হাসপাতালে পৌঁছে কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর পর তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন।
দক্ষিণ আমেরিকা সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা
রয়টার্স লিখেছে, আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের কথা রয়েছে পোপের। ১১ দিনের এই সফরের মধ্যে পেরুর অংশটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে তিনি বহু বছর বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এখন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি সফরে বের হতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে তার সুস্থ হতে কতটা সময় লাগবে, তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ১৯৫৫ সালে রবার্ট প্রেভোস্ট নামে জন্ম নেওয়া পোপ চতুর্দশ লিও ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন। তিনি পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি।
টেনিস খেলা ও সাঁতার কাটার মত শারীরিক কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত পোপ লিওর গুরুতর কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার কথা আগে জানা যায়নি। তবে ১৯৮৫ সালে পেরুতে থাকার সময় টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তাকে একবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।
ভ্যাটিকার বলেছে, পোপ হাসপাতালে থাকলেও তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চলবে। তবে যেসব সিদ্ধান্তে পোপের স্বাক্ষর বা অনুমোদন প্রয়োজন, সেগুলো তার সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আফগানিস্তানে এফএম রেডিও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত বিবিসির সব ধরনের সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার।
তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বারবার বিধি লঙ্ঘনের কারণে বিবিসির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ওই মুখপাত্র।
এর আগে, ২০২২ সালে দুটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ হয়। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে একমাত্র বিবিসি দেশটির ভেতরে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল।
এ বিষয়ে বিবিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের জন্য আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষ বিবিসির ওপর নির্ভর করেন। সম্প্রচার বন্ধের বিষয়টি নিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।'
পশতু, দরি ও ইংরেজিতে শর্টওয়েভ এবং মিডিয়ামওয়েভে রেডিও ও অনলাইনের পাশাপাশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আফগানিস্তানের শ্রোতাদের জন্য নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বিবিসি।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের যাতায়াত নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বিবিসি প্রচারিত নানা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, সংবাদ ও অন্যান্য আয়োজন প্রতি সপ্তাহে আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।
তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব ঘুফরান স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'বিবিসি ক্রমাগত কিছু নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে আপাতত দেশজুড়ে এর সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দেশের গণমাধ্যমের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বর্তমানে দেশটিতে রেডিওতে গান বাজানো নিষিদ্ধ। পর্দায় নারীর উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক কম।
তাছাড়া পুরুষ ও নারী সাংবাদিকদের এখন সঙ্গে পর্দায় উপস্থিত হতে দেখা যায় না। সাধারণ মানুষ কিছু সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করতে পারলেও দেশের একটি বড় অংশে বিদ্যুত নেই, সাক্ষরতার হারও কম, যা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৮১ সাল থেকে আফগানিস্তানে বিবিসি আফগান সার্ভিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
ছবি : সংগৃহীত
ইতালি থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী কান্তাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ছারপোকার উপদ্রপ দেখা দেওয়ায় ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পার্থ থেকে রোমগামী প্রায় ১৭ ঘণ্টার ফ্লাইটে বেশ কয়েকজন যাত্রী ছারপোকা কামড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তাদের অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু একপর্যায়ে ফ্লাইটে সেই ওষুধের মজুদ ফুরিয়ে যায়।
কান্তাস এয়ারলাইন্সের এক মুখপাত্র জানান, ঘটনার পর বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার করতে সেটির উড্ডয়ন বাতিল করা হয়।
মুখপাত্র বলেন, 'রোম থেকে পার্থগামী শনিবারের ফ্লাইটটি বাতিল করার জন্য আমরা যাত্রীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ইকোনমি ক্লাসের কয়েকটি আসনে সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পর আমাদের প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণ দলকে বিমানটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার সুযোগ দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সব যাত্রীকে আবাসন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের বিকল্প ফ্লাইটে বুকিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার (এনএইচএস) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ছারপোকা এক প্রকার পরজীবী; যা পোশাক, আসবাবপত্র ও বিছানায় বাস করে। এদের কামড়ে চুলকানি বা অস্বস্তি হলেও সাধারণত গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় না।
ভ্রমণে ছারপোকার কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইংল্যান্ডে কয়েকটি 'সাউথইস্টার্ন' ট্রেন সার্ভিস বাতিল হয় ছারপোকার কারণে। ওইসব ট্রেনের চালকরা ড্রাইভিং ক্যাবিনে ছারপোকার উপদ্রবের অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
২০১৭ সালে ভ্যাঙ্কুভার থেকে লন্ডনগামী একটি ফ্লাইটে ছারপোকার কামড়ে এক পরিবারের কয়েকজনের শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং ফুলে যায়। পরে তাদের কাছে ক্ষমা চায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ।
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। পরিস্থিতি বিবেচনায় ৪১ বছর বয়সী এই যুবরাজকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।
গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। গত এক দশকের মধ্যে দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী হামলা।
ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি রিয়াদের ‘মক্কা চুক্তি’র মিত্ররাও সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই তীব্র হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি সুদক্ষ নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
হুতিদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় তাঁদের এ হামলা অব্যাহত থাকবে। গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহান্তের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই এ বিমানবন্দরটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াম’-এর তথ্য অনুযায়ী, এ অচলাবস্থার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশই বাতিল করতে হচ্ছে।
হুতিদের এমন আক্রমণের জবাবে সৌদির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনা করে সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও সমপর্যায়ের কঠোর হবে। তবে দেশটির কর্মকর্তারা গোপনে স্বীকার করেছেন যে একের পর এক হামলা ঠেকাতে গিয়ে তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের (ইন্টারসেপ্টর) মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
এ পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের নিজের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও এখন বেশ কম।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর ২০২২ সালে সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হলে সেই চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে হুতিদের প্রতিনিধিদের নিয়ে তেহরানগামী ইরানের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের চেষ্টার সময় সৌদি বাহিনী গুলি চালিয়েছে-হুতিরা এ অভিযোগ তোলার পরই মূলত এই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা এ অঞ্চলে তেহরানের অন্যতম প্রধান ও সুসজ্জিত মিত্র সামরিক শক্তি। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আরব উপদ্বীপের এ উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে চিন্তিত।’ এ লড়াইয়ের ফলে শুধু ‘ইসরায়েল সরকারই লাভবান হবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উত্তেজনা প্রশমনে গত রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেছেন বলে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করে শুধু সামরিক পথে হাঁটার ব্যাপারে রিয়াদকে সতর্ক করেছেন। সেই সঙ্গে রিয়াদ ও হুতিদের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করতে তেহরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সৌদি আরব সরাসরি দেশটির গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার পর থেকেই মূলত হুতিদের সঙ্গে সৌদির এ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
টানা তৃতীয় দিনের মতো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।
ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হুতিদের ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
গত কয়েক দিনে রিয়াদে একের পর এক হামলা হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।
তুর্কি আল-মালিকি বলেন, হুতিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তিনি বলেন, তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রই ‘শনাক্ত ও ধ্বংস’ করা হয়েছে। এদিকে গত রাতে রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই শহরে কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বেশির ভাগ জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হুতিরা জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ইয়েমেনের সীমান্তসংলগ্ন সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা ও যাতায়াত না করতে আবারও সতর্ক করে দিয়েছেন ইয়াহিয়া সারি। তিনি বলেন, ‘পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা সতর্কতার বাইরে থাকবে। তবে অন্য শহরের বিমানবন্দরগুলো নিরাপদ নয়।’
নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর এমন সময় পাওয়া গেল, যখন কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ আছে। গত শনিবার বিমানবন্দরটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।
এ ঘটনার পরপর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত রোববার সেখানে আবারও হামলা চালায় হুতিরা। নিহত হন একজন, আহত হন ১১ জন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিভিন্ন এয়ারলাইনস এরই মধ্যে রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে।
হুতিরা বিমানবন্দরের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোয় একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিন লড়াই চলছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে তারা। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই এ সংঘাত নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।
রিয়াদে একটি জ্বালানি সম্মেলনে অংশ নিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমান আল সৌদ বলেন, গত সপ্তাহে বিমানবন্দরগুলোতে হামলার ঘটনাগুলো সৌদি আরবের সহনশীলতা ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গুরুতর। আমাদের প্রতিক্রিয়াও সমান গুরুত্বের হতে হবে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনীতি বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা বা ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে হবে। বিনিয়োগও চালিয়ে নিতে হবে।’
নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে পারেনি, তা তদন্ত করে দেখছে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা এ কথা বলেন।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হুতিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন ছোড়ে। এর মাধ্যমে তারা ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার পথ পরিষ্কার করে। পরে ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরে আঘাত হানে বলে জানান ওই কর্মকর্তারা।
হুতিদের হাতে এমন সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড মাঝ আকাশে দিক পরিবর্তন করতে পারে। এতে সৌদি আরবের হাতে থাকা প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন।
প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রিয়াদে পৌঁছালেও কেন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগেভাগে সতর্কবার্তা দিতে পারেনি—সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় হুতিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও। তবে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
হুতিদের বিষয়ে কী কী করার পরিকল্পনা করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এটা মোটেও ভালো না।’
হুতিদের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ সংঘাতে জড়ালে সেটার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানকে চীন ও রাশিয়া কোনো সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানকে সহায়তা করলে চীন ও রাশিয়ার হারানোর ঝুঁকি অনেক বেশি। আর দেশ দুটি এমন কোনো সহায়তা দিলে যুক্তরাষ্ট্র তা দ্রুত জানতে পারবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প লেখেন, তার সমালোচক ও বিরোধীরা দাবি করছেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে। তবে তিনি মনে করেন, এমন কিছু ঘটলেও তা খুবই সীমিত পর্যায়ে হতে পারে। তার ভাষায়, ‘আমি বিশ্বাস করি না, তারা আদৌ এমনটা করছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের হারানোর অনেক কিছু আছে। আর তারা এমন কিছু করলে আমরা তা জানতে পারব, খুব দ্রুতই জানতে পারব।’
গত জুলাইয়েও ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধে তেহরানকে সহায়তা না করতে চীন ও রাশিয়াকে সতর্ক করেছেন তিনি। তখন তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তাদের জন্য তা খুব খারাপ হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে চলমান যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে হামলা চালায়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে এবং লেবাননে ইসরাইলি হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
এর আগে ইরান যুদ্ধের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘নিরপেক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন ট্রাম্প।
চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। দেশটির মতে, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের হামলা ইরানের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সময় ট্রাম্প তাকে ইরানকে সহায়তা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত। সে সময় চীন এ ধরনের সহায়তা দেবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করেছে এবং চীনের সহায়তায় ইরান তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে এমন একটি প্রতিবেদনও নাকচ করেছিলেন ট্রাম্প, যেখানে বলা হয়েছিল, জুলাইয়ে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের একটি ঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ করেছিল ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।