জবির নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। শিক্ষার্থীদের অভিনয় দেখে তাদের শিক্ষার্থী নয়, বরং পেশাদার শিল্পী মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চার দিনব্যাপী নাট্য প্রদর্শনীর সমাপনী আয়োজনে ‘ধাবমান’ নাটকের প্রদর্শনী শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নাট্য প্রদর্শনী দেখে অনুভূতি ব্যক্ত করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “এই নাটকে একদম মস্ত বড় ফিলোসফিক্যাল মেসেজ ছিল, মজা ছিল, আর অসাধারণ মিউজিক ছিল।”
নাটকের সঙ্গে দর্শকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “নাটক ওইটাই হয়, যা আমরা যখন দেখি, আমরা ভুলে যাই যে এটা নাটক হচ্ছে। এটা মনে হচ্ছে একটা সত্যি কিছু হচ্ছে।” নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে দর্শকদের হাসি ও আবেগের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি দেখছিলাম অনেকটা কান্নার দৃশ্য, চোখে জলও বেরচ্ছিল। এটাই হচ্ছে আসল জীবন।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিনয়ের প্রশংসা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আপনারা মনে হচ্ছে না স্টুডেন্ট, এমনি মনে হচ্ছে প্রফেশনাল।” তিনি জানান, নাটক দেখতে চাওয়ার কথা তিনি তাঁর স্টাফদের জানিয়েছিলেন এবং এদিন সেই সুযোগ পেয়েছেন। প্রদর্শনী দেখতে এসে তাঁর ভালো লেগেছে বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের নাটক দেখতে আবারও আসার আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “যখন আপনার নাটক হবে আমাকে নিশ্চয়ই বলবেন, আমি নিশ্চয়ই আসবো।” পরে তিনি আয়োজকদের শুভকামনা জানান।
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের উদ্যোগে এ চার দিনের নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হয় ‘যৌবতী কন্যার মন’ এবং ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হয় ‘ধাবমান’। ‘যৌবতী কন্যার মন’ নির্দেশনা দেন আফরিন হুদা তোড়া এবং ‘ধাবমান’ নির্দেশনা দেন কৃপাকণা তালুকদার।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা, সহকারী অধ্যাপক কামলউদ্দিন কবির, সহকারী অধ্যাপক ক্যাথরিন পিউরিফিকেশনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাট্যব্যক্তিত্বরা।
সমাপনী বক্তব্যে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা চার দিনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
চার দিনের এ আয়োজনে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিনয় ও প্রযোজনার মাধ্যমে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নাট্যকর্ম দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ধারাবাহিক এ প্রদর্শনী বিভাগের শিক্ষার্থীদের মঞ্চচর্চা ও প্রযোজনাভিত্তিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে মাদক সেবনের সময় তিন কলেজছাত্রকে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ক্যাম্প পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম এলাকায় এক অভিযানে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ক্যাম্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডেইরি ফার্ম এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে মাদক সেবন করতে দেখতে পাওয়া যায়। তিনজনকে হাতেনাতে ধরলেও একজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। আটক তিনজনের কাছ থেকে গাঁজাসহ মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক তিনজন ও পালিায়ে যাওয়া ব্যক্তি- চারজনই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ সাইফুল হক বলেন, প্রক্টর স্যারের মাধ্যমে জানতে পারি ডেইরি ফার্মের একটি নির্জন জায়গায় কয়েকজন নিয়মিত গাঁজাসহ মাদক সেবন করে। এর আগেও অভিযান চালানো হলে তাদের দেখা পাওয়া যায়নি। আজকে বেলা ১১টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সাথে অভিযান চালানো হয়। এসময় তাদের চারজনকে দেখতে পাই। একজন ব্যাগ রেখে দৌড়ে পালাতে সক্ষম হলেও তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিনব পদ্ধতিতে মাদক সেবনের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা এক বোতলে দুই ছিদ্র করে হুক্কার মতো করে মাদক সেবন করে। বোতলের নিচে ছিদ্র করে পাইপে মাদকের স্টিক ঢুকিয়ে পানি দিয়ে অর্ধেক ভর্তি করে। পরে উপরের দিকে একটা ছিদ্র করে। ছিপি বন্ধ করে উপরের ছিদ্র দিয়ে হুক্কার মতো করে টানে। অবাক করা বিষয় এরা মাত্র কলেজের শিক্ষার্থী। পরে আটক তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম বলেন, ডেইরি ফার্ম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজকে ধরা ধরা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করে। যে ব্যাগ রেখে পালিয়ে গেছে, তার ব্যাগের মধ্যে মাদকের সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, তারা মাত্র কলেজে পড়াশোনা করছে। এদের অনেকের অভিভাবক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছে। বিষয়টি আসলেই হতাশাজনক।
প্রক্টর আরও বলেন, আটক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সামনে এ ধরনের কাজ না করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে লিখিতভাবে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা সন্তানদের নিয়মিত কাউন্সেলিং ও নজরদারিতে রাখেন।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলন্ত শাটলে বসা অবস্থায় এক ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরেই এমন ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন গেটের সামনে চলন্ত শাটলে থাকা এক ছাত্রীর কান থেকে দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তি শাটলের পাশে এসে মুহূর্তের মধ্যে দুল ছিনিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার। তার প্রশ্ন, ক্যাম্পাসের ভেতরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াতের সময়ও যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কোথায়?
ভুক্তভোগী সানজিদা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে হলের বাইরে বের হতেও ভয় লাগছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সানজিদা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিট থেকে ৭টা ২৬ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক তোরণ গেট থেকে ক্যাম্পাসের দিকে শাটলে করে যাচ্ছিলেন। শাটলটি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন গেটের সামনে পৌঁছালে সাদা জামা পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে শাটলের পাশে আসেন। এরপর হঠাৎ তার কান থেকে টান দিয়ে একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেন। পরে দ্রুত ভিসি চত্বরের দিকে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সানজিদা বলেন, ‘শাটলটি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠের গেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সাদা জামা পরিহিত এক ব্যক্তি বাইক নিয়ে আমার কান থেকে টান দিয়ে একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেন। পরে দ্রুত ভিসি চত্বরের দিকে পালিয়ে যান।’
হঠাৎ কান থেকে দুল টান দিয়ে নেওয়ায় শারীরিকভাবে আহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তার। কান ছিঁড়ে যেতে পারত- এমন আতঙ্ক এখনো কাটেনি। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে চলাফেরায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
সানজিদা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে, তাও আবার চলন্ত শাটলে এরকম ঘটনা ঘটল। আমার হয়তো ভাগ্য ভালো ছিল, কান ছিঁড়ে যায়নি। এখন তো ক্যাম্পাসে বের হতেই ভয় লাগছে। এর সমাধান আদৌ হবে কি না, জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের একদম ভেতরে এ ঘটনা মানতেই পারছি না। ঘটনার পর থেকে হলের বাইরে যেতেও ভয় লাগছে।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন।
তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে আমার এখনো সরাসরি কথা হয়নি। তবে আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
এদিকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর। তার ভাষ্য, ‘ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এআই ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উপাচার্য বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছেন।’
তবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালুর উদ্যোগের মধ্যেই ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন ঘটনার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হলসংলগ্ন সড়ক ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম শাটল। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হয়ে চলাচল করা এই পরিবহনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্দায় চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে চলচ্চিত্র কীভাবে সংরক্ষিত হয়, পুরোনো সিনেমার উপকরণ কীভাবে রক্ষা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চলচ্চিত্রের ইতিহাস কীভাবে ধরে রাখা হয়, এসব বিষয়ে বাস্তব ধারণা নিতে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ পরিদর্শন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষক লাবিব নাজমুছ ছাকিবের সমন্বয়ে এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ফিল্ম মিউজিয়াম, ভল্ট, ডিজিটাল ল্যাব ও লাইব্রেরি ঘুরে দেখেন। এসব স্থানে চলচ্চিত্র সংরক্ষণ, পুরোনো চলচ্চিত্রের সংরক্ষিত উপকরণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চলচ্চিত্র রক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অভিনীত ও পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ধ্রুব’ উপভোগ করেন। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র: ঐতিহ্য, সংরক্ষণ ও সমকালীন প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। আলোচনায় আরও অংশ নেন পরিচালক ফারহানা রহমান, উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং উপপ্রকল্প পরিচালক মো. রুবেল রানা।
সেমিনারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য, চলচ্চিত্র সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং সমকালীন চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়।
সেমিনারের পর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের আগ্রহ, অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথা জানান।
শিক্ষার্থীদের জন্য এ আয়োজন শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংরক্ষণ ও আর্কাইভ ব্যবস্থাপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিনের ছবি ও পদবি ব্যবহার করে তার নামে ভুয়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খোলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, কে বা কারা আমার ছবি ও পদবি ব্যবহার করে আমার নামে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার প্রকৃত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি একটি এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেটিই ব্যবহার করে আসছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তার ছবি ও পদবি ব্যবহার করে খোলা এসব আইডির মাধ্যমে কেউ প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "আমি ইতোমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছি।"
ভুয়া আইডি থেকে কোনো ধরনের বার্তা, তথ্য বা যোগাযোগ করা হলে তা বিশ্বাস না করার এবং সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জবি উপাচার্য।
কুবিতে টেকসই ও সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়তে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কর্মশালা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞজনদের নিয়ে ‘ডেভেলপিং স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর সাসটেইনেবল গ্রিন ক্যাম্পাস অব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়
আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও আইকিউএসি'র পরিচালক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।
এছাড়া কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আহসান হাবিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী এবং অর্থনীতি শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ।
বিশেষজ্ঞরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্জ্যব্যবস্থাপনা, বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে ক্যাম্পাস সবুজায়ন, আশেপাশের পর্যটনশিল্পের কারনে পরিবেশের উপর তৈরী চাপ কমাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পাহাড়ি ভূমি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনের শুরুতেই পরিবেশবিষয়ক শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ফার্মেসি ও রসায়ন গবেষণাগারের কেমিক্যালযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলা বন্ধ করা এবং সৌর প্যানেল বা ব্যাটারি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থের বিষাক্ততা এড়াতে সুসংহত দীর্ঘমেয়াদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।"
এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি ও কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনার পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্দিষ্ট কিছু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি)দিকে গুরুত্ব দেওয়া কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, 'ক্যাম্পাসে যানবাহনের ধোঁয়া, কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে ইলেকট্রিক কার ব্যবহারের আয়তায় আনতে হবে। পাশাপাশি যদি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় গাছ দিয়ে বৃক্ষ রোপনকে কোর্সের আওতাভুক্ত করা যায় তাহলে জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে অনেকাংশে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করে একটি কার্যকর মডেল তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও চাহিদাকে বুঝে তাঁদের সঠিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই পরিবেশ সংরক্ষণের যে কোনো উদ্যোগ সফল করার চেষ্টা করতে হবে।'
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, 'এই পৃথিবী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে আমরা ঋণ হিসেবে পেয়েছি। তাই আগামী বহু বছরের কথা চিন্তা করে পৃথিবী রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শুধু পরিবেশগত সচেতনতা থাকলেই চলবে না, পলিথিন বর্জনের মতো ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য অনুপ্রেরণাও প্রয়োজন এবং বালতির পানি ব্যবহারের প্রতি জোর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে পরিবেশ রক্ষায় একযোগে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।'
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, প্রফেসর সৈয়দুর রহমান স্যারের ফ্রেমওয়ার্ক উপস্থাপনা থেকে আমরা টেকসইতার যে ধারণা পেয়েছি, তার তিনটি দিক রয়েছে—অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত, যা টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার উল্লেখিত ৩R (Reduce, Reuse, Recycle) এর সাথে আরেকটি R যুক্ত করতে হবে , তা হলো Repair। ফলে টেকসই পরিকল্পনা আরো ভালো ভাবে বাস্তবায়িত হবে। আমাদের গ্রিন ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের জন্য পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য, টেকসই পরিবহন ও সবুজ অবকাঠামো নির্মাণের উপর অত্যাদিক জোর দিতে হবে।'
উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, 'আইকিউএসি নির্দেশকের প্রস্তুতকৃত ফ্রেমওয়ার্ক স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা শিক্ষার্থীদের দ্রুত একটি টেকসই গ্রিন ক্যম্পাস উপহার দিতে পারব। তাই আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।'
নোবিপ্রবিতে এনএসটিইউ সাইন-এর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনএসটিইউ স্পেশাল হেল্প এন্ড ইনক্লুসিভ নেটওয়ার্ক ফর এডুকেশন’ (NSTU SHINE)-এর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাবেক নেতৃত্ববৃন্দ সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগসমূহকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অন্য সবার মতোই স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা গ্রহণ, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হয়, যখন সেখানে প্রত্যেকের মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।"
তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোনো শিক্ষার্থীকে সহানুভূতির চোখে নয়, বরং সমমর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন একজন শিক্ষার্থী হিসেবে দেখতে হবে। গত তিন বছরে এ সংগঠনটি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক মেলবন্ধন এবং আত্মউন্নয়নে যে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ সময় একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সংগঠনের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, "বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই সংগঠনের পথচলা, যা আজ তিন বছরে পদার্পণ করলো। এই তিন বছরে আমরা শিক্ষা সহায়তা, মেধা বৃত্তি প্রদান, শ্রুতিলেখক সংবর্ধনাসহ ক্যাম্পাসকে প্রতিবন্ধীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।" বক্তব্য শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন এবং উপাচার্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।
সংগঠনের উপদেষ্টা ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুবাইয়ান আসিফ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তাসনীম আলমের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংগঠনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অন্যান্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমস্যার সমাধানভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রতিযোগিতা ‘সমতার পথে’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় সেরা সমাধান দেওয়া ৩ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উল্লেখ্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক মেলবন্ধন এবং আত্মউন্নয়নে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।