ডিবির অভিযানে আসামির বসতবাড়ী থেকে মাদক উদ্ধার, বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখার কথা স্বীকারের দাবী পুলিশের।
দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৩৩০ পিস অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মো. জয়নুল আবেদীন (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৫ মিনিটে দিনাজপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন ৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জায়গীরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পাঠানো প্রেস রিলিজে জানানো হয়, দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবির অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়নুল আবেদীনের বসতবাড়ীতে অভিযান চালায়।
এ সময় তার বাড়ী থেকে ৩৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় জয়নুল আবেদীনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খানপুর জায়গীরপাড়া (শ্রী চন্দ্রপুর) এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত ফসিউদ্দিন এবং মায়ের নাম মৃত জরিনা খাতুন।
প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রেখেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজুর জন্য কোতয়ালী থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো জেলাজুড়ে। তাকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।
আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার সম্মতি রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে চলছে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষ্যে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ভারী শিল্প কলকারখানা,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এছাড়া শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহরিয়ার কবির রতন বলেন, ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালীন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালু সহ আরও অনেকে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেগুলোর কাজ চলমান আছে। তারপরেও আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে বেকার সমস্যার সমাধানে আত্নকর্মসংস্থানের জন্য ভারী শিল্প কলকারখানা স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। আয়োজকরা বলছেন, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের।
সচেতন নাগরিক মাসুদ হাসান পলাশ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।
তিনি বলেন, জনগণ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, বরং তার মাধ্যমে সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কারণ তিনি রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তার মতো একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করা মানে সাধারণ জনগণকেই মূল্যায়ন করা। তিনি কোনোভাবেই উড়ে এসে জুড়ে বসা মানুষ নন; দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়েই আজ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া ও সংগ্রামী মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে মানুষ তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষেরই সম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাব। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।
সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা-সব মিলিয়ে এখন উৎসবের আমেজে অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঠাকুরগাঁওয়ের শিল্প কলকারখানা,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
ময়মনসিংহের ভালুকা মহিলা কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভালুকা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডাব এলাকায় কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং নায়েম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ড. মো. আতিকুল ইসলাম পাঠানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, গুলজার হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন খালেক পাঠান, উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রহিম আকন্দ, উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল হক মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, পৌর শ্রমিকদলের আহ্বায়ক মাহাবুব মোল্লা, প্রভাষক হাবিবুর রহমান পাঠানসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ ভালুকা মহিলা কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক ও উপযোগী অবকাঠামো গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভালুকা মহিলা কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং উচ্চশিক্ষায় স্থানীয় নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
জমির দলিল-খাজনা-খারিজ সব থাকার পরও ১২ বছর ধরে বসবাসকারী পরিবারটিকে উচ্ছেদের চেষ্টা। অভিযোগ দিয়েও থানায় মিলছে না প্রতিকার, উল্টো ভুক্তভোগীকেই ‘আসামির স্ত্রী’ বলে দায় এড়াচ্ছেন ওসি।
নিজের কষ্টের টাকায় কেনা জমি, নিজের গড়া বসতবাড়ি। অথচ সেই বাড়িতেই এখন রাত কাটাতে ভয় পান সামছুন নাহার। স্বামী প্রবাসী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে শাহীন দেশের বাইরে। দুই সন্তান আর শাশুড়িকে নিয়ে রংপুর মহানগরীর তাজহাটের আশরতপুরে একাই লড়ছেন তিনি।
গত কয়েক মাস ধরে প্রতিপক্ষ আকবর ও আকরাম গংয়ের হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ জানাতে গিয়ে বারবার থানার দরজায় ঘুরেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং ওসির মুখে শুনতে হয়েছে, “আপনারা তো আসামির পক্ষের লোক।”
১২ বছরের বসবাস, তবুও ‘ভুয়া মালিক’ তকমা
সামছুন নাহার জানান, তাজহাট মৌজার জে.এল নং ৯৭, দাগ নং ৬৯৬ এর ১৭.৫ শতক জমি স্বামীর প্রবাসের আয় দিয়ে কেনা। দলিল হয়েছে, খাজনা-খারিজ করে নামজারিও করা হয়েছে। জমিতে রয়েছে বসতবাড়ি, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ ও পুকুর। বিগত ১২-১৩ বছর ধরে সুনামের সাথে এখানেই সংসার ও ব্যবসা চালাচ্ছেন তারা।
কিন্তু প্রতিপক্ষ মোঃ আকবর ও মোঃ আকরাম, পিতা মৃত খলিল, সাং আলমনগর, ১৯৬২ সালের রেকর্ড মূলে মালিকানা দাবি করে আদালতে ৫০/২৫ নং মামলা চালাচ্ছেন। সেই মামলাকেই ঢাল বানিয়ে বারবার হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিপক্ষরা আল আরাফাহ ব্যাংক, মৌলভীবাজার শাখায় জমি মর্গেজ রেখে ৩১/১০/২০১৮ পর্যন্ত ৯ কোটি ২ লক্ষ ৫ হাজার ৪৫০ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক পরবর্তীতে জমিতে সাইনবোর্ডও লাগিয়েছে। অথচ মেট্রোপলিটন কমিশনার কার্যালয় থেকে ২৬/০১/২০২০ তারিখের চিঠিতে তাদের বসতবাড়ীর ৬৯৬ দাগে কোনো অধিগ্রহণের কথা নেই।
রাতের আঁধারে হামলা, সিসি ক্যামেরাও রেহাই পায়নি
সামছুন নাহারের ভাষ্য, গত ২৬/০৮/২০২৬ ইং রাত ১.৩০ মিনিটে আসামিরা বাড়ির নৈশ প্রহরীকে সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে বেদম মারপিট করে। হুমকি দেয়, “আর কখনো গ্যারেজ ও বসতবাড়ীর আশেপাশে দেখলে হাত-পা ভেঙে দেব।
পরদিন ২৭ আগস্ট সকাল ১২.১৫ মিনিটে এবং রাত ৯.০৫ মিনিটে দুই দফায় বাড়ি ও গ্যারেজের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। ৩০/০৮/২০২৬ ইং বিকেল ৪.৪০ মিনিটে ইট নিক্ষেপ করে ভেন্টিলেটরের ক্যামেরাও ভেঙে ফেলা হয়। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত আছে।
সবচেয়ে আতঙ্কের ঘটনা ঘটে গতকাল রাতে। সামছুন নাহার বলেন, “রাত ৯ টার দিকে তারা আবার হামলা করে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেট লাগিয়ে দেই। ৯৯৯ এ ফোন করলে দুইজন পুলিশ আসে।”
পুলিশ আসার পরও হামলাকারীরা তার ছেলের সাইকেল, কয়েকটি চেয়ার এবং হাঁস-মুরগির ঘর ভেঙে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপরেও চড়াও হয় আকরাম ও তার ছেলে আদনান গং।
থানায় গিয়ে মিলল অবহেলা, ওসির ‘পক্ষপাত’
এ নিয়ে তাজহাট থানায় একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে সিআর-১৪৫/২০২৩ নং মামলা করেছিলেন। ১৬/০৬/২০২৩ তারিখে পুলিশ কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জী নোটিশ দিয়ে যাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পরই আবার হামলা হয়। ১৪/০৭/২০২৬ তারিখে জিডি নং-৬৪৩ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সামছুন নাহারের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ ওসি রফিকের ভূমিকা নিয়ে। তার অভিযোগ, ওসি তাকে সরাসরি বলেন, “একজন ফ্যাসিস্ট ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মানিক হত্যা মামলার আসামির পক্ষে আপনারা আসছেন।”
ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোনোদিন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির ট্যাগ দিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার আওয়ামী লীগ নেতা বানিয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মানিক হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এটা সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। মামলায় স্বামীর নাম ঠিক থাকলেও বাবার নাম ও ঠিকানার সাথে কোনো মিল নেই। এরপরও পুলিশ তাকে খুঁজছে। সেই ভয়ে সে পলাতক।”
“স্বামী পলাতক বলে কি আমরা নিরাপত্তা পাব না? আমরা কি এই দেশের নাগরিক না? আমার দুইটা ছোট বাচ্চা আছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন আবার হামলা হয় সেই আতঙ্কে থাকি,” বলেন তিনি।
ওসি রফিক পরে বলেন, “আমার ছুটির অর্ডার হয়েছে। আপনারা অভিযোগ দেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।” এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই।
স্থানীয়দের প্রশ্ন: আইন কার জন্য?
স্থানীয়রা বলছেন, “যেখানে দলিল আছে, খারিজ আছে, খাজনা দেওয়া আছে, সেখানে মালিক ভুয়া হয় কিভাবে? আদালতের রায় থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট-কমিশন নিয়ে উচ্ছেদ করুক। নিজেরা আইন হাতে তুলে নেবে কেন?”
তাদের অভিযোগ, আদনান এলাকায় নেশাগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত। প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে সে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। সাক্ষী হিসেবে রায়হান কবির, মিজানুর রহমান, সাহারা বেগমসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করেছেন সামছুন নাহার।
সুবিচারের অপেক্ষায় অসহায় পরিবার
স্বামী পলাতক থাকায় এখন সামছুন নাহার একাই দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনকার হামলা-ভাঙচুরে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে তাজহাট থানার ওসির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একটি পরিবার শুধু নিজের কেনা জমিতে শান্তিতে বাঁচার অধিকার চাইছে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপই এখন তাদের শেষ ভরসা।
বর্ণাঢ্য আয়োজন পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মহাবতার পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়েছে।
শুক্রবার বেলা এগারোটায় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শ্রী শ্রী মনদ মোহন সেবাশ্রম মন্দির প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাজার হাজার সনাতনী ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে মন্দিরে বৈদিক অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে এ উৎসবের মূল অনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এসময় বৈদিক মন্ত্রচ্চারণ করে যজ্ঞের অগ্নিতে ঘি,শস্যদানা, ফুল ও ফল আহুতি দেন পুরোহিতগণ। দেশের কল্যাণ ও বিশ্ব শান্তির উদ্দেশ্যে করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।
নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৪৯৫ পিস ইয়াবা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ২০টি অভিযান পরিচালনা করে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে চারজন মাদক ব্যবসায়ী এবং নয়জন মাদকসেবী।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, অভিযানে সুধারাম থানা এলাকায় তিনজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় চারজন, সেনবাগ থানায় চারজন, চরজব্বর থানায় এলাকায় ৪৪৭ পিস ইয়াবাসহ একজন এবং কবিরহাট থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় চারটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার কয়েকজনের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
"করব কাজ ,গরব দেশ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ "এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্তকরুণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য (৪ ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার) সকাল ১১ টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কুমিল্লা হাড়ি -বলাকা উদ্যান পুকুরে উক্ত অবমুক্তকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক জনাব শাহরিয়ার কবির রতনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন,সাধারণ সম্পাদক মোঃ পয়গাম আলি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ,জেলা মৎস্যজীবি দলের সদস সচিব মাসুদ হাসান পলাশ , সদর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রুহুল আমিন বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান, প্রচার সম্পাদক শামসুল আলম (সাংবাদিক) প্রমুখ এছাড়া এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ ও খাদ্য স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য মাছ চাষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ । মাছ ও ভাত এদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। তাই আমাদেরকে বাঙালি বলা হয়।বিএনপি একমাত্র দল যা জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশ ও জনগণের উন্নয়নে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে । তাই আমরা যেকোনো উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত হয়।এরই ধারাবাহিকতায় আজকে এই পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হলো । তাই আমাদের সকলের উচিত নিজস্ব পুকুর -ডোবায় মাছের চাষ করা।