দিনাজপুরের কাহারোলে অভিযান চালিয়ে ৩৪০ পিস অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় মোঃ রশিদুল ইসলাম (২৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোঃ আবু সাঈদ ইসলাম (৩৪) নামে অপর একজন পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা পিপিএমের দিকনির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবির অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে কাহারোল থানার ১ নম্বর ডাবোর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মহেশপুর গ্রামের দিঘিয়া পুকুরগামী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে মৃত সিরাজুল ইসলামের বসতবাড়ীর সামনে থেকে ১৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় উত্তর মহেশপুর গ্রামের মোঃ মকবুল ইসলামের ছেলে মোঃ রশিদুল ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রশিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বীরগঞ্জ থানার রসুলপুর (হাফিজ মেম্বারপাড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা মোঃ আবু সাঈদ ইসলাম একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ বাড়ীর আঙিনায় ফেলে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবী পুলিশের।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ওই শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে আরও ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে ৩৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক ব্যক্তির মধ্যে মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য কাহারোল থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
কক্সবাজারে ৩০০ চীনা নাগরিকের গোপন ঘাঁটি!
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অবস্থান করছিল ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিক। উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার শহরের অন্তত ছয়টি রিসোর্ট ও হোটেল ভাড়া নিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল কথিত অনলাইন অপরাধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা। সম্প্রতি জেলা পুলিশের অভিযানে ছয় চীনা নাগরিক গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।
অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে পুরনো মডেলের ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, চক্রটির সদস্যরা অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা, ভুয়া ট্রেডিং সাইট এবং হ্যাকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করছে পুলিশ।
পার্বত্য এলাকা থেকে কক্সবাজারে
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনভিত্তিক প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে চক্রটির সদস্যরা প্রথমে চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকায় ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বেশি থাকায় পরে কক্সবাজারকে তুলনামূলক নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার শহরের ছয়টি রিসোর্টে ভাগ হয়ে অবস্থান করছিল চীনা নাগরিকদের বিভিন্ন দল।
উখিয়ার তিনটি রিসোর্ট- অর্কিড ব্লু, ড্রিম হলিডে ও ইলিয়াস ব্রাদার্স; রামুর মেরিনা বিচ রিসোর্ট এবং কক্সবাজার শহরের সি প্যালেস ও ফ্যালকন রিসোর্টে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।
চার লাখে ভাড়া, চীনাদের কাছে ছয় লাখে
ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টটি প্রথমে শাহজাহান ও আকতার কামাল নামের দুই বাংলাদেশি মাসিক চার লাখ টাকায় মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নেন। পরে সেটি চীনা নাগরিকদের কাছে মাসিক ছয় লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
রিসোর্টটির বৈদ্যুতিক কাজের দায়িত্বে থাকা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনি মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতনে সেখানে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর ভাষ্য, সেখানে অবস্থানকারী প্রায় প্রত্যেক চীনা নাগরিকের কাছে দুটি আইফোন ও একটি ল্যাপটপ থাকত। তবে তারা কী ধরনের কাজ করত, সে বিষয়ে কর্মীদের কোনো ধারণা ছিল না। ভবনের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল বলে জানান তিনি।
গিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের প্রতিটি কক্ষ সাউন্ডপ্রুফ করা হয়েছিল। বাইরে থেকে যাতে কোনো শব্দ ভেতরে এবং ভেতরের শব্দ বাইরে না যায়, সে জন্য নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল দুটি বড় জেনারেটর। তাঁর ধারণা, সেখানে হ্যাকিংসহ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।
রিসোর্টের দরজা বন্ধ, পাহারায় নিরাপত্তাকর্মী
পুলিশের অভিযানের পর মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক বন্ধ। ভেতরে চীনা নাগরিকদের দেখভালের জন্য নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টের ম্যানেজার পাভেল আহমদ বলেন, তিনি শাহজাহান ও আকতার কামালের নিয়োজিত কর্মী। হোটেলের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় তাঁকেই দেখাশোনা করতে হয়। অন্য রিসোর্টেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের অভিযান চলাকালে ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টের কয়েকজন বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
চীনা নাগরিকরা নিজেদের খাবার নিজেরাই তৈরি করত। এ জন্য চীন থেকে বাবুর্চি আনা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা সাধারণত রিসোর্টের বাইরে খুব একটা বের হতো না।
স্থানীয় ইন্টারনেট নয়, ব্যবহার করত স্টারলিংক
পুলিশের মামলার তথ্য অনুযায়ী, চীনা নাগরিকরা দেশীয় প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগের পরিবর্তে স্টারলিংক ব্যবহার করত। রিসোর্টগুলোতে সাউন্ডপ্রুফ ব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
রিসোর্টে কর্মরত গিয়াস উদ্দিন বলেন, অন্যান্য ইন্টারনেট সার্ভিসের গতি কম হওয়ায় চীনা নাগরিকরা স্টারলিংক ব্যবহার করত বলে তিনি জানতেন।
স্থানীয় তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ
চীনা নাগরিকদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার জন্য কয়েকজন বাংলাদেশি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। তাঁদের মধ্যে রামুর হিমছড়ি এলাকার মোহাম্মদ শাহজাহান, আকতার কামাল ও মেরিনা রিসোর্টের মালিক আবু সোয়েব ক্যাসনের নাম এসেছে।
চীনা নাগরিকরা ইংরেজি ভাষায় খুব একটা কথা বলতে পারতেন না। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ও চীনা ভাষা অনুবাদকারী মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হতো বলে জানা গেছে।
তিন বছরের চুক্তিতে রিসোর্ট!
মেরিনা রিসোর্টটি চীনা নাগরিকদের কাছে তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ তিন বছরের জন্য এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কেন রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিল-এ প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
কয়েক দিন আগে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিল, তাদের রিসোর্টটি আগামী তিন বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা কি ছিল টার্গেট?
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, চীনা চক্রটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।
তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্পের সব রোহিঙ্গা নয়-বাড়তি আয়ের আশায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে চক্রটির যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নির্মাণকাজে এসেছিল-দাবি কতটা সত্য?
আটক চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।
কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজারে বর্তমানে এমন বড় কোনো নির্মাণকাজ চলমান নেই যেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিকের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে তাঁদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
দূতাবাসের সহযোগিতা, তদন্ত অব্যাহত
কক্সবাজার জেলা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন রিসোর্টে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। চীনা নাগরিকদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের আগে চীন দূতাবাসের সহযোগিতাও নেওয়া হয়েছিল।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, জেলা পুলিশ অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি চক্রের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করায় পুলিশ প্রশংসার দাবি রাখে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টগুলোতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। চীনা নাগরিকরা অবৈধভাবে অবস্থান করছে- বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তে এখন বেরিয়ে আসার অপেক্ষায়-কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন কক্সবাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করলেন, তাঁদের অনলাইন কার্যক্রমের পরিধি কতটা বিস্তৃত এবং দেশের বাইরে থাকা কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল কি না তা জানাযায়নি।
রামু থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে ফজলুল হক বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ সারা দেশে ক্যসিনো জুয়ার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই চক্রকে ধরতে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারের রামু থেকে এক সাথে ৬ চীনা নাগরিককে আটকের পর তাদের নেট ওয়ার্কের বিস্তর তথ্য হাতে প্রশাসনের কাছে। তবে সব কিছু এখনই প্রকাশ করা সম্ভব না।
নীলফামারীর জলঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার অভিষেক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মনি। প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। মুঠোফোনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি।
অন্যান্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোল্লা ইফতেখার আহমেদ, জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম ও হাসান রাব্বি প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ড. মেজবাহুর রহমান প্রধান (মেজবা) সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের যাতে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখবে এসময় সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়েরও আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ (সালাফি) সাংবাদিকদের সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। অন্যায়ভাবে কোনো সাংবাদিক হয়রানির শিকার হলে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার পুনর্গঠিত কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। পরে সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালী উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাউখালী উপজেলা পরিষদ হলরুম ও ভাণ্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পৃথক আয়োজনে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে।
কাউখালীতে পুরস্কার বিতরণ
কাউখালী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাইসুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু লেখাপড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে ক্রীড়াচর্চা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় পর্যায়ের এসব প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে চারটি ইভেন্টের খেলা সম্পন্ন করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় সফলভাবে আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
কাউখালীতে দাবা, কাবাডি, হ্যান্ডবল ও সাঁতার- এই চারটি ইভেন্টে বালক ও বালিকা পৃথক বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন একাডেমিক সুপারভাইজার রিয়াজুল হক, ইজিএস শিক্ষা নিকেতন, রঘুনাথপুরের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ নাজমুছ সাকিব, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কিরণ চন্দ্র হালদার, সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান মিজান এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অন্যদিকে, ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার মো. রুহুল আমিন, প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, মনির হোসেন, যুবদল নেতা সবুজ হাওলাদারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।
ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে প্রতিবছর এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়য়ে খুব শিগগিরই বিমান বন্দর চালু করে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরোও বলেন, বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন, আমি রাজি হয়েছি আপনাদের কথায়। বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হবে তা নয়, কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন তাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নেই। মানুষের কাজ নেই। এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারে আসার পরপরই আমরা এখানে অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু বিনিয়োগকারীকে এখানে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন। তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন। আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে, ভাইস চ্যান্সেলর বসে আছেন, সামনে এখন শিক্ষক নেবে। জমির টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। কালকে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। সেখানে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে। এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম, আমাদের মনে আছে। আপনাদের মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্রভর্তি শুরু হবে। আমাদের ভূল্লী ও রুহিয়ার দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, দুটোই হয়ে গেছে, ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।
চীনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা এখানে চীনের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছিলাম। এই স্টেডিয়ামে তিনি প্রায় ছয় হাজার শিশুকে স্কুলব্যাগ দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে দশজন ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে চীনে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এখানে কলকারখানা তৈরির জন্য চীন থেকেও বিশেষজ্ঞরা আসবেন।
রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ খুব নির্ঝঞ্ঝাট। এখানে মামলা-মোকদ্দমা সবচেয়ে কম হয় এবং সবাই নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায়। আমরা এই অবস্থাটা রাখতে চাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না। অতীতে আমরা দেখেছি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর কী অকথ্য নির্যাতন হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শত শত-হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় আমাদের শ্রমিক-কৃষকদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেই সময়টা পার হয়ে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রিয় ঠাকুরগাঁওবাসী, আমি সেসব কথা বলে আপনাদের ভারাক্রান্ত করতে চাই না। আমরা অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে আজ এখানে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে দেখলেন, কয়েকজন মহিলা এসে সহযোগিতা নিয়ে গেলেন, তাদের সকলেরই সন্তান এই সংগ্রামে নিহত হয়েছে। এ রকম মৃত্যু, এই রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই না যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়। আমরা দেখতে চাই সবাই একসঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।
মঞ্চে উপস্থিত অন্য দুই রাজনৈতিক নেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আজ দুলু সাহেব আছেন, তার জেলা লালমনিরহাট, তিনি সেখানে চমৎকার একটা পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমাদের পাশের জেলার মন্ত্রী ফরহাদ আজাদ সাহেবও আছেন, তিনিও পঞ্চগড়কে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আমরা রাজনীতি করব। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা।
মন্ত্রী থাকাকালে নেওয়া উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন এই এলাকায় মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ কোটি টাকার সহযোগিতা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে, উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে, জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি ইনশাআল্লাহ আমরা চালু করতে সক্ষম হবো। বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সের মাধ্যমে আমরা এখানে কৃষির উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি। গোবিন্দপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক নতুন করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে।
প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন, মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার লোক নেওয়া হবে, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে লোকজন একেবারে বিনা খরচে যেতে পারবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফ সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকেই এটা শুরু করবেন। তবে আমার একটা অনুরোধ, নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ দাঁড়াতে পারে না। শুধু চাকরি আর ঠিকাদারির পেছনে দৌড়াবেন না, নিজেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন।
তরুণ সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, মাদককে বর্জন করো। লালমনিরহাটের মতো আমাদের ঠাকুরগাঁওকেও একটি মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করার জন্য কাজ শুরু করো। আমি জেলা প্রশাসককে বলেছি, অন্য সংসদ সদস্যদেরও বলব এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে। ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ, আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে আরও বেশি বিনিয়োগ কীভাবে করা যায়, সেই চেষ্টা শুরু করুন। আমি যেখানেই থাকি, আপনাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা অবশ্যই করব।
সর্বসাধারণের জন্য বলেছেন মনে করবেন না যে আমি আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে গেছি। আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আপনাদের সঙ্গেই থাকবো।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার জন্ম এখানে, আমার শৈশব কেটেছে এখানে, আমার স্কুলজীবন এখানে। আমার শিক্ষকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা আমাকে মানুষ করেছেন। আমি রুস্তম আলী স্যার ও খান ইউসুফ স্যারকে ভুলতে পারি না, তারা আমাকে গড়ে তুলেছেন, চলতে শিখিয়েছেন, সততা ও নেতৃত্ব শিখিয়েছেন। এই জিনিসগুলো আমি কখনো ভুলতে পারবো না। আসুন এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমাদের সকলের মধ্যে ঐক্য থাকবে, ভালোবাসা থাকবে। ৫ আগস্টের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা ছোট্ট বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, আমরা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আমরা সংঘাত নয়, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমরা সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, তিনি আমাকে আজ এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন, যেখানে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন, যাতে জীবনের বিনিময়ে হলেও আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ করে যেতে পারি।
শেষে ঠাকুরগাঁওবাসীর শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’
ঠাকুরগাঁওয়ে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই।
রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ খুব নির্ঝঞ্ঝাট। এখানে মামলা-মোকদ্দমা সবচেয়ে কম হয় এবং সবাই নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায়। আমরা এই অবস্থাটা রাখতে চাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না। অতীতে আমরা দেখেছি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর কী অকথ্য নির্যাতন হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শত শত-হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় আমাদের শ্রমিক-কৃষকদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেই সময়টা পার হয়ে
তিনি বলেন, প্রিয় ঠাকুরগাঁওবাসী, আমি সেসব কথা বলে আপনাদের ভারাক্রান্ত করতে চাই না। আমরা অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে আজ এখানে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে দেখলেন, কয়েকজন মহিলা এসে সহযোগিতা নিয়ে গেলেন, তাদের সকলেরই সন্তান এই সংগ্রামে নিহত হয়েছে। এ রকম মৃত্যু, এই রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই না যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়। আমরা দেখতে চাই সবাই একসঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়য়ে খুব শিগগিরই বিমান বন্দর চালু করে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে। বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন, আমি রাজি হয়েছি আপনাদের কথায়। বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হবে তা নয়, কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন তাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নেই। মানুষের কাজ নেই। এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারে আসার পরপরই আমরা এখানে অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু বিনিয়োগকারীকে এখানে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন। তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন। আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে, ভাইস চ্যান্সেলর বসে আছেন, সামনে এখন শিক্ষক নেবে। জমির টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। কালকে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। সেখানে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে। এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম, আমাদের মনে আছে। আপনাদের মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্রভর্তি শুরু হবে। আমাদের ভূল্লী ও রুহিয়ার দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, দুটোই হয়ে গেছে, ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।
চীনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা এখানে চীনের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছিলাম। এই স্টেডিয়ামে তিনি প্রায় ছয় হাজার শিশুকে স্কুলব্যাগ দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে দশজন ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে চীনে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এখানে কলকারখানা তৈরির জন্য চীন থেকেও বিশেষজ্ঞরা আসবেন।
মঞ্চে উপস্থিত অন্য দুই রাজনৈতিক নেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আজ দুলু সাহেব আছেন, তার জেলা লালমনিরহাট, তিনি সেখানে চমৎকার একটা পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমাদের পাশের জেলার মন্ত্রী ফরহাদ আজাদ সাহেবও আছেন, তিনিও পঞ্চগড়কে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আমরা রাজনীতি করব। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা।
মন্ত্রী থাকাকালে নেওয়া উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন এই এলাকায় মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ কোটি টাকার সহযোগিতা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে, উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে, জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি ইনশাআল্লাহ আমরা চালু করতে সক্ষম হবো। বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সের মাধ্যমে আমরা এখানে কৃষির উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি। গোবিন্দপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক নতুন করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে।
প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন, মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার লোক নেওয়া হবে, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে লোকজন একেবারে বিনা খরচে যেতে পারবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফ সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকেই এটা শুরু করবেন। তবে আমার একটা অনুরোধ, নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ দাঁড়াতে পারে না। শুধু চাকরি আর ঠিকাদারির পেছনে দৌড়াবেন না, নিজেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন।
তরুণ সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, মাদককে বর্জন করো। লালমনিরহাটের মতো আমাদের ঠাকুরগাঁওকেও একটি মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করার জন্য কাজ শুরু করো। আমি জেলা প্রশাসককে বলেছি, অন্য সংসদ সদস্যদেরও বলব এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে। ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ, আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে আরও বেশি বিনিয়োগ কীভাবে করা যায়, সেই চেষ্টা শুরু করুন। আমি যেখানেই থাকি, আপনাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা অবশ্যই করব।
সর্বসাধারণের জন্য বলেছেন মনে করবেন না যে আমি আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে গেছি। আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আপনাদের সঙ্গেই থাকবো।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার জন্ম এখানে, আমার শৈশব কেটেছে এখানে, আমার স্কুলজীবন এখানে। আমার শিক্ষকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা আমাকে মানুষ করেছেন। আমি রুস্তম আলী স্যার ও খান ইউসুফ স্যারকে ভুলতে পারি না, তারা আমাকে গড়ে তুলেছেন, চলতে শিখিয়েছেন, সততা ও নেতৃত্ব শিখিয়েছেন। এই জিনিসগুলো আমি কখনো ভুলতে পারবো না। আসুন এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমাদের সকলের মধ্যে ঐক্য থাকবে, ভালোবাসা থাকবে। ৫ আগস্টের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা ছোট্ট বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, আমরা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আমরা সংঘাত নয়, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমরা সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, তিনি আমাকে আজ এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন, যেখানে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন, যাতে জীবনের বিনিময়ে হলেও আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ করে যেতে পারি।
শেষে ঠাকুরগাঁওবাসীর শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।
ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে উথুরা ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী ‘সমগ্র দেশব্যাপী শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভালুকার বাস্তবায়নে এ প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
প্রকল্পের আওতায় উথুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯১ লাখ ১৫ হাজার ৫১৫ টাকা। অন্যদিকে, হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩০২ টাকা ৫০ পয়সা। সব মিলিয়ে দুটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু ও গুলজার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ভবন নির্মাণের ফলে উথুরা ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে ভূমিসেবা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, ভূমি অফিস মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাকেন্দ্র। ভালুকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ভূমিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষ যেন এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালুকার মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে কাজ করার কথাও জানান তিনি।