আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবে দল।
এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
এনসিপির সূত্র আরও জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার কারণে ওই এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। দলীয় সমীক্ষাতেও এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় তাঁকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাঁকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে।
এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শরিকেরা একমত হয়। এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।
এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
ঢাকা সিটিসহ স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা ভোট করবে এনসিপি
এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন আদীবকে বাদ দিয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং দক্ষিণে আসিফের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রার্থিতা সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দুজন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়। এনসিপির নেতারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।
৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। দক্ষিণে তাঁর নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।
জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম। এনসিপিসহ অন্য শরিকেরাও মনে করে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটগত নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার নজির নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করলেও রাজনৈতিকভাবে ১১–দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করবে তারা। এর মধ্যে আরও তিনটি লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।
এনসিপি ও জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও শরিকদের প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় থাকবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নেবে তারা।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগোবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরা আলাদাভাবে ভোট করবেন। স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রচারের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর-বসিলা সড়ক কার্যত অচল করে দিয়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। রোববার সকাল থেকে তাদের অবরোধে বন্ধ হয়ে গেছে সড়কটির যান চলাচল। এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের সড়কগুলোতেও। তীব্র যানজটে আটকে পড়েছেন অফিসগামী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীরা। জরুরি কাজে বের হয়েও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না অনেকে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন অটোরিকশাচালকেরা। এরপর থেকে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের সড়কেও যানবাহনের চাপ বাড়ে, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল। অবরোধে আটকে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। তাদের একজন বলেন, আমি নিউমার্কেট যাব। আধা ঘণ্টা ধরে সিএনজিতে বসে আছি, কিন্তু সামনে এগোতে পারছি না।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এক যাত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে সরকারের নতুন করে ভাবা উচিত। চালকেরা যখন-তখন সড়ক বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ ধরনের অবরোধে অফিসগামী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
অটোরিকশাচালকেরা জানান, তিন দিনের মধ্যে ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হবে, সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে তারা সড়ক অবরোধ করেছেন।
অবরোধে অংশ নেওয়া এক চালক বলেন, আমাদের প্রধান দাবি, যেসব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি রয়েছে, সেসব সড়কে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানোর সুযোগ দিতে হবে। পুরো শহরে অটোরিকশা চালানোর দাবি আমাদের নেই। সরকার যেসব সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করেছে, আমরা সেসব সড়কে গাড়ি চালাই না। আমরা চাই, নির্ধারিত সড়কে অন্তত নির্বিঘ্নে অটোরিকশা চালানোর সুযোগ দেওয়া হোক।
ছাত্রলীগের নেতা ইউসুফ রানা
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে গোপনে সংগঠিত করা এবং অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের নেতা ইউসুফ রানার বিরুদ্ধে।
ইউসুফ রানা ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকার পর তিনি আবারও রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ইউসুফ রানা আড়ালে থেকে অনুসারীদের মাধ্যমে মোটরসাইকেল শোডাউন, মিছিল ও সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ইউসুফ রানার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে ধানমন্ডি থানার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন তৎপরতা চালানো ও সংগঠিত করার অভিযোগে ইউসুফ রানাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিএনপির ছাত্রদল নেতা আমান দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দেশে ফেরা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিরোধিতা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর আগারগাঁও লিংক রোডে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
ঘটনায় জড়িত দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান।
তিনি বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে দুই মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলে এসে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় তারা আশপাশ পর্যবেক্ষণ করেন।
এরপর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে সেখান থেকে চলে যান। তারা আগারগাঁও হয়ে কাফরুল রোডের দিকে চলে গেছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের দল মাঠে নেমেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। রাতে দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সকালে প্রতিষ্ঠানগুলো খুললে ফুটেজ সংগ্রহ করে পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে।
বিস্ফোরিত না হওয়া ককটেলটি পরীক্ষা করে বোম ডিসপোজাল ইউনিট কোনো স্প্লিন্টার বা ক্ষতিকর উপাদান পায়নি বলে জানান ডিসি ইবনে মিজান। তার ভাষ্য, বস্তুটি অনেকটা পটকার মতো ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এ ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা মূল সড়ক এড়িয়ে লিংক রোড দিয়ে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে চলে যায়। মূল সড়লকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও তারা বিকল্প পথ ব্যবহার করেছে।
ডিসি ইবনে মিজান আরও বলেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ছবি- চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেছনে দেয়াল ঘেঁষে একটু খালি জায়গা। ৬ অক্টোবর, বিকেল ৫টা। আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শোওয়া। নড়াচড়া তেমন নেই। ডান পায়ের গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ করা। পাশ দিয়ে একের পর এক মানুষ যাচ্ছে, কারও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। আশপাশের কেউও জানেন না লোকটি কোথা থেকে এসেছেন, পরিবার কোথায়। লোকটির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো উত্তর পাওয়া গেল না।
লোকটি যে স্থানে শুয়ে ছিলেন, ওইদিন সকালে সেখান থেকেই একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় বের করতে পারেনি পুলিশ। একই দিন কাছাকাছি সময়ে ওই স্থান থেকে কিছুটা দূরে পাওয়া যায় আরও একজনের মরদেহ। তিনিও অজ্ঞাতপরিচয়। পুলিশ সদস্যদের ধারণা, অসুস্থতাজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুধু এই দুজন নয়, শাহবাগ থানাধীন এলাকায় গত এক মাসে অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কারও পরিচয় বের করা যায়নি। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা মেডিকেলের আশপাশসহ এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভাসমান মানুষ থাকে। পুরো শাহবাগ এলাকায় এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। এর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এলাকা, চাঁনখাঁরপুল ও হাইকোর্টের মাজার, দোয়েল চত্বর ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।
পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায় শাহবাগ এলাকায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ এলাকায় এক দিনে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। আগের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর একই এলাকা থেকে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় সরকারি-বেসরকারি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে। জায়গাটি একই সঙ্গে পরিচয়হীন মানুষের ঠিকানাও। মৃত্যুর পর যাদের অধিকাংশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না।
শাহবাগ থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শাহবাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ৬৫ জনের পরিচয় মেলেনি। এর আগে ২০২৫ সালে ৮১টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয় ১৩ জনের। গত ২১ মাসে উদ্ধার হওয়া ১৬০টি মরদেহের মধ্যে পরিচয় মিলেছে ২৭টির। পরিচয়হীন থেকে গেছেন ১৩৩ জন, যা শতকরা হিসাবে অজ্ঞাতনামা ৮৩ শতাংশ।
এদিকে ডিএমপির তথ্য মতে, ২০২৫ সালে ঢাকা মহনগর পুলিশের আট বিভাগে ২১৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮১টি হয়েছে রমনা বিভাগে, যার বেশির ভাগই শাহবাগ থানাধীন এলাকার। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে তেজগাঁওয়ে ৫১টি, ওয়ারীতে ২১, লালবাগে ১৭, মতিঝিলে ১৭, মিরপুরে ১২, উত্তরায় ৯ এবং সবচেয়ে কম গুলশানে ৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ৭৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩১টি রমনার এবং অধিকাংশই শাহবাগ এলাকার। এর পরের স্থান মতিঝিলের ১৪টি। তারপর ওয়ারী ১৩টি।
পুলিশের তথ্য ও মরদেহের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের বেশি। তাদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া, দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থাকা এবং শরীরে পচন ধরার মতো জটিলতায়ও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও চিকিৎসকরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় মানুষগুলো মূলত ভাসমান। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, পুষ্টিকর খাবারও খেতে পারে না। দেখা যায়, ঠান্ডাজনিত রোগ, বার্ধক্যজনিত জটিলতা বা অন্যান্য অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে তুলনামূলক কম বয়সে তারা মারা যান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, গৃহহীন, পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন, মানসিকভাবে অসুস্থসহ মানুষ নানা কারণে ভবঘুরে হয়, সড়কে আশ্রয় নেয়। রাজধানীতে এসব মানুষের পরিচয় বা তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে করা প্রয়োজন। এতে একদিকে তারা কোনো অপরাধে জড়িয়ে গেলে তা যেমন চিহ্নিত করা সম্ভব, অন্যদিকে মৃত্যুর পরও তাদের পরিচয় জানা ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সহজ হবে। এটি সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব।
শাহবাগ এলাকায় কেন এত ভাসমান মানুষ
গত দুই মাসে শাহবাগ এলাকার ভাসমান লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহবাগ এলাকায় পুলিশের তৎপরতা কম থাকায় জায়গাগুলোকে নিরাপদ মনে করেন তারা। এ ছাড়া হাইকোর্ট ও দোয়েল চত্বরের পাশের মাজারে দিনে দুবেলা বিনামূল্যে খাবার পাওয়ায় এসব এলাকায় থাকেন অনেকে। খাবারের জন্য জাতীয় স্টেডিয়াম, পুরান ঢাকা ও কমলাপুর থেকেও অনেকে আসেন।
জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে শাহ খাজা শরফুদ্দীন চিশতির (রহ.) মাজারের (হাইকোর্ট মাজার) পক্ষ থেকে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। সেখানে আগে থেকেই ভিড় করে ভবঘুরে ও ভাসমান মানুষ।
মাজারের বাবুর্চি মো. নাজমুল হোসেন জানান, প্রতিদিন দুপুরে ও সন্ধ্যায় প্রায় ৫০০ জনের খাবার রান্না করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে অর্ধেকই থাকে ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ। তারা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে জড়ো হন।
এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান, অমর একুশে হল ও আবাসিক এলাকার সামনে আনন্দ বাজার থেকে ভবঘুরে লোকজন খাবার সংগ্রহ করেন। তাই এসব এলাকায় অনেকে থাকেন।
দোয়েল চত্বরের পাশে ঢাকা গেটে সাগর নামে মধ্যবয়সী এক ভবঘুরে জানান, পরিবার ছেড়ে পাঁচ-ছয় বছর ধরে দোয়েল চত্বরের আশপাশে থাকেন। এ সময়ে তাঁর আশপাশে থাকা সাত-আটজন মারা গেছেন। সারাদিন ওই এলাকাতেই থাকেন। তিনিসহ তাঁর মতো সবাই পাশের মাজার থেকে খাবার খান। হাইকোর্টের মাজার গেটে নূর আলম নামের এক ভবঘুরে বলেন, ‘কোনো কাজ করি না। মাজার থেকে খাবার খাই।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি অনেক দিন ধরে অসুস্থ। বেশি নড়াচড়া করতে পারেন না। খাবার দেন আশপাশের দোকানিরা।
বছরে গড়ে ২৯২ অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভাগটিতে এক হাজার ৬৯০টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ২৪৮টি, ২০২২ সালে ২৩০টি, ২০২৩ সালে ২৫০টি, ২০২৪ সালে ৩২৪টি, ২০২৫ সালে ৩৮৪টি এবং চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ২৫৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এভাবে প্রায় পৌনে ছয় বছরে গড়ে ২৯২টি মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। শীতকালে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে।
চিকিৎসকরা জানান, অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ময়নাতদন্তের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মরদেহের দাঁত ও হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। এসব নমুনা প্রয়োজন অনুযায়ী ঢামেক ও সিআইডিতে রাখা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মমতাজ আরা বলেন, বিভিন্ন স্থানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই সেপটিক শকে আক্রান্ত ছিলেন। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে একে অকার্যকর হয়ে গেলে এ ধরনের রোগীরা সেপটিক শকে মারা যান।
পরিচয় শনাক্তে পুলিশ যা করে
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পরে সিআইডি ও পিবিআইর মাধ্যমে এসব তথ্য জাতীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র কখনও করা হয়নি তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। আবার মরদেহ পচে যাওয়ায় অনেক সময় আঙুলের ছাপ বা অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।
ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে সারাদেশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্তের জন্য তথ্য প্রচার করা হয়। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলে মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অজ্ঞাতপরিচয়ের যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তাদের অধিকাংশেরই কোনো পরিচয়পত্র থাকে না। এ কারণে বেশির ভাগ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। পরিচয় না পেলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে সেগুলো আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বছরে ৫৭৭ বেওয়ারিশ লাশ দাফন
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৬০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ৬৪৪টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৩ সালে ৪৯০টি মরদেহ দাফন করা হয়। এই চার বছরে রাজধানীতে মোট দুই হাজার ১৬৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এসব মরদেহ রাজধানীর রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৫৭৭টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেওয়ারিশ মরদেহ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেগুলো রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দাফন সেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহের তালিকা সংরক্ষণ করা হয়। মরদেহ দাফন করার পর কোনো পরিবার-স্বজনের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কবর চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।
শারজাহ থেকে আসা ঢাকাগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে আসা যাত্রীর কাছ থেকে এসব সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীর শরীর থেকে তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় শারজাহ থেকে আসা ঢাকাগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে আসা যাত্রীর কাছ থেকে এসব সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৬টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় শারজাহ থেকে আসা এয়ার অ্যারাবিয়া (ফ্লাইট নাম্বার G9 518) যোগে সোনা চোরাচালান সংগঠিত হতে পারে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম কর্তৃক বিমানবন্দরে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি করে।
এক পর্যায়ে আরমান উদ্দিন সিদ্দিক (Passport No- A12028533) নামের যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ বেল্ট-০২ এ উপস্থিত হলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বিবেচনায় প্রিভেন্টিভটিম কর্তৃক যাত্রীকে তল্লাশি করে যাত্রীর পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো তিনটি ডিম্বাকৃতি পেস্ট আকারে সোনা জব্দ করা হয়। যার ওজন (৪৩০ গ্রাম×৩ পিস) ১২৯০ গ্রাম ও বিশুদ্ধতার পরিমাণ ২৪ ক্যারেট। স্বর্ণকারের প্রত্যয়ন মোতাবেক ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্ট পরিশোধন করা হলে আনুমানিক ১০০০ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস হাউস ঢাকার প্রিভেন্টিভ টিম কর্তৃক ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন লেগেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিটের চেষ্টায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইম পরিবহনের একটি এসি বাসে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে কী কারণে হঠাৎ বাসটিতে আগুন লাগে এখন পর্যন্ত সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।