রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৯ এএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রোববার প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও আসছেন। তাঁর এই সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে উত্তরের এই জেলায়। শহরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ঝুলছে ব্যানার, ফেস্টুন। রং দিয়ে সাজানো হয়েছে সড়কের ডিভাইডারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁওবাসী। তবে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে উন্নয়ন ও নাগরিক প্রত্যাশার কথাও।


দুদিনের সফরে আজ সকালে ঠাকুরগাঁও পৌঁছানোর কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। নিজ জেলায় পৌঁছে তিনি প্রথমে শহরের গোয়ালপাড়া সেনুয়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করবেন। বিকেলে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে জেলার সচেতন নাগরিকদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিকেলে বঙ্গভবনে ফেরার কথা রাষ্ট্রপতির।


গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পর থেকেই তাঁর জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ উচ্ছ্বসিত। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসছেন তিনি। তাই এই সফর ঘিরে স্থানীয়দের আনন্দ-উচ্ছ্বাসও যেন বেড়েছে কয়েক গুণ।


তবে রাষ্ট্রপতির কাছে রয়েছে ঠাকুরগাঁওবাসীর নানা প্রত্যাশা। জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ চান তারা। একই সঙ্গে তাঁর সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে বলেও প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে রঙের ছোঁয়ায় যেমন বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র, তেমনি নতুন প্রত্যাশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জেলার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনা।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা। রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু  মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। দলমতনির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি।’


এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।


ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থায় আছি।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

ঢাকার ফার্মগেটে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে এক বাইকচালককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পরেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।


বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকী উপলক্ষ্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।


ওসি বলেন, “খামারবাড়ি মোড়ে পুলিশ মোতায়েন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে আসা এবং জনসমাগমের কারণে খামারবাড়ি মোড় থেকে ফার্মগেটের দিকে যেতে সড়কের বাম পাশের লেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ডান পাশের লেন হয়ে ফার্মগেটের দিকে যাওয়ার লেনটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।”


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর তার কার্যালয় থেকে বিজয়সরণি ও উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর প্রবেশের পরেই মোড় থেকে বাম দিকের লেনে ওই বাইকার প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত সার্জেন তাকে থামিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বাইকসহ ওই যুবককে হেফাজতে নেয় তেজগাঁও থানা পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি ওসি মনিরুজ্জামান।


তিনি আরো বলেন, “ওই যুবক আমাদের বলেছে, বাম পাশের লেন বন্ধের বিষয়টি সে জানত না।”


ইতোমধ্যে ওই যুবকের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড যাচাই করেছে পুলিশ, তবে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। তারপরেও জিজ্ঞাসাবাদ ও সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে তার বিষয়ে ‘পরবর্তী সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার কথা বলেছেন ওসি।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩০ পিএম

নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। 


আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।


বাংলাদেশ এখন একটি ‘স্ট্রং ফরেন পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক’ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নতুন সরকারের বয়স প্রায় ছয় মাসের মতো হয়েছে; কিন্তু প্রথম দিন থেকেই আমরা এই নীতি বাস্তবায়ন করেছি-যাতে বিশ্বমঞ্চে আমাদের সমস্ত পররাষ্ট্র সম্পর্কের মাঝে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। আপনি বেইজিং বলুন, ওয়াশিংটন বলুন, মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরব বলুন কিংবা রাশিয়া বলুন- প্রত্যেকের সঙ্গে আমাদের চমৎকার ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বেইজিং, ওয়াশিংটন, রিয়াদসহ অন্যান্য শক্তিশালী দেশের সঙ্গে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই একটি গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ তৈরি হয়েছে।’


গত ২ জুন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ইউএনজি এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন। এই প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে জয় পেলাম। সেখানে বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও দৃশ্যমানতা অনন্য উচ্চতায় গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনও দেখেছেন টু-প্লাস-টু প্রস্তাব দিয়েছে; যা দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ, তা শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি এসেছে। তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি (ট্রাম্প) চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন- তিনি বিশ্বাস করেন যে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের জনগণ একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের (ব্রাইট ফিউচার) দিকে এগিয়ে যাবে।’


এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের হাজারটা সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ থাকুক না কেন, আলাপ-আলোচনার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং এটাই রাখা উচিত। স্বাভাবিকভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আপনাদের মনে একটা প্রশ্ন ছিল; আমি নিজেই সে প্রশ্ন উত্থাপন করে পরিষ্কার করছি; ভারতের সঙ্গে আমরা এমনভাবেই যোগাযোগ চাই-তারা আমাদের প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে আমাদের গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ প্রয়োজন। চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে।’


মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী পক্ষ গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। আজ বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে অবদান রাখছে। শান্তিরক্ষায় আমরা বিশ্বমানের অভিজ্ঞ এবং আমাদের রয়েছে অত্যন্ত দক্ষ ও সুশৃঙ্খল সশস্ত্র বাহিনী। ফলে এই পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি বিশ্বের আগ্রহ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বজুড়ে যদি আমরা শান্তি বজায় রাখতে পারি, তবে মুসলিম বিশ্বের যেকোনো উদ্যোগে কেন পারবো না? অবশ্যই পারবো। সেই দিক থেকেও আলোচনা এগিয়ে চলছে; দেখা যাক, কী অগ্রগতি হয়। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যাবো।’


তিনি বলেন, ‘বর্তমানের এই অত্যন্ত অস্থির ও পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায়-একটি জোটে থাকলে যে অন্য জোটে অংশগ্রহণ করা যাবে না, বিষয়টি মোটেই তেমন নয়। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হলে পররাষ্ট্রনীতিকে অত্যন্ত নমনীয় ও গতিশীল হতে হবে। কোনো ধরনের একগুঁয়েমি বা অনমনীয়তা (রিজিডিটি) দিয়ে জাতীয় স্বার্থ হাসিল করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ আপনার মূল দর্শন সুরক্ষিত থাকে- আর আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (সবার আগে বাংলাদেশ)। জনগণের কল্যাণ এবং দেশের সার্বভৌম জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করেই আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবো।’


যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে। মাঝে-মধ্যে এয়ারবাসও কিনবো। এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে এটা কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’


প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রফতানি হবে। 


এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২৬ পিএম

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ শনিবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। 


হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাই উচিত।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বুঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।


মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। 


তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।


আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।


এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ইসি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৩ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নভেম্বরে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে নির্বাচন উৎসব। এরপর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের বাকি চার প্রতিষ্ঠান পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।


ইসি সূত্র বলছে, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করেছে ইসি। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর নভেম্বরের শেষভাগে প্রথম ধাপের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। সব ধাপের ভোট গ্রহণ আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে।


এর আগে গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তরফে ইসিতে পাঠানো চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের এমন নির্দেশনা পেয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে ইসি।


দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ সংখ্যা চার হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর তিন হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ বা নির্বাচন উপযোগী হবে। যেগুলোর নির্বাচন ২০২১ ও ২০২২ সালে হয়েছিল। আর বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। ধাপে ধাপে নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আইনে আছে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।


ইসি কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাত ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনুরূপ পরিকল্পনা করছে ইসি। ২০২১ সালের ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর দুই ভাগে বিভক্ত প্রথম ধাপের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের চারটি জেলা ছাড়াও রংপুর, বগুড়া, খুলনা ও বাগেরহাটের মোট ৩৬৭টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এবারও প্রথম ধাপে এসব ইউনিয়ন দিয়েই ভোটের তপশিল সাজানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে ইসির।


এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ইসির সব প্রস্তুতি আছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ও নভেম্বরে ভোট শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা এগোচ্ছি। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে।


ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কয় ধাপে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে যত ধাপে হয়েছে মোটামুটি সেভাবেই হবে। কোনো ইউনিয়ন পরিষদে মামলা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকলে সেগুলোতে নির্বাচন হবে না।


১৫ সেপ্টেম্বরে তপশিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।


ইসির যত প্রস্তুতি


স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ইসির প্রস্তুতির শেষ ধাপে আইন-বিধি এবং আচরণ বিধিমালা সংস্কারের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল ইসি। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে। দেশে মোট ভোটার আছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। 


ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দেওয়ার শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর ও নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর বেঁধে দিয়েছে ইসি। এর পরই ভোটার তালিকা মুদ্রণে যাবে।


সারাদেশে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও আগেই তৈরি করে রেখেছে ইসি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজার বেশি হতে পারে। 


মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নেওয়া হয়। তবে এবার একসঙ্গে দুটি ভোটের জটিলতা না থাকায় গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।


এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্য পরীক্ষা নভেম্বরের আগেই অথবা দ্রুততম সময়ে শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইসি। স্কুল ভবনগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার জন্যই এমন নির্দেশনা পাঠানো হয়।


ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাহিনী পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে ইসি। পুলিশপ্রধানের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠককালে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই ইসির।


সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ভোট গ্রহণ সামগ্রী আগেই মজুত রাখা হয়েছিল। স্থানীয় নির্বাচনে সেগুলোর ব্যবহার হবে। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মালাপত্রও কিনে রেখেছে ইসি। 


সংসদের পর যাতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করা যায়, সে জন্যই এসব মালাপত্র আগেই কেনা হয়েছিল। কেননা নির্বাচনী মালাপত্র কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস লাগে।


ইসি সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের আগে ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানি ব্যাগ প্রতিটি এক লাখ ১৫ হাজার পিস, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস এবং অফিসিয়াল সিল আট লাখ ৪০ হাজার পিসসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী কেনা হয়। ওইসব সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনের জন্য।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ইসির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় তপশিল ঘোষণা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৭ পিএম

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে এ ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোন ধরনের কর্মকাণ্ড করা যাবে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে দূতাবাসটি। মার্কিন দূতাবাস শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানায়।


দূতাবাসের পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় যেসব কাজ অনুমোদিত নয়, তার মধ্যে রয়েছে:


> শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেয়া বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় অনুমোদিত নয়।


> যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক পাওয়া যায় এমন কোনো কাজও এ ভিসার আওতায় করা যাবে না। 


> ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিট অর্জনের উদ্দেশ্যে পড়াশোনা এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করাও বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় অনুমোদিত নয়।


এর আগে গত ২২ আগস্ট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক করেছিল মার্কিন দূতাবাস। ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, পড়াশোনার বাইরে কাজ করা, পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল হতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

বছরের পর বছর ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া এই সংকট মোকাবেলা করা কঠিন হবে।


শনিবার ঢাকায় ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র‍্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি এ আলোচনার আয়োজন করে।


প্রতিমন্ত্রী শামা বলেন, “আপনারা জানেন একটা—মানে ১০ বছর হয়ে গেছে, যেটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিশাল সমস্যা, বাট ইট ইজ নট বাংলাদেশস প্রবলেম। দ্য প্রবলেম ওয়াজ নট ক্রিয়েটেড বাই বাংলাদেশ, দ্যাট ইজ দ্য রোহিঙ্গা ইস্যু।


“এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও এবার ইউএনজিএ-তে একটা সেশন হবে, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। আমাদের এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা অনেক কথা বলছি, বলছি, বাট আদতে এই সমস্যাটা আরও ঘনীভূত হয়েছে।”


জটিলতার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু ওই বর্ডারের ওই পারে মিয়ানমার সরকার, আরকান আর্মি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত, স্টেক হোল্ডাররা—বিভিন্ন দেশের ওখানে স্টেক আছে; সেই জায়গাটা চিন্তা করে আমাদের রিজিওনাল যেই কমপ্লিকেশনটা তৈরি হয়েছে ওখানে, সেখানে কিন্তু আন্তর্জাতিক একটা চাপ না হলে এই সমস্যা সমাধান করা খুবই ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে।


“সেই জায়গাটাতেও কিন্তু আমি মনে করি আপনাদের যার যার জায়গা যেখানে যেখানে আছেন, আপনাদের একটা ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি।”


আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আলোচ্য বিষয়বস্তু তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, “২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


“সেখানে অবশ্যই আমাদের উন্নয়নের অধিকার ঘোষণার চার দশক, ডারবান ঘোষণার রৌপ্য জয়ন্তী, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিমারি প্রতিরোধ ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ—গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় আলোচনা হবে।”


এবারের অধিবেশনকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন বর্ণনা করে তিনি বলেন, “এক ধাপ এগিয়ে একটি মাত্রা যোগ করেছে, যা আপনারা সকলেই বলেছেন যে, এটা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা, নতুন আকাঙ্ক্ষা।


“বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের যে গল্পটা আমরা এখানে করছি, সেটা কীভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা যায়, সেটা একটা—একটা বিশাল সুযোগ আমরা হয়তো পাব।”


এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা বলেন, “সেখানে বিএনপির যে ফরেন পলিসি, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে বাংলাদেশ—প্রতিপাদ্যকে মাথায় রেখে বা সামনে রেখে বাংলাদেশকে তুলে ধরার একটি বিশাল সুযোগ।


“যেখানে আমাদের জাতীয় স্বার্থ গুরুত্ব পাবে, বাংলাদেশের কী কী সম্ভাবনা আছে সেগুলো গুরুত্ব পাবে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি কীভাবে হতে পারে সেটা গুরুত্ব পাবে। সবকিছু মিলেই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”


এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, ব্র‍্যাক ব্যাংকের সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান।

সর্বশেষ সব খবর