রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। আজ সোমবার প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।


দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সৌদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।


এ ছাড়া এসব ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দূতাবাসের কয়েকটি হটলাইন নম্বরও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


শ্রমসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৫


পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৬


ডিপ্লোমেটিক উইং: ৮০০১০০০১২৪


মৃত্যুসংক্রান্ত হটলাইন: +৯৬৬৫৭০২১২১৮০


সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।


সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের একের পর এক হামলার পর বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সে দেশে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সৌদি আরব ভ্রমণের ব্যাপারে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে।


হুতিদের হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দুই বিমানবন্দরে আজ সোমবার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে।




সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

পদত্যাগ করা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির শূন্য ঘোষণা করা সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ নভেম্বর সংরক্ষিত এই মহিলা আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়।


ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী ২৬ অক্টোবর। পরদিন ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ অক্টোবর। এর পরদিন (২৯ অক্টোবর) আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।


প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ নভেম্বর। এর পরদিন (২ নভেম্বর) প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। সবশেষ আগামী ১২ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংরক্ষিত এই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


উল্লেখ্য, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। এরপরই সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে। তারই ধারাবাহিকতায় আসনটিতে উপনির্বাচনের তফসিল জারি করল ইসি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ পিএম

রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেয় বলে তথ্য দিয়েছেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম।


এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।


আবেদনে দাবি করা হয়, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উস্কানিমূলক ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে প্রচার করছেন। 


এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ আহমেদসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দলটির পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।


তারা ‘কালআজকাল.কম’ নামে ফেইসবুকে পেইজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উস্কে দেওয়ার মত কন্টেন্ট তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনা করছেন।


রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কাজী গুলশান আরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। সহযোগী ১০১ জনকে নিয়ে ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটিও গঠন করেন তিনি। এ সংগঠনের কাজ মূলত দেশের বিভিন্ন শ্রেণি গোষ্ঠীর ভিতরে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা।


এর আগে বিকেলে দেবাশীষ বড়ুয়া ও গুলশান আরাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে দেবাশীষ বড়ুয়ার পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল করে আবেদন করেন।


জামিন শুনানিতে আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন বলেন, “তিনি (দেবাশীষ বড়ুয়া) কি এমন করেছেন যা দেশের উপর সরাসরি আঘাত করে। তার বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব নষ্টের কিছু নাই। রিমান্ড পাওয়া ভাল তবে সেই আবেদন যৌক্তিক হতে হবে। 


গতকাল থেকে আজ আদালতে হাজির করার আগ পর্যন্ত তারা হেফাজতে ছিল। রিমান্ড আবেদন করার যে কারণ তা ফুলফিল হয়ে গেছে।


“দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়, দেশ ড্রেসট্রো হয় এমন একটা শব্দ তার বিরুদ্ধে নেই। তিনি কি ঘটনাস্থলে ছিলেন? সেখানে থেকে জেনে শুনে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সন্ত্রাসী কিছু করেছেন? এমন কোনো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই। রিমান্ড বাতিল করে তার জামিন প্রার্থণা করছি।”


গুলশান আরার পক্ষে তার রিমান্ড বাতিল চান অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান। তিনি বলেন, “তার (গুলশান আরা) বিরুদ্ধে অভিযোগ এমন কন্টেন্ট তৈরি করেছেন, যার ফরে রাষ্ট্র ঝুঁকিতে পড়ে। তিনি রিটায়ার্ড অফিসার। তার বিরুদ্ধে কোনো এলিগেশন নেই। ক্লিন ইমেজ, বর্তমানে তিনি ব্যবসা করছেন।


“তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আর্মি অফিসারদের সাথে যোগাযোগ। এটা তো থাকতেই পারে। কারণ তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন। এটা তো দোষের কিছু না। ফেইসবুক পেজ খোলা, কনটেন্ট তৈরি করা কোনো অপরাধ না। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করছি।”


অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যু্ক্তি তুলে ধরে বলেন, “এ আসামি সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আওয়ামী লীগকে পুর্নবাসিত করতে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সাথে যোগাযোগ, আভ্যন্তরীণ বিষয় গুপ্তচরদের কাছে পাচার করছে। তাদের রিমান্ডে দিলে রাষ্ট্রদ্রোহীতার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”


পরে আদালত দুই আসামির চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। এরআগে রোববার রাতে ঢাকার দুটি এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আলী আকবর।


জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান নারীস্বাস্থ্যে বৈশ্বিক অংশীদারত্বে অর্থায়ন চাইলেন

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।


তিনি বলেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’


গতকাল রোববার জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’


তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।


ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’


তিনি বলেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।


বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’


তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’


মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’


জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’


তিনি আরও বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’


নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা খালেদা জিয়া গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁদের উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন নারীরা।’


তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’


মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান।


নারীদের মধ্যে দেখা দেওয়া প্রাণঘাতী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।


এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডা. জুবাইদা রহমান।


বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।


অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।


সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়।


এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে-ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


এ উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের টেকসই সমাধান হলো তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।


এ সময় রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন কানাডার প্রতিমন্ত্রী।


বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশের কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।


বৈঠকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশটি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানানো হয়েছে।


বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।


এ ছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ জানিয়েছে কানাডা। বর্তমানে এ খাতে দেশটির কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।


বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) মাধ্যমে বাংলাদেশে চলমান কার্যক্রমের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন কানাডার প্রতিমন্ত্রী।


বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে কৃষি খাতে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।


তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা নিতে পারে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।


বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহ রয়েছে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশেরও উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা।


বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের প্রশংসা করেন রণদীপ সরাই। তাঁদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুজন ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান।


বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


কানাডার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার অজিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


কমিশনার ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ পিএম

আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। সোমবার (১২ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এমনটা জানান তিনি।


ইসি সানাউল্লাহ বলেন, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপে একই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে আগামী বছরের ২৭ মে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


তিনি বলেন, জেলা নির্বাচন কমিশনাররা ইউনিয়ন পরিষদের তফসিল ঘোষণা করবেন। এটা সাধারণত নির্বাচনের ৬ সপ্তাহ আগে ঘোষণা হয়ে থাকে। যখন যে নির্বাচন হবে, এর ৪২ দিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়ে থাকে।


বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছাড়াও সোমবারের বৈঠকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বিস্তারিত একটি কমিটির মাধ্যমে এটি সম্পাদন হবে। আমরা কিছু ইন্টারনাল রিডিস্ট্রিবিউশন (অভ্যন্তরীণ পুনর্বণ্টন) অ্যালাউ (অনুমোদন) করেছি।


এ ছাড়াও বৈঠকে মৃত ভোটারদের বাদ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে টাইমলি (সময়মতো) মৃত ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বৈঠকে আমরা একটি প্রস্তাবনা শুনেছি। এই প্রস্তাবনাটি পাইলট আকারে কিছু উপজেলা ও ইউনিয়নে চালু করা হবে। পরবর্তীতে সফলতা বিবেচনায় হয়তো এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সারা দেশে চালু হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ এএম

নতুন করে বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের কাছে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


এদিকে, সরকারি নির্দেশের পরও জমা পড়েনি ২০ হাজারের বেশি অস্ত্র। ২৪ এর অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশই উদ্ধার হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক সক্ষমতা থাকলেই কেউ অস্ত্র রাখতে পারবে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।


২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের সুযোগে থানা থেকে অস্ত্র লুটে নেয় দুবৃত্তরা। যায় বেশিরভাগই এখনো উদ্ধার হয়নি।


এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ সন্ত্রাসীদের হাতে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে বেড়ে চলা অপরাধের নানা ঘটনায় এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা তা নিয়েও জনমনে আতঙ্ক আছে। এই উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের কাছে নতুন আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পুরোনো অস্ত্রের হিসাবই যখন মিলছেনা; তখন নতুন অস্ত্রের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে কতটা নিশ্চিত হচ্ছে নিরাপত্তা?


পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে ৫৩ হাজার ৭০২টি। এর মধ্যে ব্যক্তিগত লাইসেন্সের বিপরীতে আছে ৪৮ হাজার ২৮৩টি অস্ত্র।


গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্যক্তিগত অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়ে ২৭ হাজার ৯৯৫টি। জমা পড়েনি ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র। ঢাকায় নিবন্ধিত ৩ হাজার ৯৯১টি অস্ত্রের মধ্যে জমা পড়েনি ৭৪০টি।


পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে ২০ হাজার ১৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ তখন রাজনৈতিক বিবেচনায় বহু লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিলো।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী বলছেন, সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেক্ষেত্রে হাতেগোনা কয়েকজনের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে আরো বিশৃংখলা তৈরি হবার শঙ্কা আছে।


রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক সক্ষমতা থাকলেই কেউ অস্ত্র রাখার এখতিয়ার পাবেন কিনা সেটিও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক। 


অস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত যাচাই, প্রকৃত প্রয়োজন নির্ধারণ ও অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ বলছেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।