নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ভিসা প্রতারণার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এসময়ে তাদের থেকে একটি মাইক্রোবাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার পানিয়াল পুকুর মুক্তা হিমাগারের সামন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের আব্দুর রশিদের ছেলে সাহাবুল ইসলাম (২৪), মোখলেছুর রহমানের ছেলে সাজু মিয়া (২৮), মেচকার আলীর ছেলে আজিনুর রহমান (২৪), এমলাক হোসেনের ছেলে ইলিয়াছ মিয়া (২৪), দক্ষিণ রাজীব এলাকার কালা মামুদের ছেলে সজীব মিয়া (২৬) ও মুশা ঝাড়পাড়া এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে সাফিউল ইসলাম (২৬)।
জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে বসে বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। গতকাল তারা যশোর থেকে দুইজন ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে তাদের পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাস যোগে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এসময়ে পানিয়ালপুকুর মুক্তা হিমাগারের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের মাইক্রোবাসটি আটক করেন। এসময়ে তাদের তল্লাশি করে দুইটি পাসপোর্ট, চারটি মোবাইল ফোন ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
এবিষয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, আজকে ভোরে তাদের তল্লাশি করে দুটি পাসপোর্ট, চারটি মোবাইল ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। তাদের মোবাইলে ভিসা প্রতারণা ও অনলাইন জুয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
দরজার সামনে টাঙানো কয়েকটি সহজ শব্দ-‘ভিতরে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই’ এবং ‘জুতা নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করুন।’ তবে এই দুটি নির্দেশনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, উন্মুক্ত ও নাগরিকবান্ধব করে তোলার একটি ব্যতিক্রমী বার্তা।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইনের কক্ষের সামনে টাঙানো হয়েছে এ দুটি নির্দেশনা। ফলে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা নাগরিকদের আর কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের অনুমতির জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে তাঁরা সরাসরি কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারছেন।
ভূমি অফিসে সাধারণত নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খাসজমি, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য, জমির পর্চা ও রেকর্ড, ভূমি মাপজোকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেবা ও পরামর্শ নিতে আসেন নাগরিকেরা।
একসময় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের আগে অনুমতির অপেক্ষা এবং নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হতো অনেক সেবাগ্রহীতাকে। সেই চিরচেনা অভিজ্ঞতার বিপরীতে ভালুকা ভূমি অফিসের এই উদ্যোগ যেন নাগরিকের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমানোর এক প্রতীকী প্রয়াস।
বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ, বয়স্ক সেবাগ্রহীতা, নারী এবং জমিজমা-সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা সাধারণ নাগরিকদের জন্য এ উদ্যোগ স্বস্তির বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে প্রয়োজন হলে সরাসরি কর্মকর্তার কাছে নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সেবা গ্রহণের পরিবেশ আরও সহজ ও মানবিক হয়েছে।
৬নং ভালুকা ইউনিয়ন থেকে সেবা নিতে আসা জব্বার মিয়া বলেন, ‘কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ থাকলে জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সহজে জানানো যায়। এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ।’
কাচিনা ইউনিয়নের আরেক সেবাগ্রহীতা রিপন খান বলেন, ‘অনুমতির জন্য বাইরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। আবার জুতা খুলে রাখার ঝামেলাও নেই। এতে অফিসের পরিবেশ অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে।’
ভূমি সেবার ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অনলাইন সেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও জটিলতা নিরসনে নাগরিকেরা সরাসরি ভূমি অফিসে আসেন। আর সেখানেই সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে প্রশাসনের সহজ ও সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘মানুষ ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসেন, অযথা অপেক্ষা বা হয়রানির জন্য নয়। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকেরা যেন প্রয়োজন হলে সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন, সে জন্যই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিকবান্ধব, সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
সরকারি সেবার দরজা যে নাগরিকের জন্য আরও উন্মুক্ত হতে পারে, ভালুকা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের এই ছোট উদ্যোগটি যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে। অনুমতির অপেক্ষা নয়, জটিলতার দেয়াল নয়-সেবাগ্রহীতার প্রয়োজনের কাছে প্রশাসনকে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়াই এখন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে কবরবাসীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ২১তম বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর হতে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের উত্তর ফুলদী গ্রামের মো. জামান মোল্লার উদ্যোগে মরহুম রিয়াজ উদ্দিন খান ওরফে হোসেন আলী মোল্লার বাড়িতে কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে কবরবাসীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ২১তম বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফুলদী জনতা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো. নাজমুল হুদা ভূইয়া নয়ন এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও বাড়ী মজলিস মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মুফতি ড. আহমাদ হাসান গাজীপুরী। বিশেষ বক্তা বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত গাজীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক হযরত মাওলানা মো. আমিন আমিন দেওয়ান আল-আবেদী।
বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবীদ মো. মামুনুর রশিদ এর উদ্বোধনী মাহফিলে প্রধান অতিথির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবীদ মো. শাহ রিয়ার মোড়ল মাসুম।
বক্তাগণ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ খ্রীষ্টাব্দে ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে পবিত্র মক্কায় আরবের মরু প্রান্তরে মা আমেনার কোলে মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) শুভ আগমন করেন। মহানবী (সাঃ) এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য নিহিত রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও সফলতা।
পরিশেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও মুক্তি কামনা সহ কবরবাসীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দরবার শরীফের আশেকান, ভক্ত ও মুরিদান সহ সুন্নী মতাদর্শের তরিকত পন্থী শত শত সুন্নী জনতা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট বিভাগে মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেটের এবং অন্যজন বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। দুজনেরই চিকিৎসা চলছিল সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। একদিনে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১৯ জনের মধ্যে ৪৮ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং ৩৭ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৮ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চারজন ভর্তি হয়েছেন। বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬০ জন ভর্তি রয়েছেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৪২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৯ জন এবং সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের দুটি সরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সন্দেহজনক হাম রোগে এখন পর্যন্ত সিলেটে ৬০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চারজন, হবিগঞ্জে চারজন, মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজন মারা গেছেন। সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম এই দুই হিসাব মিলিয়ে বিভাগের মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে।
পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বদলি ট্রাক চালকের নামে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বন্দরে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চালকেরা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে খোয়া যাচ্ছে তাদের হাজার হাজার টাকা। এতে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দাবী সিএনএফ এজেন্টদের। এতে কমে আসবে রাজস্ব আয়। বদলি চালকের নামে সিন্ডিকেট মুক্ত চায় রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা।
রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের অভিযোগ, তাদের কাগজপত্র সবকিছু ঠিক থাকলেও বাংলাবান্ধায় ট্রাক আটকিয়ে দেয় স্থানীয় চালকেরা।তাদেরকে বাধ্য করে বদলি চালক নিতে। তাদের কথা অমান্য করে গেলেও ফুলবাড়ি চেকপোস্টে তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফিরিয়ে দেয় গাড়ী। এতে হয়রানি স্বীকার হতে হয় অনেক বেশী। বদলি চালককে দিলে কেউ কেউ গাড়ি দূর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি করে নিয়ে আসে।
জানা যায়, দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ টি গাড়ীতে রপ্তানি হচ্ছে ভুসি, ঝুট ও শিশু খাদ্য প্রাণের মালামাল।দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চালকেরা আসলে, গাড়ি আটকিয়ে বদলি চালক তুলে দেয় সিন্ডিকেট চক্রটি। ট্রাক প্রতি হাতিয়ে নেয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত।
গাজীপুর থেকে আসা ট্রাক চালক ইকবাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ঢাকা থেকে ট্রাকে পণ্য নিয়ে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত আসছি। এখানে আসে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজের দাম নাই। বদলি চালক দেওয়ার জন্য আটকিয়ে দেয় স্থানীয় শওকত মেম্বার নামের এক ব্যক্তি। পরে তাদেরকে বদলি চালকের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। যদি রাত থাকতে হয় তাহলে আরো ৫০০ টাকা দিতে হবে।গাড়িতে আমি টাকা পাবো ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা, আমার আরো খরচ রয়েছে। সেখান থেকে বদলি চালক দিলে আমার কিছু থাকবেনা।
যশোর থেকে আসা ট্রাক চালক রাহিদুল ইসলাম বলেন, যতবড়ই কাগজ থাকুক কিন্তু গাড়ি নিয়ে পণ্য খালাস করতে যাইতে পারবেননা।আমার ভারী যানবাহন চালকের লাইসেন্স রয়েছে, যশোর থেকে আসছি। কিন্তু আর ১ কিলোমিটার যাইতে পারবোনা। বদলি চালক দেওয়ার নামে আমাদের পেটের ভাত কেরে নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা থেকে আসা ট্রাক চালক নেওয়াজ উদ্দিন, শসসের আলী, মসলিম উদ্দিনসহ আরো অনেকে জানান, গাড়ি বাংলাবান্ধায় পৌঁছানোর পর বদলি চালকদের সিন্ডিকেট চক্রটি গাড়ি আটকিয়ে চালকের স্মার্ট কার্ড খোঁজে। যেখানে স্মার্ট কার্ড সরকার গত কয়েক বছর ধরে দেয়না, সেখানে আমরা কোথায় পাবো। অনলাইন থেকে লাইসেন্স নিয়ে আমরা ব্যবহার করি।
অভিযুক্ত শওকত মেম্বার বলেন,জোর করে কোন বদলি চালক দেওয়া হয়না। যারা নিতে চায় তাদেরকে দেওয়া। বাংলাবান্ধায় ২০০০ ও ২৬৪ শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। সবাই এক সাথে কাজ করছি।
বাংলাবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি কিছু ঝামেলা আছে, আমরা আগামীকালকে
ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের নৈনগাঁও গ্রামসংলগ্ন দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের সেতু প্রাঙ্গণে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে নৈনগাঁও গ্রামের জব্বার আলীর বাড়ি থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় একই গ্রামের সেলিম আহমদ ও তার ছেলে সালমিন আহমদের ওপর সন্দেহ করে জব্বার আলীর পরিবার। এর জের ধরে শনিবার সকালে জব্বার আলীর চাচা রফিক মিয়া ও তার ছেলে আল আমিন দলবল নিয়ে সেলিম আহমদের বাড়িতে চড়াও হন এবং তাকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন। পরবর্তীতে সেলিমের পক্ষের লোকজন ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সেলিম আহমদ, ফয়েজ আহমদ, জহুর আলী, লিয়াকত আলী, তমির উদ্দিন, সোহেল মিয়া, আল আমিন ও রফিক মিয়াসহ অন্তত ২০ জনকে দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, দুপক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেই কোন্দল সংঘর্ষে রূপ নেয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২০ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজিবি জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধীন ধর্মজান বিওপির একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩১৯/৩-এস থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বনগাঁও এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ১২০ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত দ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।