নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তালা ভাঙার কাটার ও কয়েকটি গামছা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বহনকারী একটি প্রোবক্স গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে পাঠানো হবে। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চরকলমী বাজারের চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার সোনাইছড়ি এলাকার রফিকুল ইসলাম (৫৭), কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার রাজগঞ্জ এলাকার মইনুল ইসলাম (২৮), সীতাকুণ্ডের জাহানাবাদ এলাকার মিজানুর রহমান (২৫), কোম্পানীগঞ্জের চর এলাহী ইউনিয়নের চরকলমী এলাকার নুর নবী (৩৯), একই এলাকার নুর মোহাম্মদ (৩২) এবং গাড়িচালক সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকার আজিজুল মোস্তফা (৩৫)।
পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর কলমী বাজার চৌরাস্তা এলাকায় রাত্রিকালীন টহল দিচ্ছিল পুলিশ। এ সময় এসআই সুমন চন্দ্র দাসের সন্দেহ হলে একটি সিলভার রঙের প্রোবক্স গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটিতে চালকসহ ছয়জন ছিলেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে তালা ভাঙার কাটার ও কয়েকটি গামছা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ ও আজিজুল মোস্তফার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকিম বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা হয়েছে। জব্দ করা সিলভার রঙের প্রোবক্স গাড়িটি থানায় রাখা হয়েছে। ওই মামলায় আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নীলফামারী জেলা পরিষদ
স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ বাস্তবায়নের অন্যতম মাধ্যম জেলা পরিষদ। তবে নীলফামারীতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মালামাল না কিনে ভুয়া ভাউচারে বিল তোলা এবং ১০ শতাংশ কমিশন ছাড়া ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদের বিরুদ্ধে।
নিয়ম মেনে কাজ শেষ হলেও বিল পেতে ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। মূল কারণ ১০ শতাংশ 'কমিশন'। ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দেওয়া পর্যন্ত ফাইল সই করেন না জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ।
অনিয়মের চিত্র কতটা প্রকট, তার বড় প্রমাণ জলঢাকার গোপালঝাড়ের বুড়িতিস্তা নদীর 'চেয়ারম্যানের ঘাট' ব্রিজ। নির্মাণাধীন এই ব্রিজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ না করেই তুলে নেওয়া হয়েছে পুরো অর্থ। প্রকল্প সভাপতি বলছেন, এই বিল পেতে মামুন উর রশিদকে দিতে হয়েছে টাকা।
একই চিত্র জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংস্কারেও। বাইরে থেকে মাটি আনার কথা থাকলেও ব্যবহার করা হয়েছে মাঠের ময়লা-বর্জ্য। আর নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে একটু বৃষ্টিতেই জমে থাকছে পানি। শুধু তা-ই নয়, ৪টি গাছ কাটার অনুমতি থাকলেও সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজশে ঠিকাদার কেটেছে দ্বিগুণেরও বেশী মূল্যবান গাছ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীরাও।
অনিয়মের জাল পুরো জেলাজুড়েই। ডোমার সড়কের সীমানা তোরণ নির্মাণের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে রংপুর-দিনাজপুর সড়কের ওয়াপদা মোড়ে ২১ লাখ টাকার যাত্রী ছাউনি নিয়েও। অভিযোগ-নিম্নমানের ও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বরাদ্দের অর্থ। ব্যবহারের আগেই ভেঙে পড়েছে শৌচাগারের দরজা ও কল। অথচ কোনো তদারকি ছাড়াই এই বিল ছাড় করেছেন প্রকৌশলী মামুন।
জালিয়াতি কেবল প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়, মিলেছে ভুয়া বিল ভাউচারে সরকারি টাকা আত্মসাতের প্রমাণও। নীলফামারীর 'সরকার মটরস'-এর মেমো বানিয়ে হেলমেট, রেইনকোট,স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন কেনাকাটার নামে জেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন মামুন উর রশিদ। অথচ অফিসে মেলেনি এসব সামগ্রীর হদিস। আর শোরুম কর্তৃপক্ষের দাবি,মেমোর লেখা ও স্বাক্ষর দুটিই ভুয়া, বিক্রিও হয়নি কোনো মালামাল।
তবে নিজের দায় এড়াতে সব দোষ হিসাব শাখার ওপর চাপাতে চান মামুন উর রশিদ। যদিও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও, হিসাব শাখা নিশ্চিত করেছে, মেমো জমা দিয়ে টাকাটা ইন্জিনিয়ার (মামুন) নিজেই তুলেছেন।
এছাড়া নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের সব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ। তার দাবি, নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে সব কাজ। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পরিষদ প্রশাসন।
উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ আর কমিশন বাণিজ্যের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রুত প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি নীলফামারীর সাধারণ মানুষের।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন লালপুর উপজেলার ৩৩ নং বিলমাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝর্ণা ইয়াসমিন। বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও দিনটি যেন ছিল স্মৃতি, ভালোবাসা আর আবেগে ভরা। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের চোখে-মুখে ছিল বিষণ্নতার ছাপ।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত হয় তাঁর বিদায় সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক কখনো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন; তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখান, মানুষ হওয়ার পথ দেখান। দীর্ঘদিন ধরে ঝর্ণা ইয়াসমিনও সেই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক মনজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন লালপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোছাম্মৎ নার্গিস সুলতানা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান, বিলমাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন, গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই নান্নু এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আনেজ উদ্দিন, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান শিক্ষক আক্কাস আলী লালপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার তাইয়েজুল ইসলাম সফল বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা সুলতান মাহমুদ সাইফী প্রমুখ।
বক্তারা ঝর্ণা ইয়াসমিনের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তাঁর নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি মমত্ববোধ বিদ্যালয়ের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। একজন শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য তাঁর পদ-পদবিতে নয়, বরং কতগুলো হৃদয়ে তিনি নিজের জন্য একটি স্থায়ী আসন তৈরি করতে পেরেছেন- ঝর্ণা ইয়াসমিনের বিদায় যেন তারই প্রতিচ্ছবি।
শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ পথচলায় বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তৈরি হয়েছে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক। শ্রেণিকক্ষের পাঠদান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের শাসন, স্নেহ ও উৎসাহ দেওয়ার অসংখ্য স্মৃতি আজও সহকর্মী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মনে জাগরুক। তাই অবসরের বিদায় ছিল কেবল একজন শিক্ষকের কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়া নয়; এটি ছিল প্রিয় একজন অভিভাবকতুল্য মানুষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর অবসর-পরবর্তী জীবনের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও শান্তি কামনা করেন। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ঝর্ণা ইয়াসমিনও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
একজন শিক্ষক অবসরে যান, কিন্তু তাঁর হাতে গড়া মানুষগুলো থেকে যায়। থেকে যায় তাঁর শেখানো মূল্যবোধ, স্নেহের স্মৃতি আর অসংখ্য গল্প। বিলমাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও তেমনি ঝর্ণা ইয়াসমিনের কর্মময় দিনের স্মৃতিগুলো থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
বিদায় তাই এখানে শেষ নয়-এ এক নতুন জীবনের পথে যাত্রা। আর প্রিয় শিক্ষকের জন্য বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে উচ্চারিত হলো একটাই শুভকামনা-ভালো থাকুন ঝর্ণা ইয়াসমিন, আপনার আগামীর দিনগুলো হোক আরও সুন্দর ও আনন্দময়।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি নাগরিক আসাদুজ্জামানের মরদেহ বিজিবির কাছে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। গতকাল রোববার রাত ৯টার সময় পীরগঞ্জ উপজেলার দানাজপুর বিওপির আওতাধীন এলাকায় মরদেহটি হস্তাস্তর করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভারতের রায়গঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন।
এর আগে শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে বিএসএফের গুলিতে আসাদুজ্জামান নিহত হন। তিনি উপজেলার ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় মোস্তাকিম ও শ্রী উদা রায় নামে আরও দুই বাংলাদেশি যুবক বিএসএফের হাতে আটক রয়েছেন। মোস্তাকিম একই গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা রায় মুনষা নারায়ণের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল গুলি চালায়। এতে তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রোববার রাতে তার মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে মরদেহটি দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি ও পুলিশ। তবে এখনো মোস্তাকিম ও শ্রী উদা রায় ভারতে আটক আছেন।
নোয়াখালী জেলা জজ আদালত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত সাইদুল ইসলাম শাহীন হত্যা মামলার রায়ে মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ছয় আসামিই এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। হাজতি আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে জেল হাজত থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর পাঁচ আসামি নূরউদ্দিন ওরফে সমীর, সিরাজ আলম ওরফে সিরাজুল ইসলাম, কাজুলী বেগম, রোকসানা বেগম ও আফরোজা বেগম হাজিরা দাখিল করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ আলমের ছেলে। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নূর উদ্দিন ওরফে শমীর একই ওয়ার্ডের নূর নবীর ছেলে।
রায়ে সাইফুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নূর উদ্দিন ওরফে মো. শমীরকে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৩০৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরাজ আলম ওরফে সিরাজুল ইসলাম, কাজুলী বেগম, রোকসানা বেগম ও আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৩২৩/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৬ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সলিম উল্লাহর বসতবাড়ির সামনে সীমানার করই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের বিষয়ে সালিশি বৈঠক চলাকালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মামলার বাদীর ছেলে সাইদুল ইসলাম শাহিনকে গলায় লোহার রড ঢুকিয়ে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সাইদুল ইসলাম শাহিনের মৃত্যু হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাপসকর হোসেন মো.খায়রুল ওয়ালা। তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে সাজা ভোগের জন্য সাজা পরোয়ানামূলে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্ত আসামি ও তাদের জামিনদারদের জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধন করেছে ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকাবাসী
সড়ক নির্মাণ ও চলাচলের উপযোগী করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মল্লিকপুর- সূর্যপাশা সড়কটির দুরবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অবহেলিত নলছিটি পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক দ্রুত নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান তারা।
নলছিটি- বরিশাল সড়কের মল্লিকপুর নামক স্থানে আজ সোমবার সকাল ১১টায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী জনগণ।
এতে ব্যবসায়ী মোঃ মনির হোসন বক্তব্য কালে তিনি বলেন নলছিটি পৌর সভা কর্তৃপক্ষ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের করের টাকা ও ট্যাক্স আদায় করে থাকে কিন্তু মানুষের কল্যাণে কোন কাজ হয় না, তাহলে এ পৌর সভা রেখে লাভ কি এটাকে বাতিল করে দেয়া উচিৎ।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া আরো ভুক্তভোগীরা জানান, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের দুরবস্থা আরও প্রকট হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত সড়ক নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান মানববন্ধনকারীরা।
ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যালয়ের পাশেই সহপাঠীর বাড়ি। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে সহপাঠীকে খুঁজতে তাদের বাড়িতে যায় সাত বছরের শিশুটি।
তবে সহপাঠীর বাবা জামিনুর ইসলাম (৩২) ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিল না। এ সুযোগে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। পরে নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে চাপা দেওয়া হয় শিশুটির মরদেহ।
গতকাল রোববার রাতে মাদারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জামিনুর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন।
শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। গত শনিবার রাতে জামিনুরের বসতঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই জামিনুর ও তাঁর স্ত্রী সবুজাকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জামিনুরের মেয়ের সহপাঠী ছিল শিশুটি। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে এবং বিদ্যালয় থেকে জামিনুরের বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করত শিশুটি। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে শিশুটি জামিনুরের বাড়িতে যায়। সেদিন জামিনুরের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বোনের বাড়িতে রান্না করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জামিনুর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
শিশুটির মামা মুঠোফোনে বলেন, মানুষটি কীভাবে এত ছোট ও নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারলেন! পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না; তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।