মিজানুর রহমান ওরফে মিজান
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীকে প্রথমে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ মিজান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যার নতুন বাড়ির আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে ঢোকে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পেটের বাঁ পাশে, বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে উরুতে গুলি লাগে। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান আমাদেরকে ভালো জানে। তিনি জামায়াতের সমর্থক মাত্র। ২০২০ সালেও এই ব্যবসায়ীর ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিলেন। তখন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবার মুখোর পরে তার দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করে। তবে মুখোশ পরে থাকায় তাৎক্ষণিক কাউকে চিহিৃত করা যায়নি। হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের ইনানীতে ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), নাফিজের বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩), তার পাঁচ বছর বয়সী ভাগনে ফায়িজান আহম্মেদ, ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন হতাহতদের বিষয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট শব্দ হওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্থাপনায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় উদ্ধার অভিযানও পরিচালনা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, টুপটুপ রিসোর্টে মোট কক্ষ ছিল নয়টি। গত শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। এরপর বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। অন্যদিকে, আগুন লাগার সময় রিসোর্টের ভেতরে থাকা পর্যটকদের অনেকে ঘুমিয়ে থাকায় তারা কক্ষের মধ্যে আটকা পড়েন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘রিসোর্টের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
গ্রেফতার সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব
নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় অপূর্ব নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে পুরাতন সিনেমা হল রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব (২৩) দুর্গাপুর পৌরশহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা শমসের আলীর ছেলে। অপূর্ব দুর্গাপুরের অন্যতম সন্ত্রাসী তাজুল ইসলামের সহযোগী বলে নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় তেলনজিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে দোকানে সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের কিছুটা ভেতরে তেলনজিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ ১৭ অক্টোবর, দুপুরে নগরীর জোড়াগেট সিডিসিতে কমিউনিটি লেড ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম (ফায়ার হাইড্রান্ট) স্থাপন কাজের উদ্ধোধনে সিস্টেমটিতে থাকা জনগণের জন্য ৩০ হাজার লিটার পানির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন চারটি পয়েন্ট, দৈনিক ৫ হাজার লিটার পানির ব্যবহার এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য ২৫ হাজার লিটার সংরক্ষিত পানি এবং দুর্যোগ মুহূর্তে সেবাদানের জন্য ২০ জন দক্ষ স্বেচ্ছাসেবীর প্রশিক্ষণ প্রদানের সুবিধা উল্লেখ করে আওতায় থাকা সুবিধাভোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এ সময় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চীফ প্লানিং কমিউনিটি লিডারসহ কেসিসি ও প্রকল্পের অনেক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
খেলোয়াড় বাছাই উপলক্ষে বাফুফে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত
অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-২০২৭ ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম উপলক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় টুর্নামেন্টের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. গোলাম ফারুক খোকন।
সভায় বাফুফের নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের খুঁজে বের করা, তাদের দক্ষতা বিকাশ এবং বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এ আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে গোলাম ফারুক খোকন বলেন, “ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; ফুটবল শৃঙ্খলা, ঐক্য, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বের শিক্ষা দেয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ প্রতিটি এলাকায় অনেক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার রয়েছে। তাদের সঠিকভাবে খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”
তিনি বলেন, অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্টের এই বাছাইপর্ব তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, শৃঙ্খলা ও মাঠের পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণ ফুটবলারদের উদ্দেশে গোলাম ফারুক খোকন বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে এবং প্রশিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। তবে সততা, অধ্যবসায় ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবই একজন প্রকৃত খেলোয়াড়ের পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, দেশের ফুটবলের উন্নয়নে বাফুফের নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে তরুণ ফুটবলারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-২০২৭ ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলাররা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের ফুটবলের উন্নয়ন, নতুন প্রতিভার বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশায় এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঠাকুরগাঁওয়ের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দেলাওয়ার হোসেন ও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের উসকানি দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দাখিল করা ভিডিও পর্যালোচনা করে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(খ) অনুচ্ছেদের বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ২১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সমর্থনে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।
নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারীসহ সাব রেজিস্টারের বিরুদ্ধে দলিল ও নকল প্রতি ঘুষ নেয়াসহ নানা দুর্নীতির অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও খাজনা-খারিজসহ প্রয়োজনীয় জরুরি কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও প্রতি দলিলে মোটা অংকের সম্মানি না দিলে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক দলিলে স্বাক্ষর করছেন না বলে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন দাতা-গ্রহীতারা।
গোপন সূত্রে জানা যায়, দাতা এবং গ্রহীতাদের মধ্যে যারা সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক দলিল প্রতি নির্ধারিত সম্মানি টাকা জমা দিচ্ছেন তাদের দলিলে কোনায় বিশেষ ধরনের চিহ্ন প্রদান করে এজলাসে পাঠানো হচ্ছে। আর যে সমস্ত দাতা ও গ্রহীতারা সম্মানি বা উৎকোচ দিচ্ছেন না, তাদের শতভাগ কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দিচ্ছেন সাব-রেজিস্টার।
বারাইপুর গ্রামের মজিবুল হক জানান, আমার দলিলে সামান্য একটু দাগের ভুল হয়েছে এ কারণে আমি সাব-রেজিস্টার এবং তার অফিস সহকারিকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
আরেকজন সেবা গ্রহীতা জানান, আমি একজন ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার পরেও আমার একটা দলিলে সরকারি খরচের বাইরে আরও দুই লাখ টাকা বেশি কমিশন দিতে হয়েছে।
দলিল লেখক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য জানান, সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও সাধারণ দলিল নিবন্ধনে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় দাতা গ্রহীতাদের। এ ছাড়াও আমমোক্তারনামা ও দানপত্রের মতো বিশেষ দলিলে ক্ষেত্রবিশেষে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়।
তাছাড়া হেবা ঘোষণা দলিল, সরকারি ফি দলিল লেখক ও সাব রেজিস্টার দাতা গ্রহীতাদের কাছ থেকে জমির মূল্য অনুযায়ী প্রতি লাখে ১-২ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। কমিশন দলিলেও একই অবস্থা। সরকারি ফি ন্যূনতম হলেও নেয়া হয় প্রতি দলিলে ৩০-৪০ হাজার টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি অ্যামাউন্ট নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
বায়না দলিলের সময় এক ধরনের মূল্য দেখানো হলেও মূল দলিলে সরকারের কর ফাঁকি দিতে জমির মূল্য কয়েকগুণ কম দেখানো হয়। এতে সরকারের এ দপ্তর প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ক্ষতির মুখে পড়ছে।
তথ্য বলছে, সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ম্যানুয়াল-২০১৪ মানছেন না সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম। এ মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই এ অফিসটি ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন তিনি।
সরকারি ফি’র বাইরে ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হয় না সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফি ২৭০ টাকার বিপরীতে সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হয় ২ হাজার টাকা। সরকারি ফি’র বাইরে পুরো টাকাই যায় সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের পকেটে। সাব কবলা দলিলের মূল্য এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলে সরকারি ফি’র বাইরে সেরেস্তা বাবদ আড়াই হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। যদি দলিলের মূল্য এক লাখ টাকা বা অধিক মূল্য হয় তাহলে প্রতি লাখে ৩০০ টাকা করে বেশি দিতে হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে বলেন, বিনিময় দলিল করতে ব্যাংক চালানের পরও অতিরিক্ত চার-পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হককে। বণ্টননামা এবং অসিয়ত দলিলের মূল্যের ওপরও অতিরিক্ত ১ শতাংশ হারে ঘুষ নেন তিনি। আবার নকলে তিনি ২-৩ মাস স্বাক্ষর করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তির পোহাতে হয় চরমে। এ সব ঘুষের টাকা অফিস সহকারী মোল্লার মাধ্যমে নিচ্ছেন।
সোনাইমুড়ি দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে অর্ডার বাদে ২ শতাংশ টাকা হাতে নেওয়ার নিয়ম আছে। এছাড়া আর কোন টাকা নগদ নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু আমরা অফিসারদের কাছে জিম্মি, তার বিরুদ্ধে কথা বললে অফিস থেকে দলিল লেখকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার সিরাজুল হকের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে দেয়। তারপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।