ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ জন্য একক কর্মসূচির পাশাপাশি ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে থাকবে দলটি। চলতি সেপ্টেম্বর ও আগামী অক্টোবরে চার বিভাগ অভিমুখে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবিগুলো তুলে ধরতে চায় তারা।
এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংসদে সরকারের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা, জোটগতভাবে রাজপথে থাকা এবং দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো-এই তিন দিকে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্তগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত বিষয়ে জনমত গঠন করাই এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য।
সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর ১১-দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ হবে।
এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দল। সবশেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে।
এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকার মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান তাঁরা। এর পরের কর্মসূচি পরিস্থিতি এবং সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। প্রয়োজন হলে মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলাদা কর্মসূচিও চালিয়ে যাবে। তবে দলটির নেতারা স্বীকার করছেন, বড় পরিসরে এককভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা এনসিপির এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সে কারণে আপাতত ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে মিলেই রাজপথে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে এনসিপি নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন চলছে। সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করাও দলটির লক্ষ্য।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেও প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫টি সিটি করপোরেশন এবং ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলেও দলের উপস্থিতি বাড়াতে চায় তারা।
বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয় গত ১৭ আগস্ট। এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এনসিপি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সেখানে কথা বলেন দলের নেতারা। এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে এনসিপি।
দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরোধী দল সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বড় আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও সীমিত কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তবে সরকারের প্রথম ছয় মাস পার হওয়ার পর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও জনসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে সংসদ ও রাজপথে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
জানতে চাইলে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি এই সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে চায়। সে জন্য সংসদে বক্তৃতার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে এনসিপি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলার ‘পলাতক’ আসামি আহসান লাবিবকে জাতীয় ছাত্রশক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে। বুধবার সংগঠনটির পঞ্চম সাধারণ সভায় সভাপতি জাহিদ আহসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে লাবিবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
লাবিব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সমাজকল্যাণ সম্পাদক। ছাত্রশক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ছাত্র সংগঠন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার দুই দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শামীম মোল্লা হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে লাবিবসহ আট শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করে।
পরে শামীম মোল্লার বড় ভাই শাহিন আলম ওই বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন।
ওই মামলায় লাবিবসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন, উপ-রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান চৌধুরী এবং তৎকালীন প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমকেও আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসআই আনিসুর রহমান বাপ্পী বলেন, “মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। যারা গ্রেপ্তার হয়নি, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে জাতীয় ছাত্রশক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান লাবিবের মোবাইলে ফোন করলে তিনি ধরেননি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ানের মোবাইলে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, “তিনি তো পলাতক না, ক্যাম্পাসেই তিনি আছেন। অনেকেই এটা নিয়ে কথা বলছে। ছাত্রলীগেরও কেউ কেউ তাকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছে। সে কতটুকু অপরাধী বা কতটুকু অপরাধী না, সেটা তো দেশে আইন, আদালত, বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু আছে। এখন একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসার পর সংগঠন যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এটা তো তাকে বিচারের আগেই বিচার করার সমান হয়ে গেল। তাহলে এখানে গণতন্ত্রচর্চা হল না।”
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্রের করা অভিযোগে নিজের মানহানি হয়েছে দাবি করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, তা না হলে দুদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে। বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুটি অভিযোগের কোনোটির সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয় দুটি সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট কোনো ফাইল তাঁর কাছে আসেনি। এমনকি কোনো ফাইলেই তাঁর স্বাক্ষর নেই।
তিনি বলেন, ‘দুটি অভিযোগের কোনোটিতেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এগুলো সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয়। এর মধ্যে একটি আদালতের নির্দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে। আরেকটি হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) তালিকা অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।’
দুদকের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মনে করছেন। দুদককে আবারও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষকে দমন-পীড়ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দুদকের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি জানান আসিফ মাহমুদ। দাবি পূরণ না হলে দুদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেশে ফেরার পর মির্জা আব্বাস
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান।
তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে থাকা মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার আগে ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, তার সঙ্গে স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও ফিরেছেন।
মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা উপলক্ষে আগে থেকেই ঢাকার বিমানবন্দরে সহস্রাধিক অনুসারী উপস্থিত ছিলেন। তিনে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে এলে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।
মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যরা বলেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও মির্জা আব্বাসকে প্রতিদিন থেরাপি নিতে হবে। চিকিৎসার মধ্যেই থাকতে হবে তাকে।
শাহজাহানপুরে নিজের বাসভবনে গত ১১ মার্চ ইফতারের সময়ে হঠাৎ জ্ঞান হারালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিনই নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে।
পরে ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে টানা এক মাসের চিকিৎসায় তিনি অনেকটাই সুস্থ্য হয়ে ওঠেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে গত ১৪ এপ্রিল তাকে ভর্তি করা হয় মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে। সেখানে এতদিন তার ফিজিওফেরাপি চলছিল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাবেক বিচারপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাঁরা জামায়াতে যোগ দেন। মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে এই দাওয়াতি সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। সমাবেশের প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে দলে যোগদানকারীদের বরণ করে নেন।
জামায়াতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার। তিনি বিএনপি থেকে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া ইসহাক সরকারের বড় ভাই।
যোগদানকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এস এম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ।
এই তালিকায় আরও আছেন ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজি শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও হুমায়ন কবির; রয়েছেন বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজি আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাবেদ ওমর, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ, কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা জসিম উদ্দিন (রসুলপুরি), মাওলানা হাসান জামিল প্রমুখ।
মুখের খোঁচার দাগ কখনো যায় না
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি জানামতো এই সমাজের মানুষের কোনো অকল্যাণ চিন্তা করি না এবং চেষ্টা করি সব সময় মানুষের ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার। অন্ততপক্ষে কিছুটা হলেও মানুষের উপকার করতে পারি কি না সেই চেষ্টাটা করি। আমাকে নিয়ে কী করা হয় দেখেন না? আমি এতে আত্মতৃপ্তি পাই।’
যাঁরা সমালোচনা করেন তাঁদের জন্য দোয়া করবেন জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বন্ধু, এমন ভাষায় কথা বোলো না যে কথা কেউ তোমার ব্যাপারে বললে তোমার কলিজাটা টুকরা টুকরা হয়ে যায়। তলোয়ারের খোঁচার দাগ থাকে না, মিলিয়ে যায় একসময়। কিন্তু মুখের খোঁচার দাগ, ওটা কখনো যায় না।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কওমিকে আলাদা করে দেখি না। আমরা তাদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট মনে করি না। তাদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাদের খেদমতে আরও বেশি বারাকা দান করেন।’
জামায়াতের আমির বলেন, বাতিলের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। কারও কাছে মাথা নত করা হবে না।
জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চলার পথে বাধা আসবে, সমালোচনা আসবে, গালিগালাজ আসবে, জীবন দেওয়ার প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চলে যাবে। যাবে, কারণ এটা আমার নয়, আপনার নয়, এটা আল্লাহর দান। আমাদের কাছে আমানত। সেই আমানত দেওয়ার জন্য আল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।
আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবদুল মান্নান, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
রাশেদ খান
বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ নিয়ে সুখবর জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।’
স্ট্যাটাসে রাশেদ খান দাবি করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি অবৈধ প্রমাণ করেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের শোকজ নোটিশেরও উপযুক্ত জবাব দিতে না পারায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে।
রাশেদ খানের দাবি, গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিলের পর তার ডাকসুর পদও বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া মো. রাশেদ খানকে জিএস ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
এ বিষয়ে নিজের স্ট্যাটাসে রাশেদ খান আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের পর ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে তাকে জিএস ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। ৪৮ বছরে এসে বিএনপি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে, যার সঙ্গে দলটির অতীতের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে কিছু ভিন্নতা আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য– নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক অবস্থা। গত ৪৮ বছরে বিএনপির নেতৃত্বের তিনটি প্রধান পর্যায় স্পষ্ট।
প্রথম পর্যায় জিয়াউর রহমানের; যেখানে দলটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করে। দ্বিতীয়টি খালেদা জিয়ার আমল, যেখানে বিএনপি নির্বাচনী রাজনীতি এবং তাঁকে কেন্দ্র করে একটি গণদলে রূপান্তরিত হয়। পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে। তৃতীয় পর্যায়টি শুরু হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হন। এরপর বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
এটি বিএনপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। একদিকে দল ও সরকারে তারেক রহমানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা, অন্যদিকে প্রবীণ নেতৃত্বের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়া– এই সমন্বয় আগামী দিনের বিএনপির চরিত্র নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি কয়েকবার ক্ষমতায় গেছে; ক্ষমতা হারিয়েছেও। দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থেকেছে, আন্দোলন করেছে এবং কঠিন রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলাদা। প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে, আর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে এটি দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অতীতের অর্জন নয়; বরং ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি কীভাবে নিজেকে প্রমাণ করবে– সেটিই। রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি দলের রাজনৈতিক সক্রিয়তা জরুরি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ আসন অর্জন শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; এটি বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটি বড় পালাবদল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় তৈরি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে এখন বিএনপির রাজনীতি।
দলের নানা পর্যায়ে এই আলোচনা দানা বাঁধছে যে, সরকার পরিচালনার ব্যস্ততায় বিএনপি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের দিকে কম নজর দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ মাঠে না থাকাও এর আরেকটি কারণ বলে মনে করেন দলের কেউ কেউ। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন মন্ত্রী-এমপিকেন্দ্রিক এবং সেখানে রাজনীতি নয়; এমপির পছন্দ-অপছন্দই প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে বিষয়টি মানতে রাজি নন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, যারা নেতা, তারাই তো এমপি-মন্ত্রী। স্থানীয় সরকারে প্রশাসকের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের অনেকেও রাজনৈতিক নেতা। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুব সতর্ক। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানে বলছেন, সরকারের কাজে দলের সহযোগিতা লাগবে, কিন্তু দল যেন সরকারের ভেতরে ঢুকে না যায়।
বিএনপির চেয়ারম্যান গত ৪ জুলাই থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে তৃণমূলের দলকে শক্তিশালী করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাদের অনেকের ধারণা, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সংগঠন যে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে– দলের শীর্ষ নেতৃত্বও তা উপলব্ধি করছেন।
সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এ সময়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা হয়েছে চারটি। দেশজুড়ে দলটির ৮২ সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি আর ৩১টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে। এর মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র আট জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। স্থগিত রয়েছে শেরপুর জেলা কমিটি।
সাংগঠনিক গতি বাড়ানোর লক্ষ্য গত ১৫ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজনকে পদায়ন করা হয়। এ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে ১১টি। সবকটির কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা হয়নি। ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিকে বিদায় জানানো হয়েছে এক মাস আগে। সেই কমিটিও আটকে গেছে।
দলটির জাতীয় কাউন্সিল নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দুই বছর মেয়াদি ওই কেন্দ্রীয় কমিটি ১০ বছর পার করলেও নতুন কাউন্সিল করতে পারেনি। এ বছরের মধ্যে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দিলেও কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। সারাদেশের জেলা ও মহানগর ছাড়া থানা-উপজেলা কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করে জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলগুলো সম্পন্ন করার কাজ শুরু হয়ে যাবে। যেসব জেলা, থানা ও ইউনিটে কাউন্সিল বাকি আছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া কর্মিসভা ও ওয়ার্কিং মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমও চলবে।
বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর তৃণমূল সংগঠন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই সংগঠন আবার ভোটের মাঠে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সরকার পরিচালনার সময় তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো তরুণ ভোটার। ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রত্যাশা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তারা শুধু দলীয় পরিচয় নয়; চাকরি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চায়।
এসব মোকাবিলায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে ত্যাগী নেতাকর্মী দরকার। কিন্তু অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলের ভেতরে নবাগত ও হাইব্রিড নেতাকর্মীর আনাগোনা বাড়ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ অন্য দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের ঘটনা ঘটছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দল ক্ষমতায় গেলে সব সময় কিছু লোক ফায়দা লুটতে চায়। এদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পান না। নেতাকর্মীরা বলছেন, ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে ক্ষমতায় আসে। এ জন্য জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়াসহ চড়া মূল্য দিতে হয়েছে নেতাকর্মীদের। তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছিলেন, ‘মিছিলের শেষ কর্মীকেও মূল্যায়ন করা হবে।’ অনেকের অভিযোগ, এখন মূল্যায়নে ত্যাগীরা পিছিয়ে পড়ছে।
বিষয়টি মানতে নারাজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দল যখন সরকারে যায়, তখন দল সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। তার মানে এই নয়, দল সরকারে ঢুকে গেছে। তবে সরকার গঠনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ঢেলে সাজাতে পারিনি, এটা সত্য। এখন আমরা অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনসহ দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।