বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।
তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। এছাড়া আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব।
তিনি আরও বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ'—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবেই অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর, এমপি।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি এসব উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন করা উন্নয়নকাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬৭ নম্বর নিজ ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং ৭৬ নম্বর দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ। এ ছাড়া ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জাকির পেশকারের অফিস থেকে বেলায়েত হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত এবং পেশকার মসজিদ থেকে ইউনুসের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
একই ওয়ার্ডে বড় কানুয়া আলীর দোকান সংলগ্ন বিসিসিটিএফ সিসি রোড থেকে হাওলাদার বাড়ি-বেপারী বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজেরও উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. হাসিবুল হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সদস্য সচিব মাসুদ রানা পলাশ, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম মান্নান উৎপল হাওলাদার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শামীম হাওলাদার প্রমুখ।
এছাড়াও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আসামি রাজিব
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আসামিদের বাড়ির টিনের বেড়া ও চাল ভেঙে খুলে পাশে স্তূপ করে রাখা হয়।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে রাজিব (২৩) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এ হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে চর কালিবাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, শরীফ মিয়া ও আরিফ মিয়াসহ পাঁচ যুবক প্রথমে পানি ও কুড়াল চান। পানি দেওয়ার জন্য দরজা খুললে তাঁরা ওই নারীর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনার পর রাতেই রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন।
মামলায় চর কালিবাড়ি এলাকার তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩) ও আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২), মোফাজ্জলের ছেলে রাজিব (২৩) এবং নূরুর ছেলে এনামুলকে (২২) আসামি করা হয়েছে। মামলার পাঁচ আসামিই চর কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আসামিদের শাস্তির দাবিতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে রোববার ও সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা দুই দফা আলোচনা করেন। এর পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্র হয়ে মামলার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ভাঙচুরে আসামিদের টিনের বসতঘরের বেড়া ও চাল ভেঙে ফেলা হয়। পরে খুলে নেওয়া টিন বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। তবে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘এমন ন্যক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়া দরকার। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভাঙচুর চললেও ওই সময়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল না।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা খবর পেয়েছি। চর কালিবাড়ি এলাকায় আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ফিলিং স্টেশনকে জ্বালানি তেল পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগে ৩৫ হাজার টাকা এবং একটি হোটেল-রেস্টুরেন্টকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ভূল্লী থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ঠাকুরগাঁও জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ এস এম মাসুম উদ-দৌলা।
অভিযানকালে কুমারপুর এলাকার মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়। সেখানে জ্বালানি তেল পরিমাণে কম দেওয়ার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া ভূল্লী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে অবস্থিত অতিথি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাবারের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় খাবার বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসা পরিচালনায় নিয়ম-কানুন মেনে চলা, সঠিক পরিমাপে পণ্য সরবরাহ এবং খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
অভিযান চলাকালে ভূল্লী থানা পুলিশের সহযোগিতা ছিল। অভিযানের পর এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বরগুনা জেলা কারাগারে নেওয়ার সময় জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাত করা ভেঙে কৌশলে পালিয়ে যাওয়া আল আমিনকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আটকের পরে আজ রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
জানা গেছে- পুলিশ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় জি. আর ৩৩১/২৫(বর) মামলা দায়ের করেন। উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২১ সেপ্টেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ রায় প্রদান করেন এবং the Penal Code এর ২২৫ (বি) ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট মোঃ আনোয়ার হোসেন আসামি আল আমিনকে ১ মাস ১৫ দিনের সশ্রম কারাদন্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনদায়ে আরো ১০ দিন বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে রায় ঘোষণা করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, আসামি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ স্বীকার করলেও দাবী করেন ঘটনাটি তার অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং তিনি মনে করেছেন তার জামিন হয়েছে, তাই তিনি আদালত চত্বর ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বেঞ্চ সহকারি মোঃ কামাল হোসেন বলেন- ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট আল আমিনের বিরুদ্ধে বরগুনা সদর আদালতে পারিবারিক ডিক্রি ৩৬/২০১৮ জারি থাকায় আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজ্ঞ বিচারক।
তিনি আরও জানান- ওইদিন ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের ভ্যানে উঠানোর সময় মানুষের ভিড়ে হাতকড়া খুলে কৌশলে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিমান্ডে
সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওসমান গনিকে (৩২) দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়াস্থ’ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ওসমান গনিসহ অপরাপর সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সংহতি, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে গোপনে সমবেত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার চক্রান্ত করছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে দেখা গেছে, আসামি ওসমান গনির বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ধারা অনুযায়ী একাধিক মামলা (মামলা নং-০৮ ও ০৯, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সরকারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওসমান গনিকে (৩২) দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়াস্থ’ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ওসমান গনিসহ অপরাপর সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সংহতি, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে গোপনে সমবেত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার চক্রান্ত করছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে দেখা গেছে, আসামি ওসমান গনির বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ধারা অনুযায়ী একাধিক মামলা (মামলা নং-০৮ ও ০৯, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সরকারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
সিলেট সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানোন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মেধা বিকাশের উপযুক্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, কোমলমতি শিশুদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে আধুনিক ও মানসম্মত পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। নতুন এই ভবন নির্মাণের ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জিন্দাবাজারস্থ সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নির্মিত ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যৌথভাবে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কুমকুম ইয়াসমিনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সদর উপজেলার ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াত, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শরীফ মোঃ নেয়ামত উল্লাহ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুব কাদির শাহী, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, সহকারি শিক্ষক ফাহমিদা পারভীন, রোমানা বেগম, সুলতান আহমদ, উম্মে সালমা বেগম, শর্মিলা রায়, ফাহিমা বেগম, বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতির সভাপতি আখতার ফারুক লিটন, পিটিএ কমিটির সভাপতি মুন্সী ইকবাল।
ভবন উদ্বোধনের সময় মোনাজাত পরিচালনা করেন শফিক-রফিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আতাউর রহমান। পবিত্র কুরআন তেলায়াত থেকে পাঠ করেন বিদ্যালয়ের ছাত্রী নুসরাত জাহান জেরিন, গীতা পাঠ করেন পুনম শর্মা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।