সাবেক ইউপি সদস্য ছুরমান রেজা
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুণ এলাকার পরিত্যক্ত একটি ফিলিং স্টেশনে আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছুরমান রেজা নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ছুরমান রেজা সদর উপজেলার ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য।
এ বিষয়ে ছুরমান রেজার ভাই হালিম রেজা জানান, তিনি ব্যবসার পাশাপাশি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝতে পারছেন না। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্বৃত্তদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মূল রহস্য জানানো যাবে।
অধ্যক্ষের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ মানববন্ধন
ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্র শিক্ষকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আজ সোমবার বেলা ১১ টায় নাজিউর রহমান কলেজের সামনে ভোলা- ইলিশা সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করা হয়। এসময় পরাণগঞ্জ কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজ, হালিমা খাতুন গার্লস স্কুল, পরাণগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরাণগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
এসময় বক্তারা বলেন, গতকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোলার মনপুরা উপজেলা মসজিদে এশার নামাজ আদায় করতে গেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন এর উপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।
অতিদ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হব বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
এসময় বক্তব্য রাখেন, নাজিউর রহমান কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ হেলাল উদ্দিন, কামাল হোসেন শাহীন, জুন্নু রায়হান, কাচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মো: ইউছুফ, কাচিয়া ইউনিয়ন বিজেপির সহ সভাপতি আলমগীর মেম্বার, পরাণগঞ্জ কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, হালিমা খাতুন গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক টিপু সুলতান, পরাণগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ বেলায়েত হোসেন, ছাত্রনেতা মাহি, সুমন, মনজু প্রমূখ।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ সুনীল কুমার বণিক এর সভাপতিত্বে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম।
কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজের প্রভাষক অন্তর হোসেন রানা ও নুসরাত জাহান মুনার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারী কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান খান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা খাতুন।
কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নবীনবরণে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিরা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষাজীবনে নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য মনোযোগী হয়ে শিক্ষা গ্রহণ এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এসআই ফরহাদ মাতুব্বর
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফরহাদ মাতুব্বরকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলার ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে কুলাউড়া থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে একটি পিকআপ গাড়ি আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা সংশ্লিষ্ট এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় ১নং আসামী দেশ পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ এজাহারনামীয় ১৮৪ নম্বর আসামি হিসেবে এসআই ফরহাদ মাতুব্বর (বিপি নং- ৮৯১৭২০১৮৪৫) এর নাম রয়েছে। এজাহারে ১৪৩/১৪৪/১৪৯/৩৪২/৪২৭/৩৮৪/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/১১৪ ধারাসহ অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া হত্যা, ককটেল বিস্ফোরক ঘটানো ও সহায়তা করার অপরাধে এ মমালা রুজু করা হয়। এজাহারে তার কর্মস্থল হিসেবে পল্টন মডেল থানার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মামলার এজাহারে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিমান্ডে এর নামে জুলুম ও নির্যাতন : ফরহাদ মাতুব্বর পল্টন থানায় উপ-পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিএনপি‘র অনেক নেতাকর্মীকে রিমান্ডে এর নামে জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ জাযুঘর ভাঙচুরের মামলায় বিএনপি‘র তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স-কে রিমান্ডে এনে হয়রানী ও নির্যাতন করেন।
পিকআপ আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ : অন্যদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬ কুলাউড়া থানায় একটি পিকআপ ঢাকা মেট্রো- ন- ১২-৪৭০১ গাড়ি আটকের ঘটনায় এসআই ফরহাদ মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে প্রকাশ- পিকআপটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য এসআই ফরহাদ প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগটি সত্য হলে, একজন মামলার এজাহারনামীয় আসামি পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার বিষয়টি কি কর্তৃপক্ষের জানা ছিল?
প্রশ্ন উঠেছে- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য যাচাই করা হয়েছিল কি না। এছাড়া মামলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানা থাকলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতাই বা কী? এমন প্রশ্নও উঠেছে।
যা বললেন এসআই ফরহাদ : অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া থানায় কর্মরত এসআই ফরহাদ মাতুব্বর বলেন, মতিঝিল ও পল্টন থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার একটা জরুরি ফোন আসছে। আপনার সাথে পরে কথা বলবো।”
এরপর তিনি আর কোনো বক্তব্য দেননি।
পুলিশের বক্তব্য : এ বিষয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের মুঠোফোনে বলেন, “উনার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। উনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন- “ঘুষের টাকা লেনদেনের বিষয়টি সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার আসামির বিষয়টি আমার জানা নেই।”
সব মিলিয়ে, একদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নাম, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনকালে পিকআপ আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুটি বিষয়ই এখন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি রাখে।
টঙ্গী শিশু উন্নয়ন (বালক) কেন্দ্র
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চার আসামির মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ৩টার দিকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান।
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে না পাঠিয়ে এই উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, অপ্রতিম হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তদন্তে আরও একজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় মোট চার আসামিকে আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বয়স বিবেচনা করে দুই কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহত ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরদিন গত শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সরকারের এক পার্সেন্ট জমিও ছাড় দেওয়া হবে না। যারা সরকারি জমি দখল করে রেখেছে, তাদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা হবে। একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছিল কিন্তু বেচা হয়নি। এখন বাংলাদেশীদের দোযখের পথে নিতে চায়। দেশে যখন আমরা চেষ্টা করছি সকলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশের উন্নতি সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে তখনই একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবারো বাংলাদেশের নতুন করে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে চায়।
২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌর অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানাগার উপকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য সাবমারসিবল পাম্প বিতরণ, পৌর শিশু পার্কের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, এ সরকার রাতের ভোটের সরকার নয়, এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। তারেক রহমানের সরকার ১৮ কোটি মানুষের নির্বাচিত সরকার। সরকারের ১ ইঞ্চি জমিও কোন দখলদারের আয়ত্বে থাকতে দেয়া হবে না। সরকারি জমি উদ্ধার করে আমরা জনগণের কাজে সরকারি কাজে ব্যবহার করব। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও কাজ করার অনীহা একদিনে ঠিক করা যাবে না।
বাংলাদেশ যখনই স্থিতিশীল অবস্থার দিকে যায় তখনই পলাতক স্বৈরাচাররা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসব আরেকদল বলে বোর্ডে সরকার পতন করে ফেলবে। এসব বলে কোন লাভ হবে না। আপনারা যে রাজপথের ভয় আমাদের দেখাচ্ছেন আমরা সেই রাজপথ থেকে সংসদে ও মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি।
এ সরকার যখন যাত্রা শুরু করে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শুরু করেছিল। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পেশ করার সাহস দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকা বাজেটের বরাদ্দ রেখেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, আজকে রূপগঞ্জের মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। তাদের ঠকানো হচ্ছে। নিরীহ এসব মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া একশ্রেণীর লোকেরা সরকারি জমিগুলো দখল করে রেখেছে। আজকে ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার মাঠ নেই। ঐসব সরকারি জমি উদ্ধার করে খেলাধুলার জন্য মাঠ তৈরি করার দাবি জানান তিনি।
তারাবো পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, রুপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান হুমায়ুন, সহ-সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, আশরাফুল হক রিপনসহ রূপগঞ্জ থানা ও তারাবো পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে ধারাবাহিক নাশকতা, সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দেড় ডজন মামলার আসামি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ রানা ওরফে ড্যান্সার রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের ফরিঙ্গা গ্রামের ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের অফিস কক্ষে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মোল্লার ছত্রছায়ায় খালাতো ভাই পরিচয়ে অবস্থান করছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি সাভার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁপাইন তালতলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত একাধিক মামলাসহ প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি সোহেল রানা। এসব মামলায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যাপক তৎপরতা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বারবার উঠে আসে সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ রানা ওরফে ড্যান্সার রানার নাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা যাচাই করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই তার ওপর বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন রোয়াইল এলাকার ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের ভবনে অভিযান চালায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। এ সময় সেখানে আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, আত্মগোপনে থাকার সময় সোহেল রানা নিজেকে কখনো স্কুল শিক্ষক, আবার কখনো ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ওয়াসিম মোল্লার ছত্রছায়ায় নিজেকে তার খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন, এভাবে ছদ্মবেশ ধারণ করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন সোহেল রানা।
ঢাকা জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে তার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে নিয়ে নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সহযোগী, অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রলীগ নেতার গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তার পৃষ্ঠপোষক ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মোল্লার বিচার দাবি করেছেন ফ্যাসিস্ট বিরোধী ছাত্র-জনতা।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা জুলাই মাসসহ গত ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাভার উপজেলার পতিত চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন।