• প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২১ পিএম

দেশের জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে আরও কিছু সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির বর্তমান সংকট তাৎক্ষণিকভাবে দূর করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে এবং এই সময়টিকে সবাইকে মেনে নিতে হবে।


বুধবার (৫ আগস্ট) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার ফল। বাংলাদেশ জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হলেও অতীতে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও গ্যাসীকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। ফলে দুই-তিন দিন পরপর কয়েক ঘণ্টার লোডশেডিং হচ্ছে।


তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, শিল্প-কারখানা সচল রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এই সময়টিকে একটি পরিবর্তনকাল হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।


খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অস্থিমজ্জায় জবাবদিহিতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ধারণ করতে পারলে দেশ পরিবর্তন করা কঠিন নয়। উন্নয়ন একটি সম্মিলিত প্রয়াস এবং জুলাই আন্দোলনে গড়ে ওঠা তারুণ্যের সামাজিক শক্তিকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।


তিনি আরও জানান, সিলেটে বর্তমানে দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে। চলতি বছরই প্রায় ১৮৭ একর জায়গাজুড়ে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শুরু হবে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ এবং সিলেট-চট্টগ্রাম সড়কের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সময়ে আখাউড়া-সিলেট রেলপথের পাশাপাশি সিলেট-চট্টগ্রাম রেলসংযোগের কাজও সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।


আলোচনা সভায় জুলাই যোদ্ধারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হয়রানি ও অসম্মানিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। জুলাই যোদ্ধা লিটন আহমদ বলেন, ভাতার জন্য কেউ আন্দোলনে যাননি। বরং গেজেটপ্রাপ্ত যোদ্ধারা নানা ধরনের হুমকির মুখে রয়েছেন। একই সঙ্গে জুলাই-সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে ধীরগতিরও সমালোচনা করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের স্বজনদের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হন এবং শহীদ পরিবার গুলোর নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান।


সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, এসএমপি কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৪টি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি কমে এবং বাড়ে, কয়েক দফায় এমন পরিস্থিতির পর আবারও বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ৫২.১৬মিটার (বিপদসীমা ৫২.১৫মিটার) যা বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

‎পানি বৃদ্ধির এ হার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। আগামী ২/৩ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

‎তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্ধুর্ণা, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে বহু কাঁচা-পাকা সড়কে পানি উঠে পড়ায়।

‎স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ঘন্টার ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগেও কয়েক দফায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে। ফের উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি আবার বাড়ছে।

‎এছাড়া তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদি পশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

‎দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ রায় বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বুধবার ভোর থেকে আবারও বেড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিনদিনের মাথায় পানির প্রবাহ কমে যেতে পারে।

‎এদিকে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টায় ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ২৯.৭০মিটার (বিপদসীমা ৩০.৮৭মিটার) যা বিপদসীমার ১১৭সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

‎লালমনিরহাটের ধরলা নদীর ভাঙনে মোগলহাট ইউনিয়ন ছাড়াও লালমনিরহাট সদর উপজেলার আরও ২টি (কুলাঘাট ও বড়বাড়ী) ইউনিয়নে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

‎পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধরলা নদী পাড়ে হু হু করে পানি বেড়ই চলছে। হঠাৎ এ পানি বৃদ্ধি পাওয়ার লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ী এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাটসহ সবজির খেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল।


এছাড়াও বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টা তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় ৬সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

‎উল্লেখ্য যে, লালমনিরহাটের তিস্তা, ধরলা, রত্নাই, স্বর্ণামতি, সানিয়াজান, সাকোয়া, চাতলা, মালদহ, ত্রিমোহীনি, মরাসতি, গিরিধারী, গিদারী, ধোলাই, শিংগীমারী, ছিনাকাটা, ধলাই ও ভেটেশ্বর নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গের খবর পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৩ পিএম

লালপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে লালপুর উপজেলা  প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


বুধবার ( ৫ আগস্ট)  উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) মোঃ আবীর হোসেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার আব্দুল্লাহ , উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড়, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী মৃধা,  নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর উপ-পরিচালক রেজাউল করিম,উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাদ আহমেদ , বৈষম্য ছাত্র আন্দোলন প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ প্রমুখ। 


এ সময় রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

টঙ্গী হাজী মাজার বস্তিতে অভিযান; হেরোইন ও দেশীয় অস্ত্র সহ নগদ টাকা উদ্ধার

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৫ পিএম

গাজীপুরে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, দেশীয় অস্ত্র, নগদ টাকা, বিদেশি মুদ্রা, মাদক প্যাকেজিংয়ের সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এ সময় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।


বুধবার (৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


পুলিশ জানায়, অভিযানে আনুমানিক ২১৯ গ্রাম হেরোইন, ২ হাজার ১০০ পুরিয়া হেরোইন (প্রায় ১.৬ কেজি), নগদ ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা, ২৮০ ওমানি রিয়াল, ১৫টি রামদা, দুটি সামুরাই, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি প্লাস্টিকের খেলনা পিস্তল, ১০টি স্টিলের পাইপ, একটি টাকা গণনার মেশিন, একটি প্যাকেজিং মেশিন, তিনটি ডিভিআর, স্বর্ণ সদৃশ তিনটি চেইন, সাতটি আংটি ও দুটি ব্রেসলেট এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে দুইজন মাদকাসক্তকে আটক করা হয়েছে।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার-এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাছা/টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার, টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি পুলিশ, এপিবিএন এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে প্রায় ১ জন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি অপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দেখা গেছে জ্বর, ডায়রিয়া ও কাশির মতো তীব্র রোগের চিকিৎসায়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং ট্রমাজনিত চিকিৎসাসেবাতেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।


সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী পিএলওএস গ্লোবাল পাবলিক হেলথ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।


গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁন, বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বাদশা আলম ও মো. সোহেল রানা এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারেন ব্লক।


গবেষণায় ২০২৩ সালের ভাসানচর চাহিদা মূল্যায়ন এবং ২০২৪ সালের যৌথ বহুখাতভিত্তিক চাহিদা মূল্যায়ন-এর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ১১ হাজার ৪২১ জন রোহিঙ্গার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩৫৭ জন কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির এবং ১ হাজার ৬৪ জন ভাসানচরের বাসিন্দা।


গবেষণায় দেখা যায়, মোট অংশগ্রহণকারীদের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাননি। কক্সবাজারে এ হার ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ভাসানচরে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্রে বড় পার্থক্য না থাকলেও কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বৈষম্য স্পষ্ট।


উখিয়ার তুলনায় টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চনার হার ছিল টেকনাফের নয়া পাড়া শরণার্থী শিবিরে, ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ছিল উখিয়ার ক্যাম্প-১৮-এ, ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।


অপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ৮০ শতাংশ মানুষ তীব্র রোগের চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি। এছাড়া ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা পরামর্শ, ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা, ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ট্রমাজনিত চিকিৎসাসেবা এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভাসানচরে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও ট্রমাজনিত চিকিৎসাসেবার অপূর্ণ চাহিদা কক্সবাজারের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি পাওয়া গেছে।


গবেষণায় আরও দেখা যায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তুলনায় ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার ঝুঁকি ৫৪ শতাংশ বেশি। মাঝারি ও গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য।


গবেষকদের মতে, ভাসানচরে স্থানান্তরের কারণে সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা না গেলেও কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা জোরদার, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবার পরিসর বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা।


গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করতে সরকার, জাতিসংঘ এবং মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী বৃদ্ধি এবং অধিক চাহিদাসম্পন্ন শরণার্থী শিবিরগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২২ পিএম

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঠাকুরগাঁওয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও র‍্যালি করা হয়েছে।


(৫ আগষ্ট)বুধবার সকালে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থাপিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। 


প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


এসময় জুলাই যোদ্ধারা একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। 


জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা।


এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করছে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪০ পিএম

লালপুরের ঈশ্বরদীতে অ্যাম্বুলেন্স, ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও স্যালো ইঞ্জিনচালিত কুত্তা গাড়ির ত্রিমুখী সংঘর্ষে মো. ইয়ারুল (৩০) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।


বুধবার ( ৫ আগষ্ট ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়ারুল লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের উধনপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে করে ইয়ারুলসহ কয়েকজন শ্রমিক পাশের ঈশ্বরদী উপজেলার জয় নগর এলাকায় ধান রোপণের কাজে যাচ্ছিলেন। পথে নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি দ্রুতগতির অ্যাম্বুলেন্স অটোভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কার ফলে অটোভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কুত্তা গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়ারুলের মৃত্যু হয়।


দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত বাবু (৪০) ও সাজদার (৫০)-কে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সব খবর