ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে দুইটি চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
কারখানা ভবনটি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি জানিয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার শাহিন আলম বলেছেন, ভবনটিতে কাচও রয়েছে। এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক সাইদুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রিজার্ভে থাকা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চলছে।
এদিকে, আগুনে পোড়া ভবন ও আশপাশের ভবনগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কারখানাটি থেকে এখনো ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে। আগুনের খবর পেয়ে কারখানার সামনে আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ ভিড় করেছেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ও ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাদের যোগ দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বুধবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আইএসপিআর।
বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার শাহিন আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার ইউনিট-২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কারখানার বিভিন্ন অংশে। পরে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বাড়তে থাকে। কারখানার ভেতরে থাকা ওষুধ, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও বিভিন্ন মালামাল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে কারখানার কোন তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ওই কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি, উত্তরা ফায়ার স্টেশনের তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্নের চারটি, কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের চারটি, রাজেন্দ্রপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ও পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের তিনটিসহ ২০টি ইউনিট কাজ করছে। এ ছাড়া মিরপুর থেকে একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ–খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন।
অগ্নিকাণ্ডে হতাহত হওয়ার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে কালাম নামে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীকে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এ উপনির্বাচনে তিন গুণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশও ভালো রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার(১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কাগজে-কলমে রপ্তানি দেখানো হলেও সরেজমিনে কারখানায় উৎপাদনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। এমনকি উৎপাদনের জন্য স্থাপিত মেশিনপত্রও অব্যবহৃত অবস্থায় স্তূপ আকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ বিলের হিসাব মেলাতে গিয়ে ধরা পড়ে এ অসংগতি। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি প্রিভেনটিভ টিম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বি/২৪০, মিজমিজি দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত ইউএজিএম বিডি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর আওতাধীন একটি প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এটি বন্ড সুবিধার আওতায় পিভিসি ফ্লেক্স, পিভিসি ফিল্ম, পিইটি ফিল্ম, আর্টিফিশিয়াল লেদার, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও কালার বোর্ডসহ বিভিন্ন কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে আসছিল।
এনবিআর জানায়, এসব কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এবং পরবর্তীতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি দেখানো হতো।
বিদ্যুৎ বিলেই ধরা পড়ল উৎপাদনের অসংগতি!
অভিযানে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত উৎপাদন তথ্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব মিলিয়ে বড় ধরনের অসংগতি শনাক্ত করেন। বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘোষিত উৎপাদনের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত কম। এছাড়া কারখানায় বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ বা গ্যাসচালিত কোনো উৎপাদন ব্যবস্থার অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।
এনবিআর জানায়, পরিদর্শনের সময় উৎপাদনসংশ্লিষ্ট মেশিনগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কারখানার উৎপাদন ফ্লোরেও নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়নি।
৮৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) গ্রহণ করে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি প্রদর্শন করলেও বাস্তবে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করেছে।
এনবিআর জানায়, অভিযান-পরবর্তী সময়ে আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব, ইউপি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কাস্টমস গোয়েন্দার কঠোর নজরদারি
এনবিআর জানিয়েছে, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে সরকার রাজস্ব হারায় এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্ক ফাঁকি এবং অনিয়ম শনাক্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা ও কারখানার বাস্তব কার্যক্রম বিশ্লেষণের মাধ্যমে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
কাগজে রপ্তানি দেখিয়ে বাস্তবে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির সুযোগ নেই; রাজস্ব ফাঁকির প্রতিটি অভিযোগ আসবে কঠোর নজরদারির আওতায়- এমন বার্তা জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আদালতের নির্দেশে সন্দেহজনক একটি দলিলের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের পর আক্রোশে পড়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক। তার অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জেরে মামলার এক আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই সাংবাদিক দাবি করেছেন, তাদের দলিল জাল নয়; সাব-রেজিস্ট্রার যথাযথ তদন্ত ছাড়াই প্রতিবেদন দিয়েছেন।
সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সাংবাদিক মো. সেলিম মিয়া, তার বাবা, আপন ভাই, চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভূয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে জমির নামজারি ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ২১১/২০০১ নম্বর দলিলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত রেকর্ডের অসংগতি পাওয়া যায়। এতে দলিলটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার মজিবুল হক দলিলটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে ১১৩/২০২৬ নম্বর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রতিবেদন দাখিল করেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক।
সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, তদন্তে দলিলের সত্যতা, নামজারি প্রক্রিয়া ও জমির দখলসংক্রান্ত বিষয়ে অসংগতি উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের সিদ্ধান্তে মামলার সংশ্লিষ্ট আসামিরা প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক অভিযোগ করে বলেন, মামলার আসামিরা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে যাওয়া স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম গত ৪ অক্টোবর তার কার্যালয়ে আসেন। আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “সংবাদটির ভাষা ও উপস্থাপনায় আমার পেশাগত অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার করা হলে তা উদ্বেগজনক।” এ ঘটনায় পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক সেলিম বলেন, তাদের দলিল জাল নয়। সাব-রেজিস্ট্রারের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের যথাযথ তদন্ত ছাড়াই একপেশেভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সোহরাব হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাল দলিলের অভিযোগে ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য কারাভোগ করেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জাল দলিল টেম্পারিং করে জমা খারিজের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে সাব-রেজিস্ট্রারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্তে জাল দলিলের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি প্রতিবেদন দেন। পরে ওই দলিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।
টঙ্গীর চেরাগআলীতে ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ এর ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন পৌনে চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানান, বুধবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পান তারা। এরপর একে একে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি অগ্নি নির্বাপণের কাজে যোগ দেয়।
সবার চেষ্টায় বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। তবে তখনো আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির ওই কারখানাটি ফার্মাসিউটিক্যালস ক্যাটাগরির। সেখানে ৩৮৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।
এ ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের ৫ তলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
সে সময় অনেক দূর থেকেও কারখানার আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। আগুনের তীব্র তাপ ও রাসায়নিরে ঝাঁঝালো গন্ধে আশপাশে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়।কারখানার ভেতরে রাসায়নিক ও বিভিন্ন শিল্পজাত উপকরণ থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমও জটিল হয়ে পড়ে।
ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি কারখানা ভবনের বিভিন্ন অংশে কাচও রয়েছে। এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ধারণা।
আগুন লাগার পরপরই কারখানার ভেতরে থাকা পানির ব্যবস্থা ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। তবে একপর্যায়ে পানির সংকট দেখা দেয়।
পরে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে পানিবাহী গাড়ি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
তাদের একজন জানান, আগুনের উৎস শনাক্ত করা এবং ভেতরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার ফাইটাররা যখন ভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, প্রচণ্ড তাপ, ঘন ধোঁয়া ও কেমিকেলের গন্ধের কারণে তাদের বেগ পেতে হচ্ছিল।
কেন ওই কারখানায় আগুন লাগল, আগুনে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে ভেতরে থাকা ওষুধ, ওষুধ তৈরির উপকরণ ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কারখানার মালিক ডা. মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
সেনাবাহিনী, বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শাহীন সাজু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে জমি খারিজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর টিপসই ও স্বাক্ষর নিয়ে জমির মালিকানা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শাহীন সাজুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শিল্পী আক্তার বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমি খারিজের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ওই জমি নিজের নামে খারিজের আবেদন করে মালিকানা দাবি করতে থাকেন শাহীন সাজু। এ ঘটনায় নিজের জমি ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শিল্পী আক্তার।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিল্পী আক্তারের স্বামী তাঁকে দুই শতক জমি হেবা ঘোষণার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেন। জমিটি খারিজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শাহীন সাজু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁকে বাঞ্ছারামপুরে নিয়ে দুই হাজার টাকা নিয়ে জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্রে টিপসই ও স্বাক্ষর নেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ওই জমি নিজের নামে খারিজের আবেদন করেন শাহীন সাজু। একই সঙ্গে জমিটির মালিকানা দাবি করতে থাকেন তিনি। এতে বিপাকে পড়েছেন শিল্পী আক্তার।
ভুক্তভোগীর দাবি, সহায়-সম্বলহীন তাঁর পরিবারের শেষ সম্বল ওই দুই শতক জমি। জমিটি হারানোর আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। নিজের জমি ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন তিনি।
আছাদনগরে বাড়ি, ‘আজকের পত্রিকা’র সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহীন সাজুর বাড়ি বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার আছাদনগর গ্রামে। তিনি একসময় ‘আজকের পত্রিকা’য় কাজ করতেন বলে জানা গেলেও বর্তমানে ওই পত্রিকার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে তিনি এখনো নিজেকে ‘আজকের পত্রিকা’র সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বর্তমান পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শাহীন সাজুর বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার আরও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। ফতেহপুর এলাকায় এক তরুণীর বাসায় রাতে যাতায়াত ও অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিভিন্ন দলের পরিচয় ব্যবহার এবং ‘ডাক প্রতিদিন’ নামে একটি পত্রিকায় ভুয়া সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহীন সাজুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি গুরুতর অপরাধ। জালিয়াতির মামলা হওয়ার যোগ্য। ভুক্তভোগী মামলা করলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
ঘটনাটি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তদন্তের জন্য বিদ্যালয়ে যান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ভিডিওটি প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে ধারণ করা হলেও মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে থাকা দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম। তাদের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা থাকলেও বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। পারিবারিক বিরোধ নিয়ে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলছে।
প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি। এর আগেও দুই থেকে তিনবার বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান আফজাল হোসেন।
সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষকদের এমন আচরণে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।