ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৮ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে ও পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার আগে হাসপাতালের লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে আগুন লাগে। ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।


এ সময় ছয়জন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন বলে কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, হাসপাতালে প্রতিদিন কিছু রোগী মারা যায়। এই মৃত্যুগুলো তেমনই।


হাসপাতাল সূত্রে এদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫)। এ ছাড়া এক বছর  বয়সী শিশুর মৃত্যু হলেও পরিচয় মেলেনি।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন অবশ্য বলেছেন, পদদলিত হয়ে এই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।


তবে পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি জাহিদুল হাসান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাইনি। যাদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ 


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম এদিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আগুনে সরাসরি মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করেননি।


তবে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এক কর্মকর্তা জানান, আগুনের ঘটনায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ছয়জন মারা গেছে এবং ২০ জনের মতো আহত হয়েছে।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে নতুন আটতলা ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। কন্ট্রোল রুম থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।


তিনি বলেন, খবর পেয়ে ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনসহ পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের প্রতিটি তলায় তল্লাশি চালিয়ে আগুনের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, আগুন লাগার কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।







  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম


আলাউদ্দিন নগর তহিরন হাসপাতালে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা নিতে রোগীর ভিড়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম

‘গত বছর এক চোখের ছানি অপারেশন করছিলাম। এখানে টাকা-পয়সা লাগে না। সেবার মানও ভালো। আরেক চোখে ঝাপসা দেখছি। তাই আবার আসছি।’ কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব আজাহার আলী। চোখের চিকিৎসা করাতে তিনি এসেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগরের তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এখানে আজাহার আলীর মতো অনেকেই বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়েছেন। প্রায় ২২ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে চক্ষুসেবা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


গত রোববার হাসপাতালের সামনে দেখা যায়, কেউ লাঠি হাতে, কেউ আবার সন্তানের কাঁধে ভর দিয়ে এসেছেন। চোখে ঝাপসা দেখা, ব্যথা, ছানি কিংবা দীর্ঘদিনের নানা সমস্যায় চিকিৎসা নিতে হাসপাতাল চত্বরে ভিড়  মানুষের। তাদের কেউ এসেছেন মাইকের প্রচার শুনে। আবার কেউ এসেছেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে খবর দেখে।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৪ সাল থেকে চক্ষুসেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানে প্রতিবছরের মতো এবারও দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে সহযোগিতা করছে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন, দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। দুই দিনে প্রায় চার হাজার মানুষ সেবা নিয়েছেন। তার মধ্যে অন্তত দুই হাজার রোগীর ছানি অপারেশন করা হবে। এখানে ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষই চিকিৎসা নিতে আসেন।


ফেসবুকে বিনামূল্যে চিকিৎসার খবর দেখে কুষ্টিয়ার জগতি থেকে এসেছেন গৃহিণী জেসমিন বেগম। তিনি বলেন, ‘ছানি কাটতে এক ক্লিনিক ৬০ হাজার টাকা চায়ছে। সবাই বলল আলাউদ্দিন নগরের বিনামূল্যের চিকিৎসা ভালো। সেজন্য আসছি। এখানে অনেক ভিড় দেখে মনে হচ্ছে চিকিৎসা ভালোই হয়।’


কুমারখালীর চাঁদপুর ইউনিয়নের মোহননগর পশ্চিমপাড়ার কৃষক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাইকে শুনে সকাল ৬টার দিকে এসেছি। ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা সব ফ্রি। একটা চশমাও দিয়েছে ফ্রি। যত্ন করে গাড়িতে খুলনা নিয়ে যায়, চিকিৎসা শেষে আবার কুমারখালী রেখে যায়।’ কুষ্টিয়ার উদিবাড়ি থেকে আসা মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘চোখে ছানি পড়েছে। বাইরের ডাক্তার ২৫-৩০ হাজার টাকা চায়ছে। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ ফ্রি।’


তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অর্থের অভাবে যেন কোনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের আলো নিভে না যায়, সেজন্য আলাউদ্দিন আহমেদ বিনামূল্যে এমন ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ২২ হাজার ছানি অপারেশনের রোগী রয়েছেন। এ বছর প্রায় চার হাজার রোগীকে সেবাদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তার মধ্যে দুই হাজার রোগীর ছানি অপারেশন করা হবে।


চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের নিবন্ধন, লাইনে শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এমন মানবিক কর্মসূচিতে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত রুমা খাতুন। খুলনা বিএনএসবি হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মো. বাপ্পী বলেন, প্রতিবছরের মতো বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ক্যাম্পেইন চলছে। এখানে বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি। 


আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম জানান, ‘বাছাই করা রোগীদের খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হয়। থাকা, খাওয়া, যাতায়াত, চিকিৎসা সবই বিনামূল্যে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।’


আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করে চলেছেন। এ রকম আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে কেউ আর চোখের জ্যোতি হারাবে না।’






প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৭ পিএম

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন। সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েছিল কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিসি)। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


কোর্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব কান্তি দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।


গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশীর ২ নম্বর সড়কের বিশ্রাম ভবনের নিচতলায় স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান।


কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং থাকা মালামাল তল্লাশি করে দুটি পলিব্যাগ থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটিতে ৬০ গ্রাম ও অন্যটিতে ৫৮ গ্রাম কোকেন ছিল। উদ্ধার করা কোকেনের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।


এ ঘটনায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের আব্দুর ওউফের ছেলে রিয়াদুল আহম্মেদ এবং ঢাকার দক্ষিণখানের কলিল বক্স রোডের মো. আলমগীরকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করা হয়। পরে গত শনিবার চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকার বাসিন্দা এস এম মহসিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


কোকেনের চালান আটকের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা। একপর্যায়ে এলআইসি শাখার গোয়েন্দারা খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পান।


পাঁচ দিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর থানা-পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা, র‍্যাবসহ বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওই ভবনে অভিযান চালান।


অভিযানে ভবনের প্রতিটি তলায় তৈরি করা সার্ভার স্টেশনে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস পাওয়া যায়। সেগুলো জব্দ করা হয়।


অভিযানে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কারও কাছে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।


পরে তাদের সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার তাঁদের রিমান্ড শুনানি শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

 


আকাশে দেখা মিলেছে মনোমুগ্ধকর এক মহাজাগতিক দৃশ্য

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ পিএম

দেশের আকাশে দেখা মিলেছে মনোমুগ্ধকর এক মহাজাগতিক দৃশ্য। সরু বাঁকা চাঁদের পাশে জ্বলজ্বল করছে উজ্জ্বল এক আলোকপিণ্ড। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পশ্চিম আকাশে দেখা যায় বিরল এই দৃশ্য।


হঠাৎ এমন দৃশ্য চোখে পড়তেই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন বাগেরহাটের শরণখোলার মানুষ। বাড়ির বাইরে, রাস্তার পাশে কিংবা ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে অনেকেই মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকেন আকাশের দিকে। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন ছবি ও ভিডিও। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চাঁদের পাশে উজ্জ্বল আলোর খবর। শুধু শরণখোলা নয়, স্বচ্ছ আকাশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই দেখা গেছে একই দৃশ্য।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, চাঁদের এমন দৃশ্য তারা আগে কখনো দেখেননি। প্রথম দেখায় অবাক হলেও পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও ডেকে দেখিয়েছেন তারা।


তবে চাঁদের পাশে দেখা সেই উজ্জ্বল আলোকপিণ্ড কোনো অজানা বস্তু বা নতুন তারা নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে, সেটি সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ শুক্র।


জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার সন্ধ্যায় সরু বাঁকা চাঁদের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিল শুক্রগ্রহ। চাঁদ ও শুক্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব ছিল প্রায় ২৮ দশমিক ৮ আর্কমিনিট অর্থাৎ এক ডিগ্রিরও কম। জ্যোতির্বিজ্ঞানে এ ধরনের কাছাকাছি অবস্থানকে বলা হয় ক্লোজ অ্যাপ্রোচ বা কনজাংশন।


চাঁদের পিঠে যেন আলোর মণি আকাশের এই অপূর্ব দৃশ্য কিছুক্ষণের জন্য মুগ্ধ করেছে শরণখোলাসহ দেশের আকাশপ্রেমীদের।


সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদসহ ৯ আসামির দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৪ পিএম

কক্সবাজারের রামুতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে অপহরণ, হামলা ও মারধরের শিকার এবং জিম্মি করে হেনস্তার শিকার সাংবাদিকদের মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে কক্সবাজার জেলা কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি আবুল কাশেম, দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদ, চ্যানেল এস-এর ব্যুরো প্রধান আয়াছ রনি। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কক্সবাজার জেলা  সভাপতি খোরশেদ আলম ও সেক্রেটারি ওসমান গণি ইলি, আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি মোস্তফা জামান চৌধুরী। 


মানববন্ধনে বক্তারা জানান, খুনিয়া পালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ ও মাদক কারবারি নুরুল আমিন নুরু একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা চোরাচালানসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। ২৭ আগষ্ট বিকালে ৩ সাংবাদিক খুনিয়াপালং এলাকায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ শেষে কক্সবাজার ফেরার পথে একটি মাদক সিন্ডিকেট টোঙ্গারঢেবা সড়কে গতিরোধ করে তাদের অপহরণ করে। এর পর তাদেরকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবী করে। পরে মব সৃষ্টি করে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর শুরু করে। মৃত্যু ভয় দেখিয়ে ভিডিও করে বিভিন্ন বিষয়ে স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা দায়ের হলে মাদক সিন্ডিকেট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করে ঘটনার ১২ দিন পর মসজিদকে ঢাল বানিয়ে আদালতে ৩ সাংবাদিককে আসামী করে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ইয়াবা কারবারি নুরুর ভাই।


এ সাংবাদিকদের জিম্মি করে নির্যাতন, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কোন আসামী গ্রেফতার। আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে কক্সবাজারে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকরা।


এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদ, স্থানীয় দৈনিক আপন কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রমজান আলীর পক্ষে জাতীয় দৈনিক ঘোষণা-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।




মানববন্ধন থেকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, মামলার পরও প্রধান অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ, ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল আমিন নুরুসহ আসামিদের এখনও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।


অবিলম্বে এই চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থার কক্সবাজার জেলা সভাপতি জাফরুল ইসলাম, সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম হিরু, স্থানীয় দৈনিক গণসংযোগ পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জায়েদ হাসান, উখিয়া সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, জে এ টিভির উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন, মর্নিং পোস্টের উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি ছৈয়দুল আলম, নিউজ ২১-এর স্টাফ রিপোর্টার এনামুল শেখ, আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন, জাতীয় দৈনিক জবাবদিহি কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম আজাদ, স্থানীয় দৈনিক কক্সবাজার সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার মো. মোরশেদ, জাতীয় দৈনিক আজকের খবরের জেলা প্রতিনিধি এসএমডি মনির এবং সাংবাদিক নাছির উদ্দীনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।


মাদক মামলার আসামি রুনা আক্তার

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০২ পিএম

গাজীপুরে টঙ্গীতে ২১ টি মাদক মামলার আসামি রুনা আক্তার (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রুনা আক্তার টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তির সুমন মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ তাকে ওই এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 


টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ জানায়, রুনা আক্তারের অবস্থান শনাক্তের পর রোববার রাতে কেরানীরটেক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।


পুলিশের দাবি, রুনা আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত ২১টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন এবং পলাতক অবস্থায় মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন। 


পুলিশ আরও জানায়, গাজীপুর ও কক্সবাজারকেন্দ্রিক মাদকের রুট পরিচালনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ‘রুনা আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত ২১টি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’


কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। 


আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়টির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মো. রাশেদ কবির আখন্দের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সহধর্মিণী সৈয়দা মাহফুজা আক্তার। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদা জাহান। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা মাহফুজা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের পাশাপাশি মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য ঘরে সন্তানদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারা কোথায় যায়, কোথায় ঘুরে তা খেয়াল রাখতে হবে এবং তাদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 


প্রধান বক্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদা জাহান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মায়েদের সচেতনতা ও সন্তানদের প্রতি নিয়মিত খোঁজখবর তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং শৃঙ্খলাবোধের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুর রহমান প্রমুখ।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু জামাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা স্মারক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ও এসএসসি-২০২৬ সালের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। অভিভাবক সমাবেশে প্রায় সাত শতাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।