শরীয়তপুরের জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগ ও স্ট্যাটাসের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) কলেজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় বক্তব্য দেন গভর্নিং বডির সভাপতি মো. বজলুর রশিদ সিকদার।
লিখিত বক্তব্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলেজে চুরি, চাঁদাবাজি, নিয়মবহির্ভূত অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং আর্থিক অনিয়মের যেসব অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষাকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা এবং অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পরিবর্তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার শিক্ষা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও তারা মন্তব্য করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘তারেক রহমানের কাছে এত বড় গ্যাংস্টার বাংলাদেশে আছে। কি নাই তার কাছে? জিকে গউসের মত অস্ত্র আছে, আব্বাস সাহেবের মত অস্ত্র আছে, বুলু সাহেবের মত অস্ত্র আছে, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র্যাংকিংয়ে কম? কারো কারো কাছে মাদক, কারো কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের সাহেবের ছেলেরা এক জায়গায় বসা, খসরু ভাই আছে। এগুলো র্যাংকিং করলে ইতালির যেকোনো মাফিয়াকেও হার মানাবে।’ শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথাগুলো বলেন।
কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশে যা করতেছে, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য লজ্জার। তিনি রাজনীতির সংস্কৃতিকে অসংস্কৃত ও সহিংসতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, তার রাজনীতি করা ইচ্ছা নাই। ইতালিতে বড় বড় মাফিয়া গ্যাং থাকে না উনি সেই গ্যাংবাজি করছেন। তাহলে উনি বলে দিক যে, আমি আজকে থেকে গ্যাংবাজি করব, আমি রাজনীতি করব না। রাজনীতিতে গ্যাংবাজি করার কি দরকার?
আপনি কি ভয় পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভয় তো পাবোই। এত বড় গ্যাংস্টার বাংলাদেশে আছে। কি নাই তার কাছে? জিকে গউসের মত অস্ত্র আছে, আব্বাস সাহেবের মত অস্ত্র আছে, বুলু সাহেবের মত অস্ত্র আছে, সালাউদ্দিনের মতো অস্ত্র তার কাছে আছে। কে কার চেয়ে কোন র্যাংকিংয়ে কম? কারো কারো কাছে মাদক, কারো কাছে টেন্ডার, সালাউদ্দিনের সাহেবের ছেলেরা এক জায়গায় বসা, খসরু ভাই আছে। এগুলো র্যাংকিং করলে ইতালির যেকোনো মাফিয়াকেও হার মানাবে।’
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের এই ধরনের মাফিয়াগুলাকে ছেড়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসের রাজত্ব ছেড়ে দিয়েছে। আমার তো ভয় পাওয়া, মানুষও ভয় পাইতেছে, সবাই আমরা ভয় পাইতেছি । আমরা একটা টেরর রাজ্যে আসছি। মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে পাটওয়ারী বলেন, ‘মামলায় হামলা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ আনা হলেও সেসবের কোনো সত্যতা নেই।
তিনি বলেন, আমি যে মামলাগুলো দেখেছি, সেখানে অনেক ইন্টারেস্টিং বিষয় লেখা হয়েছে। বলা হয়েছে আমরা হামলা করেছি, হয়রানি করেছি, ছিনতাই করেছি। এসব কতটুকু সত্য, সেটা দেশবাসী দেখেছে।
মামলায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা বলছে আইফোন ছিনতাই হয়েছে। সেটি কি জি কে গাউসের আইফোন, নাকি তারেক রহমানের আইফোন ছিল? এসব অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন বাদাম এলাকার ভিছারটেকের হাজী কালু মিয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার এক শিক্ষক কর্তৃক দুই শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক হলেন মো. ইব্রাহিম খলিল (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার ঘোষবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মকবুল হোসনে এবং মাতা রহিমা খাতুন। তিনি টঙ্গীর বাদাম এলাকার মুদাফা হাজী কালু মিয়া মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় নির্যাতিত এক শিশুর পিতা রুবেল আহমেদ দূর্জয়, পিতা আব্দুল হামিদ, মাতা মনোয়ারা বেগম, সাভার উপজেলার ডেন্ডাবর এলাকার বাসিন্দা, টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজ ভোর প্রায় ৪টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার দুই শিশুশিক্ষার্থীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি শিশু দুটি তাদের পরিবারের সদস্যদের জানালে তা দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাজারো মানুষ মাদ্রাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতের দিকে কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মাদ্রাসা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় বিএনপির টঙ্গী পশ্চিম থানা সভাপতি আসাদুজ্জামান (বিপি আসাদ) উপস্থিত থেকে জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ, এসআই শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, স্পর্শকাতর এবং সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের। শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। কেউ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার দায়িত্বে থাকলেই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করি। প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চলবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের সঙ্গে এমন জঘন্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সাহস কেউ না পায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় টঙ্গীর গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গাজীপুরা থেকে এশিয়া পাম্প এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গাজীপুরা এলাকায় এসে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান অভিযোগ করে বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের বিরুদ্ধে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এত অভিযোগ থাকার পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন পর্যন্ত কেন মামলা দায়ের করেনি—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রমে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান অভিযোগ করেন, উলামা লীগের নেতা ইসমাইল এবং গাছা থানা আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রহিমসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা এবং হয়রানিমূলক মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় জনগণ এসব আচরণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আরমান হোসেন, জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, এনসিপি গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ কাশেম মাস্টার, জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুক এবং জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের মুখ্য সংগঠক আকাশ ঘোষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পুরস্কার বিতরণ করেন এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু
নওগাঁর পার-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেছেন নওগাঁ সদর আসনের এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানকালে এমপি বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এমপি ওই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজম রানা ও ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফতাবুল আলম মিন্টু বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোজাহারুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।
ফুটবল বিতরণ উদ্বোধন
বৃহত্তর যুবসমাজকে মাদক ছেড়ে ক্রীড়ায় মনোনিবেশে উৎসাহীত করার লক্ষ্যে নওগাঁর মহাদেবপুরে আন্তঃওয়ার্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯০টি ওয়ার্ডে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা শেষে উপজেলা পর্যায়ে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের জন্য ফুটবল বিতরণ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টায় এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে মহাদেবপুরে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপির রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফুটবল বিতরণ উদ্বোধন করেন। এদিন উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্যদের হাতে ৯টি ফুটবল তুলে দেন তিনি।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে উপজেলা বক্তব্য দেন, ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও উপজেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি ইমরুল কায়েস সাজু, টুর্নামেন্টের দায়িত্বে থাকা এনায়েতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এরশাদ আলী প্রমুখ। এসময় অন্যদের মধ্যে উপজেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী রওশন জাহান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ইথার হোসেন, গৌতম কুমার, এনায়েতপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো: বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী, এনায়েতপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সাবেক মেম্বার রেজাউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংবাদিক বরুণ মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁর বদলগাছীতে মর্তুজা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মুখ-হাত-পা বেঁধে, কোমরে ইট ঝুলিয়ে খালের পানিতে ফেলে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তিনি উপজেলা সদরের হাড়িপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। জানতে পেরে স্থানীয়রা তাকে তাৎক্ষনিক উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া নয়টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাতাজি রোড এলাকার নুরজাহান নূরানী হাফেজিয়া কওমি মাদ্রাসার পাশের একটি খালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্বৃত্তরা মর্তুজাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে এবং কোমরে পাঁচটি ইট বেঁধে ক্যানেলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পাশে থাকা একটি ওয়েল্ডিং দোকানের মালিক রুবেল শব্দ পেয়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে ক্যানেলের ভেতর মর্তুজাকে দেখতে পান। তার চিৎকার ও খবরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।