সিলেট সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানোন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মেধা বিকাশের উপযুক্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, কোমলমতি শিশুদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে আধুনিক ও মানসম্মত পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। নতুন এই ভবন নির্মাণের ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জিন্দাবাজারস্থ সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নির্মিত ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যৌথভাবে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কুমকুম ইয়াসমিনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সদর উপজেলার ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াত, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শরীফ মোঃ নেয়ামত উল্লাহ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুব কাদির শাহী, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, সহকারি শিক্ষক ফাহমিদা পারভীন, রোমানা বেগম, সুলতান আহমদ, উম্মে সালমা বেগম, শর্মিলা রায়, ফাহিমা বেগম, বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতির সভাপতি আখতার ফারুক লিটন, পিটিএ কমিটির সভাপতি মুন্সী ইকবাল।
ভবন উদ্বোধনের সময় মোনাজাত পরিচালনা করেন শফিক-রফিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আতাউর রহমান। পবিত্র কুরআন তেলায়াত থেকে পাঠ করেন বিদ্যালয়ের ছাত্রী নুসরাত জাহান জেরিন, গীতা পাঠ করেন পুনম শর্মা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিমান্ডে
সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওসমান গনিকে (৩২) দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়াস্থ’ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ওসমান গনিসহ অপরাপর সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সংহতি, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে গোপনে সমবেত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার চক্রান্ত করছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে দেখা গেছে, আসামি ওসমান গনির বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ধারা অনুযায়ী একাধিক মামলা (মামলা নং-০৮ ও ০৯, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সরকারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওসমান গনিকে (৩২) দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়াস্থ’ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ওসমান গনিসহ অপরাপর সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সংহতি, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে গোপনে সমবেত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার চক্রান্ত করছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে দেখা গেছে, আসামি ওসমান গনির বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ধারা অনুযায়ী একাধিক মামলা (মামলা নং-০৮ ও ০৯, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সরকারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, চা বাগান এলাকার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট দ্রুত নিরসনে সরকার সুনির্দিষ্ট ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অভিঘাত সামলে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সিএসআর তহবিলের সহযোগিতায় প্রতিকূল আবহাওয়ায় কর্মরত চা-শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিলেট সফরকালে সরজমিনে চা বাগান ঘুরে দেখেন। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে চা শ্রমিক মা-বোন এবং ভাইদের কষ্ট করে কাজ করতে দেখে তিনি ব্যথিত হন। সেখান থেকেই তাঁদের সুরক্ষায় এই রেইনকোট বিতরণের চিন্তাভাবনা শুরু হয়।”
চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাগানে আকস্মিক জটিল রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে ২-৩টি বাগান নিয়ে একটি করে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায়। বাগানে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাব দূর করতে জাতীয় ভিত্তিতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (ইউএনও) স্থান নির্ধারণসহ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী স্কুল নির্মাণ করা হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক পেশায় যুক্ত হতে পারে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রসূতি মায়েদের দ্রুত চিকিৎসার সুবিধার্থে বাগানগুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিক বা হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হবে। চা বাগান এলাকার কাঁচা ও জীর্ণ রাস্তা সংস্কার করে টেকসই সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত ২০ দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও লাইট সুইট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০-৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই মূল্যের সম্ভাব্য ধাক্কা সামলাতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এফএসআরইউ’র যান্ত্রিক ত্রুটি কেটে যাওয়ায় সয়াবিন তেল রিফাইনারি ও চিনি প্রসেসিং কারখানাগুলো এখন পূর্ণ উদ্যমে উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না। কোনো অসাধু চক্র যাতে দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ উদ্যোগে বাজার তদারকি আরও নিবিড় ও কঠোর করা হচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
ধুঁকতে থাকা চা শিল্পকে পুনরায় স্বমহিমায় ফেরাতে এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই ও লাভজনক করতে নানা উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। যেসব বাগানের কাছাকাছি বিদ্যুৎ সঞ্চালন বা ইভাকুয়েশন লাইন রয়েছে, সেগুলোতে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট (সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র) স্থাপনে সরকার সহায়তা ও উৎসাহ দেবে। এ ছাড়া মূল চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের অব্যবহৃত উপযোগী জায়গায় মসলাজাতীয় ফসল ও টিম্বার (কাষ্ঠল গাছ) চাষের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সংগত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে হঠাৎ কোনো আকস্মিক চাপ যাতে না পড়ে এবং নতুন করে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য একবারে না দিয়ে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্ত বাজার অর্থনীতির নিয়মে বেসরকারি খাতও বেতন সমন্বয় করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বন্ধ ও অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোকে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় এনে সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী কেবল মুখরোচক কথা না বলে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর ও গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিলেট জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, মাহবুব কাদির শাহী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদ, টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চা বাগান ব্যবস্থাপক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং এলাকাভিত্তিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সিংগাইরে বিএনপির বিক্ষোভ
দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ ধরনের কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন স্থানেও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিংগাইর উপজেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।
সিংগাইর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ডা. শফিউদ্দিন খান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কাজী আনোয়ার হোসেন।
বক্তারা বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল গফুর, আব্দুল মান্নান, খান মো. হাবিবুল আলম, মোহাম্মদ আলী, সিংগাইর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিনুর রহমান সৌরভ, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম মোকা, পৌর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক নুর আলম বাবুল, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইসমাইল হোসেন, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম জীবন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. জাহিদুর রহমান বিশ্বাসসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার কথিত পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সারাদেশে এক সপ্তাহ ধরে পালনের কথা রয়েছে। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিংগাইরেও এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মো.নাঈম
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধান খেতের পাশে রাস্তা থেকে মো.নাঈম (১৪) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ি সংলগ্ন ধান খেতের পাশে রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত।
স্থানীয়রা জানায়, নাঈম বুলু নেতা সমাজের এবায়েদ উল্যার মেয়ের ঘরের নাতি। তার মা-বাবার প্রায় তিন বছর আগে বিচ্ছেদ হয় যায়। এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থেকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে পড়া লেখা করত।
নিহেতর নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, শনিবার নাঈম মাদ্রাসা থেকে চলে আসে। পরে তার বাবা আমাদের ফোন দিয়ে তার ছেলের অবস্থান জানায়। পরে তার নানী আমেনা খাতুন ওই জায়গায় গিয়ে নাতীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার রাতের খাবার খেয়ে নাঈম ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজরের নামাজের সময় নামাজ পড়তে উঠলে দেখি ঘরের দরজা খোলা, সে শয়ন কক্ষে নেই। সকাল ৭টার দিকে আমি সার আনার জন্য যাওয়ার পথে আমার বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে ধান খেতের পাশে রাস্তার ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।
এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, ২০-২৫ দিন আগে আমার মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল তার মা সুমি আক্তার নানা ভাবে হুমকি ধমকি দেয়। কিভাবে ছেলের আয় রোজগার খায় দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। নিহতের মা তার বাবাকে সন্দেহ করছে। সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য তাকে অনেকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত ছেলের মরদেহ দেখতে আসেনি বাবা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার নিহতের বাবা ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের থুতনির নিচে চিলা দাগ রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানা যাবে। নিহেতর বাবার সাথে কথা হয়েছে তিনি চট্রগ্রাম অথবা ফেনীতে আছেন। তিনি আসছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করেছেন গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং যুব কর্মসংস্থান—বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার নাগরী এলাকার স্বপ্ন কানন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন এসব বলেন।
সভায় এমপি মিলন বলেন, “আমি উন্নয়নের কথা বলি কাজ দিয়ে, কথা দিয়ে নয়। কালীগঞ্জের উন্নয়নের ইতিহাস খুঁজে দেখুন—সবখানে আমাকে পাবেন।” আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষা খাতকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। পাশাপাশি কালীগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জুগলী উচ্চ বিদ্যালয়, জামালপুর রাজমোহন বিদ্যাপীঠ, চুপাইর বালিকা বিদ্যালয়, ভাইয়াসুতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কালীকুটি দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার ৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড, শিক্ষা উপকরণ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সরঞ্জাম, পানির ফিল্টার প্রদান, অস্বচ্ছল মেধাবী ১৫৭ শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল এবং ১৫০ জন দুঃস্থ নারীকে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কালীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ৩টি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। মোক্তারপুর ইউনিয়নে স্থাণীয় হাসেম শেখের বাড়ি থেকে সোলায়মানের টেক মসজিদ পর্যন্ত সড়ক এইচবিবি করণ, মাঝুখান থেকে কালীগঞ্জ দৃষ্টিনন্দন সড়ক প্রকল্প এবং জামালপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া জিসি থেকে জামালপুর জিসি হয়ে দোলন বাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০টি পরিবারকে ছাগল, ১০টি পরিবারকে গৃহনির্মাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৮৩টি মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ১ কোটি ৭০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। এবং উপজেলার ১৯টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ১৯ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
এমপি মিলন বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ৫০ শয্যার সক্ষমতা ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। হাসপাতালটিতে এমআরআইসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যুবকদের বিষয়ে তিনি বলেন, যুব সমাজই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মমুখী শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে কালীগঞ্জের হাজারো তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এসব কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও উন্নত কালীগঞ্জ গড়ে তোলাই একমাত্র লক্ষ্য বলে জানান গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলুসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঠিকাদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও উপজেলা প্রকৌশল অফিস বলছে, কাজটি নিয়মের মধ্যে হয়নি। যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, তা ভেঙে আবার নতুন করে করা হবে।
বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘের পিএসসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণকাজ পায় ইউনুছ আল মামুন-জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার শুরু করে রাতের মধ্যে তারা কাজটি শেষ করেন। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসন গতকাল পরিদর্শনে যায়।
স্ল্যাবগুলো ভেঙে পুনরায় রড দিয়ে ঢালাইয়ের দাবি জানান স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শাস্তিরও দাবি জানান। তারা জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে তারা নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফুটপাতের স্ল্যাবে ৪ ইঞ্চি ঢালাই রয়েছে। স্ল্যাবের নিচে একটা শাটারিং করতে হয়। ওই শাটারিংটি আর সেখান থেকে সরানো যাবে না। এটি এমনিতে নষ্ট হয়ে যাবে। এটি করতে হয় বাঁশ অথবা কাঠ দিয়ে। রডের খাঁচা ও পলিথিন দিয়ে এটির ওপর ঢালাই করা হয়। আমরা যখন বাঁশ দিয়ে শাটারিং করছি, এলাকার কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করেছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের না জানিয়ে রাতে ঢালাইয়ের কাজ করেছে। তারা ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই করেছে। এটির নিয়ম হচ্ছে, অন্য একটি জায়গায় সুন্দরভাবে ঢালাই করে তারপর ফুটপাতের জায়গায় স্ল্যাব বসিয়ে দিতে হয়। তারা তা না করে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শাটারিং করে তার ওপর সামান্য কিছু রড দিয়ে ঢালাই করেছেন। এটি নিয়মের মধ্যে হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, রডের পরিবর্তে বাঁশ দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।