শহীদ ওসমান হাদী হত্যায় ভারত, আওয়ামী লীগ এবং জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের।
তিনি আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের নামে প্রহসন ও তদন্ত বারবার পেছানোর প্রতিবাদে এবং দ্রুততম সময়ে এই বিচার কার্য সম্পাদনের দাবি সহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই হত্যায় ও হাদি হত্যায় জড়িতদের ডিসেম্বরের মধ্যে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। শাপলা ট্রাজেডি ও পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের দাবি, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। মার্চ ফর ইনসাফ-এর মাধ্যমে তারা এসব দাবির প্রতি জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে, বুধবার দুপুরে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছে শহীদ আবরার, শহীদ ওসমান হাদী সহ জুলাই আন্দোলনে নিহতদের জন্য দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
পরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবি সম্মিলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণ রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থান করা খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক আব্দুল্লাহ বিন জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। কর্মসূচি শুরুর প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে ২১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হবে। এর মাঝে বিভিন্ন বাজারে দাবি সম্মিলিত লিফলেট বিতরণ করবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে শারমিন আক্তার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে রমিক চন্দ্র সিংহ (২৩) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও শারমিনের সন্ধান মেলেনি। এদিকে আসামিদের ভারতে যাতায়াতের অভিযোগ থাকায় মেয়েকে সীমান্ত পার করে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পরিবার।
শারমিন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পাড়িয়া ইউনিয়নের বামুনিয়া গ্রামের পশিরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি লাহিড়ী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মোবাইল ফোনে শারমিনকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন প্রতিবেশী রমিক চন্দ্র সিংহ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার দুই দিন পর শারমিনের বাবা পশিরুল ইসলাম বাদী হয়ে রমিক চন্দ্র সিংহ, তার বাবা গ্রাম পুলিশ সুমন্ত চন্দ্র সিংহসহ পাঁচজনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় অপহরণ মামলা করেন। তবে মামলা হওয়ার পরও শারমিনকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন শারমিনের মা। স্বজনরা জানান, তিনি ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করছেন না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
শারমিনের বাবা পশিরুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়েকে যে কোনো মূল্যে ফেরত চাচ্ছি।
স্বজনদের দাবি, মামলার কয়েকজন আসামির ভারতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও শারমিনের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাকে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ঘটনায় মামলার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়িটির দেখাশোনা করছেন বৈশ্বানী রানী। তিনি বলেন, মেয়ে ধরে রমিক পালাইছে। এরপর থেকে ওর বাবাও নাই। মুই বাড়ি পাহারা দিছু।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, পরিবার কিছুটা দেরিতে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে অপহরণ মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার ও কলেজছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মো. আব্দুস সালাম
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখায় অডিট চলাকালে মো. আব্দুস সালাম (৫০) নামে এক শাখা ব্যবস্থাপকের মৃত্যু হয়েছে। কীটনাশকযুক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের পর মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে নিরাপত্তার জন্য অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সালাম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরের বাসিন্দা। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি নিমগাছী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে শাখায় অডিট চলছিল। এ সময় আব্দুস সালামকে হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল।
বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব।’ পরে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ও ব্যাংকের কর্মীরা অডিট কমিটির সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রামীণ ব্যাংক সিরাজগঞ্জ জোনাল অফিসের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অডিট চলমান রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার অডিট শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। তার বিরুদ্ধে কোনো অডিট আপত্তিও ওঠেনি। গ্রামীণ ব্যাংক বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তার স্ত্রীও থানায় অভিযোগ করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, মবের হাত থেকে নিরাপত্তা দিতে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলেও মরদেহ এখনো রায়গঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এ ঘটনায় গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও কোনো মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হয়নি। নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’
নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বলেন, আমার স্বামীর মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল না। চাকরির ঝামেলার কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি পুলিশি তদন্তের ব্যাপার এবং এখনো পরিষ্কার কিছু জানতে পারিনি।
মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেয়ারচর এলাকায় দেড় কিলোমিটার একটি খালখননের উদ্যোগ নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। এতে খালখননের সময় আশেপাশের শত-শত বসতবাড়ী ভেঙে বাস্তহারা হয়ে যাবে বলে, খাল খনন বন্ধের দাবিতে ঐ এলাকাবাসি ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
আজ (৭ অক্টোবর) বুধবার সকালে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছেন ঐ এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, নকশায় খালের যে পরিমাণ জমি রয়েছে এ দেড় কিলোমিটার খননের জায়গা তাও আমাদের পূর্বের রেকর্ডীয় ব্যক্তিমালিকানাধীন।
এছাড়া সরকার আমাদের যাতায়াতের সুব্যবস্থার জন্য রাস্তা নির্মাণে আমাদের রেকর্ডীয় পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে কিছু অংশ জমির মাটি কেটে এই রাস্তাটি ১০ বছর আগে নির্মাণ করে। এখন সেই রাস্তাটি এলাকাবাসিসহ সর্বস্তরের জনগণের উপকারে আসছে। কিন্তু বর্তমানে খাল পুনঃখননে এলাকার কোনো উপকারে আসবে না বরং ৩০ বছর ধরে বসবাস করে আসা শত-শত বসতি ঘর বাড়ি ভেঙে বাস্তহারা হয়ে যাবে- এমন খাল খনন আমরা চাই না। তাই এ খাল খনন কাজের উদ্যোগ বন্ধের জন্য মাদারীপুর ২ আসনের এমপি মোহাম্মদ জাহান্দার আলী (জাহান) সাহেব ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অনুরোধ জানিয়ে এলাকাবাসীর আয়োজনে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এ ঘটনার সমাধান চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানায় এলাকাবাসি। এ-বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমি ঘটনাস্থলে তদন্ত করে বিষয়টি দেখবো।
বিএনপির নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন প্রতি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপির একাংশ নেতাকর্মী ।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সার ডিলারের আবেদনকারী বিএনপির একাংশ নেতাকর্মী।
এসময়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। এতে করে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। উপজেলার ৯ ইউনিয়নে থেকে মোট ২৭ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোকদের সুপারিশ করে পাঠিয়েছে। সেখানে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও বিএনপির প্রকৃত নেতাদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা পাটোয়ারি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান করার পরে তিনি স্বৈরাচারী আচরণ শুরু করেছেন। তিনি সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে সুপারিশ করেছেন। শুধু ডিলার নিয়োগ নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডে কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। সেখানে তিনি নিজের পছন্দমতো মানুষকে নিয়োগ দিয়েছেন। সেখানে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে রাখা হয়নি যদিও অনেক বিএনপির যোগ্য প্রার্থী ছিল। যারা ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতা করেছিল ইউএনও তাদের নিয়োগ দিয়েছে। এই কর্মকর্তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সুনাম নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ইউএনওর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার কথা ছিল কিন্তু তারা ভুল করে এমপির বিরুদ্ধে করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ব্যর্থ করতে যা যা করা দরকার এই নির্বাহী কর্মকর্তা তাই করছেন। তিনি যদি দায়িত্বে থাকেন তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।
বাহাগিলী ইউনিয়ন বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক নুরনবী ইসলাম অভিযোগ করেন, আমি একজন বিএনপির প্রবীণ নেতা আমার সবকিছু যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইউএনও তার নিজের মতো করে লোকজনকে সুপারিশ করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই সেইসঙ্গে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই এটির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। সেখানে প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছে দেশকে সুন্দর করে সাজাতে, সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নিজের মন মতো এসব কাজ করছেন। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনোভাবে মূল্যায়ন করে না। তার এমন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পুটিমারি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মকছুদার রহমান বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করি। কিছুদিন আগে সার ডিলার নিয়োগ হয়েছে, সেখানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ইউএনও আর্থিক সুবিধা নিয়ে সার ডিলার সুপারিশ করেছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, আছ্যছমরা যে তালিকা পাঠিয়েছি, সেটা উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে সম্মিলিতভাবে পাঠিয়েছি। যদি কোনো অভিযোগ থাকে সেটা খতিয়ে দেখা হবে, এছাড়া কেউ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করলে সেটি প্রমাণ করার দায়িত্ব তার।
'শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদার উন্নয়নে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ৬০ বছর' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে উক্ত শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
রনচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার আশরাফ উজ জামান সরকার।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। আর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরো বলেন, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিঃসৃত করা প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ মর্যাদা না পেলে মেধাবীদের এই পেশায় ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের স্মরণ করেছেন।
শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা একটি কন্টেইনারে মিলেছে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার, আরেকটি বিএমডব্লিউ সেডানের সামনের অংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক। কাস্টমস নথিতে যেসব পণ্য আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কায়িক পরীক্ষায় তার সঙ্গে কন্টেইনারে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় মিথ্যা ঘোষণায় গাড়ি ও গাড়ির বিভিন্ন অংশ আমদানির অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি’ থেকে কন্টেইনারটি আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড’। কাস্টমস নথিতে চালানটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কন্টেইনার খুলে পরীক্ষা করার পর ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ব্যাপক পার্থক্য ধরা পড়ে।
চালানটির কায়িক পরীক্ষায় কন্টেইনারের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ সিকেডি বা কমপ্লিটলি নকড ডাউন অবস্থায় ২০০৯ মডেলের দুই আসনবিশিষ্ট একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২৫০০ সিসি। গাড়িটি সাধারণ যন্ত্রাংশের পরিবর্তে সিকেডি অবস্থায় থাকায় কাস্টমস ঘোষণার সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া একই চালানে পাওয়া গেছে ২০১৬ সালের প্রায় ৩০০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফ-কাট। একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুধু সামনের অংশ কীভাবে ওই চালানে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে গোপনে খালাস করা হয়েছে কিনা, অথবা পরবর্তী কোনো চালানে আনার চেষ্টা করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএমডব্লিউর গাড়ি ও অংশবিশেষ নয়, কন্টেইনারে ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাকও পাওয়া গেছে। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতর কৌশলে প্যাক করে রাখা হয়েছিল আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ। কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় একাধিক চালানে আমদানি করে পরে দেশে সেগুলো পুনঃসংযোজনের একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এভাবে গাড়ির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বা সংশ্লিষ্ট অংশ আলাদা আলাদা চালানে এনে প্রকৃত পণ্য ও মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও গাড়ির অংশগুলোর ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রকৃত শুল্ক মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমডব্লিউ গাড়িটির বাকি অংশের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের গাড়ি বা গাড়ির অংশ আমদানির সম্ভাব্য চক্র ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।