বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ এএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখা, অর্থের বিনিময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া, ছাত্র হাজিরা খাতায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি নাম তালিকাভুক্তি, বোর্ড বই বিক্রি ও বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতসহ সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি অভিযোগ উঠেছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ সেশনে নবম শ্রেণীতে ৪৭ জন ছাত্রের রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও টেষ্ট পরীক্ষায় ২৮ জন ছাত্র কৃতকার্য হয়। এছাড়াও ১৫ জন অনিয়মিত ছাত্র ছিল। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৩জন শিক্ষার্থী ছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম গঠনিকা বিদ্যানিকেতন ও নতুন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরো ৫০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করেন। 




মাহবুবা বেগম বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণ করলেও নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উর্মি হাবীবা, সৃজন রক্ষিত ও শাহাদাত হোসেনের ফরম পূরণ করেননি। 


এছাড়াও কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় মানবিক বিভাগের শিহাব (রোল ৩১১২৭৪, রেজিঃ ২৩১০৮১২৬০০) ও মোঃ রিফাত (রোল ৩১১২৭৫, রেজিঃ ২৩১০৮১২৫৯৬), ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিপুল রায় (রোল ৩১১২৮১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭৭৫), শোভন এগ্নেসিয়াস ক্রুশ (রোল ৫১৪০২১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭০৪) এবং নিরব হোসেন (রোল ৫১৪০২২, রেজিঃ ২৩১০৮০২৪৬৮) এর প্রবেশপত্র আটকে দেন মাহবুবা বেগম। ফলে ফরম ফিলাপের পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। 


কোন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষিকার এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদ করলে তাদেরকে শোকজসহ নানা ভাবে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম প্রায় ১২ বছর যাবৎ বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তিকৃত ছাত্রের চেয়ে হাজিরা খাতায় দুই তিন গুণ বেশি ছাত্র দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বোর্ড বই সংগ্রহ করছেন। পরে পার্শ্ববর্তী গঠনিকা বিদ্যানিকেতন, নুতন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-১ (দূর্বাটি) ও নতুন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-২ (ভাদার্ত্তী) সহ বিভিন্ন অননোমোদিত বেসরকারী বিদ্যালয়ে ওই বইগুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। 




গত ১৭ মে নাগরী ইউনিয়নের গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের মালিকানাধীন একটি দোকান থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর দুই বস্তা বোর্ড বই উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম।


এ বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ রিফাতের মা হোসনেয়ারা আক্তার জানান, আমার ছেলের প্রবেশপত্র আসার পরও প্রধান শিক্ষিকার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়নি। এবার পরীক্ষা দিতে না পারায় আমার ছেলের শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও অন্য চারজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন।


গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র বণিক জানান, আবেদনের পরও আমাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ১০ বছর যাবৎ বোর্ড বই সংগ্রহ, রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছি। 


বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম বলেন, আমি বেসরকারী কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও এলাকাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয়ের স্বার্থে বহিরাগত ছাত্রদের বোর্ড বই সরবরাহ ও ফরম পূরণ করি। টেষ্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পাঁচজন শিক্ষার্থীর ভুলবশতঃ ফরম পূরণ হয় বিধায় আমি তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করিনি। বহিরাগত অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ, বোর্ড বই বিক্রি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরব থাকেন। বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত কমিটির সাথে আলোচনা করেই যাবতীয় কাজ করা হয়েছে।


বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১০ এএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা  হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 


বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল  আলী হাওলাদারের ছেলে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। 


এজাহারে বলা হয়,  ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।


ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


সর্বশেষ সব খবর

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ এএম

"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।


এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ। 


শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।


বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।



সর্বশেষ সব খবর

শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ এএম

নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।


অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।


শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। 


চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’


আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’


স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’


জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’


জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ এএম

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুনের প্রধান আসামী স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। 


বিকেলে গাজীপুর পিবিআই কার্য়ালয়ে পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার স্বামী মো: সাইফুল ইসলাম (৩৮) জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেনুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা।


গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত শান্তা বেগম (৩৩) নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিহতের পিতা বাসন থানায় মামলা করেন।


তিনি বলেন, বাসন থানা পুলিশ একদিন মামলাটি তদন্ত করে। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি স্ব-উদ্দোগে গ্রহণ করে। এদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পিবিআই গাজীপুর জেলার টিম প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ৭ দিকে ফায়দাবাদ এলাকার ট্রান্সমিটার মোড় থেকে হত্যাকান্ডের জড়িত আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।


পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাইফুল আগে একটি বিয়ে করেছিল। সেই সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরে গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকুরি করাবস্থায় শান্তার সাথে সম্পর্ক হয় এবং পরে তারা বিয়ে করে। বিয়ের এক বছর পরে জানতে পারে শান্তার পর্বে আরো দুইটি বিয়ে হয়েছিল। শান্তার প্রথম স্বামী জুয়েল এবং দ্বিতীয় স্বামী সবুজের ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন কারনে শান্তাকে সন্দেহ করতে থাকে শান্তার যে অন্য কারো সাথেও বিবাহ বহির্ভত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়গুলি জানতে পেরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং এক পর্যায়ে শান্তা আসামী সাইফুলকে ডিভোর্স দেয়। এরপর আবার আসামীকে একদিন শান্তা ফোন দিয়ে গাজীপরে আসতে বললে আসামী গাজীপুরে এসে শান্তাকে আবার বিয়ে করার পর প্রায় ২/৩ মাস তাদের ভালো চলে। কিন্তু এরপরেও সাইফলের মনে শান্তার প্রতি সন্দেহ থেকেই যায়। এর জেরে ঝগড়া ঝাটি করে সাইফল তার খালুর বাড়ীতে চলে যায়। 


গত ২১ জুলাই সকাল শান্তা সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলে। এসময় সাইফুল শান্তাকে বাসা থেকে ফল কাটার ছুরি নিয়ে আসতে বলে। পরে তারা গাজীপুর চৌরাস্তায় একাটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া ওই আবাসিক হোটেলে রুমে অবস্থান কালীন সময় পুরনো কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে শান্তার গলায় ও বুকে আরো আঘাত করে মোবাইল ও আইডি কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

গাজীপুরে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় পিতার যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল, গাজীপুর মহানগরের বিচারক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম এবং আসামি পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকারসহ অন্যান্য আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার পুরাতন দোহারো খুলুমবাড়ি এলাকার স্থানীয় রিপন হোসেনের স্ত্রী মোসা. জোসনা বেগম (৩৯) এবং মেয়ে (১৫)কে নিয়ে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুরের বরিশালের টেক এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছরের ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পরেন। পরে ওই রাতেই ভিকটিমের পিতা মো. রিপন হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় ভিকটিমের মা জোসনা বেগম পিতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে কাশিমপুর থানার এস আই রোকন মিয়া তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। পরে আদালত গত ১১ মে চার্জ গঠন করেন এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। চার্জ গঠনের দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞ বিচারক এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন। 


আসামী পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে কয়জন সাক্ষীর সাক্ষা গ্রহণ করেছেন আমি তাদেরকে যথেষ্ট জেরা করেছি। তাদের একজনের সাথে আরেক জনের সাক্ষয় অনেক অমিল রয়েছে। তারপরেরও বিজ্ঞ বিচারক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। লিগ্যাল এ্যাড কতৃক নিযুক্ত বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি এ রায়ে সংক্ষুব্ধ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ এএম

গোপালদী বাজারের থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী রক্তদাতা, মানবিক সংগঠক জহিরুল ইসলামের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো গোপালদী পৌরসভা। 


হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে গোপালদী পৌরসভার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি গোপালদী বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গলি প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড দিয়ে শেষ হয়। এ সময় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মিছিলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ।


মানববন্দনে বক্তব্য রাখেন বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন,রনি খন্দকার,মিয়া চাঁন,আমিন মিয়া,জামাল মিয়া। 


এ সময় বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে গোপালদী বাজার বালুর মাঠে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর সহ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে একই এলাকার মাদককারবারী আক্তার হোসেন,কামাল হোসেন,বিল্লাল হোসেন,জুবায়ের,সুজন,সোহাগ,সিয়াম,ফাহিমসহ আন্তত ৭/৮জন সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। 


এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর হোসেন। হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার ১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি। 


পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।

সর্বশেষ সব খবর