সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এক পাশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মহাসড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, যাত্রী ও পথচারীরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা আজমপুর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সেখানে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে গণপরিবহনে আটকে পড়েন অনেক যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বাসে আটকে পড়া সিপার মাহমুদ বলেন, ‘সকালে জরুরি কাজে বের হয়েছি। কিন্তু সড়কে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আটকে পড়ে যাই। অনেক সময় বাসে অপেক্ষার পর হেঁটেই যাচ্ছি।’
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে উত্তরার আজমপুর ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সড়ক ব্যবহারকারীদের বিকল্প পথে চলাচল এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং অবরোধ নিরসনে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পুনঃব্যবহার বাড়ানো এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে চক্রাকার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ (মঙ্গলবার) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চক্রাকার অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ’।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী, জলাভূমি, উপকূল, জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে। আবার প্লাস্টিক উৎপাদন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই এ সমস্যার সমাধানে উৎপাদন থেকে ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নীতিমালার সুফল পেতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এনপিএপি বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ প্ল্যাটফর্ম বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে যুক্ত করতে, নীতির সঙ্গে বাস্তবায়নের সংযোগ ঘটাতে, উদ্ভাবকদের বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিনিয়োগ সমন্বয়ে সহায়তা করবে। সরকার নেতৃত্ব দেবে, তবে এ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি এনপিএপি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবসম্মত সমাধান ও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তি শক্তিশালী করতে, উন্নয়ন সহযোগীদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সহযোগিতা সমন্বয় করতে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চক্রাকার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এনপিএপির সাফল্য সভার সংখ্যা দিয়ে নয়, বাস্তব ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের উন্নতি, সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কার্যকর সমাধানের প্রসার এবং জনগোষ্ঠী ও বর্জ্যকর্মীদের অবস্থার উন্নতিই হবে সাফল্যের মাপকাঠি।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব বর্জ্য ফেলার স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি নালা বন্ধ করে, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং নদীর মাধ্যমে সাগরে পৌঁছায়। প্লাস্টিকসহ বর্জ্য খোলা জায়গায় পোড়ানোর ফলে ক্ষতিকর কণা ও বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, পরিবারকে বর্জ্য আলাদা করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সংগ্রহের সময় তা আলাদা রাখা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের পরিচালক ক্লেমঁস শ্মিড ভিডিও বার্তা দেন। এনপিএপি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্লাস্টিকসংক্রান্ত অভিন্ন জাতীয় তথ্যভিত্তি তৈরি, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে ইউএনডিপি মত দেয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামান,বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ছবি : সংগৃহীত
পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় লাগা আগুন প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সকাল ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত তা পুরোপুরি নির্বাপণ করা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র মো. তালহা বিন জসিম বলেন, ‘আগুন পুরোপুরি নেভাতে এখনো ১০টি ইউনিট কাজ করছে।’
গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটের দিকে ভবনটির ষষ্ঠ তলার একটি দোকানে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নেভানোর কাজে পরে একটি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও একটি লাইটিং ইউনিটও যোগ দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, আগুন নেভানোর কাজে প্রায় ১৫০ জন ফায়ারফাইটার অংশ নেন।
তিনি বলেন, সরু রাস্তা ও ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নেভানোর কাজে বাধার মুখে পড়তে হয়। ঘটনাস্থলে বড় অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি ও পানিবাহী যান নেওয়া কঠিন ছিল। এছাড়া ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতেও বেগ পেতে হয়।
আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কতটি দোকান বা গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
মাহমুদুল হাসান জানান, ভবনের ভেতরে অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে দুই ফায়ারফাইটার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে চার ফায়ারফাইটার ও কর্মকর্তা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণে আছেন। তারা হলেন, পলাশী ফায়ার স্টেশনের ফায়ারফাইটার মো. জিল্লুর রহমান ও লিডার মো. নজরুল ইসলাম, সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. মারুফ এবং খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মাহাফুজুর হক মজুমদার।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর চকবাজারের ছোট কাটারায় মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে।
আজ (সোমবার, ১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আজ সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এরপর ৫টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিস।
মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে পাওয়া ভ্যানিটি ব্যাগ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে একটি ভ্যানিটি ব্যাগে ককটেল সদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে ঢাকা উদ্যান এলাকায় আদাবর থানার জন্য নির্ধারিত জায়গার পাশে ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে এসআরবির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধারে কাজ করছে।
এসআরবির স্কোয়াড্রন লিডার নিফাজ বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। পরে ব্যাগের ভেতরে থাকা ককটেল সদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে ঘটনাস্থলে আনা হচ্ছে।
এসআরবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ককটেল সদৃশ বস্তুটি কোথা থেকে এসেছে, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে।
এদিকে খবর পেয়ে এসআরবির পাশাপাশি আদাবর থানা-পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর-বসিলা সড়ক কার্যত অচল করে দিয়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। রোববার সকাল থেকে তাদের অবরোধে বন্ধ হয়ে গেছে সড়কটির যান চলাচল। এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের সড়কগুলোতেও। তীব্র যানজটে আটকে পড়েছেন অফিসগামী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীরা। জরুরি কাজে বের হয়েও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না অনেকে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন অটোরিকশাচালকেরা। এরপর থেকে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের সড়কেও যানবাহনের চাপ বাড়ে, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল। অবরোধে আটকে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। তাদের একজন বলেন, আমি নিউমার্কেট যাব। আধা ঘণ্টা ধরে সিএনজিতে বসে আছি, কিন্তু সামনে এগোতে পারছি না।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এক যাত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে সরকারের নতুন করে ভাবা উচিত। চালকেরা যখন-তখন সড়ক বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ ধরনের অবরোধে অফিসগামী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
অটোরিকশাচালকেরা জানান, তিন দিনের মধ্যে ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হবে, সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে তারা সড়ক অবরোধ করেছেন।
অবরোধে অংশ নেওয়া এক চালক বলেন, আমাদের প্রধান দাবি, যেসব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি রয়েছে, সেসব সড়কে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানোর সুযোগ দিতে হবে। পুরো শহরে অটোরিকশা চালানোর দাবি আমাদের নেই। সরকার যেসব সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করেছে, আমরা সেসব সড়কে গাড়ি চালাই না। আমরা চাই, নির্ধারিত সড়কে অন্তত নির্বিঘ্নে অটোরিকশা চালানোর সুযোগ দেওয়া হোক।
ছাত্রলীগের নেতা ইউসুফ রানা
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে গোপনে সংগঠিত করা এবং অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের নেতা ইউসুফ রানার বিরুদ্ধে।
ইউসুফ রানা ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকার পর তিনি আবারও রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ইউসুফ রানা আড়ালে থেকে অনুসারীদের মাধ্যমে মোটরসাইকেল শোডাউন, মিছিল ও সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ইউসুফ রানার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে ধানমন্ডি থানার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন তৎপরতা চালানো ও সংগঠিত করার অভিযোগে ইউসুফ রানাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিএনপির ছাত্রদল নেতা আমান দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দেশে ফেরা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিরোধিতা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।