নাটোরের লালপুরে মহিষের খামারিদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সড়কের ওপর জমছে গোবর ও বর্জ্য। এতে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিলমাড়ীয়া বাজার থেকে কামারের মোড়, কামারের মোড় থেকে মোহরকয়া বাজার ও মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এবং বিলমাড়ীয়া থেকে ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ওপর মহিষ পালন ও খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে চলাচলের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।
বিশেষ করে কামারের মোড় থেকে মোহরকয়া বাজার ও পশ্চিমপাড়া অভিমুখী সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দ, কাদা-পানি ও দুর্গন্ধে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় খামারগুলোর গোবর, আবর্জনা ও বর্জ্যপানি সড়কের ওপর পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়েই সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামীণ এ সড়কের বিস্তীর্ণ অংশে জমে আছে নোংরা পানি ও প্যাচপ্যাচে কাদা। কোথাও কোথাও চাকার দেবে যাওয়া গর্ত ও গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত ও কাদা-পানি পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, বয়োবৃদ্ধ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় যানবাহনের চালকেরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে কয়েকজন প্রভাবশালী ও স্থানীয় বাসিন্দার মহিষের খামার রয়েছে। খামারের গোবর, আবর্জনা ও বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় তা রাস্তার ওপর চলে আসে। এতে সড়কজুড়ে গোবর ও কাদার মিশ্রণ তৈরি হয় এবং আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ।
এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মশার উপদ্রবসহ পরিবেশগত নানা সমস্যাও দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।
একই অবস্থা বিলমাড়ীয়া থেকে ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের বিভিন্ন অংশেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি মহিষের খামারের কারণে ওই সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না।
এ ছাড়া বিলমাড়ীয়া বাজার থেকে কামারের মোড় পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশে সরকারি জায়গা দখল করে মহিষ পালন ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইয়াকিন আলী বলেন, “মোহরকয়া গোরস্থান অভিমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ পড়তে এবং মোহরকয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে লাশ নিয়ে যাতায়াত করেন। রাস্তার এই অবস্থার কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের একাধিক মুসল্লি অভিযোগ করেন, মহিষের কারণে মসজিদে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সড়কে থাকা গোবর ও মলমূত্র কাপড়ে লেগে যাওয়ায় ধর্মীয় দিক থেকেও তারা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানান।
বিলমাড়ীয়া বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা দখল করে মহিষ পালন করায় মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে না। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল বলেন, “গোরস্থানে লাশ নিয়ে যেতে আমরা ভয় পাই। রাস্তা নোংরা, তার ওপর বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহরকয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থান, মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজ, মোহরকয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া কলেজ, বিলমাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসা, বিলমাড়ীয়া দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসা, বিলমাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাথানবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুটি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব সড়ক ব্যবহার করেন।
এ অবস্থায় দ্রুত সড়ক সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কের ওপর খামারের বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি জায়গা দখল করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তা উচ্ছেদেরও দাবি করেছেন তারা।
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং মানুষের সুস্থতা ও জীবনমান উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে নাটোরের লালপুরে গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মোঃ আব্দুল আজিজ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ২য় তলার কনফারেন্স রুমে দুপুর ১২টায় এ গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ সিমানুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং ফিজিওথেরাপিস্ট সাইফুল ইসলামের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাম্মী আক্তার, মোহরকয়া ডিগ্রিপাস ও অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইসমত হোসেন, সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্নদিন, মুক্তি যোদ্ধ সামসুল ইসলাম, সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি রুবেল আলী, সাংবাদিক মিঠুন আলী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইসমাইল হোসেন, দুলাল উদ্দীন, আসলাম উদ্দীন, পল্লী চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম উজ্জল এবং শ্রী শ্যামল কুমার চৌধুরীসহ ফিজিওসেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার প্রয়োজনীয়তা, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগীর পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত ফিজিওথেরাপি সেবার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, চলাফেরাজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মূল্যায়ন ও নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা, চলাফেরা, ভারসাম্য, পেশিশক্তি এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব।
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা সহজলভ্য করার বিষয়টি। বক্তারা বলেন, ফিজিওথেরাপি অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সেবা নিতে পারেন না। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় ২০১২ সাল থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সমন্বিত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠছে।
প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমিতে ইতোমধ্যে আধুনিক থেরাপি সেন্টার, ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় ফিজিওথেরাপি সেন্টারে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ থেরাপিস্ট ও জনবল বৃদ্ধি, দরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা, নিয়মিত ফ্রি থেরাপি ক্যাম্প এবং ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ও মানবিক পুনর্বাসনসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা বলেন, “অর্থের অভাবে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন প্রয়োজনীয় থেরাপি ও পুনর্বাসনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন”-এই লক্ষ্যেই ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং লালপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গহিন বনে বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের গহিন অরণ্যে দেখা মিলেছে বিরল ও বিশালাকৃতির এক কাঠবিড়ালির।প্রাণিবিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম ‘মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল’।
স্থানীয়ভাবে এটি ‘কালো কাঠবিড়ালি’ বা ‘রাতুফা বাইকালার’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি বনের গভীরে বিরল এই প্রাণীটির কয়েকটি ছবি তুলেছেন শৌখিন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী শাহেদ আহমেদ। এরপর থেকেই বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণত যেসব কাঠবিড়ালি দেখা যায়, সেগুলোর তুলনায় এটি আকারে অনেক বড়। এটি মূলত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ কাঠবিড়ালি প্রজাতি। আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রাণীটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বন কর্মকর্তারা জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের মাথা থেকে শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ঝোপালো লেজটি শরীরের সমান লম্বা হয়, অর্থাৎ পুরো দৈর্ঘ্য এক মিটারেরও বেশি হতে পারে। এর ওজনও হয় নজরকাড়া, প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত। বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, এই কাঠবিড়ালির শরীরের গঠন ও বর্ণ একে অন্য প্রজাতির চেয়ে আলাদা করেছে। এর মাথা, পিঠ, কান এবং দীর্ঘ লেজ সাধারণত গাঢ় কালো বা লালচে-মেরুন বর্ণের হয়। তবে শরীরের নিচের অংশটি বেশ হালকা বা সাদাটে। বিশাল আকৃতি ও লম্বা লেজ নিয়ে যখন এটি উঁচু গাছের মগডালে বিচরণ করে, তখন দূর থেকেও একে সহজে চেনা যায়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল মূলত গহিন ও প্রাচীন বনের ওপর নির্ভরশীল। এরা সাধারণত মাটিতে নামে না বললেই চলে; বরং বড় বড় গাছের মগডালে ও ডালপালায় সময় কাটাতে পছন্দ করে। উঁচু গাছে লতাপাতা ও ডাল দিয়ে এরা বড় আকৃতির বাসা তৈরি করে। বুনো ফল, নানা রকম বীজ, বাদাম ও গাছের কচি পাতা এদের প্রধান খাবার। তবে বর্তমানে বন উজাড়, পুরোনো বৃক্ষ নিধন ও মানুষের অনুপ্রবেশের কারণে এদের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে।
রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, এই অভয়ারণ্যে মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের উপস্থিতি আমাদের বনের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি খবর। এটি প্রমাণ করে যে, এই বনটি এখনো বিরল বন্যপ্রাণীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় মানুষেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দেব মনে করেন, গহিন বন ও প্রাচীন বৃক্ষ রক্ষা করা না গেলে এই প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, জায়ান্ট স্কুইরেল পুরোপুরি বৃক্ষনির্ভর প্রাণী। বড় ও পুরোনো গাছ কমে গেলে এদের খাদ্য ও নিরাপদ আবাসের সংকট তৈরি হয়। তাই রেমা-কালেঙ্গার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে বড় গাছগুলো সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, রেমা-কালেঙ্গায় এই বিরল প্রজাতির দেখা পাওয়া আনন্দের। তবে শুধু দেখা পাওয়াটাই যথেষ্ট নয়, এদের টিকিয়ে রাখা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। অবৈধ শিকার বন্ধ এবং বনের গহিনে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভবিষ্যতে এই প্রজাতির সংখ্যা আরও বাড়বে। বনকে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে আলোকচিত্রীর তোলা সেই বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালির ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে।
প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি নজরদারি বাড়লে রেমা-কালেঙ্গা হতে পারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিরল বন্যপ্রাণী দেখার অন্যতম গন্তব্য।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে নীলফামারীর ডিমলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
আজমঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিমলা উপজেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ আয়োজনে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা, গোলাম রব্বানী প্রধান, জামায়াতে ইসলামী ডিমলা উপজেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ধাপগুলোর অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সাক্ষরতা অর্জন। এটি একটি মৌলিক মানবিক অধিকার এবং সব শিক্ষার ভিত্তি। সাক্ষরতার উপযুক্ত ব্যবহার ব্যক্তির জ্ঞানার্জনের দ্বার উন্মুক্ত করে। একই সঙ্গে জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও কৌশল অর্জনে সহায়তা করে। এর ফলে ব্যক্তি সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারে, যা উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার সাক্ষরতার হার বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ডিজিটাল সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। উপজেলার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষকে সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়। ১৯৬৫ সালের ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে বিশ্ব সাক্ষরতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি নিয়মিতভাবে পালিত হয়ে আসছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়ে আসছে।
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ৬০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Literacy for people, the planet and prosperity’, যার বাংলা ভাবার্থ ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫০ পিচ ইয়াবা সহ মাহাবুব প্যাদা (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার শেষ বিকেলে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামের কাচা রাস্তার ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করাহয়। গ্রেফতার কৃত আসামি মাহবুব আমতলী উপজেলার পূজাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো.আ.রব প্যাদার পুত্র।
পুলিশ সূত্রে যানাযায়, মোঃ মাহাবুব প্যাদা (৪৮), এর নিকট হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) পিচ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পরবর্তী তাকে গ্রেফতার করাহয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর সারনীর ১০(ক)/৪১ অনুযায়ী কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে চলবে।গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবকে আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের চলমান অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে মো. দুলাল মিয়া (৪০) নামে এক সন্দিগ্ধ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি পিস্তল ও ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ সুপার পিরোজপুর মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
মঠবাড়িয়া থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৬; জিআর-২৪৭/২৬, দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারার মামলার সন্দিগ্ধ আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের খায়ের ঘটিচোরা গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মো. দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর তার হেফাজতে থাকা আলামত উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার হাঁসের ঘরের উপরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি বাজারের ব্যাগের ভেতর থেকে একটি পিস্তল (ম্যাগাজিন ছাড়া) ও ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু জব্দ করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলার একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি কামরুল ইসলাম
(৮৮ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী ২৩ মামলা; নিখোঁজ শিশু উদ্ধারসহ একাধিক অভিযানে সাফল্য)
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে সাফল্যের দাবি করেছে থানা পুলিশ। ৩০ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৮৮ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী ২৩টি মামলা এবং ১০৫ জনকে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় সাজা দেওয়ার তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকপ্রবণ হিসেবে পরিচিত পাড়া-টঙ্গী এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
থানা পুলিশের দাবি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে সন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে।
এদিকে অপরাধ দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক ও চ্যালেঞ্জিং অভিযানেও সাফল্য দেখিয়েছে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে উদ্ধার, কুমিল্লা থেকে আসামি গ্রেপ্তার, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তকরণ এবং রাফি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার মতো ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা আলোচনায় এসেছে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে থানা পুলিশ। কোনো অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজনের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অভিযোগ বা তথ্য পেলে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মুক্তাগাছাকে আরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে থানা পুলিশ।