• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫৫টি ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগে তিনটি মামলা রয়েছে। (১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার) ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন। 


তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১০ লাখ টাকা ইয়াবা বিক্রির বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালন্দর ইউনিয়নের চেরাডাঙ্গী বাজারসংলগ্ন নয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় মো. আসাদুজ্জামান (৩৮) ওরফে দুলালকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার কচুবাড়ি ভাটা এলাকায়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে লুঙ্গির ডান কোচর থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাসহ আশপাশে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন।


অন্যদিকে, সোমবার দুপুরে হরিপুর থানার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) বিলগামী নয়াবাশ এলাকায় অভিযান চালায় হরিপুর থানা-পুলিশ। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন মো. নাজির হোসেন (৫৫)। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করা হয়।


পুলিশ জানায়, নাজির হোসেনের কাছ থেকে ১৪৫টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগম (৪৮) সেখানে একটি শপিং ব্যাগ নিয়ে এলে সেটি তল্লাশি করে নগদ ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই টাকা মাদক বিক্রির।


পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজির ও নাজমা দীর্ঘদিন ধরে হরিপুর ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, নাজমা মাদক ব্যবসায় অর্থের জোগান ও সহযোগিতা করতেন। তাঁদের সঙ্গে মাদক সরবরাহকারী, ক্রেতা ও সহযোগী আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগে তিনটি মামলা রয়েছে। হরিপুর থানায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে এবং ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।



গাজীপুরে ৯ কেন্দ্রে স্বস্তিতে ৯ হাজার ৫৮০ পরীক্ষার্থী

সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে চলছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১০ পিএম

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরিচালিত বিএ/বিএসএস পরীক্ষা গাজীপুরের ৯টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ধারিত নিয়মনীতি ও সময়সূচি অনুসরণ করে এসব কেন্দ্রে মোট ৯ হাজার ৫৮০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।


বাউবি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হয়েছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে মোট ২৮৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছয়টি সেমিস্টারে অনুষ্ঠিতব্য এ পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭৭ জন এবং নারী পরীক্ষার্থী ১ লাখ ১ হাজার ৪৩৬ জন।


বাউবির গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো হলো ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ, টঙ্গী সরকারি কলেজ, কালিয়াকৈর ডিগ্রি কলেজ, পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, শ্রীপুর সরকারি কলেজ, সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ও কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ।

পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করছেন। একই সঙ্গে নকলমুক্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।


বাউবির গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বদরুল ইসলাম বলেন, “পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গাজীপুরের ৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।”


তিনি আরও বলেন, “বাউবি শুধু শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন অনেক পরীক্ষার্থী।


বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ও বিকেলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে।

গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মো. ওয়াজেদ আলী এবং উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বদরুল ইসলাম পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত গাজীপুরের সবকটি কেন্দ্রে একইভাবে সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।



শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় বিদায়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২১ পিএম

যশোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুসলিম একাডেমীর ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মোল্যাকে এক ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর সম্মানে এক বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অবসর গ্রহণকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্টরা প্রিয় শিক্ষককে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় বিদ্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে বিদায় জানান।


অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, জাহাঙ্গীর আলম মোল্যা ২০০০ সালের ১১ মে মুসলিম একাডেমীতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। তাঁর আদর্শ, জ্ঞান ও নিবেদন শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা জোগাবে।


মুসলিম একাডেমীর প্রধান শিক্ষক পল্লব কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের কথা স্মরণ করেন। সভাপতির বক্তব্যে পল্লব কান্তি ঘোষ তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী অবসর জীবন কামনা করেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ এএম

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। 


পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হতে পারেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের আটতলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম রাত সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিইউ) একটি দল ও থানা-পুলিশ ওই ভবনের আটতলায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।


ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযানও চলমান রয়েছে।


এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


পুলিশ জানায়, চীন ও তাইওয়ানের কয়েক শ নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের দুটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। 


তবে এ অভিযোগের সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত এবং বিপুলসংখ্যক আইফোন কী কাজে ব্যবহার করা হতো, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেনি।


১০৪ বছর বয়সে আসামির আত্মসমর্পণ, পেলেন না জামিন।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

দুই যুগ আগে কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির সময় দুইজনকে হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া নুর মোহাম্মদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে তার বয়স ১০৪ বছর। আত্মসমর্পণের পর আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।


আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নুর মোহাম্মদ অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদনও নাকচ করেন। তার আইনজীবী আদালতে জানান, তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয় এবং জটিল রোগে ভুগছেন।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুইজনকে হত্যা করা হয়। পরে দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা এবং ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। এ ঘটনায় দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।


তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।


২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে উচ্চ আদালত বিভিন্ন আসামির সাজা বহাল ও পরিবর্তন করেন। নুর মোহাম্মদের ক্ষেত্রে ১০ বছরের কারাদণ্ড নির্ধারিত হয়।


দীর্ঘ সময় পর এবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের সুযোগ চেয়েছেন। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ আদালতে বলেন, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর এবং তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন জানিয়ে আপিলের শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।


ফলে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি হত্যা-ডাকাতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নুর মোহাম্মদকে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিলের আইনি সুযোগ গ্রহণ করবেন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৮ এএম

চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই বাবলু জমাদ্দার দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য কাউখালী থানা-পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। একপর্যায়ে তাঁর অবস্থান ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে র‍্যাবের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।এদিকে, ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর কাউখালী থানায় দায়ের করা একটি নাশকতা মামলাতেও মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় তাঁকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে ওই মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকা বাবলু জমাদ্দারের অবস্থান প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। এরপর র‍্যাবের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দার কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।


কাউখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ এএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম


ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর সাদ্দামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ এএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৩ নম্বর ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর সাদ্দাম।


বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণায় নামেন তিনি। এ সময় দফাদারপাড়া,সাদিপুর বাজার, বাহিরমাদি, সদরঘাট থেকে গোয়ালবাড়ি,চরসাদীপুর,ইসলামপুর,কেরানীপাড়া,


সিরাজনগর টোলপাড়া,কামারপাড়া,দারোগার মোড়,আবেদের ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ভোট প্রার্থনা ও লিফলেট বিতরণ করেন।


প্রচারণাকালে আব্দুস সবুর সাদ্দাম বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ,ফিলিপ নগর ইউনিয়নের জনগনের জননিরাপত্তা প্রদান করা,ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবেন।একই সঙ্গে সরকারি বরাদ্দ ও জনগণের জন্য নির্ধারিত সব সুযোগ-সুবিধা স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।