ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লুৎফুল কবীর রিপন
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৪ নং ওটরা ইউনিয়নে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে জোর নির্বাচনী হাওয়া। হাটে-বাজারে, চায়ের কাপের আড্ডা থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এর মধ্যেই ব্যক্তিগত পরিচিতি, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উজিরপুর থানা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মোঃ লুৎফুল কবীর রিপন।
৪ নং ওটরা ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করে বিভিন্ন সময় মতবিনিময় করেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো ভূমিকা অর্জন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনে ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মোঃ লুৎফুল কবীর রিপন উজিরপুর থানা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওটরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ওটরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বরিশাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাবেক ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি অত্র উপজেলার গরীব অসহায় মানুষের পাশে চক্ষু সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
নাম বলতে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লুৎফুল কবীর রিপন একজন সৎ, উচ্চ শিক্ষিত, সাহসী,মেধাবী ও প্রতিবাদী ব্যক্তি তার দ্বারা এই ইউনিয়নে উন্নয়ন করে রুপ রেখা আরও সৌন্দর্য হবে বলে আমরা মনে করি, তার মতো যোগ্য একজন চেয়ারম্যান আমাদের প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
এছাড়া তিনি বিগত দিনে চক্ষু হাসপাতালের একজন পরিচালক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সার্বিক খোঁজ-খবর ভালো মন্দে এবং আমাদের অসুস্থতার খবর শোনা মাত্রই আমাদের পাশে এসে চিকিৎসাসেবা ও ফ্রী ঔষধ দেওয়া সহ গরিব অসহায় দুঃখী ও মেহনতী মানুষের আর্থিক ভাবে সাহায্য করে সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন, এবং অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নিজেকে শামিল করেছেন।
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তার পরিচিতির পাশাপাশি প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ তাকে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন তার সমর্থকেরা।
এলাকার কয়েকজন প্রবীণ নাগরিকের মতে, ৪ নং ওটরা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং নাগরিকদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন যোগ্য, জনবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
এদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মোঃ লুৎফুল কবীর রিপন বলেন, আমি এলাকার উন্নয়ন ও জনগনের সেবা করার সুযোগ এখনো পুরোপুরি পাইনি তারপরও কতটুকু করতে পেরেছি তা আপনারা নিশ্চয়ই জেনেছেন। আমি আমার নয় আমি হবো জনতার এই ধারাবাহিকতায় আমি নির্বাচিত হলে এই ইউনিয়নের সকল শ্রেণীর সকল পেশার মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে সকল সমস্যা বাস্তবায়ন করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মি ও বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু সাহেবর দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সংগঠন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি। দল সেটা মূ্ল্যায়ন করে মনোনয়ন দিলে ইনশাআল্লাহ এই ইউনিয়নের নির্বাচনে অংশ নিবো।
সব মিলিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪ নং ওটরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ লুৎফুল কবীর রিপনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত, সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভোটারদের চূড়ান্ত মতামতই নির্ধারণ করবে নির্বাচনী মাঠের সমীকরণ।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ৩০টি দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম.এ. মজিদ। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফি, আটোয়ারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম বজলুর রহমান জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম দুলাল, ব্যারিস্টার তুষার কান্তি রায়, পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ইরানসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম.এ. মজিদ বলেন, “পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের পক্ষ থেকে আমরা আপনাদের মাঝে এসেছি। আপনারা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের পক্ষ থেকে আটোয়ারী উপজেলার প্রতিটি দুর্গাপূজা মণ্ডপে ১০ হাজার টাকা করে উপহার দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন আরও বৃহৎ পরিসরে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া তিন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্রকৌশল দপ্তরের রয়েছেন দুইজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৩তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত এক সিন্ডিকেট সদস্য।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ৩ জন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী মো. জয়নাল আহমেদ চৌধুরী, প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে ব্যয় নিয়ে ওঠা প্রশ্ন তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলামকে সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ চৌধুরীকে সদস্য সচিব এবং সিন্ডিকেট সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শহিদুর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে।
দিনাজপুরের বিরল সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৪৮ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল (TAPENTADOL) ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের সিজার মূল্য ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন ধর্মজান বিওপির সদস্যরা বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী কাঠুলিয়াপাড়া এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৪৮ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। সীমান্তপথে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
আর্থিক অনুদান দিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের বিভিন্ন শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ।
পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পূজার আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রীর এ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উপলক্ষে র্যালি
দেশে ১৮ বছর বা তার বেশি প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাস্কুলোস্কেলেটাল বা আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। আর্থ্রাইটিস কেবল সামান্য জয়েন্ট ব্যথা বা অস্বস্তির বিষয় নয়; এটি আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে নানা শারীরিক প্রতিবন্ধকতারও সৃষ্টি করে।
বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সোমবার সকালে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যাম্পাসে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। এ বছর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আসুন স্বপ্ন পূরণ করি’।
সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭১ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস ও মাস্কুলোস্কেলেটাল সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশেও আর্থ্রাইটিস আশঙ্কাজনক জনস্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। রোগটির কারণে আক্রান্ত রোগী বছরের কোনো না কোনো সময় সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারান। একজন কর্মক্ষম মানুষ যখন কাজ করার ক্ষমতা হারান, তখন কেবল তার আয়ই বন্ধ হয় না, বরং তার ভবিষ্যৎ জীবনের অনেক সুন্দর স্বপ্নও থমকে যায়। এ কারণে রোগীকে নতুন করে নানা শারীরিক জটিলতার সম্মুখীনও হতে হয়।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আরমান। বাত ও আর্থ্রাইটিস রোগের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ফিজিক্যাল থেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আর্থ্রাইটিস কেবল বয়স্কদের রোগ নয়, সচেতনতার অভাবে তরুণ সমাজও এতে আক্রান্ত হতে পারে। সময়মতো সঠিক ডায়াগনোসিস ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপি পেলে রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, ‘আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অক্ষমতা দূর করে কার্যক্ষম করে তোলাই চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য। আধুনিক চিকিৎসা ও ফিজিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশনের মাধ্যমে রোগীরা যেন তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আমাদের মেডিকেল কলেজ কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারের মাধ্যমে তরুণ চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আর্থ্রাইটিসের আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রধান ডা. শফিউল করিম মো. ইলিয়াস, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফেরদৌস, অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সাইফুদ্দীন রোকন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ড. সিদরাতুল মুনতাহা শশী। পরে একটি র্যালি বের করা হয়।
সেমিনারে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চিকিৎসকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে তদন্ত ও পরামর্শক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ।
চিঠিতে বলা হয়, চুয়েটের বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসন ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ইউজিসির সদস্য পর্যায়ে একটি তদন্ত ও পরামর্শক কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সুস্পষ্ট সুপারিশ জরুরিভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর চুয়েটের পাঠানো একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপাচার্যসহ ছয়জন সদস্য অংশ নেন। তবে কোনো শিক্ষক সদস্য সভায় যোগ দেননি।
সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া ও সম্ভাব্য সেশনজট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবিলম্বে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সমন্বিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের কথা বলা হয়।
তৃতীয় সিদ্ধান্তে অচলাবস্থা নিরসন ও শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর টেকসই সমাধান খুঁজতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও পরামর্শক কমিটি গঠনের সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
সিন্ডিকেটের তৃতীয় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে কমিটি গঠন করে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে চুয়েটের সংকট নিরসন এবং নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হওয়া এবং সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।