কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে র্যাগিংয়ের অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আমির হোসেন অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করেন, বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হওয়ায় তিনি তার দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে ইচ্ছুক।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী আমির হোসেন ও অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীর (অন্তু, হাসান, রিয়াদ) স্বাক্ষরিত একটি আপসনামা প্রক্টর বরাবর জমা দেওয়া হয়। তবে সেদিন প্রক্টর অফিসের কার্যসময়ের সমাপ্তি হওয়ায় সেটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে আজ রোববার প্রক্টর আনুষ্ঠানিকভাবে আপসনামাটি গ্রহণ করেন।
জানা যায়, গত ২০ আগস্ট কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে তিনি একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার সার্থক রিয়াদের বিরুদ্ধে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে অভিযোগপত্রের সঙ্গে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত একটি আপসনামা জমা দেওয়া হয়। আপসনামায় অভিযোগকারী আমির হোসেন উল্লেখ করেন, ‘আমি উক্ত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমার আচরণের কারণে অন্তু ভাই, রিয়াদ ভাই ও হাসান ভাই যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের কেউ পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ, হয়রানি, হুমকি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে শিক্ষক ও বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।'
অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি আমির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাদের বিভাগীয় প্রধানের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ একসাথে বসে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছি।যেহেতু একই বিভাগের সিনিয়র জুনিয়রের ঘটনা তাই আমি আর এই বিষয়টিকে বড় করতে চাচ্ছিনা। প্রক্টর বরাবর করা অভিযোগপত্রটি প্রত্যাহারের জন্যও আমি আবেদন করেছি।"
এই ব্যাপারে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ বলেন, "অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আমির হোসেন আমার একই বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিভাগের শ্রদ্ধেয় বিভাগীয় প্রধান এবং ছাত্র উপদেষ্টা মহোদয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তাঁদের নির্দেশনায় বিভাগীয় প্রধান, ছাত্র উপদেষ্টা এবং সিনিয়রদের উপস্থিতিতে আমরা একটি আলোচনা সভায় বসি।
উক্ত আলোচনায় আমির হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে নেয়। সে স্বীকার করে যে, পূর্বে তার বিরুদ্ধে ওঠা হুমকির অভিযোগকে ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছিল। একই সাথে সে তার এমন কর্মকাণ্ডের জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তার একাডেমিক জীবন যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে কথা চিন্তা করে আমরা বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে আপোসে সম্মত হই।"
জিডি তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অন্তু দাশ বলেন, "আমি দায়িত্বরত পুলিশ অফিসারকে আমাদের মধ্যকার আপোসের সিদ্ধান্তটি জানিয়েছি। তবে, আমি এই মুহূর্তে জিডি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি না। বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য আমি আরও কিছু সময় নিতে চাই। ভবিষ্যতে যখন আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করব, তখন জিডিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেব।"
অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, "এই ঘটনায় দুই পক্ষের একসাথে বসে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার প্রেক্ষিতে উভয়ে একমত পোষণ করেছে যে, পালটা পালটি অভিযোগ না করে নিজেদের মাধ্যমেই বিষয়টা সমাধান করা যেত। এবং সেই অনুযায়ী তারা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছে।"
প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘তাদের আবেদনপত্র আমি পেয়েছি। উভয়পক্ষই আপসনামা জমা দিয়েছে। তারা নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবে না বলে জানিয়েছে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ করা হলে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা তারা মেনে নেবে।’
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট বিজয়-২৪ হলে আমির হোসেন তার বিভাগের তিন সিনিয়রের রিরুদ্ধে রাতভর র্যাগিংয়ের অভিযোগ এনে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেন।
চা-পান বিক্রি করা সাদ্দাম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেটের সামনে চা-পান বিক্রি করা সাদ্দাম নামে ৮-০ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নামাজ পড়তে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকেই সাদ্দাম নিখোঁজ। পরে পরিবারের সদস্যরা পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরিবারের দাবি, একটি সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, সাদ্দামকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের আশপাশে দেখা গেছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ সাদ্দামের পরিচিতি: আনুমানিক বয়স ৮-১০ বছর, গায়ের রং ফর্সা ও শারীরিক হেংলা। সর্বশেষ তাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের আশপাশে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
সাদ্দামের পারিবারিক জীবনও দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে কাটছে। তার বাবা অনেক আগেই তাকে ও তার পরিবারকে ছেড়ে চলে গেছেন। মা ও প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে সংগ্রাম করে আসছে পরিবারটি। জীবিকার তাগিদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের সামনে চা-পান বিক্রি করত সাদ্দাম।
এর আগে সাদ্দাম ও তার পরিবারের অসহায়ত্ব নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রনেতা তার পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। এরপর থেকেই দ্বিতীয় গেটের সামনে ছোট একটি দোকান করে চা-পান বিক্রি করছিল সাদ্দাম।
সাদ্দামের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বিগ্ন তার পরিবার। তার মা বলেন, “আমার এই সাদ্দাম ছাড়া কেউ নাই পৃথিবীতে। ওরে না পাইলে আমার পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে।”
সাদ্দামের সন্ধান পেলে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। ছবিতে থাকা শিশুটিকে কেউ দেখে থাকলে দ্রুত তার পরিবার বা সংশ্লিষ্টদের জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।
জবি ছাত্রীদের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে (ছবি-সংগৃহীত)
রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় র্যাবের সদস্যরা। রোববার সকালে কলতাবাজার এলাকার ওই মেসে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন।
ঘটনাটির বিষয়ে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকালে শিক্ষার্থীদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে আসেন। র্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে আরও র্যাব সদস্য আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তোলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি এবং শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলি। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি আইন অনুযায়ী তদন্ত হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, সকালে একজন শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে মেসে র্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল করে সেখানে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান এবং এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে উঠানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ থাকলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক তারেক বিন আতিক জানান, পরে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চুরির মামলার কথা বলা হলেও মামলার বিস্তারিত তাদের জানানো হয়নি।
তারেক বিন আতিকের দাবি, শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে মামলাটি হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় ও মোবাইল নম্বর দিতে রাজি হননি। বিষয়টি সূত্রাপুর থানার পুলিশকেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে যারা এসেছিল, তারা র্যাবের সদস্য ছিল এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরে আমরা জানতে পারি, এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলা। পরে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়ে তারা চলে যায়।
মামলাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ওসি আনোয়ার বলেন, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন এবং পরে কথা বলবেন। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসার এবং বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে শিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক সেল (আইএসএসি)-এর উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক, কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমজাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই। আলোচক হিসেবে অংশ নেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের প্রভাষক আকিব ইরফান। অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন আইএসএসি’র আহ্বায়ক ও পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা পুনরায় চালুর সম্ভাবনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। করোনা মহামারির সময় স্থগিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা কার্যক্রম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে নতুন করে সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।
মূল প্রবন্ধে ড. ইয়াং হুই চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাক-প্রাথমিক, বাধ্যতামূলক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ ও অব্যাহত শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষভাবে তিনি দেশটির নয় বছর মেয়াদি অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।
ড. ইয়াং হুই বলেন, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার পাশাপাশি নির্বাচিত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ শিক্ষা কার্যক্রম টেকসই করতে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ চীনা ভাষার শিক্ষক তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা সহযোগিতা শুধু ভাষা শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কারিগরি শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘চাইনিজ প্লাস’ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। এর মাধ্যমে চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসায়িক ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন ড. ইয়াং। তিনি জানান, চীনেও দিন দিন বাংলাদেশি ভাষা বাংলার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এবং দেশটির অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ভাষা শিখছেন।
সেমিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, এ সেমিনার এবং চীনা ভাষা চালুর উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সংস্কৃতির উত্তরাধিকারও বহন করে। বৈশ্বিক যোগাযোগের যুগে বিদেশি ভাষা শেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে চীনা ভাষার গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে।
উপাচার্য জানান, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন মাস মেয়াদি একটি বেসিক চীনা ভাষা কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন ও কার্যক্রমের পরিধি বিবেচনায় এ কোর্স ১০ মাস বা এক বছর মেয়াদি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তাবিত আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধীনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চাইনিজ স্টাডিজ বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষ, অফিস কক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক সুবিধা দেবে। অন্যদিকে, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট শিক্ষাদান উপকরণ ও শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
নিলয় বড়ুয়া, নাজিফা নাফিল ও আরিফুল ইসলাম রনি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রথমবারের মতো জাতীয় ছাত্রশক্তির ১০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নিলয় বড়ুয়া এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা নাজিফা নাফিলকে। এছাড়া মূখ্য সংগঠক হিসেবে আছেন আরিফুল ইসলাম রনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আহসান লাবিব ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলামিন মজুমদার। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন ওমর ফারুক। এছাড়া যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) হিসেবে মোহাম্মদ ওসমান এবং যুগ্ম সদস্য সচিব (মিডিয়া) হিসেবে জুবায়ের আজম খান ।
এছাড়াও কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন নাঈমুর রহমান, বিল্লাল হোসেন ও জি. এম. তৈয়ুবুর ইসলাম।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় আমি কৃতজ্ঞ। আমার কাছে এটি শুধু একটি পদ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। এ দায়িত্ব পালনে আমি সকলের সহযোগিতা ও পাশে থাকার প্রত্যাশা করি।”
আহ্বায়ক নিলয় বড়ুয়া বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করা, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে সোচ্চার থাকাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তিকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
বিজ্ঞপ্তিতে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘোষিত এ আহ্বায়ক কমিটি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবে।
নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত চাঁদপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন চাঁদপুর স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মান জানিয়ে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান খান, আইসিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মেহেদি হাসান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান রাহাত। এছাড়াও সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলী, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংগঠন ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশের আহ্বান জানান।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান রাহাত বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই দক্ষতা বৃদ্ধি, যোগাযোগের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিথিলা রহমান সুখী বলেন, “এই অ্যাসোসিয়েশন আমার কাছে দ্বিতীয় পরিবারের মতো। চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে।”
সংগঠনের সভাপতি ফেরদাউস হাসান জাফরি বলেন, “আমরা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার সেশন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। একই সঙ্গে অ্যালামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগের সেতুবন্ধ গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফি পরিশোধে এখনো চালু হয়নি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ফলে নির্ধারিত ফি জমা দিতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফি জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে হল, বিভাগ ও ব্যাংকের মধ্যে একাধিকবার যাতায়াত করতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক সময় আর্থিক ব্যবস্থাপনার কারণে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ফি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেন তারা। কিন্তু ব্যাংকে দীর্ঘ লাইন ও নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সময়ের কারণে সময়মতো টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে ফি পরিশোধ করতে হয়।
ফলিত গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জিল ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমকে পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। ফলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ২০২৬ সালে এসেও আমরা ১৯০০ সালের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিচ্ছি, যা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। দ্রুত এ সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও নোবিপ্রবিতে এখনো ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক ও সময়সাপেক্ষ। ফি জমা দিতে হল ও বিভাগে যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যাংকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দিতে না পারায় জরিমানাও দিতে হয়। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই যেকোনো সময় ফি জমা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানাও এড়ানো যাবে।”
শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হলেও অর্থ পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রমে এখনো সরাসরি ব্যাংকনির্ভরতা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বা হল থেকেই নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এতে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমার পাশাপাশি অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়ায় সময় ও শ্রমও সাশ্রয় হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “আমি যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের পেমেন্টগুলো ক্যাশলেস করার কমিটমেন্ট করেছিলাম। এখনো তা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও ইউসিবি ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের একটি সফটওয়্যার প্রস্তুত আছে। পাশাপাশি আমাদের আইসিটি সেলেরও একটি সফটওয়্যার রয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য যেটি বেশি উপযোগী, সেটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করব। আমার প্রথম লক্ষ্য হলো, শিক্ষার্থীদের পেমেন্ট ব্যবস্থা দ্রুত ক্যাশলেস করা।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আপাতত প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমার পাশাপাশি একাডেমিক সময়ের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হবে।
এখন দেখার বিষয়, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের ঘোষিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।