জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ, ঋণের চেক প্রদান, চারাগাছ বিতরণ ও আলোচনা সভা
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন বলেছেন, পল্লী উন্নয়নে পুরুষের চেয়ে নারীদের অবদান বেশি। নারীরা তাদের কর্ম দক্ষতার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের মাধ্যমে আজ নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। পল্লী উন্নয়ন সমৃদ্ধশালী না হলে দেশ সমৃদ্ধ হবে না। দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। যারা কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারবেন তাদের ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। যারা উৎপাদন কাজে ঋণ নিবে না তাদের ঋণ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পল্লী উন্নয়নে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই অত্যন্ত জরুরি।
আজ সোমবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ, ঋণের চেক প্রদান, চারাগাছ বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ একেএম ফজলুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ- এই প্রতিপাদ্যে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সোহা তামান্নার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ইশরাত জাহান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ, বিআরডিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান এসএম জয়নাল আবেদীন, কালব এর পরিচালক অনিল ডি কস্তা ও সমবায়ী রহিমা বেগম।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আফরোজা বেগম, উপজেলা সমবায় অফিসার আতাউর রহমান, বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান নায়েবুর রহমান মাসুদ সহ পল্লী উন্নয়নের মাঠকর্মী, সমবায়ী ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা নগরে অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কুউক)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নগরের ডাক্তারপাড়া ও কান্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান উৎবাদুল বারী আবু। এ সময় সহকারী অথোরাইজড অফিসার মো. শেরিফুল হকসহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে কর্মকর্তারা ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও নির্মাণসংক্রান্ত সরকারি বিধিমালা পর্যালোচনা করেন। এ সময় নির্ধারিত সেটব্যাক (ভবনের চারপাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা রাখা) না মানা এবং অনুমোদিত নকশার শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যেসব ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো— ডাক্তারপাড়া এলাকার সিলভার টাওয়ার, একতা টাওয়ার ও মাসুম টাওয়ার; ট্রমা হাসপাতালের বিপরীতে মজিবুর রহমান গংয়ের বাণিজ্যিক ভবন; জামান-জাহানারা প্যালেস; কান্দিরপাড় এলাকার সিলভার আলী ম্যানশন এবং কাজী টাওয়ার।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাদুল বারী আবু বলেন, কুমিল্লায় বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় প্রাথমিকভাবে সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
তিনি আরো বলেন, কুমিল্লায় সুপরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে নকশাবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা দুইটার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বানিগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া তার ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুজন মৌলভীবাজারের বাসিন্দা বলে তিনি শুনেছেন।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার প্রবাসী দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ভাড়া করা গাড়িটি আল-খুরমা এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহতদের স্বজনেরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বিরলের রঘুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বহিরাগত কর্তৃক শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট বিরল উপজেলা শাখার আয়োজনে শহীদ মিনার চত্ত্বরে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বিরল উপজেলা শাখার সভাপতি আনিসুজ্জামান মিলন।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ও বিরল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক- কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রহিম, কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশন সভাপতি ইসাহাক আলী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সদর উপজেলা সভাপতি আজিজার রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাবেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মুনসেফ আলী, বোচাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি বজলুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মাজেদুর রহমান পাপ্পু, বিরল উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান, শিক্ষক নেতা রফিকুল ইসলাম, ওয়াহেদুজ্জামান প্রমূখ।
সমাবেশের পূর্বে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উপহেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম এর নিকট ৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য শেষে একটি বিক্ষোভ র্যালি পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং মানুষের সুস্থতা ও জীবনমান উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে নাটোরের লালপুরে গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মোঃ আব্দুল আজিজ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ২য় তলার কনফারেন্স রুমে দুপুর ১২টায় এ গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ সিমানুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং ফিজিওথেরাপিস্ট সাইফুল ইসলামের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাম্মী আক্তার, মোহরকয়া ডিগ্রিপাস ও অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইসমত হোসেন, সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্নদিন, মুক্তি যোদ্ধ সামসুল ইসলাম, সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি রুবেল আলী, সাংবাদিক মিঠুন আলী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইসমাইল হোসেন, দুলাল উদ্দীন, আসলাম উদ্দীন, পল্লী চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম উজ্জল এবং শ্রী শ্যামল কুমার চৌধুরীসহ ফিজিওসেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার প্রয়োজনীয়তা, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগীর পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত ফিজিওথেরাপি সেবার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, চলাফেরাজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মূল্যায়ন ও নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা, চলাফেরা, ভারসাম্য, পেশিশক্তি এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব।
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা সহজলভ্য করার বিষয়টি। বক্তারা বলেন, ফিজিওথেরাপি অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সেবা নিতে পারেন না। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় ২০১২ সাল থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সমন্বিত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠছে।
প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমিতে ইতোমধ্যে আধুনিক থেরাপি সেন্টার, ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় ফিজিওথেরাপি সেন্টারে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ থেরাপিস্ট ও জনবল বৃদ্ধি, দরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা, নিয়মিত ফ্রি থেরাপি ক্যাম্প এবং ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ও মানবিক পুনর্বাসনসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা বলেন, “অর্থের অভাবে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন প্রয়োজনীয় থেরাপি ও পুনর্বাসনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন”-এই লক্ষ্যেই ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং লালপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গহিন বনে বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের গহিন অরণ্যে দেখা মিলেছে বিরল ও বিশালাকৃতির এক কাঠবিড়ালির।প্রাণিবিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম ‘মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল’।
স্থানীয়ভাবে এটি ‘কালো কাঠবিড়ালি’ বা ‘রাতুফা বাইকালার’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি বনের গভীরে বিরল এই প্রাণীটির কয়েকটি ছবি তুলেছেন শৌখিন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী শাহেদ আহমেদ। এরপর থেকেই বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণত যেসব কাঠবিড়ালি দেখা যায়, সেগুলোর তুলনায় এটি আকারে অনেক বড়। এটি মূলত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ কাঠবিড়ালি প্রজাতি। আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রাণীটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বন কর্মকর্তারা জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের মাথা থেকে শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ঝোপালো লেজটি শরীরের সমান লম্বা হয়, অর্থাৎ পুরো দৈর্ঘ্য এক মিটারেরও বেশি হতে পারে। এর ওজনও হয় নজরকাড়া, প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত। বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, এই কাঠবিড়ালির শরীরের গঠন ও বর্ণ একে অন্য প্রজাতির চেয়ে আলাদা করেছে। এর মাথা, পিঠ, কান এবং দীর্ঘ লেজ সাধারণত গাঢ় কালো বা লালচে-মেরুন বর্ণের হয়। তবে শরীরের নিচের অংশটি বেশ হালকা বা সাদাটে। বিশাল আকৃতি ও লম্বা লেজ নিয়ে যখন এটি উঁচু গাছের মগডালে বিচরণ করে, তখন দূর থেকেও একে সহজে চেনা যায়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল মূলত গহিন ও প্রাচীন বনের ওপর নির্ভরশীল। এরা সাধারণত মাটিতে নামে না বললেই চলে; বরং বড় বড় গাছের মগডালে ও ডালপালায় সময় কাটাতে পছন্দ করে। উঁচু গাছে লতাপাতা ও ডাল দিয়ে এরা বড় আকৃতির বাসা তৈরি করে। বুনো ফল, নানা রকম বীজ, বাদাম ও গাছের কচি পাতা এদের প্রধান খাবার। তবে বর্তমানে বন উজাড়, পুরোনো বৃক্ষ নিধন ও মানুষের অনুপ্রবেশের কারণে এদের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে।
রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, এই অভয়ারণ্যে মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের উপস্থিতি আমাদের বনের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি খবর। এটি প্রমাণ করে যে, এই বনটি এখনো বিরল বন্যপ্রাণীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় মানুষেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দেব মনে করেন, গহিন বন ও প্রাচীন বৃক্ষ রক্ষা করা না গেলে এই প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, জায়ান্ট স্কুইরেল পুরোপুরি বৃক্ষনির্ভর প্রাণী। বড় ও পুরোনো গাছ কমে গেলে এদের খাদ্য ও নিরাপদ আবাসের সংকট তৈরি হয়। তাই রেমা-কালেঙ্গার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে বড় গাছগুলো সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, রেমা-কালেঙ্গায় এই বিরল প্রজাতির দেখা পাওয়া আনন্দের। তবে শুধু দেখা পাওয়াটাই যথেষ্ট নয়, এদের টিকিয়ে রাখা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। অবৈধ শিকার বন্ধ এবং বনের গহিনে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভবিষ্যতে এই প্রজাতির সংখ্যা আরও বাড়বে। বনকে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে আলোকচিত্রীর তোলা সেই বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালির ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে।
প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি নজরদারি বাড়লে রেমা-কালেঙ্গা হতে পারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিরল বন্যপ্রাণী দেখার অন্যতম গন্তব্য।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে নীলফামারীর ডিমলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
আজমঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিমলা উপজেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ আয়োজনে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা, গোলাম রব্বানী প্রধান, জামায়াতে ইসলামী ডিমলা উপজেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ধাপগুলোর অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সাক্ষরতা অর্জন। এটি একটি মৌলিক মানবিক অধিকার এবং সব শিক্ষার ভিত্তি। সাক্ষরতার উপযুক্ত ব্যবহার ব্যক্তির জ্ঞানার্জনের দ্বার উন্মুক্ত করে। একই সঙ্গে জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও কৌশল অর্জনে সহায়তা করে। এর ফলে ব্যক্তি সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারে, যা উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার সাক্ষরতার হার বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ডিজিটাল সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। উপজেলার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষকে সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়। ১৯৬৫ সালের ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে বিশ্ব সাক্ষরতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি নিয়মিতভাবে পালিত হয়ে আসছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়ে আসছে।
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ৬০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Literacy for people, the planet and prosperity’, যার বাংলা ভাবার্থ ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।