ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ কথাগুলো বলেন।
‘ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ-বিষয়ক উপকমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন-অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’ নামের একটি পুস্তিকা পড়ে শোনান নাহিদ ইসলাম। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে পুস্তিকাটি লেখা হয়েছে।
সরকারের ১৮০ দিন সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়নে বলা হয়, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকার ১৮০ দিনের জন্য তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিল-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। ছয় মাস পর তথ্য-উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, তিনটি অগ্রাধিকারের প্রতিটিতেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানিসংকটে কলকারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকেরা চাকরি হারাচ্ছেন, কৃষকদের উচ্চ মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে।
সরকারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নজিরবিহীন সংকট শিল্প উৎপাদন, কৃষি খাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাংকিং খাতের লুটেরারা পুনরায় ফেরত আসছে, ভোগ্যপণ্য ও আমদানি বাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে, বিএনপি তাতে নতুন অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। পাঁচ মাস দুদকের নিষ্ক্রিয়তা এবং লুটেরা ও বাজার সিন্ডিকেটের প্রত্যাবর্তন একই সূত্রে গাঁথা বলে তাঁরা মনে করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার (যেমন মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) একে একে বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসবের জায়গায় আগের চেয়ে দুর্বল ও অকার্যকর আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। বহুল প্রচারিত ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারকে ছুড়ে ফেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্লজ্জ দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত অগ্রাধিকার নীতিতে বিচার ও শহীদ পরিবার-আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন অনুপস্থিত।
বিরোধী দল, মত ও সাংবাদিকদের ওপর সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হামলা-মামলার ঘটনা অব্যাহতভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি বলেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের পরিবর্তে হামলায় আহত ব্যক্তিদের আইনিভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশকে আবার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
পুস্তিকায় বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ-সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি, নতুন মোড়কে র্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। সেসব বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন উল্লেখ করা হয়।
সরকার ‘ব্যর্থ’, বিরোধী দল ‘দায়িত্বশীল’
সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। শুধু ক্ষমতায় বসেছেন এবং পুরোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পনা ও নীতি অনুযায়ী তিনি দেশকে পরিচালনা করছেন, দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছেন।’
সরকার সার্বিকভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। অন্যদিকে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য, বিশেষ করে এনসিপি গত ছয় মাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা খুবই দায়িত্বশীল আচরণ করেছি বিরোধী দলের জায়গা থেকে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তন আনার কথা, সেটা বিরোধী দল এনেছে। সরকার সেটার জবাব দিয়েছে আমাদের একজন ভাইয়ের চোখ কেড়ে নিয়ে। গাইবান্ধায় একজন মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে।’
বিরোধী দল আসলে ব্যর্থ, বিরোধী দল দুর্বল-এমন প্রচারকে ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁরা দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত এটা দেখিয়ে যাচ্ছেন যে কোথায় কোথায় সরকার ভুল করছে, প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছে। নীতিগতভাবে এটা মানুষকে যেমন তাঁরা দেখাবেন, একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে তাঁরা এটার প্রতিরোধ করবেন। যদি সরকার ক্রমে সেদিকেই হাঁটতে থাকে, তাহলে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে পড়বে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শিগগিরই ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ হবে পাঁচ থেকে ছয়টি বিভাগে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে তাঁরা একটা বড় বার্তা সরকারকে দেবেন। এরপর আরও কঠোর আন্দোলনের যদি প্রয়োজন হয়, সেটার ঘোষণা তাঁরা দেবেন। পাশাপাশি এনসিপিও তার সক্ষমতা অনুযায়ী উপজেলা-জেলা পর্যায়ে ও মহানগরগুলোয় কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
ভারত প্রসঙ্গ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেটি ভারত সরকারের সহযোগিতা বা মদদ ছাড়া সম্ভব ছিল না বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম করতে দেওয়া, আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন রাখা-এটা আসলে সম্ভব নয়। তাঁরা মনে করেন, এটা সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতা।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবে না দিল্লি, শেখ হাসিনাকে সেখানে রাখবে না, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকার শ্রদ্ধাশীল হবে, ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়া হবে-এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা পেলেই বিগত ১৫ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশ-ইন যাতে না হয়, সীমান্ত হত্যা যাতে বন্ধ হয়-ইত্যাদির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে যেখানে শেখ হাসিনা রয়েছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তাহলে এটার আসলে অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসী কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটা শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য এটা একটা অবমাননাকর ঘটনা হবে। বাংলাদেশ যে স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্বের জায়গায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না-এটাই বার্তা যাবে।’
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাবেক এমপি শাহরিয়ার আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খুব ভোরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি রাজশাহী ছেড়ে সড়কপথে গেদে সীমান্তে পৌঁছান। এরপর ভারতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় চলে যান।
শাহরিয়ার বর্তমানে ভারতের কলকাতার নিউটাউনে সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফুটের আলিশান একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনিকে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। সেখানে গড়েছেন স্থায়ী নিবাস। তার জন্য হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে। তার বিশাল ফ্ল্যাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্র এবং রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাসিত নেতারা নিয়মিত যাতায়াত করছেন। দেশকে অস্থিতিশীল করতে নেওয়া হচ্ছে নানা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে শাহরিয়ার চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফর করছেন।
রাজশাহীতে শাহরিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই রাজশাহীর তিনটি থানায় শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। এছাড়া শাহরিয়ারের ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শাহরিয়ার বাঘার পার্শ্ববর্তী নাটোরের লালপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্ত্তুজা বাবুর মেয়ে সিলভিয়া পারভীন লেনিকে ২০১৯ সালের দিকে বিয়ে করেন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে। মন্ত্রিত্বের দাপট, দলীয় ক্ষমতা আর প্রভাব খাটিয়ে লেনির মা রোকসানা মর্ত্তুজাকে ২০২১ সালে লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র বানান শাহরিয়ার। লেনিকে লালপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি করে দেন। এছাড়া ঢাকার গুলশানে তাকে ৩৬০০ স্কয়ার ফুটের রাজকীয় একটি ফ্ল্যাট উপহার দেন।
দেশে বর্তমানে শাহরিয়ারের ব্যবসার বিশাল সাম্রাজ্য এবং আর্থিক বিষয়টি সামলাচ্ছেন তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ব্যবসায়িক পার্টনার বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী, মুহাম্মদ সাঈদ, রাজশাহীর ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।
যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
শাহরিয়ারের গার্মেন্ট ব্যবসা দেখছে শক্তিশালী চক্র
২০০৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শাহরিয়ারকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কৌশলী শাহরিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার শুরু করেন। ঘটতে থাকে তার অর্থনৈতিক উত্থান। দ্রুত তার গার্মেন্ট ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে। প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁ গ্রুপ। তবে বর্তমানে গ্রুপটির মূল পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে (মালিকানায়) কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী। আর পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম মুহাম্মদ সাঈদ। এ প্রতিষ্ঠানটিতে শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখভাল করছেন এমডি বাশার এবং পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ।
ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড দেশের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক হলেন চারজন। এ প্রতিষ্ঠানটির এমডি শাহরিয়ার আলম। এই প্রতিষ্ঠানটিতেও শাহরিয়ারের অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধিত্ব করছেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী।
ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেড। এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারের রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। এখানেও তার পক্ষে আর্থিক বিষয় দেখভাল করেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী। এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য তার (নাঈমুল) দুটি নম্বরে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তবে রেনেসাঁ গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘শাহরিয়ার আলম শেয়ারহোল্ডার। উনি এখন নেই। ব্যবসা চলছে। লোকজন কাজ করছেন।’ শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি ব্যবসাতে অনেকদিন থেকেই নেই। ব্যবসা আমরা চালাচ্ছি। এখন মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব।’
শাহরিয়ারের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সম্পদ দেখছেন বাবা, ভাই ও রাজনৈতিক সহযোগীরা
আওয়ামী লীগ শাসনমালে অংশীদারত্বে ব্যবসা ছাড়াও শাহরিয়ার ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তোলেন নানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান দেখভাল করছেন শাহরিয়ারের বাবা মো. শামসুদ্দিন, তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও রাজশাহী জেলার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে রাজশাহী মহানগরীর অভিজাত এলাকায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহরিয়ার গড়ে তোলেন বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এমডি শাহরিয়ারের বাবা হলেও এখন বিএনপিপন্থি সংগঠন ড্যাবের চিকিৎসকরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। চাউর রয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে শীর্ষ দুটি রাজনৈতিক দলের ফান্ডে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো ঝামেলা ছাড়া নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন শাহরিয়ার।
রাজশাহীর বাঘার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ২০২০ সালে গোলাম হোসেনের শতকোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪০ বিঘা জমি ক্ষমতা আর প্রতারণার মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে জোরপূর্বক নিয়ে নেন শাহরিয়ার। এরপর সেখানে গড়ে তোলেন বরেন্দ্র এগ্রো ফার্ম। গোলাম হোসেন সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জমি উদ্ধার করতে পারেননি।
শাহরিয়ার এছাড়া কিনেছেন শতাধিক বিঘা জমি। রাজশাহী এবং ঢাকায় রয়েছে তার কয়েকটি প্লট ও ফ্ল্যাট। বাঘা ও চারঘাট উপজেলা সদরে শতকোটি টাকার মূল্যবান জমি কিনেছেন তিনি। পার্শ্ববর্তী লালপুর ও ঈশ্বরদীতে নামে-বেনামে শাহরিয়ারের জমি কেনার আরও তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার গুলশানে নিজের নামে দুটি এবং ছেলের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি।
শাহরিয়ারের বাবা শামসুদ্দিন এবং ভাই সাইফুল ইসলাম বাদলসহ তার রাজনৈতিক সহযোগীরা ঢাকা ও রাজশাহীতে এসব সম্পদ দেখভাল করছেন। এ ব্যাপারে শামসুদ্দিন ও তার ছেলে বাদলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা সাড়া দেননি।
হামলায় ভেঙে গেছে বাড়ির জানালা
রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার ব্যাপারে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘সকালে নাশতা করছিলাম। এমন সময় হঠাৎ করে চারদিক থেকে বাসায় ঢিল ছোড়া শুরু হয়। সকালবেলা হওয়ার কারণে তখন বাসায় তেমন কেউ ছিল না। জানালার কাচ ভেঙে ড্রয়িংরুমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। বাসার গেটে তালা লাগানো থাকায় কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর। তিনি বলেন, আজ বেলা ১১টার দিকে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, জি এম কাদেরের বাসায় হামলা হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে গিয়েছি। তবে কাউকে পাইনি। সাধারণ জনতার ব্যানারে ৩০-৪০ জন ওই বাসায় হামলা চালিয়েছে। তারা বাইরে থেকেই ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করেছে। তবে ভেতরে কেউ ঢুকতে পারেনি। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল
জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার দাবিতে তাঁর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে কিছু লোকজন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তাঁর দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা বাসার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁর বিচার দাবি করেন।
এ সময় ব্যানারে জিএম কাদেরের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল—‘জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সাথে যোগাযোগ; জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষের প্রাণহানির বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পরও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
তারা বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি বিগত সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছিল। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো দোসরকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন পেতে দেওয়া হবে না। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে জিএম কাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এনসিপি লোগো
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটি জানিয়েছে, এ হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পবিত্র ধর্মীয় সফরে যাওয়া যাত্রী থাকার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে দলটি। রোববার (১১ অক্টোবর) এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও শোক জানানো হয়।
বিবৃতিতে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এনসিপি।
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে আটকে পড়া হজ-ওমরাহযাত্রীসহ সব যাত্রীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিবৃতিতে এনসিপি আরও বলেছে, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় সফরকারী ও বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে দলটি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
ভারতে ছড়িয়ে পড়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে গণগ্রেপ্তারের পর তাদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা থেকে তাদের পাশে থাকার কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই নেতা শনিবার ফেইসবুক পোস্টে বলেন, ‘‘এই লড়াই আপনাদের একার না। ঢাকা থেকে আমরাও আপনাদের পাশে আছি। ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।’’
ভারতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে গণগ্রেপ্তারের দিনে তিনি লেখেন, ‘‘ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানানো ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এমন দমনপীড়ন চলতে পারে না।’’
ফেসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ লেখেন, ‘‘আপনাদের এই লড়াই আমাদের পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জবাবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেসময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের সেই অভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি দেখিয়েছিল, তা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ ও সম্মান করি।
‘‘ভারতের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। শাহীনবাগের নারী সমাজ, জেএনইউ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রাম আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমাদের জুলাইয়ের মত ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সম্মুখ সারথি হয়ে উঠেছেন।’’ পোস্টে তিনি ভারতের শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের মুক্তি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “তাদের বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটকে রেখেছে ভারত সরকার। আজ তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। ভারতের এসব তরুণ আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বন্দিরা আমাদের সহযোদ্ধা। তাদের সাহস পুরো দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে। আমরা অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি লেখেন, ‘‘ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে আমাদের বার্তা: বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম আপনাদের পাশে আছে। শক্ত হোন, একে অপরকে রক্ষা করুন, সাম্প্রদায়িক ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করুন এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষা করুন।’’
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে শহীদ ওসমান হাদীর রাজনৈতিক আদর্শ, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন এবং তাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধ থাকলেও তার মৃত্যুর পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লেখেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের তাকে ওই আসনে নির্বাচন না করার জন্য বলেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, তখন শহীদ ওসমান হাদী বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন রাশেদ খাঁন।
জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন লেখেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট এবং জুলাইকে কুক্ষিগত করার মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি আমাদের সকলের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যখন বলে, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদীর লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন তো আর বলতে বাকি থাকে না, জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়, সেই নোংরা প্লান থেকেই গাঁজাখোর নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এমন মন্তব্য করেছে।’
রাশেদ খাঁন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে সংগ্রাম করেছেন। এ কারণে তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়েও পোস্টে নিজের মতামত তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরদের কিছু বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির কবর দেওয়া নিয়ে বিতর্ক করা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আজকে সকালে শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা হচ্ছিলো, তিনিও বললেন, ‘যেসময় কেউ কথা বলতো না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন, একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত না।’
আমিও শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে এক মত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদীকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করবো, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম
মাল্টা, পোলাওয়ের চাল, ডিমসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। দ্রব্যমূল্য বাড়ার জন্য অসাধু সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন তিনি। অভিযোগ করেছেন, আবারও অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম পোস্টে লেখেন, দুই মাস ধরে প্রতি কেজি মাল্টা ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমদানির নথি অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন খরচ ও মুনাফা যোগ করেও প্রতি কেজির সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
মাল্টার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ–সংকটের কথা বলা হলেও আমদানির তথ্য তা সমর্থন করে না, লেখেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দেওয়া হিসাবে, গত বছরের জুলাই–সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। এরপরও দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় গত দুই মাসে জনগণের কাছ থেকে অসাধু সিন্ডিকেট কয়েক শ কোটি টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।
নাহিদ ইসলাম পোস্টে আরও লিখেছেন, ১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। শুধু পোলাওয়ের চাল থেকেই গত তিন মাসে আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা, এখন তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে পোস্টে লেখেন নাহিদ। তাঁর মতে, মুরগির খাবারের দাম বাড়ার যুক্তি দেখানো হলেও সেই বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা। বেড়েছে পাঁচ টাকা।
১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কয়েক দফা বাড়ানোর পরও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এনসিপির এই নেতা। আমদানি পর্যাপ্ত। তাহলে প্রতিদিন অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম।
ফ্যাসিবাদী আমলের মতো দেশ আবার সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।