নওগাঁয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৪ পিএম

নওগাঁয় অবৈধভাবে সুগন্ধি চাল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির দায়ে দুই চালকল মালিকের জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে শহরের ইয়াদ আলীর মোড় ও জবার মোড়ে অভিযান চালিয়ে বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং টি কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকের বিরুদ্ধে এই জরিমানা করা হয়।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এসময় নওগাঁ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বিপণন কর্মকর্তা সোহাগ সরকার ও জেলা পুলিশের একটি দল তার সঙ্গে ছিলেন।


রুবেল আহমেদ বলেন, “বাজারে সুগন্ধি ও আতপ চালের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চাল মজুতের সঠিক তথ্য দিতে না পারা এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ১৫ দিনের বেশি চাল মজুত রাখায় বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ২০ হাজার টাকা ও টি কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।”


তিনি বলেন, “বাজারে সুগন্ধি চালের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে ১৫০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০-২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মিল মালিক ১৫ দিনের বেশি চাল মজুত রাখতে পারবেন না। কিন্তু এই দুটি মিল কর্তৃপক্ষ তাদের মজুত করা চাল কত দিনের, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ার অজুহাতে মিলগেটে চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




আসামি জাকির হোসেন ও শিশু ফাহিমা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

সিলেটের আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।


মামলার বাকী দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস দিয়েছেন আদালত।




আজ বৃহস্পতিবার সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু ওবায়দা এই রায় ঘোষণা করেন।


তবে মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল ও কালামকে খালাস দেওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণেই ভেঙে পড়েন ফাহিমার স্বজনরা। তাদের দাবি- মরদেহ গুমের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়ায় বিচার পূর্ণতা পায়নি।


শিশু ফাহিমা ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় রায় প্রদান করা হলো। এরআগে, মামলার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়। এতে ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করে এবং লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার ২ ভাই জয়নাল ও কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।


নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।


চলতি বছরের ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দু’দিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশি চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। মূলত ধর্ষণ চেষ্টা করে শিশুটি অজ্ঞান হওয়ায় গলাটিপে তাকে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তিতে জানায় জাকির।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পিপি মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে সিলেটের আদালতে একটি উদাহরণ সৃষ্টি হলো। এমন ঘৃণ্য অপরাধ করে কেউ ছাড় পায় না, আজকের রায় তারই প্রমাণ।


আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে চার বছরের ফাহিমাকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ধরা পড়ার ভয়ে তার গলা টিপে হত্যা করে জাকির। এরপর মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে দুই দিন নিজের ঘরে লুকিয়ে রাখে। পরে গভীর রাতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়।


এ ঘটনায় ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই বিচার শুরু হয়। মাত্র এক মাসের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।


রায় ঘোষণার আগে ও পরে আদালতে হাজির করার সময় জাকিরকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত মানুষ। এর আগেও একাধিকবার আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তিনি উত্তেজিত জনতার হাতে হেনস্তার শিকার হন।


মামলার সাক্ষী আনসার আহমদ বলেন, যারা মরদেহ গুমে সহযোগিতা করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি, তারা খালাস পেয়েছে। এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি।


ফাহিমার চাচা আবদুল হক বলেন, সব দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই বিচার অপূর্ণ থেকে যাবে।


ফাহিমার বাবা রাইসুল হক আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।


ফাহিমার বাবা রইসুল হক বলেন, আমার মেয়েকে আর ফিরে পাবো না। জাকিরের ফাঁসি কার্যকর হলে অন্তত মনে হবে, আমার সন্তানের হত্যার বিচার হয়েছে।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রুবিনা বেগম বলেন, আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই কষ্ট কোনো দিন শেষ হবে না। আমি শুধু চাই, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সবাই যেন শাস্তি পায়।


বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান জানান, দুই আসামিকে খালাস দেওয়ার রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর খালাসের অংশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। 


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫০ পিএম

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।


 বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপকারভোগীদের মধ্যে মোট ২৩ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুদানের চেক বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির।


 অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না।


এ সময় জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, চিকিৎসাবঞ্চিত রোগী এবং অসহায়-দুস্থ গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার লক্ষ্যে এই আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্যানসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তায় অনুদান দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


তিনি আরও বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা পরিষদের দায়িত্ব। শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে সহায়তা অব্যাহত থাকলে অনেক পরিবার উপকৃত হবে এবং অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।


অনুদানপ্রাপ্ত কয়েকজন অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তি জানান, এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে তারা অত্যন্ত খুশি। দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। জেলা পরিষদের দেওয়া এই অনুদানের টাকা দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তারা জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।


অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের হাতে চেক তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অনুদান কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৫ পিএম

শরীয়তপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে মানবতার আলো ফাউন্ডেশন (এমএএফ)-এর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে মানবতার আলো ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ইয়াছিনের এ র‍্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।


এ সময় অংশগ্রহণকারীরা“আপনার চারপাশ রাখুন সাফ, ডেঙ্গু ছড়াবে না এক ধাপ”, “ময়লা-আবর্জনা দূর করি, সুস্থ-সুন্দর শহর গড়ি”, “আজকের পরিচ্ছন্নতা, আগামীকালের সুস্থতা” এবং “পরিচ্ছন্ন শহর, সুস্থ জীবন— মানবতার আলোর অঙ্গীকার।”সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন। 


পরে মানবতার আলো ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ইয়াছিনের সভাপতিত্বে র‍্যালি শেষে বক্তব্য রাখেন শরীয়তপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার


ডা. কাওসার হোসেন, শরীয়তপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস পাহাড় এবং সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান রনি।


বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (৫ আগষ্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু।



পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান খান লাভলু, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লা, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী নুর হাসান প্রমূখ। 


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, "গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দেশ যেন আর কখনও স্বৈরশাসনের পথে ফিরে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।" 


উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং নির্যাতন সহ্য করেছেন, আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করছি। অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই তাদের দমাতে পারে না। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। 


পরিশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ এএম

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।


প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।


তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।


তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।


সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।


জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। এছাড়া আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব। 


তিনি আরও বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ'—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবেই অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।


এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।



সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়া হয়েছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ এএম

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের মাগুরার পৈত্রিক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার কেশব মোড়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির দক্ষিণ পাশের লোহার গেটের ওপরের অংশ লক্ষ্য করে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গে নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয় লোকজন। ফলে বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।


মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাড়ির জানালার কয়েকটি কাচ ভেঙে গেছে। এতে কেউ হতাহত হননি। সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বাড়ির লোহার গেটের উপর পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছিল।


ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এটি পেট্রোল বোমা কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।



প্রতিবেশী আহসান হাবিব বলেন, “কয়েকজন যুবক এসে ঢিল দিয়ে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন। পর পর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। পরে বাড়ির লোহার গেটের ওপরের অংশে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তা নিভিয়ে ফেলেন। অবশ্য এ সময় সাকিবের পরিবারের লোকজন ওই বাড়িতে ছিল না।”



তিনি বলেন, “বাড়িটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর। ওই যুবকরা গেইট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভাঙতে পারেনি। ৫ অগাস্টের পর থেকে ওই বাড়িতে শুধু একজন কেয়ারটেকার আছেন। হামলার পর যুবকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।”


স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সন্ধ্যায় একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাকিব আল হাসান। লাইভ শেষ হওয়ার পর পরই কয়েকজন যুবক এসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।”


ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো। তবে কিছুক্ষণ আগে পুলিশ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন।