ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩২ পিএম

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়ক সংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগৎপুর মাইনি মুড়া জঙ্গল এলাকার ধানক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে পনের বছর বয়সি এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার হয়। সরেজমিনে গিয়ে সেখানে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশের ক্ষেতজুড়ে যেন ধস্তাধস্তির চিহ্ন। চার-পাচটি ক্ষেতে উঠতি ধানের চারাগুলোকে এমনভাবে মাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যেন কেউ বা কারা এর উপর দিয়ে ছোটাছুটি করেছে।


স্থানীয়দের ধারণা, ঘাতকের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ওই কিশোরী ক্ষেত জুড়ে ছোটাছুটি করেছে। বিধ্বস্ত ক্ষেতে যেন ফুটে উঠেছে কিশোরীর প্রাণে বাঁচার শেষ লড়াইটুকু।


জগৎপুর গ্রামের ওই সড়কের যেখান থেকে কিশোরীর লাশ পাওয়া যায় সেখান থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশেই ধানক্ষেত থেকে জব্দ করা হয় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও। উদ্ধার করা হয় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ, বাসের টিকেট। এছাড়া উদ্ধার হওয়ার জামার দেখেই কিশোরীকে সনাক্ত করেন তার বাবা।


বৃহস্পতিবার বিকালে ওই এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের সঙ্গে।


তিনি বলেন, “সকালবেলা ধানক্ষেত দেখে মনে হয়েছে সেখানে কেউ ধস্তাধস্তি করেছে। আমরা এসে দেখলাম মেয়েটার মাথা ও শরীরটা কাদার নিচে ছিল। শুধু পিঠটুকু দেখা গেছে। মুরুব্বিরা ধরতে নিষেধ করেছে তাই আমরা কাছে যাইনি। একটু দূরেই সিএনজিটা পড়েছিল।”


ভোরবেলা যখন লাশ উদ্ধার হয় তখন সেখানে ছিলেন একই এলাকার মো. হাসান। তিনি বলেন, “এসে দেখি যে সিএনজিটা উল্টে আছে রাস্তার পাশে। তারপর আমরা কয়েকজন এটাকে উঠাই। ঘণ্টা খানেকপর আমরা বুঝতে পারলাম পাশের ক্ষেতে একটি মেয়ে পড়ে আছে।


“এরপর আমরা ৯৯৯ কল দেই। এরপর পুলিশ আসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মেয়েটির গলায় দড়ির মত কিছু দিয়ে বাধা ছিল। আর তার শরীরটা উপুড় করা ছিল। ”


লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বলেন, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।


নিহতের বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ওসি।


লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিলেন বাবাকে


ওই কিশোরী কুমিল্লার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। যদিও তিনি ক্লাসে অনিয়মিত ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোরে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা শহরেই থাকতেন।


কিশোরীর বাবা বলেন, তার মেয়ে রোববার কুমিল্লা শহরেই তার বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবী বাসাতেই আছে বলে জানিয়েছিল।


তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তার মেয়ে মেসেজ এবং লাইভ লোকেশন পাঠায়। সেখানে সে জানায় তাকে এসে নিয়ে যাবার জন্য।


তবে তখন তিনি ঘুমন্ত থাকায় মেসেজটি দেখতে পাননি। পরে ভোরবেলা যখন মেসেজ দেখেন, তখন লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পান।


তবে সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, পরিবার জানিয়েছে শহরে বান্ধবীর বাসায় যাবার কথা বলে ওই কিশোরী বের হয়। কিন্তু পুলিশের তদন্তে এসেছে, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়, পরদিন কুমিল্লা ফেরে আবার ভোররাতে কক্সবাজার যায়।


পরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখান থেকে রওনা হয়ে রাতে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।


সর্বশেষ দেখা যায় নুরজাহান হোটেলের সামনে


এদিকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক বারোটায় ঢাকামুখী একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার নুরজাহান হোটেলের সামনে নামেন ওই কিশোরী।


এ সময় তার পরনে একটি গোলাপি রঙের জামা ছিল। কাঁধের একপাশে ব্যাগ ঝুলানো অবস্থায় দেখা যায় তাকে। বাস থেকে নেমে তিনি হোটেলের পশ্চিম পাশের স্টেশনারি দোকানগুলোর দিকে যান।


ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হোটেলের সামনের একটি দোকানে গিয়ে হাত থেকে কোনো একটি জিনিস দোকানদারকে দেখিয়ে কিছু জানতে চান। পরে ওই দোকানদারকে অন্য দিকে নির্দেশ করতে দেখা যায়। পরে কিশোরী ওই দোকান থেকে সরে অন্য পাশে যান।


এর আধা ঘণ্টা পরের আরেক সিসিটিভির ভিডিওতে আনুমানিক সোয়া ১২টায় ওই কিশোরীকে নূরজাহান হোটেলের এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে।


এরপর তাকে দেখা গিয়েছে এমন কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পায়নি পুলিশ।


সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, যেহেতু কিশোরীর মরদেহের কিছুটা দূরেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়, ধারণা করা হচ্ছে হোটেল নূরজাহানের সামনে থেকেই তিনি সিএনজি ভাড়া করে গন্তব্যে রওনা হয়েছিলেন।


সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও সিএনজি অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।


এছাড়া ময়নাতদন্তের পর কিশোরী লাশ দাফনের জন্য রাতে যশোর নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে আবারও তৎপর হচ্ছে জেলা প্রশাসন। টিকিটে থাকা নামের সঙ্গে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম না মিললে ট্রেনে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।


এর আগেও দেশজুড়ে আলোচিত সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে রেল স্টেশনে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে টিকিট যাচাই শুরু করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই উদ্যোগ আর কার্যকর থাকেনি। তিনি সিলেট থেকে বদলি হওয়ার পর যাত্রীদের টিকিট যাচাই কার্যক্রম পুরোপুরি ভেস্তে যায়। ফলে টিকিট দখলে নেয় দালাল ও কালোবাজারিরা।


সম্প্রতি টিকিট কালোবাজারি নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমান। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের আদালতে করা মামলাটির (সিআর মামলা ০১/২০২৬) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে। গত ১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআই সিলেট কার্যালয়ে পৌঁছায়।


এ ঘটনায় ফের আলোচনায় আসে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে টিকিট বিক্রি ও যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ে নানা অসংগতি পায় জেলা প্রশাসন।


জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে কয়েকজন যাত্রীর টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির নামের অমিলও ধরা পড়ে।


অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১২ অক্টোবর থেকে টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির নাম না মিললে কোনো যাত্রীকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে না। সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে হলে টিকিট ও পরিচয়পত্রের তথ্যের মিল থাকতে হবে।


জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অভিযানে কয়েকজন যাত্রীর টিকিট ও এনআইডির তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। নিয়মটি কার্যকর করার আগে যাত্রীদের তিন থেকে চার দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। ১২ অক্টোবর থেকে কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি নিজেও পরিচয় যাচাই করবেন এবং স্টেশনে নিয়মিত ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন - প্রবাসীদের বিমানবন্দর সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  বৃহস্পতিবার রাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রলি হস্তান্তর করেন তিনি। 


এসময় মন্ত্রী আরো বলেন -পৃথিবী যতদিন থাকবে, সমস্যা ততদিন থাকবে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত আট মাসে ধাপে ধাপে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ করছে। এছাড়াও সপ্তাহে একদিন প্রবাসীদের সমস্যার কথা শুনতে সিলেট-চট্টগ্রাম ডিসিকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী।


সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, মালেশিয়া পাঠানোর নামে যে সব এজেন্সি প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এছাড়া প্রবাসী করিডোর- প্রবাসী ব্যাংকসহ নানা খাতের সেবা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। এ অনুষ্ঠানে ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৩ পিএম

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের পাশে সুরমা নদীর ওপর নির্মাণ করা হবে দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু। নতুন এই সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি সুরমা পাড়ে গিয়ে সেতুটির সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় কিন ব্রিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নগরীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগের কথা সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রী।


মন্ত্রী বলেন, ‘কিন ব্রিজের সক্ষমতা বাড়াতে আমরা কাজ করব। পাশাপাশি সুরমা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই সেতু নির্মাণ হলে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। পাশাপাশি কিন ব্রিজের উপর থেকে চাপ কমবে।’


তিনি আরও বলেন, নতুন সেতু নির্মাণ হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সিলেটের আকর্ষণ আরও বাড়বে। এর ফলে সিলেটের পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি দেশের কাছে সিলেটের সুনাম আরও উজ্জ্বল হবে।


এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক  আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার সকালে একদিনের সরকারি সফরে সিলেটে আনের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সফরকালে তিনি সিলেটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানা পুলিশের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও অপহরণের শিকার একাধিক ভুক্তভোগীর মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত ছাড়াই এজাহার সম্পর্কে ওসির মনগড়া মন্তব্য অপরাধীদের উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।


একাধিক অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ওসি নজমুল হক পীরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার না করা, তুচ্ছ ঘটনায় মামলা গ্রহণ, মামলার তদন্তে গড়িমসি, অপরাধীদের সাথে সখ্যতাসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটিত অসংখ্য ঘটনাকে তিনি আড়াল করে মামলা নিচ্ছেন না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার মনগড়া মন্তব্যেও মামলার বাদী-বিবাদী, আসামিরাও বেকায়দায় পড়ছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুলাইয়ে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বিটিসি এলাকায় এক ভাড়াটিয়া মহিলাকে তার বাসা মালিক কাজল মিয়া (৪৫) ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। একই মাসে বড়দরগা ইউনিয়নেও পঞ্চাশোর্ধ এক প্রতিবন্ধী মহিলাকে ৫ জন মিলে গণধর্ষণ করে অভিযোগ পাওয়া যায়। মাদারগঞ্জ এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রী নাসরিন বেগমকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় থানায় এজাহার দিলেও ওসি নজমুল হক মামলাগুলো নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।


মাদারগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের বিষয়টি মিঠিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দফারফা করার জন্য ওসি পরামর্শ দেন। পরে চেয়ারম্যান ৭ লক্ষ টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়।


গত মাসের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুরের মোশাররফ হোসেন মালেককে জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে মাথায় ২৬টি সেলাই দেয়া হয়। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।


ওই ঘটনায় মালেক মিয়া থানায় এজাহার দিলে ওসি মামলা নেয়নি। উল্টো ভুক্তভোগী মালেক নিজেই ব্লেড দিয়ে মাথা কেটে সেলাইগুলো করে মামলার ঘটনা সাজিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ওসি নজমুল হক। একই কথা তিনি এই প্রতিবেদককেও বলেন।


উপজেলার পাটগ্রাম নয়াপাড়ায় যৌতুকের জন্য স্বামী রিপন মিয়া তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা দিশাকে মারপিট করে ঘরে টানা ৪ দিন অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ৩ আগষ্ট এসআই দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ওই অবরুদ্ধাকে উদ্ধার করলেও ওসি সেই ঘটনায় ভুক্তভোগী  মামলাটি নথি ভুক্ত করেনি।


গুর্জিপাড়ার চাপাবাড়ী গ্রামের বৃদ্ধ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নিয়েছেন ওসি। অথচ ধর্ষণের মামলা নিচ্ছে না। সম্প্রতি চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রকাশ্য দিবালোকে এক স্কুলশিক্ষককে অপহরণের পর মারপিট করে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে। মারপিটের শিকার শিক্ষক এজাহার দিলেও মামলা নেয়নি। ফলে ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা চতরাহাটে জিয়াকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।


এরকম একাধিক ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় এজাহার ও অভিযোগ নিয়ে থানায় ঘুরলেও মামলা নেয়া হচ্ছে না, এমন দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, ওসির এমন নির্লিপ্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিও ঘটেছে। অপরাধীদের অনেকেই ওসিকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পারও পেয়ে যাচ্ছে। এতে করে একই ধরনের অপরাধ বারবার সংঘটিত হবার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।  


এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে কথা হলে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, মামলা নেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ভুক্তভোগীরা নিজেরাই আপোস-মীমাংসা করলে পুলিশ কি করবে। আবার কিছু ঘটনা আছে সাজানো, যেমন মোশাররফ নিজেই ব্লেড দিয়ে তার মাথা কেটে সেলাই করেছিল। এটা আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি।


ওসি আরও বলেন, এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে থানায় আসেন, আমি আপনাকে ব্যাখ্যা দিবো। অহেতুক মনগড়া অভিযোগ করলে হবে না। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১০ পিএম

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ১৬টি মাদক মামলার তথ্য রয়েছে এবং অপরজন মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে ভান্ডারিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য ভান্ডারিয়া এলাকা থেকে মো. দেলোয়ার সরদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত জলিল সরদারের ছেলে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি ১৬টি মাদক মামলার আসামি এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানা গেছে।


অপরদিকে, একই রাতে আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার জামিরতলা এলাকা থেকে মো. লাভলু সাইফুল মুন্সিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত বাবুল মুন্সির ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলায় এক বছর ছয় মাসের সাজাসংক্রান্ত একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ আরও একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।


গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পিরোজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ সব খবর

অটোরিকশা চালক সুমন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০০ পিএম

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


শুক্রবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান।


তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডে তিনি একাই জড়িত, নাকি আরও কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।


এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালাতেন সুমন।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুমন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সুমন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।


বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে তার চলাচল সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।


৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা গেছে। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। পরে তিনি সড়কের দিকে চলে গেলে আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।


মরদেহ উদ্ধারের পর ওই শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে তার মেয়ে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।


লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সর্বশেষ সব খবর