আলাউদ্দিন নগর তহিরন হাসপাতালে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা নিতে রোগীর ভিড়
‘গত বছর এক চোখের ছানি অপারেশন করছিলাম। এখানে টাকা-পয়সা লাগে না। সেবার মানও ভালো। আরেক চোখে ঝাপসা দেখছি। তাই আবার আসছি।’ কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব আজাহার আলী। চোখের চিকিৎসা করাতে তিনি এসেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগরের তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এখানে আজাহার আলীর মতো অনেকেই বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়েছেন। প্রায় ২২ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে চক্ষুসেবা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত রোববার হাসপাতালের সামনে দেখা যায়, কেউ লাঠি হাতে, কেউ আবার সন্তানের কাঁধে ভর দিয়ে এসেছেন। চোখে ঝাপসা দেখা, ব্যথা, ছানি কিংবা দীর্ঘদিনের নানা সমস্যায় চিকিৎসা নিতে হাসপাতাল চত্বরে ভিড় মানুষের। তাদের কেউ এসেছেন মাইকের প্রচার শুনে। আবার কেউ এসেছেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে খবর দেখে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৪ সাল থেকে চক্ষুসেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানে প্রতিবছরের মতো এবারও দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে সহযোগিতা করছে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন, দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। দুই দিনে প্রায় চার হাজার মানুষ সেবা নিয়েছেন। তার মধ্যে অন্তত দুই হাজার রোগীর ছানি অপারেশন করা হবে। এখানে ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষই চিকিৎসা নিতে আসেন।
ফেসবুকে বিনামূল্যে চিকিৎসার খবর দেখে কুষ্টিয়ার জগতি থেকে এসেছেন গৃহিণী জেসমিন বেগম। তিনি বলেন, ‘ছানি কাটতে এক ক্লিনিক ৬০ হাজার টাকা চায়ছে। সবাই বলল আলাউদ্দিন নগরের বিনামূল্যের চিকিৎসা ভালো। সেজন্য আসছি। এখানে অনেক ভিড় দেখে মনে হচ্ছে চিকিৎসা ভালোই হয়।’
কুমারখালীর চাঁদপুর ইউনিয়নের মোহননগর পশ্চিমপাড়ার কৃষক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাইকে শুনে সকাল ৬টার দিকে এসেছি। ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা সব ফ্রি। একটা চশমাও দিয়েছে ফ্রি। যত্ন করে গাড়িতে খুলনা নিয়ে যায়, চিকিৎসা শেষে আবার কুমারখালী রেখে যায়।’ কুষ্টিয়ার উদিবাড়ি থেকে আসা মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘চোখে ছানি পড়েছে। বাইরের ডাক্তার ২৫-৩০ হাজার টাকা চায়ছে। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ ফ্রি।’
তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অর্থের অভাবে যেন কোনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের আলো নিভে না যায়, সেজন্য আলাউদ্দিন আহমেদ বিনামূল্যে এমন ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ২২ হাজার ছানি অপারেশনের রোগী রয়েছেন। এ বছর প্রায় চার হাজার রোগীকে সেবাদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তার মধ্যে দুই হাজার রোগীর ছানি অপারেশন করা হবে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের নিবন্ধন, লাইনে শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এমন মানবিক কর্মসূচিতে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত রুমা খাতুন। খুলনা বিএনএসবি হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মো. বাপ্পী বলেন, প্রতিবছরের মতো বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ক্যাম্পেইন চলছে। এখানে বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।
আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম জানান, ‘বাছাই করা রোগীদের খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হয়। থাকা, খাওয়া, যাতায়াত, চিকিৎসা সবই বিনামূল্যে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।’
আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করে চলেছেন। এ রকম আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে কেউ আর চোখের জ্যোতি হারাবে না।’
ফারজানা ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় ফারজানার পরিবার অভিযোগ করে, তাঁকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের জয়কালীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসী ও খাদেমুল ইসলাম মানবকল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফারজানার স্বজন, স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শুকুর আলী প্রধানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আবুল কাশেম, শাহ আলম, মো. মোহন মেম্বার, মো. নাজিম উদ্দিন সরকার, হাফেজ মাহমুদুল হাসান রাসেল, শামীম বেপারী, আলিম আল কাছির, খাদেমুল ইসলাম, মো. সায়মন, আহম্মেদ, আলমগীর হোসেন, মো. আনারুল হক, মো. ফারুক মিয়া, শাহরিয়ার সুজন ও শাকিরুজ্জামান শাকির।
নিহত ফারজানা ইসলাম উপজেলার জয়কালীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ফাজিলের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তাঁরা দুজনই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।
তবে বিয়ের পর স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগে ফারজানার পরিবারের পক্ষ থেকে নাজমুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছিল। পরে দুই পরিবারের আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয় বলে জানান ফারজানার বাবা।
মানববন্ধনে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম ফাজিল অভিযোগ করে বলেন, পরকীয়ার জেরে তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছেন জামাতা। এর আগেও এ বিষয়ে জামাতার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তাঁরা। বিরোধ মীমাংসার পর তাঁর মেয়েকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফারজানা ছিলেন একজন মেধাবী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ফারজানার পরিবার যেন কোনোভাবেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান তাঁরা।
পর্যটকদের জন্য ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ উন্মুক্ত হলেও নির্ধারিত দিনে শুরু হচ্ছে না পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ও দাপ্তরিক অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আরও তিন থেকে চার দিন পিছিয়ে যেতে পারে জাহাজ চলাচল শুরুর সময়। ফলে দ্বীপ ভ্রমণের অপেক্ষায় থাকা পর্যটকদের আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত শর্তগুলো পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পরই জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের জারি করা শর্তের কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের নিবন্ধনের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি দাপ্তরিক অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিনটি জাহাজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। আরও সাতটি জাহাজের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
বাহাদুর জানান, এ বছর থেকে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচি এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে।
এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগামী ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এর আগে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, এমবি কর্ণফুলী, বার আউলিয়া ও এমবি টেকনাফ নামের তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটক পরিবহনের ছাড়পত্র পেয়েছে। জাহাজ তিনটির সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন যেতে আগ্রহী পর্যটকরা ইতোমধ্যে টিকিট বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করছেন। কিন্তু ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধন সফটওয়্যার এখনো চালু না হওয়ায় টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এসব জটিলতা কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্ট ও সুগন্ধা পয়েন্টের দি সি প্রিন্সেস হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার কার্যালয়ের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার, ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৭ বছর উন্নয়ন আর উন্নয়নের কথা বলতে বলতে আওয়ামী লীগ মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। কিন্তু আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, উন্নয়নের কিছুই হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এমপি।
শুক্রবার ময়মনসিংহের ভালুকায় আবাসিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিটিআরএস) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বাড়িতে ২০ কিলোওয়াট পিক এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল রানার বাড়িতে ৫ কিলোওয়াট পিক সক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকরা জানান, আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জটিল রোগে আক্রান্ত আরও কেউ যদি চিকিৎসা সহায়তার বাইরে থাকেন, তারা আবেদন করলে আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করছি, ভবিষ্যতেও কাজ করে যাব।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জটিল রোগে আক্রান্ত ছয়জন রোগীর প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও কাজ চলছে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে কীভাবে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে অনুযায়ী সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ছে। গত দুর্গাপূজাতেও প্রধানমন্ত্রী বেশি পরিমাণে অনুদান দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এসব সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়বে। জনগণের পাশে সরকার সব সময় আছে এবং থাকবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও সফিকুর রহমান সফিক, টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
চেক বিতরণ শেষে জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারি কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বিএনপি সরকারের অর্জনকে বিনাশ করতে রোড মার্চ নামে বিভিন্ন রকম কর্মসূচি দিয়ে বাংলাদেশ মানুষকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধীদল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে জেলা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির দলীয় কর্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, যারা একাত্তরকে বিশ্বাস করে না, যারা ২৪ কে বিশ্বাস করে না, যারা ৯০ কে বিশ্বাস করে না, এইরকম ফ্যাসিস্ট, এইরকম স্বৈরাচার এবং গুপ্তসূপ্তরা আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই তারেক রহমানের সরকার,যেই ক্রমবর্ধমান তাদের উন্নয়নের ধারাকে আজকের তৃণমূল পর্যায়ে প্রত্যেকটা গ্রামীণগঞ্জে, পাড়ায় মহল্লায় মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিচ্ছেন। এটাকে তারা বিনাশ করতে চান, ভিনিষ্ট করতে চান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,গতকাল ঠাকুরগাঁও উপ নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনে ছোট খাটো ভুল ছাড়া সুষ্ঠ নিরপেক্ষ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ১২ ফ্রেব্রুয়ারির নির্বাচনে যা ভোট পেয়েছিল, কালকের উপ নির্বাচনে তার চেয়ে অর্থেক ভোট পেয়েছে। তারেক রহমানের সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আর বিএনপির কর্মকান্ড মনে প্রানে বিশ্বাস করার কারনে বিএনপির এ বিজয় হয়েছে।
যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে যদি নেতৃত্ব দিতে চাই, সেই নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজের ইমেজ তৈরি করতে হবে। এইখানে কোন কর্মীর অপকর্মের দায়ভার কিন্তু আমরা যুবদল নিব না। কাজেই আমি মনে করি সেই ক্ষেত্রে আমাদের কোন ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড যেন দল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, দল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেই বিষয়ে কিন্তু তোমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে। নতুবা তুমি যত রকম তদবির করা না কেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেইখানে, আমি মনে করি তোমার কোন যোগ্যতা নাই। কারণ দল যদি তোমার কর্মকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেখানে তোমাকে মাথায় নিয়ে আমরা নাচবো।
এর আগে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই জায়গায় আসে।পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময়
জেলা যুবদলর সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবুর সঞ্চালনায়, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেলের সভাপতিত্বে, উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু,আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, ইউনুস শেখসহ যুবদলের নেতাকর্মীরা ।
সভাপতি সুশান্ত ও সম্পাদক ফারুক
আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্ট এর সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে রংপুর জেলা শাখার আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঘোষিত কমিটিতে দৈনিক মায়াবাজার এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সুশান্ত চন্দ্র ভৌমিককে সভাপতি ও ঢাকা পোস্টের রংপুর ব্যুরো প্রধান ফরহাদুজ্জামান ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের চেয়ারম্যান লায়ন মো. হেলাল উদ্দিন হিলু ও মহাসচিব মো. ওমর ফারুক সোহেল এই কমিটি অনুমোদন করেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করে কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য; আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্ট বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: সি-২০৫১৫০/২০২৫) একটি অলাভজনক সাংবাদিক সংগঠন। গত আগস্ট মাসে রাজধানীতে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির লোগো উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের প্রধান উদ্দেশ্য- সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা, ন্যায়বিচার ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন সাংবাদিক সমাজ গড়ে তোলা। মূল লক্ষ্য সাংবাদিকদের কল্যাণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।