শুক্রবার রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর র‌্যালিতে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৯ পিএম

‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক’- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ধারণা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 


তিনি বলেন, অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র‌্যালিতে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।


সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কেউই যেন নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দেন। সবাই নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, এই দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন।’


তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়টা এখানে মুখ্য নয়। আমরা নাগরিকের পরিচয়ে এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সব নাগরিক মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নৃগোষ্ঠী যারাই হোক, তারা ধর্মীয়ভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন। কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকব।’


বাংলাদেশের সংবিধানে সবার ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না, এ কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের কর্তাদের স্বাধীনতা ও উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’


‘আমরা শুধু সেটা কিতাবে, সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি।’


ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সচরাচর “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি “সাম্প্রদায়িক” শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।’


মন্ত্রী তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই সবার আগে বাংলাদেশি। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’


মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।


সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-০৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।


অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ জন্য একক কর্মসূচির পাশাপাশি ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে থাকবে দলটি। চলতি সেপ্টেম্বর ও আগামী অক্টোবরে চার বিভাগ অভিমুখে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবিগুলো তুলে ধরতে চায় তারা।


এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংসদে সরকারের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা, জোটগতভাবে রাজপথে থাকা এবং দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো-এই তিন দিকে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্তগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত বিষয়ে জনমত গঠন করাই এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য।


সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর ১১-দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ হবে। 


এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দল। সবশেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে।


এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকার মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান তাঁরা। এর পরের কর্মসূচি পরিস্থিতি এবং সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। প্রয়োজন হলে মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।


১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলাদা কর্মসূচিও চালিয়ে যাবে। তবে দলটির নেতারা স্বীকার করছেন, বড় পরিসরে এককভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা এনসিপির এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সে কারণে আপাতত ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে মিলেই রাজপথে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।


একই সঙ্গে এনসিপি নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন চলছে। সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করাও দলটির লক্ষ্য।


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেও প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। 


দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫টি সিটি করপোরেশন এবং ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলেও দলের উপস্থিতি বাড়াতে চায় তারা।


বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয় গত ১৭ আগস্ট। এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এনসিপি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সেখানে কথা বলেন দলের নেতারা। এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে এনসিপি।


দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরোধী দল সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বড় আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও সীমিত কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। 


তবে সরকারের প্রথম ছয় মাস পার হওয়ার পর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও জনসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে সংসদ ও রাজপথে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।


জানতে চাইলে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি এই সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে চায়। সে জন্য সংসদে বক্তৃতার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে এনসিপি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৩ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলার ‘পলাতক’ আসামি আহসান লাবিবকে জাতীয় ছাত্রশক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে। বুধবার সংগঠনটির পঞ্চম সাধারণ সভায় সভাপতি জাহিদ আহসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে লাবিবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


লাবিব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সমাজকল্যাণ সম্পাদক। ছাত্রশক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ছাত্র সংগঠন।


২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।


ঘটনার দুই দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শামীম মোল্লা হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে লাবিবসহ আট শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করে।


পরে শামীম মোল্লার বড় ভাই শাহিন আলম ওই বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন।


ওই মামলায় লাবিবসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন, উপ-রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান চৌধুরী এবং তৎকালীন প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমকেও আসামি করা হয়।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসআই আনিসুর রহমান বাপ্পী বলেন, “মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। যারা গ্রেপ্তার হয়নি, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এ বিষয়ে জানতে জাতীয় ছাত্রশক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান লাবিবের মোবাইলে ফোন করলে তিনি ধরেননি।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ানের মোবাইলে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।


পরে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, “তিনি তো পলাতক না, ক্যাম্পাসেই তিনি আছেন। অনেকেই এটা নিয়ে কথা বলছে। ছাত্রলীগেরও কেউ কেউ তাকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছে। সে কতটুকু অপরাধী বা কতটুকু অপরাধী না, সেটা তো দেশে আইন, আদালত, বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু আছে। এখন একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসার পর সংগঠন যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এটা তো তাকে বিচারের আগেই বিচার করার সমান হয়ে গেল। তাহলে এখানে গণতন্ত্রচর্চা হল না।”

সর্বশেষ সব খবর

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৩ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্রের করা অভিযোগে নিজের মানহানি হয়েছে দাবি করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, তা না হলে দুদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে। বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।


আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুটি অভিযোগের কোনোটির সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয় দুটি সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট কোনো ফাইল তাঁর কাছে আসেনি। এমনকি কোনো ফাইলেই তাঁর স্বাক্ষর নেই।


তিনি বলেন, ‘দুটি অভিযোগের কোনোটিতেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এগুলো সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয়। এর মধ্যে একটি আদালতের নির্দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে। আরেকটি হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) তালিকা অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।’


দুদকের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মনে করছেন। দুদককে আবারও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষকে দমন-পীড়ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে দুদকের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি জানান আসিফ মাহমুদ। দাবি পূরণ না হলে দুদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

দেশে ফেরার পর মির্জা আব্বাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৬ এএম

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান।


তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে থাকা মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার আগে ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, তার সঙ্গে স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও ফিরেছেন।


মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা উপলক্ষে আগে থেকেই ঢাকার বিমানবন্দরে সহস্রাধিক অনুসারী উপস্থিত ছিলেন। তিনে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে এলে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।


মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যরা বলেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও মির্জা আব্বাসকে প্রতিদিন থেরাপি নিতে হবে। চিকিৎসার মধ্যেই থাকতে হবে তাকে।


শাহজাহানপুরে নিজের বাসভবনে গত ১১ মার্চ ইফতারের সময়ে হঠাৎ জ্ঞান হারালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিনই নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে।


পরে ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে টানা এক মাসের চিকিৎসায় তিনি অনেকটাই সুস্থ্য হয়ে ওঠেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে গত ১৪ এপ্রিল তাকে ভর্তি করা হয় মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে। সেখানে এতদিন তার ফিজিওফেরাপি চলছিল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ এএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাবেক বিচারপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাঁরা জামায়াতে যোগ দেন। মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে এই দাওয়াতি সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। সমাবেশের প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে দলে যোগদানকারীদের বরণ করে নেন।


জামায়াতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার। তিনি বিএনপি থেকে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া ইসহাক সরকারের বড় ভাই।


যোগদানকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এস এম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ।


এই তালিকায় আরও আছেন ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজি শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও হুমায়ন কবির; রয়েছেন বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজি আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাবেদ ওমর, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ, কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা জসিম উদ্দিন (রসুলপুরি), মাওলানা হাসান জামিল প্রমুখ।


মুখের খোঁচার দাগ কখনো যায় না


সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি জানামতো এই সমাজের মানুষের কোনো অকল্যাণ চিন্তা করি না এবং চেষ্টা করি সব সময় মানুষের ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার। অন্ততপক্ষে কিছুটা হলেও মানুষের উপকার করতে পারি কি না সেই চেষ্টাটা করি। আমাকে নিয়ে কী করা হয় দেখেন না? আমি এতে আত্মতৃপ্তি পাই।’


যাঁরা সমালোচনা করেন তাঁদের জন্য দোয়া করবেন জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বন্ধু, এমন ভাষায় কথা বোলো না যে কথা কেউ তোমার ব্যাপারে বললে তোমার কলিজাটা টুকরা টুকরা হয়ে যায়। তলোয়ারের খোঁচার দাগ থাকে না, মিলিয়ে যায় একসময়। কিন্তু মুখের খোঁচার দাগ, ওটা কখনো যায় না।’


শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কওমিকে আলাদা করে দেখি না। আমরা তাদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট মনে করি না। তাদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাদের খেদমতে আরও বেশি বারাকা দান করেন।’


জামায়াতের আমির বলেন, বাতিলের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। কারও কাছে মাথা নত করা হবে না।


জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চলার পথে বাধা আসবে, সমালোচনা আসবে, গালিগালাজ আসবে, জীবন দেওয়ার প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চলে যাবে। যাবে, কারণ এটা আমার নয়, আপনার নয়, এটা আল্লাহর দান। আমাদের কাছে আমানত। সেই আমানত দেওয়ার জন্য আল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।


আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবদুল মান্নান, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর

রাশেদ খান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫২ পিএম

বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ নিয়ে সুখবর জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।’


স্ট্যাটাসে রাশেদ খান দাবি করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি অবৈধ প্রমাণ করেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের শোকজ নোটিশেরও উপযুক্ত জবাব দিতে না পারায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে।


রাশেদ খানের দাবি, গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিলের পর তার ডাকসুর পদও বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া মো. রাশেদ খানকে জিএস ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।


এ বিষয়ে নিজের স্ট্যাটাসে রাশেদ খান আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের পর ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে তাকে জিএস ঘোষণা করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর