ছবি : সংগৃহীত
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ, নির্বাচন নিশ্চায়ন, মাইগ্রেশন এবং চূড়ান্ত ভর্তির সময়সূচিও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে নিশ্চায়ন বাতিল না করা এবং ভর্তি সম্পন্ন না করায় যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের কলেজের বিদ্যমান আসনসংখ্যা বিবেচনায় সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে হবে। ভর্তি-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবেন যেসব শিক্ষার্থী আগে আবেদন করেননি বা আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হননি, যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও কোনো কারণে নিশ্চায়ন করতে পারেননি বা কলেজের নির্ধারিত সময়ে ভর্তি হতে পারেননি এবং যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও ভুল কোটা নির্ধারণের কারণে কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদন ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং চলবে ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ৫ অক্টোবর সোমবার রাত ৮টায়।
ফল প্রকাশের পর থেকে ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। দ্বিতীয় ধাপে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পছন্দক্রম অনুযায়ী যাদের মাইগ্রেশন হবে, তাদের ফল প্রকাশ করা হবে ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৮টায়। এরপর ১১ অক্টোবর রোববার থেকে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে ২২০ টাকা অনলাইন আবেদন ফি দিতে হবে না। তাদের ভর্তি ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজের পছন্দক্রম নির্বাচন বা এডিট করতে হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সময় কোটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে নিজের কোটার যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ফি জমা দিয়ে নির্বাচিত কলেজে ভর্তির সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আবারও অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে দুদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন শিক্ষকরা।
সরেজমিনে ক্যাম্পসে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। প্রশাসনিক ভবনের ফটক তালা থাকায় কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক ভেতরে আটকা পড়েন। এ ছাড়া প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ আছেন আরও ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে নানা ধরনের স্লোগান দেন। প্রশাসনিক ভবনের ফটক তালা থাকায় শিক্ষকরা ভেতরে আটকা পড়েছেন। গতকাল রোববার দুপুর থেকে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে বৈঠকে বসেছেন। এতে সিলেট সিটি করপোরেনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও অংশ নিয়েছেন। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্নাতক পর্যায়ের এ প্রকৌশল কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ, পুরকৌশল বিভাগ এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী আছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত দাবি ও আন্দোলন সত্ত্বেও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কলেজটিকে মুক্ত করার বিষয়ে কোনো আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক কালক্ষেপণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চতর ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকতে চান না। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভূক্ত হতে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানান তারা।
এদিকে,কর্মসূচি চলাকালে রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কর্তব্যরত সহযোগী অধাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে পদায়ন করা হয়। সোমবারের মধ্যে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানকারী এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীরা এ বদলির আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিন জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বদলি হওয়া অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেবেন না। এমনকি নতুন বদলি হয়ে আসা অধ্যক্ষকেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায়ের আগপর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউন থাকবে।
প্রশাসনিক ভবনে আটকা পড়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের যে দাবি তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ছাড়া সমধান সম্ভব নয়। তবু তারা আমাদের আটকে রেখেছে। আমরা দুদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।
আন্দোলনের মুখে সিকৃবির উপাচার্য পরিবর্তন
বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফি উল্লাহ মজুমদার। তিনি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার এক্সটেনশন ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মো: সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬ এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার এক্সটেনশন ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফি উল্লাহ মজুমদারকে চার বছর মেয়াদে সিকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আলিমুল ইসলাম। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বিশ্ববিালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় উপাচার্য পদে পরিবর্তন আনা হলো।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হল, জুলাই ৩৬ হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল ও খালেদা জিয়া হলে আগামী ১ বছরের জন্য নতুন চার প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক চার প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
শহীদ আনাস হলে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম, জুলাই ৩৬ হলে আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. হামিদা খাতুন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান এবং খালেদা জিয়া হলে ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়নুল হক আকন্দকে নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শহীদ আনাস হলের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় উপাচার্য আমার প্রতি আস্থা রেখে শহীদ আনাস হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এজন্য মাননীয় উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই হলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নতুন হল। বর্তমানে হলটির এক্সটেনশন ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হলটিকে একটি আধুনিক আবাসিক হল হিসেবে গড়ে তোলার এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট ড. মো. রশিদুজ্জামান বলেন, “আমি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি এবং হল ডিবেটিং সোসাইটি, কালচারাল সোসাইটি, স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উইংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এসব কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাই হলে একটি পারিবারিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেসব যৌক্তিক ও নৈতিক বিষয় আমার নজরে আনবে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”
খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আয়নুল হক আকন্দ বলেন, “আমি চিঠি হাতে পেয়েছি। হলে গিয়ে শিক্ষার্থী সমস্যাগুলো শুনবো এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করবো। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামান করি।”
এর আগে শহীদ আনাস হলে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের, খালেদা জিয়া হলে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. রাশেদুজ্জামান ও জুলাই ৩৬ হলে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে .এম শামছুল হক ছিদ্দিকী দায়িত্ব পালন করেন।
অধ্যাপক এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান আবাসিক হলের নতুন আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক।
আজ সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন আবাসিক শিক্ষক পরবর্তী এক বছর দায়িত্ব পালন করবেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
শিক্ষকতায় নিষ্ঠা, পেশাগত দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেছেন। উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পর জেলা পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করে বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেন।
জেলা পর্যায়ে এ স্বীকৃতি অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরও বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই আজ খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এই প্রতিযোগিতা জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।
নিজের এ অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে। এ জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সোনিয়া সরকার নিপার শিক্ষকতা জীবনের সূচনা ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এ বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বিস্তৃত করেছেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি সোনিয়া সরকার নিপা গার্লস গাইড আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত।
তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক এবং বিভাগীয় ওয়ারেন্ট গাইডার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৭টি প্রশিক্ষণ গ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এসব প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে ভূমিকা রাখছেন তিনি। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা অর্জনেও সোনিয়া সরকার নিপার রয়েছে বিস্তৃত শিক্ষাযাত্রা। তিনি ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করেন এবং ২০১৯ সালে এ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে বিএসএস, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিষয়ে এমএসএস এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাবিজ্ঞানে মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়ন করেছেন। এর পাশাপাশি ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিইডি) সম্পন্ন করেন। বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন ও পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও আত্মোন্নয়নের প্রতি নিজের আগ্রহের পরিচয় দিয়েছেন। সোনিয়া সরকার নিপার জন্ম ও পারিবারিক শিকড় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামে। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার দেলোয়ার হোসেন সরকার এবং মাতা শামসুর নাহার সরকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শিক্ষানুরাগী পারিবারিক পরিবেশ তার ব্যক্তিগত জীবন ও মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষকতা তার পরিবারের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তার মা একজন প্রাক্তন শিক্ষক। তার খালা বর্তমানে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার শ্বশুর কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক। এ ছাড়া তার ছোট জা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পুষ্করিণীপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। পরিবারের একাধিক সদস্যের শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যে শিক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে। ব্যক্তিগত জীবনে সোনিয়া সরকার নিপা বিবাহিত। তার স্বামীর নাম মোহাম্মদ সামসুজ্জামান। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে আজমাইন ফাইক জামানের বয়স ১৪ বছর।
সে বর্তমানে কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মেয়ে নুসাইবা ফাতিহা জামানের বয়স সাত বছর। সে কুমিল্লার আওয়ার লেডি অব ফাতেমা গার্লস হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। কর্মজীবনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবার ও সন্তানদের দেখাশোনা তার দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাগত দায়িত্ব, ব্যক্তিগত জীবন এবং আত্মোন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় রেখে এগিয়ে চলেছেন তিনি। শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বাইরে সোনিয়া সরকার নিপার অন্যতম শখ লেখালেখি করা। বিশেষ করে কবিতা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লিখতে তিনি পছন্দ করেন। সমাজ, সময় ও মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় নিয়ে ভাবনা প্রকাশের প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষকতার পাশাপাশি এই সৃজনশীল চর্চা তার ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বাইরে নিজের চিন্তা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করার আগ্রহ তার বহুমুখী মননশীলতার পরিচায়ক। শিক্ষকতা, গার্লস গাইড প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা ও লেখালেখি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সম্পৃক্ততা কর্মজীবনের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া সোনিয়া সরকার নিপার কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, পেশাগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নতুনভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের পর এখন তার লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরা এবং কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করে সম্মানজনক অর্জন বয়ে আনা। এ জন্য সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া কামনা করেছেন তিনি। একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা তার পেশাগত পথচলায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, পেশাগত দক্ষতা ও ধারাবাহিক আত্মোন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় এগিয়ে চলার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এখন জাতীয় পর্যায়ে নতুন সাফল্য অর্জনের অপেক্ষায়।