ওয়াহিদুজ্জামান শামীম
সাতক্ষীরার দেবহাটায় আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে গণপিটুনির পর অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীমের কয়েকটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই অডিওতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তার বাড়িতে যান। এ সময় শামীম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
পরে তার ভাইয়েরা তাকে উদ্ধার করে কুলিয়া এলাকার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করেন।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কুলিয়ার ওই চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে ঘেরাও করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কিছু লোক হাসপাতালে ঢুকে তাকে দ্বিতীয় দফা মারধর করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আবু তাহের আজাদ
মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আবু তাহের আজাদকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে চাটখিল থানা পুলিশ তার নিজ এলাকা রেজ্জাকপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করে। পরদিন শনিবার (১০ অক্টোবর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
জিডি থেকে ওয়ারেন্ট
চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. হোসেন তানভীর (৩৪) ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেই জিডির প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্ট জারি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
হোসেন তানভীর অভিযোগ করে বলেন, "চাটখিল উপজেলা বিএনপি নেতা মো. আবু তাহের আজাদ এবং চাটখিলের বাসিন্দা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মো. কাজী পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে আসছে। প্রবাসে থাকা পারভেজের প্ররোচনায় আবু তাহের আজাদ আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ফেসবুকে ও ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।"
তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত এমন হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন জানিয়ে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় চাটখিল থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
দলীয় ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন
গ্রেফতারের বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক আরেক নেতা আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেজ্জাকপুর ওয়ার্ডে আবু তাহের আজাদ দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে চলেছেন। তার ভাষ্য, চাঁদাবাজি, নলকূপ, বাথরুম ও পুকুরের গাইড ওয়াল-জাতীয় সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ এবং সালিশ বাণিজ্যের মাধ্যমে মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি।
আহসান হাবিব চাটখিল উপজেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যার এসব অপকর্মের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, "আসামির বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মিরপুর মডেল থানায় জিডি ছিল। ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকল আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।"
তিনি আরও বলেন, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মক সচেষ্ট রয়েছে।
স্পীকারের সাথে মতবিনিময় বরিশাল বিভাগ সমিতির নেতৃবৃন্দের
আজ ১৪ অক্টোবর (বুধবার) সকাল ১০.০০ ঘটিকায় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এর সাথে বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু'র নেতৃত্বে ৭ সদস্য প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে মত বিনিময় করেন।
এ সময় বরিশাল সমিতির নেতৃবৃন্দ মাননীয় স্পীকারের নিকট বরিশাল বিভাগের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী দাওয়া তথা ভাঙ্গা - কুয়াকাটা ৬ লেন সড়ক নির্মান, ঢাকা - ভাঙ্গা - বরিশাল - কুয়াকাটা রেললাইন স্থাপন, বরিশাল - ভোলা সেতু নির্মাণ, বরিশাল - ভোলা সড়ক নির্মান এবং ভোলার গ্যাস বরিশাল বিভাগের সর্বত্র সরবরাহের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
নেতৃবৃন্দ মাননীয় স্পীকার এর নিকট সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হক এর স্মরনে স্মরনিকা হস্তান্তর করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময়ে সমিতির সহ-সভাপতি ও সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শওকত উল ইসলাম, সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মোহাম্মদ শাহ আলম, সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহবায়ক এডভোকেট রুবেল হাওলাদার, সদস্য সচিব ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো: আবুল কালাম, দপ্তর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুর রাজ্জাক, নির্বাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ গোলাম কিবরিয়া উপস্থিত ছিলেন।
*তৃণমূলের আইনি সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন, নেতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলা ও গ্রেপ্তারের চাপে বিপর্যস্ত কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশ। কেউ কারাগারে, কেউ আত্মগোপনে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির জেলা, শহর ও সদর থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা এবং তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্র।
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা কিংবা তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতাদের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট নেতাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা হাতবদলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কারাগারে কর্মীরা, নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদরউদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এবং সদর থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন কর্মীর স্বজন।
তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সাধারণ কর্মীদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হলেও সংকটের সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নেতাদের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। কারাগারে থাকা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এক কর্মীর স্বজনের ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় যেসব নেতার নির্দেশনায় কর্মীরা মাঠে থাকতেন, সংকটের সময়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাইসেন্স নিয়ে অভিযোগ
কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের জেলা ও শহর পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ইটভাটা, বড় বাস, তামাক পরিবহন ও তামাক ব্যবসা, প্লাইউড কারখানায় শেয়ার এবং সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে।
এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে নেওয়া লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে আয় করার অভিযোগও করেছেন কয়েকটি সূত্র। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও এসব ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে তেমন প্রভাব পড়েনি; কিছু ক্ষেত্রে অন্যের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
তবে কোন প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কার নামে, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের প্রকৃতি কী, সেগুলো আইনসম্মতভাবে হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া হয়েছে কি না এবং ব্যবসা পরিচালনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না- এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ও জাপান টোব্যাকোর সঙ্গে তাদের পূর্বের ব্যবসা হাত বদলের মাধ্যমে চলমান।
তৃণমূলে বাড়ছে হতাশা
কর্মীদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা কর্মীরা বিপদে পড়লে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কার?
কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশা, শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা এবং তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রামাণ্য নথি গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা জেলার নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে বারবার দাবি করে আসছেন।
তবে বাস্তবে কারাগারে থাকা নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জেলা আওয়ামী লীগের এসব শীর্ষ নেতার কাছ থেকে কোনো ধরনের আইনি বা আর্থিক সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতার কথা বলা হলেও সংকটের সময়ে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট নেতাদের। ফলে নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল পর্যায়ে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এ উপনির্বাচনে তিন গুণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশও ভালো রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার(১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কাগজে-কলমে রপ্তানি দেখানো হলেও সরেজমিনে কারখানায় উৎপাদনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। এমনকি উৎপাদনের জন্য স্থাপিত মেশিনপত্রও অব্যবহৃত অবস্থায় স্তূপ আকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ বিলের হিসাব মেলাতে গিয়ে ধরা পড়ে এ অসংগতি। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি প্রিভেনটিভ টিম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বি/২৪০, মিজমিজি দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত ইউএজিএম বিডি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর আওতাধীন একটি প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এটি বন্ড সুবিধার আওতায় পিভিসি ফ্লেক্স, পিভিসি ফিল্ম, পিইটি ফিল্ম, আর্টিফিশিয়াল লেদার, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও কালার বোর্ডসহ বিভিন্ন কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে আসছিল।
এনবিআর জানায়, এসব কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এবং পরবর্তীতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি দেখানো হতো।
বিদ্যুৎ বিলেই ধরা পড়ল উৎপাদনের অসংগতি!
অভিযানে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত উৎপাদন তথ্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব মিলিয়ে বড় ধরনের অসংগতি শনাক্ত করেন। বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘোষিত উৎপাদনের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত কম। এছাড়া কারখানায় বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ বা গ্যাসচালিত কোনো উৎপাদন ব্যবস্থার অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।
এনবিআর জানায়, পরিদর্শনের সময় উৎপাদনসংশ্লিষ্ট মেশিনগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কারখানার উৎপাদন ফ্লোরেও নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়নি।
৮৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) গ্রহণ করে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি প্রদর্শন করলেও বাস্তবে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করেছে।
এনবিআর জানায়, অভিযান-পরবর্তী সময়ে আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব, ইউপি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কাস্টমস গোয়েন্দার কঠোর নজরদারি
এনবিআর জানিয়েছে, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে সরকার রাজস্ব হারায় এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্ক ফাঁকি এবং অনিয়ম শনাক্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা ও কারখানার বাস্তব কার্যক্রম বিশ্লেষণের মাধ্যমে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
কাগজে রপ্তানি দেখিয়ে বাস্তবে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির সুযোগ নেই; রাজস্ব ফাঁকির প্রতিটি অভিযোগ আসবে কঠোর নজরদারির আওতায়- এমন বার্তা জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আদালতের নির্দেশে সন্দেহজনক একটি দলিলের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের পর আক্রোশে পড়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক। তার অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জেরে মামলার এক আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই সাংবাদিক দাবি করেছেন, তাদের দলিল জাল নয়; সাব-রেজিস্ট্রার যথাযথ তদন্ত ছাড়াই প্রতিবেদন দিয়েছেন।
সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সাংবাদিক মো. সেলিম মিয়া, তার বাবা, আপন ভাই, চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভূয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে জমির নামজারি ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ২১১/২০০১ নম্বর দলিলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত রেকর্ডের অসংগতি পাওয়া যায়। এতে দলিলটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার মজিবুল হক দলিলটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে ১১৩/২০২৬ নম্বর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রতিবেদন দাখিল করেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক।
সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, তদন্তে দলিলের সত্যতা, নামজারি প্রক্রিয়া ও জমির দখলসংক্রান্ত বিষয়ে অসংগতি উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের সিদ্ধান্তে মামলার সংশ্লিষ্ট আসামিরা প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক অভিযোগ করে বলেন, মামলার আসামিরা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে যাওয়া স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম গত ৪ অক্টোবর তার কার্যালয়ে আসেন। আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “সংবাদটির ভাষা ও উপস্থাপনায় আমার পেশাগত অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার করা হলে তা উদ্বেগজনক।” এ ঘটনায় পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক সেলিম বলেন, তাদের দলিল জাল নয়। সাব-রেজিস্ট্রারের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের যথাযথ তদন্ত ছাড়াই একপেশেভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সোহরাব হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাল দলিলের অভিযোগে ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য কারাভোগ করেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জাল দলিল টেম্পারিং করে জমা খারিজের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে সাব-রেজিস্ট্রারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্তে জাল দলিলের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি প্রতিবেদন দেন। পরে ওই দলিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।