• প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২১ পিএম

বর্ণাঢ্য আয়োজন পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মহাবতার পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়েছে। 


শুক্রবার বেলা এগারোটায় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শ্রী শ্রী মনদ মোহন সেবাশ্রম মন্দির প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাজার হাজার সনাতনী ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 


এর আগে মন্দিরে বৈদিক অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে এ উৎসবের মূল অনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এসময় বৈদিক মন্ত্রচ্চারণ করে যজ্ঞের অগ্নিতে ঘি,শস্যদানা, ফুল ও ফল আহুতি দেন পুরোহিতগণ। দেশের কল্যাণ ও বিশ্ব শান্তির উদ্দেশ্যে করা হয় বিশেষ প্রার্থনা। 




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩১ পিএম

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊনি-১ শাখার উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক এক আদেশে তার বিষয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদেশ জারির পর মঙ্গলবারই (২০ অক্টোবর) রাজশাহী ছেড়েছেন ইউসুফ আলী। আর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেজাউল আলম সরকারকে।


জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে সরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী শাহমখদুম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে প্রটোকল দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। 


প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রাজশাহী ত্যাগ করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিভাগীয় কমিশনারের প্রটোকল ভঙ্গের চেষ্টার ভিডিও। যেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা হয়। 


পরে সরকারি প্রটোকল ও শিষ্ঠাচার ভঙ্গজনিত কারণে রাতেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। যদিও আদেশে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। উল্লেখ্য, ২০ আগস্ট অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলীকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। 


সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুরের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর শাহমখদুম বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা। এ সময় রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের ভিআইপি ফটকের বাইরে উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীসহ উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। প্রটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক এক করে হাত মেলান। ওই সময় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর তার সঙ্গে কোলাকুলির (জড়িয়ে ধরা) চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাকে সেই সুযোগ না দিয়ে সরিয়ে দেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এই প্রটোকল ও শিষ্ঠাচার ভঙ্গের চেষ্টায় প্রটোকলের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন। উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যগণও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 


রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের  আদেশ হাতে পেয়ে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান।


অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী একজন মন্ত্রী জানান, বিভাগীয় কমিশনার একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি প্রটোকল তার জানা থাকার কথা। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করার চেষ্টা করেন। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। 


মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ইকো রিসোর্টের নামে এভাবে হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা এমনই। যত্রতত্র হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ নির্মাণ, নিয়মনীতি না মানা এবং প্রশাসনের দুর্বল নজরদারিতে বাড়ছে ঝুঁকি। ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু নিরাপত্তা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে জোরালোভাবে সামনে এনেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতির ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ পর্যটন খাত। কিন্তু দেশের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কক্সবাজার সেই স্তরে পৌঁছাতে পারছে না। একটি আদর্শ পর্যটন শহরে যা কিছু বিদ্যমান থাকার কথা, তার অধিকাংশ কক্সবাজারে অনুপস্থিত। 


অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাব রয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ ও জরিমানার মধ্য দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যায়। কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অনুমোদনহীন হোটেল, রিসোর্টের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। পূজার ছুটির পর সব সংস্থা মিলে এটি শুরু হবে। এর আগে শনিবার হোটেল, রিসোর্ট মালিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপদ পর্যটনের জন্য করণীয় বিষয়ে সেখানে উঠে আসবে। টুপটুপ ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 


জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারে ঠিক কতগুলো হোটেল রিসোর্ট রয়েছে এটা বলা কঠিন। কারণ, আমরা প্রতিদিন সার্ভে করি না। কিন্তু অনেকে রাতারাতি হোটেল, রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। তবে কক্সবাজারে সব মিলিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ হোটেল, রিসোর্ট ও মোটেল রয়েছে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। পূজার ছুটির পর আমরা বড় পরিসরে অভিযান চালাব।’ 


তিনি বলেন, ইকো রিসোর্টের প্রতি পর্যটকের আগ্রহ বেশি। চাহিদা বেশি থাকায় অনেকে রাতারাতি ইকো রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। 


তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল থাকলে অনেক সময় পর্যটকদের অনুরোধের কারণে যাত্রীদের নিয়ে বাসগুলো শহরে প্রবেশ করে। পর্যটকরা তাদের হোটেলের সামনে বা কাছাকাছি স্থান থেকে বাসে উঠতে চান। 


কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে সোমবার যানবাহন থামিয়ে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ও বিকেলে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় প্রায় ৫০টি যানবাহনের যাত্রীরা ডাকাতদের কবলে পড়েন। ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। কয়েকজন যাত্রীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে। ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশ পরা এক দল সশস্ত্র ডাকাত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। কক্সবাজারে এই ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে।  


সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারে অনিরাপদ পর্যটনের পেছনে বেশ কিছু কারণ দায়ী। এর মধ্যে আছে, সৈকতসহ পুরো শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব। পর্যটকদের টার্গেট করে একের পর এক গড়ে উঠেছে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ।  অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকরা সেখানে রাত কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে খাবার হোটেল। মেরিন ড্রাইভের পাশে জমি কিনছেন প্রভাবশারীরা। এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসনে বৈধ ফায়ার লাইসেন্স নেই। সৈকতজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য, চিপসের প্যাকেট ও নানা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। বেশির ভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট পয়োনিষ্কাশন ও তরল বর্জ্য শোধনাগার নেই। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) অবৈধভাবে বহু রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন জোনিংয়ের অভাব কক্সবাজারের কলাতলী থেকে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা এখন একটি ‘কংক্রিটের জঙ্গলে’ পরিণত হয়েছে। 


সুনির্দিষ্ট কোনো পর্যটন জোনিং বা মহাপরিকল্পনা না থাকায় যত্রতত্র বহুতল ভবন উঠছে। পাহাড় কাটা, বালিয়াড়ি দখল এবং বাঁকখালী নদী ভরাটের মতো পরিবেশবিধ্বংশী কর্মকাণ্ড শহরের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। সৈকতে হকার, ভিক্ষুক এবং অপেশাদার গাইডদের কারণে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হন।  ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপে মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার অটোরিকশা হয়ে উঠছে দুর্ঘটনার কারণ। আবার পর্যটকদের জন্য খোলা গাড়ি শহরের ভেতরে যেখানে সেখানে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। 


সমুদ্র সৈকতের চোরাবালি ও অদৃশ্য গর্তে ডুবে প্রতিবছরই পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রে ভাটার সময় লাল পতাকা বা বিপৎসংকেত থাকার পরও অনেক পর্যটক তা মানছেন না, আর সেখানে লাইফগার্ডের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। ছুটির দিনগুলোতে বা পর্যটনের ভরা মৌসুমে হোটেল ভাড়া কয়েকগুণ করা হয়। এর জন্য একটি কার্যকর ভাড়ার রেগুলেটরি বোর্ড থাকা প্রয়োজন। কতজন পর্যটক আসছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান বা ডেটাবেজ আমাদের কাছে নেই। তথ্যের অভাবে কোনো সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। গত চার-পাঁচ দিনে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণি ও কলাতলী পয়েন্টে চার শতাধিক দোকান-রেস্তোরাঁ বসানো হয়েছে। সৈকতের ঝাউবাগান ও অন্যান্য বালিয়াড়ি দখল করে আরও দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। 


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, দেশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩টি এলাকার একটি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন যে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা  নির্মাণ, শিল্পকারখানা স্থাপন, মাটি, পানি ও বায়ুর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা নষ্ট করতে পারে– এমন সব কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 


পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, কক্সবাজার সৈকতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে নির্মিত সব স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে কক্সবাজারে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকার। 


তিনি বলেন, এ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে সৈকতসংলগ্ন প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জোনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এর পরও সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। 


শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় রাস্তার পূর্ব পাশে নয়তলা বিশিষ্ট তারকা মানের আবাসিক হোটেল ‘উইন্ডি টেরেস’। ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি এ হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাড়পত্রবিষয়ক কমিটির ৯৪তম সভার সিদ্ধান্ত মতে ১২ শর্তে এ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অর্থাৎ পয়োবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে এর নকশা এবং কার্যকারিতা প্ল্যান পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।  এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এসব শর্তে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করে আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিবেশ ছাড়পত্রের নবায়নও করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের পর এ হোটেলের পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রেখেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। 


২০ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয় থেকে হোটেল উইন্ডি টেরেস কর্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, পয়োবর্জ্য শোধনাগারের ড্রয়িং, ডিজাইন ও ক্যালকুলেশন, হালনাগাদ আয়কর প্রত্যয়নপত্র এবং এসটিপি নির্মাণের অগ্রগতির কাগজপত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, পাঁচ কার্যদিবসের পর ৯ মাস পার হলেও তারা কোনো কাগজপত্র পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেয়নি। এসব কাগজপত্র জমা দিতে না পারলে পরিবেশ ছাড়পত্র আর নবায়ন করা হবে না। পরে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৪৪টি আবাসিক হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শর্তপূরণ করতে না পারায় ২৯ হোটেলের ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি হোটেলে পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার ১১ কিলোমিটার সড়কে ২৩ হাজারের বেশি তিন চাকার যান চলাচল করে। এর বাইরে দূরপাল্লার আরও চার শতাধিক গণপরিবহন, পাঁচ হাজারের বেশি মিনিবাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কার-জিপ চলাচল করে। টানা কয়েক দিনের ছুটিতে যখন কক্সবাজারে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে, তখন যানবাহনের সংখ্যা আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বেড়ে যায়। কক্সবাজার শহরে তিন হাজার ইজিবাইক চলতে পারে। কিন্তু এখন চলছে ২৩ হাজার। গত এক বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে এসব যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। শহরের বাইরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মাত্র দুই শতাধিক বাস রাখার জায়গা রয়েছে। অবশিষ্ট গাড়ি ফেলে রাখা হয় বাইপাস, কলাতলী ও সৈকত সড়কের দুই পাশে। 


পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ বলেন, এক যুগ আগে শহরে চলাচলের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছিল। সম্প্রতি আরও ৫০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু শহরের অভ্যন্তরে চলাচল করছে ২০ হাজারের বেশি। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইজিবাইক জব্দ করা হলেও গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। 


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের গণি জানান, কক্সবাজার শহরে চলাচল করা তিন চাকার গাড়িগুলোয় ব্যাটারি চার্জ দিতে দৈনিক দুই থেকে তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। শহরের নানা জায়গায় গ্যারেজে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। 


কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, তিন চাকার যান এতই বেড়েছে যে সড়কে হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। শহরের লালদীঘিরপাড় থেকে বার্মিজ মার্কেট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে। যানজটের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ এএম

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকদের একজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যজনকে আসামি করা হয়নি। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর তানভীর সুলতান মিয়া ও নিয়াজ মোর্শেদের যৌথ মালিকানায় গড়ে তোলা হয় টুপটুপ রিসোর্ট। ইট, বালু, সিমেন্ট আর কাঠ ও বাঁশের মিশেলে তৈরি রিসোর্টিতে ১৭ অক্টোবর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১ পর্যটক নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার করা হয় ১০ জনের মরদেহ। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই পুলিশ উখিয়া থানায় মামলা করে। মামলায় শুধু তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। 


এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর রাত ৯টায় উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলাটি করেন। এতে রিসোর্টের এক মালিক, তিন ব্যবস্থাপকসহ মোট চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। ১৯ কর্মচারীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।


এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন– রিসোর্টের প্রধান ব্যবস্থাপক সাঈদ আহাম্মেদ (৩২), ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাঈদ (৩০) এবং সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমন (২৯)।


নিয়াজ মোর্শেদকে আসামি না করার বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আশিস সূত্রধর বলেন, তিনি পূজার ছুটিতে আছেন। পূজা শেষে আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর ফিরবেন। এর পর থানায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি।


এদিকে হতাহতের ঘটনায় রিসোর্টের একজন মালিককে বাদ দেওয়া এবং সুনির্দিষ্ট ধারা প্রয়োগ না করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, রিসোর্টে আগুন লাগা ও মানুষের মৃত্যুর ঘটনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অবহেলার বিষয়টি সামনে এনেছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করা হলো কীভাবে?


কক্সবাজার আইন কলেজের শিক্ষক সেজান এহেছান বলেন, পুলিশ মামলাটি নিয়ে নয়ছয় করেছে, তা পরিষ্কার। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই, এমন কর্মচারীদেরও আসামি করা হয়েছে।


কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমিজ আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনার দিন থেকেই দেশবাসী জানতে পারে, গত জুনে ফায়ার সার্ভিস রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এজাহারে বিষয়টি উল্লেখ না করায় মামলাটি দুর্বল হয়েছে। এখন যে ৩০৪-ক ধারায় মামলা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। অথচ ফায়ার সার্ভিসের সতর্কবার্তার বিষয়টি এজাহারে উল্লেখ করা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন এবং সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছর হতো।


এ বিষয়ে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, মামলা করার সময় পুলিশ নিয়াজ মোর্শেদের নাম জানত না। এ কারণে আপাতত এজাহারে তাঁর নাম নেই। তবে তাঁকে এ মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এজাহারে কোনো অসংগতি থাকলে তা অভিযোগপত্রে সংশোধন করা হবে।


এখনও নিখোঁজ একজন


নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন। তারা হাসপাতালের মর্গ ও পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে স্বজনদের খুঁজছেন। হাত, গলা কিংবা পায়ে থাকা অলংকার দেখে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছেন স্বজন। তাতেও কোনো সমাধান মিলছে না।


কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহত ব্যক্তিদের কয়েকটি পরিবারের ছবি ও পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। তবে ১০টি মরদেহের প্রকৃত পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। রোববার সন্ধ্যায় মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর পরিচয় শনাক্ত করে মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান বলেন, নিখোঁজ হওয়া একজন অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন, নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে পুলিশের বিশেষ শাখা ও তদন্তকারী দল কাজ করছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন নম্বরের নেটওয়ার্ক লোকেশন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।


কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন গতকাল বিকেলে  বলেন, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আরও দুই দফা উদ্ধার অভিযান চালান। কিন্তু কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।


গ্রেপ্তার সুমনের সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ


মামলার আসামি জাহিদ হোসেন সুমনকে রোববার আদালতে পাঠানো হয়। তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি।


এ বিষয়ে ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, রোববার বিকেলে সুমনকে আদালতে তোলা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজে ঢাকায় থাকায় রিমান্ড শুনানি হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা ফেরার পর শুনানি হবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ এএম

মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করেই দেশের জন্য লড়াই করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি। ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান এবং রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যা দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন।


মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিন যুদ্ধের মাঠে শত-সহস্র মানুষ, লাখো মানুষ যুদ্ধ করেছিলেন। কয়েক লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। যারা যুদ্ধ করেছিলেন, যারা শহীদ হয়েছিলেন, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান। আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন। তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন, তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন।’ 


স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আন্দোলন করেছেন। সেসব আন্দোলনেও কে কোন ধর্মের, তা বিবেচনা করা হয়নি।


তিনি বলেন, ‘সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি, আমার পাশের কর্মী কোন ধর্মের বা আমার সামনে কিংবা পেছনের কর্মী কোন ধর্মের।’


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। মা-বোন, শিশু, তরুণ, যুবকসহ লাখ লাখ মানুষ দেশের প্রতিটি জেলায় রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই থেকে সোয়া দুই বছর আগের কথা, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস। এই দেশের মানুষ, এই দেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লাখ লাখ মানুষ সমগ্র বাংলাদেশে সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন। মা-বোনেরা বেরিয়ে এসেছিলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ বেরিয়ে এসেছিলেন, শিশুরা বেরিয়ে এসেছিল, তরুণেরা বেরিয়েছিল, যুবকেরা বেরিয়ে এসেছিল। কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলি খাওয়া মানুষটি মুসলমান নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান। স্বৈরাচার গুলি করেছে, ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। যাওয়ার পথে কেউ মারা গিয়েছে অথবা যাওয়ার পথে বেঁচে থাকলেও বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে।’


আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। ধর্মের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিকতার এই দৃষ্টান্তই প্রমাণ করে, নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় ও অধিকার সমান। 

 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

দেশের কয়েকটি জায়গায় ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। পলাতক স্বৈরাচার শ্রমিক অসন্তোষ তৈরিতে অর্থ সরবরাহ করছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা কয়েকটি দলও এতে যুক্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।


শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতটা দল আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। তারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।’


তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে, নিরাপত্তা বাড়াতে, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। সরকার শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু কয়েকটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এসব কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার সময়ও ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো দেশের অগ্রগতির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।


বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইকে ধারণ করে


বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করে বলে জনসভায় উল্লেখ করেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার বিদায় নেওয়ার আগে শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই শহীদদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে।


তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করার কথা বলে, এমন সব রাজনৈতিক দলকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি দলের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। 


জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটির প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।’


এ সময় রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি সরকার। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সে চেষ্টা করবে।


এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্চে উঠে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে একযোগে মুঠোফোনে আর্থিক পরিষেবার মাধ্যমে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দেন।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশন প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ।


‘অতীতের রাজনীতি পরিবর্তন করতে চাই’


এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রংপুর নগরের ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন করতে চাই। এই পরিবর্তনের বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ। অতীতের মতো জনগণকে পাশে নিয়েই বর্তমান সরকার এগিয়ে যেতে চায়।’


জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, কিছুদিন ধরে আমরা দেখছি, বর্তমান সরকার যে ঐক্য গড়ে তুলতে চাচ্ছে, সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাচ্ছে, একটি মহল তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’


তারেক রহমান বলেন, ‘এ দেশের মানুষ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছেন। কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কোনো অঞ্চলে হননি। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও সরকার; যাঁরা ভোট দেননি, তাঁদেরও সরকার। বর্তমান সরকার সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায়।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে দুই সপ্তাহ আগে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে জেলা পরিষদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাম, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।


প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে পৌঁছালে তাঁকে বরণ করে নেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এ সময় তিনি শিশুদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। মন্দিরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ টাকার চেক দেন। এ ছাড়া দূরদূরান্ত থেকে আসা পূজারিদের থাকার জন্য মন্দিরের পেছনে নির্মাণাধীন অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন করতে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


মন্দির পরিদর্শন শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা সামরিক উড়োজাহাজটি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আধা ঘণ্টা পর তিনি মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে পৌঁছান। জনসভা শেষে উড়োজাহাজে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।


আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দুই উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি মণ্ডপগুলোর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশের খোঁজখবর নেন। একই সাথে তিনি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্তদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি সনাতন ধর্মীয় মা-বোনদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেন।


পরিদর্শনকালে মীর সরফত আলী সপু বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। প্রতিটি ধর্মের উৎসব যেন সবাই মিলে নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা সর্বদা পাশে আছি।”


পূজামণ্ডপগুলোতে সুন্দর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময়  অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মৃধা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা, শ্রীনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য রাজু আহমেদ এবং উপজেলা যুবদল নেতা মোঃ জাফর আলম বাবু মোল্লাসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।