নোয়াখালীর সেনবাগে প্রথম শ্রেণির মাদ্রাসার এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মো.আব্দুল কাদের হৃদয় (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জ থানাধীন চৌপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হৃদয় সেনবাগ উপজেরার নবীপুর ইউনিয়নের নলদিয়া এলাকার মীর বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। গত ১৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার নলদিয়া এলাকায় শিশুটিকে ফুসলিয়ে আসামির শয়নকক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারীর যৌথ আভিযানিক দল রংপুরের তারাগঞ্জ থানাধীন চৌপট্টি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাজীপুরে টঙ্গীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চিহ্নিত তিন ডাকাত দলের সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে (জিএমপি) পূর্ব থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ টি স্টিলের সুইচ গিয়ার ও ১ টি চাকু উদ্ধার করা হয়।
রোববার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু শেষে গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে ( ৫ সেপ্টেম্বর) শনিবার গভীর রাতে টঙ্গী স্টেশন রোড সংলগ্ন নতুন বাজার এলাকার পাকা রাস্তা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো, হাসেম সরকারের ছেলে মেহেদী হাসান জয় (২৫), মুসলিমের ছেলে নয়ন (২০) ও সামসুল আলমের ছেলে রাসেল ওরফে হৃদয় (২১)।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড এলাকার নতুন বাজার পাকা রাস্তার ওপর অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এই তিনজন ডাকাত দলের সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা ডাকাতির করার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিল। গ্রেফতারকৃত ১নং আসামি মেহেদী হাসান জয়ের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব, পূবাইল, টঙ্গী পশ্চিম ও ঢাকা রেলওয়ে থানায় ৮টি মামলা রয়েছে। এছাড়া ৩ নং আসামি রাসেলের বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানার
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেষে রোববার দুপুরে গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা বর্ষা প্রকৃতির রুদ্ররূপ এলেই কুয়াকাটা সৈকতে শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙন। বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনে একদিকে যেমন সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের প্রস্থ, অন্যদিকে বিলীন হচ্ছে বনাঞ্চল, স্থাপনা ও বসতভিটা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও এতে স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বরং অপরিকল্পিতভাবে এসব সামগ্রী ব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। সে সময় লেম্বুরবন থেকে গঙ্গামতির পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে পশ্চিমে তিন নদীর মোহনা থেকে পূর্বে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত সৈকতের বিস্তৃতি বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৯ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্র সৈকতের প্রস্থে। প্রতিবছর ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাগরের প্রবল ঢেউয়ে বালু ক্ষয়ে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সৈকত।
স্থানীয়দের দাবি, গত ৪০ থেকে ৫০ বছরে সমুদ্র প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরের দিকে এগিয়ে এসেছে। অব্যাহত ভাঙনে গত এক দশকে বিলীন হয়েছে নারিকেল বাগান, ডিসি পার্কের একাংশ, পূর্বের জাউবাগান, স্থানীয় সরকার বিভাগের গেস্ট হাউস, হোটেল মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে হারিয়ে গেছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি।
ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলেই সমুদ্র যেন লোকালয়ের দিকে আরও এগিয়ে আসে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় কুয়াকাটা সৈকতে ছিল বড় বড় বালুর টেক ও বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সমুদ্রের কাছে যেতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। এখন সেই সমুদ্র এসে পৌঁছেছে লোকালয়ের একেবারে কাছে। ফলে কুয়াকাটার অস্তিত্ব ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক হামিম ও নেয়ামুল বলেন, দূর দূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় এসে সৈকতের বর্তমান চিত্র দেখে তারা হতাশ। সৈকত রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
পরিবেশকর্মী ও সংগঠক আবুল হোসেন রাজু বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বালু ক্ষয়ের কারণে এ সময় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়। এ বছরও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, ট্যুরিস্ট বক্স, মসজিদ, মন্দির, মেরিন ড্রাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। এসব স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের জিএম আল আমিন হাওলাদার বলেন, আবহাওয়ার কারণে যেভাবে কুয়াকাটা ভাঙছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। সৈকত রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিতভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপাতত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে জিও টিউব ব্যবহার করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
সাভারের আমিনবাজারে এসবি সদস্য হত্যা মামলার প্রধান আসামি জহুরুল
সাভারের আমিন বাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) সদস্য এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘটনার মূল হোতা প্রাইভেটকার চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, হত্যার ঘটনার পর থেকে আমিনবাজারে পুলিশের একাধিক টীম অভিযান চালায়। আজ ভোররাতে তাকে আমিনবাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত জহিরুল ইসলামের স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে রোববার সকালে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামী করে সাভার মডেল থানা একটি মামলা দায়ের করেন।পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে সাভারের আমিনবাজার বরদেশি এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসবির এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামও (২৬) পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ওই প্রাইভেট চালক সহ তার সহযোগিরা। পরে স্হানীয়রা তাদের রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা আলতাফকে হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত আলতাফ এসবির ঢাকার মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পুলিশ জানায়, সাভার থানাধীন আমিনবাজার বড়দেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় নিজ গেঞ্জি ফ্যাক্টরির সামনে থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন আলতাফ। এ সময় তার ছেলে আরিফুল ছিলো ফ্যাক্টরিতে। পথে অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেট কার রাখাকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি শুরু হলে তিনি এগিয়ে যান বিরোধ মিমাংসার জন্য।
পরে তার সাথেও জামেলায় জড়িয়ে পড়েন প্রাইভেটকার চালক জহিরুল ও তার সঙ্গীরা। এক পর্যায়ে তাকে পেটানো শুরু করে। এসবি এসআই আলতাফ দৌড়ে ফ্যাক্টরীতে গেলে আরো অন্তত ১৫/২০ নিয়ে জহিরুল ফ্যাক্টরিতে হামলা করে আলতাফ ও তার ছেলেকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয়রা তাদের রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা আলতাফকে হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গাড়ি পার্কিং নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হন পুলিশের ওই এসআই ও তার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
নিহত আলতাফ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তার ৫ শতাংশ জায়গার উপর টিনসেডের একটি কারখানা রয়েছে।
এদিকে ঘটনার ছায়া তদন্ত কাজ করছেন জানিয়ে পিবিআই ঢাকা জেলা ওসি সোলেমান গাজী বলেন, সাভারের আমিনবাজার বরদেশী এলাকায় পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের এসআই আলতাফ হোসেন গতকাল রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আহত হন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি জানবার পর আমরা ঢাকা জেলা পিবিআই ছায়া তদন্তে কাজ শুরু করেছি। তদন্ত করে পরে আমরা জানাতে পারব।
ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ছবি-সংগৃহীত)
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঠাকুরগাঁও পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে তাঁকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার অবতরণ করে। রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম।
ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছার পর সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতিকে। পরে তিনি সেনুয়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত শেষে নিজ বাসভবন ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়িতে যান।
বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি। রাতে নিজ বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সোমবার সকালে সদর উপজেলা জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার আজ নিজ জেলায় এলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে বরণ করতে হাজার হাজার মানুষ সকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলেন।
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো.মোসলিম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। অভিযুক্ত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট হাজী বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে এবং দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কমলনগরের চরবসু গ্রামে বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় হঠাৎ লাঠির একটি অংশ মোসলিমের বাম চোখে লাগে। পরে তার বাবা-মা তাকে সিএনজিযোগে নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে কর্তব্যরত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন শিশুটির চোখে অ্যানেসথেসিয়া দেন। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর মোসলিম বমি করতে শুরু করলে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মোসলিমকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, মৃত অবস্থায় শিশুটিকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ মর্গে রাখা আছে। বিষয়টি সুধারম থানার পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। মরদেহ নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর এলাকায় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পরপরই আমি দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শন করি। প্রাথমিক ভাবে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিহতের স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জানা যাবে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো. সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ঈদ্রিস মিয়া বাজার ওরফে নবীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নুর নবী চৌধুরীর ছেলে। তিনি একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তারের জন্য ঈদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত সোহাগ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩২৩ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে দায়ের করা চরজব্বর থানার আরও একটি মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬, ৩৭৯, ৪২৭ ও ৩২৫ ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশকে মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে শুনেছি। মরদেহ নিহতের স্বজনেরা নিয়ে যায়।