ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হতে পারেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের আটতলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম রাত সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিইউ) একটি দল ও থানা-পুলিশ ওই ভবনের আটতলায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযানও চলমান রয়েছে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, চীন ও তাইওয়ানের কয়েক শ নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের দুটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ অভিযোগের সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত এবং বিপুলসংখ্যক আইফোন কী কাজে ব্যবহার করা হতো, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেনি।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হয়েছে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া। রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্মসূচি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
আজ রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। নিউক্লয়িার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনপিসিবিএলের নেতৃত্বে পরিচালিত কমিশনিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে।
ড. জায়েদুল হাসান জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরিমাপকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, বিকেল ৩টায় ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সব প্যারামিটার চাহিদা অনুযায়ী মাত্রায় আছে। বিকিরণের মাত্রা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এই কেন্দ্রের চুল্লির মডেল তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর ১২০০ মডেলের, যেখানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।
ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পরপরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় না। এর আগে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই, নিরাপত্তাব্যবস্থার পরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমের পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এ অর্জনের পেছনে এনপিসিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলী, অপারেশন ও কমিশনিং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। তাঁরা জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনসহ পরবর্তী প্রতিটি ধাপ সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান, অনুমোদিত কারিগরি পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে কমিশনিংয়ের পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটি ফার্মেসিকে ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই দিন পৃথক অভিযানে অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়েছে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সিংগাইর পৌরবাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।
অভিযানে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির দায়ে জয় ফার্মেসির মালিক বিকাশ সাহাকে ২ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে মাধবী ফার্মেসির মালিক আশিষ কুমারকে ২ হাজার টাকা এবং আলমগীর ফার্মেসির মালিক হযরত আলীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকায় রিফাত ফার্মেসির মালিক জাহাঙ্গীরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানার অর্থ আদায় করেন।
অন্যদিকে, বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের গোলাইডাঙা গ্রামের আত্রাই বিলে অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আনুমানিক ৫০টি রিংজাল ও ১৫টি কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধে ফার্মেসিগুলোকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধে জালগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৭৫ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তবর্তী দিহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭৫ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন দিহানগর বিওপির সদস্যরা এসব সিরাপ উদ্ধার করেন।
বিজিবির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী দিহানগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ পাওয়া যায়। উদ্ধার করা সিরাপের জব্দমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা।
উদ্ধার করা সিরাপের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য পরিবহন ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারী এবং গোয়েন্দা তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধের প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করতে পারে।
সাদ্দাম হোসেন (বামে) ইউনিয়ন যুবদলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ফেসবুকে
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় যুবদলের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। গতকাল শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ তথ্য ছড়িলে পড়লে তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার পোস্টের পর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির যুবদলের সকল পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতিপত্রে বলা হয়েছে, দলীয় শৃংঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
সাদ্দাম হোসেনের বলেন, ‘আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দরগ্রাম বাজারে সারের ব্যবসা করে আসছে। আমার বাবাও দরগ্রাম বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে বিএনপির রাজনীতি করার অপরাধে সারের ডিলার থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এরপর থেকে অন্য ডিলারের কাছ থেকে লাইন্সেস ভাড়া দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে।’
সম্প্রতি সাটুরিয়ার নয়টি ইউনিয়নে একজন করে সারের ডিলার নিয়োগের ঘোষণায় সাদ্দাম হোসেন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। কিন্ত শেষ পর্যন্ত দরগ্রাম ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মো. রহুল আমীনকে।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ডিলারের নাম প্রকাশ করার পর হতাশ হয়ে দলীয় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রাজনৈতিক ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তার পরিবার নির্যাতন ও একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময় ৯টি মামলা ছিল। এমনকি বাবা-ছেলে এক হাতকড়ায় একসঙ্গে জেল খেটেছেন। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পর প্রত্যাশিত সুযোগ না পেয়ে হতাশা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে ডিলার নিয়োগের বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারের জন্য আবেদন করেন। উপজেলা কমিটি যাচাই বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠান। নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসুম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন প্রার্থীর নাম উপজেলা সার ও বীজ কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা কমিটি সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয় নতুন সার ডিলারদের নামের তালিকা প্রকাশ করে।
এছাড়া সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে বিএনপির ৯ নেতাকর্মী ডিলারশিপ পেয়েছেন। তার মধ্যে চারজন নারী। এ নিয়ে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
দেশের বিমানবহরে ২০০টির বেশি উড়োজাহাজ দেখতে চান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ দেশে আসতে শুরু করবে। ২০৩৬-৩৭ সাল পর্যন্ত সেগুলো বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নগরের সারিন্দা সবারি রিসোর্টে আয়োজিত ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনা করেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন দেশের আকাশপথের যোগাযোগ সচল রাখতে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই এই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি। একটা সময় আমরা থাকব না। আমাদের এই শিক্ষার্থীরা, যারা বিদেশে গিয়ে নিজেদের মুখ খুলে বলতে পারবে, আমাদেরও বিমান বহর রয়েছে।’
তাঁর মতে, দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কানাডা, নিউইয়র্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটন খাতেরও বিকাশ ঘটবে।
ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান। তাঁরা ময়মনসিংহের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিমানবন্দর নির্মিত হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে- এমন প্রত্যাশা তাঁদের দাবিতে উঠে আসে।
ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দরে আর বেশি দিন চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় বড় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজন। ত্রিশালে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণে সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি বিমানবন্দর নির্মাণ ছোটখাটো অবকাঠামো তৈরির মতো নয়। এ জন্য পরিকল্পনা ও সময়-দুটিই প্রয়োজন। তাই এ বিষয়ে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে শিশুপার্ক স্থাপন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি তোলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
শিশুপার্ক স্থাপনের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চেষ্টা করা হবে। আগামী বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সময় পার্কটি দৃশ্যমান করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলবেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। এ ছাড়া নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী হতে হবে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ অন্যরা। সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
সংবর্ধনা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। টেন মিনিট স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়।
নাটোরের লালপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারা মোতাবেক এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকারের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবির হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালপুর ইউনিয়নের সার ডিলার ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক ওয়াহিদুল ইসলাম খোকন ঈশ্বরদী ইউনিয়নের সাবডিলার বাবুর কাছে ২০ বস্তা সার বিক্রি করেন। সারগুলো পরিবহনের সময় স্থানীয় লোকজন গাড়িটি আটকে পুলিশকে খবর দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং ওই ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সার বিক্রির অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।