টাঙ্গাইলে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন, হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, র্যালি, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, মোনাজাত ইত্যাদি।
এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে জেলা সদরের হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, জুলাই শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন ও মোনাজাত শেষে র্যালি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ। এছাড়া আলোচনা সভায় প্রায় ৩৫জন জুলাইযোদ্ধা বক্তব্য রাখেন।
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোনাজাত ও শিক্ষার্থীদের হলসমূহে বিশেষ খাবারের আয়োজন ইত্যাদি।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধের পর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে কয়েক দফায় ভাঙচুর করেছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন ভবন, রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে ভাঙচুর করেন। সোমবার রাত একটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছেন।
এ সময় রেল স্টেশনে শিক্ষার্থীরা গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি নিয়ে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েক দফায় স্টেশনের কাচের জানালা, ময়লার ডাস্টবিন, সেখানকার দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, কার্যালয়, সাইনবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং রেলস্টেশন ত্যাগ করার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা স্থান ত্যাগ করেননি। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেলস্টেশনে মারধরের শিকার হন আইয়ুব আলী নামের এক শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, রাত ১১টা ২০ মিনিটের মধ্যে হামলায় জড়িত কর্মচারীদের আটক করা না হলে ট্রেন থামিয়ে কর্মকর্তাদের নেমে আসতে বাধ্য করা হবে। এরপর রাত এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেলওয়ে স্টেশনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তখন রাজশাহী রেল স্টেশনের দিকে আসা ধুমকেতু এক্সপ্রেস বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের আগে হরিয়ান সংলগ্ন এলাকায় থেমে থাকে। শিক্ষার্থীরা তখন রেললাইন বরাবর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে এগোতে থাকেন। তারা স্টেশনে ঢুকেই ভাঙচুর শুরু করেন।
মারধরের শিকার আইয়ুব আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, আইয়ুব আলী তার চাচাকে আনতে রাজশাহী রেল স্টেশনে গিয়েছিলেন। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আইয়ুব আলী প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান জানান, রেলস্টেশনে রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেল কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। সেখানে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বলায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘জড়িতদের রাত ১১টার মধ্যে আটক করতে হবে। এর মধ্যে আটক না করলে ১১টা ২০ মিনিটের ট্রেন থামিয়ে প্রত্যেক ট্রেন থেকে ২ জন করে ট্রেন স্টাফ তুলবো আমি। আমার ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এতো প্রতিহিংসা কিসের এটা দেখতে চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিম রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘এই ধরনের সহিংস কোনো ঘটনা কাম্য নয়। আমরা এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠাচ্ছি। এর সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই অব্যাহতি দেওয়া হবে।’
সালাহউদ্দিন আম্মারের হুঁশিয়ারি ও শিক্ষার্থীদের অবরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে শিক্ষার্থীদের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া একদম স্বাভাবিক। আমি তাদের আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানাব। আমরা আইনগতভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য সাময়িক বরখাস্ত
এদিকে শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় জড়িত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আরএনবি সদস্যরা হলেন— মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন।
ছবিঃ সংগৃহীত
সাভারের আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার সামনে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি একটি লরিতে বিস্ফোরণের পর আগুনে পথচারী ও নারীসহ সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। তাদের স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তায় অবস্থিত এফএন্ডএফ পোশাক কারখানার সীমানার ভেতরে থেমে থাকা লরিতে এ ঘটনা ঘটে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। লরি থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত পাঁচজনের শরীর পুরো ঝলসে যাওয়ার তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া লরিটির পাশে থাকা কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। পুড়ে যায় মালবাহী একটি কাভার্ডভ্যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুড়ে যাওয়া যানবাহনগুলোতে তল্লাশি করে। এ সময় একটি লরিতে দগ্ধ পাঁচজনের লাশ পাওয়া যায়। এছাড়া গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নজরুল ইসলাম নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় একটি গ্যাসের সিলিন্ডার ছিটকে পোশাক কারখানার পাশের দর্জির দোকানে গিয়ে পড়লে জয়নব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে ওই পোশাক কারখানা ছুটি হলে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে বাসায় চলে যান। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে পোশাক কারখানা বাউন্ডারির ভেতরে থেমে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই লরিটির পাশে থাকা ক্যাভার্ডভ্যানসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়।
এ সময় বিস্ফোরিত গ্যাস সিলিন্ডারের লোহার টুকরোগুলো কারখানার পাশের একটি দর্জি দোকানে থাকা জয়নব বেগমের মাথায় এসে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। নিহত জয়নব বেগম (৫৫) গাজীপুরের কাশিমপুরের ইছরকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। জামগড়ায় তার মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। ওই দর্জির দোকানটি তার মেয়ে পরিচালনা করেন। নিহতের মেয়ে জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার মা দর্জির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ। কোনো কিছু বোঝার আগেই দেখি মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এরপর দেখি কারখানার সামনে আগুন। পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ আশেপাশের লোকজনের ছোটাছুটি করতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই আমার মা মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী সুমন মিয়া জানান, ফায়ার সার্ভিস দেরিতে আসায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ভয়াবহ হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
ফায়ার সার্ভিসের আশুলিয়া ডিইপিজেড ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আমাদের স্টেশনে আগুনের খবর আসে। তবে বাইপাইল সড়কে অনেক যানজট হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পর আমরা পুড়ে যাওয়া কয়েকটি যানবাহনে তল্লাশি করি। এ সময় একটি লরি থেকে দগ্ধ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ- ১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ এবং একটি লরি থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। বিস্ফোরণের সময় গ্যাস সিলিন্ডারের টুকরা ওই নারীর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে চেতনা নাশক খাইয়ে আমিনুর রহমান (৪২) নামে এক ব্যক্তির ইজিবাইক ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার শুকানদিঘি পেট্রোল পাম্প ক্যানেলের ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আমিনুর রহমান পুটিমারি ইউনিয়নের মন্থনা এলাকার মৃত কালুয়া মামুদের ছেলে।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে আমিনুর রহমান বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হয়ে আসেন। আজকে রাত ৮ টার দিকে দুর্বৃত্তরা যাত্রীবেশে তার ইজিবাইকে উঠে মাগুড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। এসময়ে শুকানদিঘি এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা আমিনুর রহমানকে খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক খাইয়ে অচেতন করে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আমিনুর রহমানের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, আমার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল ইজিবাইকটি। সেটি আজকে তারা নিয়ে গেলো। আমরা সেটি কিস্তিতে নিয়েছিলাম এখনো কিস্তি শোধ হয়নি, এখন কিভাবে সংসার চালাব আর কিভাবে কিস্তি পরিশোধ করব।
এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, বিষয়টি জেনেছি আমরা ইজিবাইকটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর
দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা। এখনো আওয়ামীলীগ সিন্ডিকেটের দখলে বাংলাবান্ধা লেবার হ্যান্ডেলিং এটিআই নামের প্রতিষ্ঠানটি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চগড়ে দুর্নীতি-অনিয়মের বড় বড় ঘটনার মধ্যে স্থলবন্দরে লেবার হ্যান্ডেলিং একটি।
আমদানি পণ্যের লোড বাবদ ৭৬ দশমিক ৮৩ টাকা এবং আনলোড বাবদ ৭৬ দশমিক ৮৩ টাকা প্রতিটনে নেওয়া হলেও কোন প্রকার কাজ না করে পুরো টাকা হাতিয়ে নেয় বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট ও লেবার হ্যান্ডেলিং কোম্পানি। লেবার হ্যান্ডেলিং আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর বুড়িমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল হোসেন।
আমদানিকারকদের অভিযোগ, সেবা না দিয়েও অর্থ আদায় করছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। লোড- আনলোড এবং অন্যান্য খরচসহ প্রতিটনে ১৯১ টাকা আদায় করা হলেও লোড করে দেওয়া হয় না। এতে পুনরায় আরো লোডিং খরচ হয়। তাতে খরচ বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়। দিন দিন ব্যবসায় লোকসানে পরে স্থলবন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আমদানিকারকের অনেকে।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাতের আধারে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আফতাহী ট্রেড বা এটিআই নামক এই অখ্যাত কোম্পানি টিকে লেবার হ্যান্ডেলিং কাজে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে। অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেও কোন ফলাফল আসেনি, কারন এই এটিআই এর পেছনে রয়েছে স্থানীয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা লুটেরাচক্র। ব্যবসায়ীদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও রহস্য জনক কারনে শক্ত অবস্থানে তাদের দেখা যায়নি। বছরের পর বছর এই লুটেরাচক্রকে রাতের আধাঁরে ঠিকাদারি নিয়োগ দিচ্ছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা, সিএনএফ সদস্য ও কয়েকজন ব্যবসায়ী এ সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল। এখন নতুন করে বিএনপির নেতাকর্মীরা জরিয়ে পড়েছে এ চক্রে।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম বলেন, আমদানীকারকদের কাছে লোড আনলোডের টাকা নিয়ে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে আমাদেরকে আনলোড বাবদ ৪২-৪৩ টাকা দেওয়া হয়। লোড না করেও বাকী টাকা এটিআই ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নেয়।
আমদানিকারক আলাউদ্দিন বাবু বলেন, লোড আনলোডের টাকা নেয় কিন্তু কোন সেবা না দিয়ে কৌশলে প্রতিটনে ৩০ টাকা ফেরত দেয়। এছাড়াও বন্দরে পাথর লোড করতে পেলোডার গাড়ি না থাকায় সময় ও অর্থ বেশি লাগছে। এতে লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়। অনেকে ব্যবসা গুছিয়ে চলে গেছেন। একই কথা বলছিলেন সাইদুর রহমানসহ অনেকে।
লেবার হ্যান্ডেলিং ঠিকাদারি কোম্পানি আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বাবুল হোসেনকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা লোড করে দিতে চাই কিন্তু ব্যবসায়ীরা নেয়না। গাড়ি আনে লোড করে নিতে তাদের খরচ বেশি হবে। লোডিং বাবদ আমদানিকারকদের ৩২ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে বাকী ৪৪ টাকা ৮৩ পয়সা কোথায় যায় তার হিসাব দিতে নারাজ এ কর্মকর্তা।
কিশোরগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে হুমাউন কবির (১৩) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ধরেয়ার বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হুমাউন কবির গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের নয়ভাই পাড়া গ্রামের আতিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। সে রনচন্ডী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিহতের চাচা মানিক মিয়া জানান, ফটোকপি করার জন্য সাইকেলযোগে বাড়ি থেকে ধরেয়ার বাজারের দিকে যাচ্ছিল হুমাউন। পথে জলঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৪৩৮৭) তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় সেটি আটক করা হয়।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে।
নীলফামারীর জলঢাকায় শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পথে পিকাপ গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নব দম্পতির মৃত্যু হয়েছে।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ দিঘির পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ডোমার উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নের দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার মৃত হিরম্ব রায়ের ছেলে পলাশ (২২ ) ও তার স্ত্রী জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মিন্টু চন্দ্র রায়ের মেয়ে মনি রানি (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ মাস আগে পলাশ রায়ের সঙ্গে মনি রানির বিয়ে হয়। আজকে সন্ধ্যার দিকে পলাশ তার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ডোমার উপজেলা থেকে এসে জলঢাকা উপজেলার কালিগঞ্জ ডাঙ্গাপাড়ার শ্বশুর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময়ে কালিগঞ্জ দিঘিরপাড় এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকাপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়।
এবিষয়ে জলঢাকা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। পিকাপ গাড়ীটি আমরা আটক করেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।