নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সিম খেতের ঘাস পরিষ্কার করার কাজ করতে গিয়ে মো. সাহেদ (১৭) নামে এক কিশোর দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোমান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাহেদ একই গ্রামের মো. খলিলের ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের মামা জাকের আহমেদ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশের মনির নামে এক ব্যক্তির সিম খেতে ঘাস পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন সাহেদ। সকাল ১০টার দিকে খেতের মালিকের স্বজনেরা তার জন্য নাশতা নিয়ে যান। এ সময় তারা সাহেদকে খেতের মধ্যে হাঁটুপানিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি সাহেদকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, কাজ করার সময় স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
বরিশালে মাদকের বিরুদ্ধে নিজ উদ্যোগে অভিযানে নেমেছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নগরীর আমানগঞ্জ এলাকায় তিনি ও তার সহযোগীরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।
এই ঘটনার ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নগরীর আমানগঞ্জ এলাকার টিবি হাসপাতাল মাঠে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের নেতৃত্বে কয়েকজন মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন। এ সময় তার সহযোগীরা প্রথমে দুজন এবং পরে আরও দুজনকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদের চড়থাপ্পড় ও মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক মোবাইল ফোনে জানান, এলাকার মাদকের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাই নিরুপায় হয়ে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন এবং এলাকায় কোনো মাদকের ঠাঁই হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, রাত ৮টার দিকে নগরীর আমানগঞ্জের টিবি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩-৪ জনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে তারা ছাড়া পেয়ে যায়- এমন অভিযোগ করে তিনি জানান, তাই আপাতত হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় চড়থাপ্পড় মারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সন্তানকেও তো শাসন করা যায়, সেই হিসেবেই তিনি চড় মেরেছেন।’
প্রসঙ্গত, বিএনপি নেতা ইশরাক ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি গত শনিবার বিকেলে তার আসনের গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছিলেন। সেই অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ইশরাকের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
এরপর সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে ইশরাক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন-সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য’ বিষয়ক সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় তেঁতুলিয়া উপজেলা সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সেমিনার ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। সভাপতিত্ব করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন। এসময় সভায় বক্তব্য রাখেন তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহরাব আলী।
প্রশিক্ষক ও রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর।
সেমিনারে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতার মধ্যে সমন্বয় রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা, আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বাড়ানোর পাশাপাশি নৈতিক, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সজনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেপ্তারের জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়ি সজনগাঁওয়ে অভিযান চালায় ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর আব্দুল কুদ্দুস নিজেকে জামিনে রয়েছেন বলে দাবি করেন। এ সময় পুলিশ তার কাছে জামিনের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুসের স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা বাধা দিলে তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আব্দুল কুদ্দুসকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
এ ঘটনায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল বাকিরুল আহত হন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত এএসআই রাহিদুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব ট্যাবলেটের আনুমানিক জব্দমূল্য ২ লাখ টাকা।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ফকিরগঞ্জ বিওপির সদস্যরা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার করা ট্যাবলেটের জব্দমূল্য ২ লাখ টাকা। এ ঘটনায় উদ্ধার করা মালামালের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত গড়ে তুলতে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
সীমান্ত অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান বজায় রেখে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারী আরও জোরদার করা হবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অপরাধ দমনের পাশাপাশি সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত
কুমিল্লার লাকসামে নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রেনটির যাত্রীরা।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব চন্দ্র কর। তিনি জানান, ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ওসি আরও জানান, লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কাজ শুরু করা যাবে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। ডাউনলাইনে চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊনি-১ শাখার উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক এক আদেশে তার বিষয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদেশ জারির পর মঙ্গলবারই (২০ অক্টোবর) রাজশাহী ছেড়েছেন ইউসুফ আলী। আর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেজাউল আলম সরকারকে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে সরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী শাহমখদুম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে প্রটোকল দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রাজশাহী ত্যাগ করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিভাগীয় কমিশনারের প্রটোকল ভঙ্গের চেষ্টার ভিডিও। যেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা হয়।
পরে সরকারি প্রটোকল ও শিষ্ঠাচার ভঙ্গজনিত কারণে রাতেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। যদিও আদেশে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। উল্লেখ্য, ২০ আগস্ট অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলীকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুরের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর শাহমখদুম বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা। এ সময় রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের ভিআইপি ফটকের বাইরে উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীসহ উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। প্রটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক এক করে হাত মেলান। ওই সময় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর তার সঙ্গে কোলাকুলির (জড়িয়ে ধরা) চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাকে সেই সুযোগ না দিয়ে সরিয়ে দেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এই প্রটোকল ও শিষ্ঠাচার ভঙ্গের চেষ্টায় প্রটোকলের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন। উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যগণও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের আদেশ হাতে পেয়ে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী একজন মন্ত্রী জানান, বিভাগীয় কমিশনার একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি প্রটোকল তার জানা থাকার কথা। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করার চেষ্টা করেন। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।