রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হল

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৫ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে বিষধর সাপে কামড় দিয়েছে। আজ রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই কক্ষ থেকে প্রায় তিন ফুট লম্বা পাতি কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থী নূরনবী ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


নূরনবীকে বিষধর সাপে দংশনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, ভোরে বিষধর সাপের দংশনে আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাঁকে ‘কমন ক্রেইট’ বা পাতি কালাচ সাপ দংশন করেছে। তাঁকে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় উন্নত এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।


হল সূত্রে জানা যায়, ভোরে নিজের কক্ষে বিছানায় ঘুমাচ্ছিলেন নূরনবী। এ সময় একটি সাপ বিছানায় উঠে তাঁর পায়ে কামড় দেয়। তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে সহপাঠীদের জানান। পরে সহপাঠীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান।


ঘটনার পর ওই কক্ষ থেকে প্রায় তিন ফুট লম্বা পাতি কালাচ সাপটি উদ্ধার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্য প্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোয়ান।


সোয়ানের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ বলেন, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত হলের ওই কক্ষে যান। পরে প্রায় তিন ফুট লম্বা কালাচ সাপটি উদ্ধার করেন তাঁরা। কক্ষ অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো থাকলে এসব সাপের উপদ্রব বাড়তে পারে। কালাচ সাধারণত উষ্ণতার খোঁজে মানুষের বিছানায় উঠে আসে এবং শরীরের সংস্পর্শে এলে দংশন করতে পারে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর নূরনবীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে।




  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। 


রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব কাজের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন।


উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আজম খান, হলের আবাসিক ও সহকারী আবাসিক শিক্ষক, প্রধান প্রকৌশলী এবং হল শিক্ষার্থী সংসদের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


উন্নয়নকাজের উদ্বোধন শেষে উপাচার্য হলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় হলের অবকাঠামো, আবাসিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সেগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।


মতবিনিময়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারণ এবং হলের পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।


অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদ।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কৃষি গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই কৃষিতে শিক্ষার্থীদের সংযোগ স্থাপনে ‘ফিউচার হারভেস্ট সামিট–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ‘ইবি আইএএস বাংলাদেশ’ ও ‘ক্বামারুন এগ্রো ফার্ম’–এর যৌথ উদ্যোগে সামিটটি অনুষ্ঠিত হয়।


এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের সার্ক অঞ্চলের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. মো. সামিউল ইসলাম, কাজী কনসালট্যান্টসের অধ্যাপক এস. এম. আরিফুজ্জামান এবং চিত্ত মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানা। 


‘গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংযোগে টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সামিটে অতিথিরা ইনোভেশন, সাস্টেনিবিলিটি ও নেটওয়ার্কিং–কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য দেন।


সামিটে গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের সার্ক অঞ্চলের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বলেন, তরুণদের শুধু সনাতন কৃষিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বিশ্বমানের জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই কৃষিতে নেতৃত্ব দিতে হবে।


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়পর্যায়ের গবেষণাগারের উদ্ভাবনগুলোকে কেবল কাগজের গবেষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অণুজীববিজ্ঞানের ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।


প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. মো. সামিউল ইসলাম বলেন, কৃষি খাতকে সচল ও লাভজনক রাখতে হলে অ্যাগ্রো-ইকোনমি ও এগ্রো-বিজনেসকে প্রাধান্য দিতে হবে। নতুন উদ্যোগ ও স্টার্টআপগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।


কাজী কনসালট্যান্টসের অধ্যাপক এস. এম. আরিফুজ্জামান বলেন, দক্ষ তরুণ সমাজই পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে কৃষিখাতের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক গাইডলাইন ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া মেলবন্ধন।


চিত্ত মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানা বলেন, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ ও সফল গল্পগুলো মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রচার ও সঠিক বিপণন ব্যবস্থা নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে।


আয়োজকরা বলেন, এই উদ্যেগে শিক্ষার্থীদের থেকে ভালো রেসপন্স পাচ্ছি অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং অংশগ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এধরনের সামিট আরো আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ নির্মাণ, গবেষণাকে মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবনে রূপান্তর করে কৃষিভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এ সামিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা রাখছি।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩১ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে 'ক্যারিয়ার গাইডলাইন অ্যান্ড ফিউচার প্লানিং' শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন একাডেমি ভবনের ৪৩৫ নং রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে ড. আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্করের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিকস ক্লাবের সভাপতি ড. আব্দুল জলিল পাঠান, অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরিফ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিকস বিভাগের সাবেক সফল শিক্ষার্থী সুরভী খন্দকার, শাকিল আহমেদ, মো. সাগর হোসেন, সোহাগ হোসাইন, মো. ইসমাইল হোসেন সহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীবৃন্দ। 


এসময় সাবেক সফল শিক্ষার্থীরা বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভালো ক্যারিয়ার গোছাতে নানান দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।


অনুষ্ঠানে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্কর বলেন, “বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে একজন শিক্ষার্থীর জন্য শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সঠিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনা দক্ষতা উন্নয়ন, যোগাযোগ সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তবমুখী প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”


তিনি আরও বলেন, ‎‎“অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরি, ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গবেষণা, উন্নয়ন সংস্থা, কর্পোরেট খাত, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং উচ্চশিক্ষাসহ নানা ধরনের ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে। তবে এসব সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের আগ্রহ যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং একটি সুপরিকল্পিত ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।”


ইকোনমিকস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল পাঠান বলেন, “কোভিড-১৯, বিশ্বময় সংঘাত ও বাংলাদেশের রাজনীতির বিবর্তনের বাস্তবতায় এবং বিশ্বব্যাপি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় বর্তমান প্রজন্মকে সক্ষম করে তুলতে বিভাগের এবং অর্থনীতি ক্লাবের সমন্বয়ে নেয়া ধারাবাহিক শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ক্যারিয়ার গাইড বিষয়ক সেমিনারটি একটি নতুন সংযোজন  যা শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে সক্ষম করে তুলবে।”


ইকোনমিকস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান শাহ বলেন, “একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শুধু স্বপ্ন দেখাই যথেষ্ট নয়। সেই স্বপ্ন কে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক প্রস্তুতি এবং কঠোর পরিশ্রম। আজকের সম্মানিত বক্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আমাদের সেই পথকে আরও সুস্পষ্ট করবে।”


  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সংলগ্ন এলাকায় মুঠোফোনে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদক মো. সুমন খান মিরাজকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। 


শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।


জানা যায়, আটককৃত যুবকের নাম মো. সুমন খান মিরাজ। তিনি কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদক এবং তার স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালী জেলার বদরপুর এলাকায়।


প্রত্যক্ষদর্শী ও জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, শনিবার রাতে জবির ২ নম্বর গেটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। ওই সময় মিরাজ মোবাইলে অন্য কারোর সঙ্গে সন্দেহজনক কথোপকথন করছিলেন। মোবাইল ফোনে তিনি দ্রুত ককটেল, ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে আসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে তা টাঙানো ও ককটেল ফাটানোর নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তার এই চক্রান্ত টের পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক তাকে ঘিরে ফেলে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মিরাজ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলা হয়।


পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত স্মার্টফোন তল্লাশি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশের ছবি পাওয়া যায়। আটকের পর তাকে সাময়িকভাবে জবির নিরাপত্তা কক্ষে রাখা হয়।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত জবি ছাত্রদল নেতা সোলায়মান খান সাগর বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন দেখলাম, একজন ছেলে ফোনে কাউকে বলছে। আশপাশে কেউ নেই, ককটেল ও পোস্টার নিয়ে আসতে। এটা শুনে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে আটক করে তার ফোনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিলের ভিডিও পাওয়া যায়। আমরা তারপর কোতোয়ালি থানা পুলিশকে ফোন দিয়ে তাদের কাছে হস্তান্তর করি।”


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, “রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরে ফোন পেয়ে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি, নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের একজন কর্মী ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ ও ব্যানার-সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হয়েছেন। এরপর আমি পুলিশকে ফোন দিই। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। আগামীকাল বিস্তারিতভাবে বলতে পারব।”


ঘটনার বিষয়ে জানতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম রবিউল ইসলামের মুঠোফো


  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ এএম

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদে র‍্যাগিংয়ের নামে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। 


শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের হামলা ও মারধরের করেন উক্ত বিভাগেরই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।


উক্ত ঘটনায় অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর একজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


জানা যায় ভেটেনারি অনুষদের ডিভিএম ৩১ ব্যাচের (২০২৪-২৫)  কয়েকজন শিক্ষার্থী ৩২ ব্যাচের(২০২৫-২৬) জুনিয়রদের ওপর র‍্যাগিংয়ের নামে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 


অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় ৩১ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী জুনিয়রদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলছিলেন। এ সময় ৩২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মিনহা এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘ভাই, বাবা-মাকে নিয়ে গালি দিচ্ছেন কেন?’ এরপরই কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে জুনিয়রদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।


এ ঘটনায় ৩১ ব্যাচের হুমায়ুন, পার্থ, সিফাত, গালিব, শান্ত, আশিকুর, নাইম, অমি, মাহিন ও মিনহাজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


হামলায় গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


ভুক্তভোগী জুনিয়র শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে র‍্যাগিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। র‍্যাগিংয়ের নামে মানসিক চাপ, অপমান ও শারীরিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও তারা জানান।


এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


ভিসিকে 'লাল কার্ড' দেখালেন শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য (ভিসি) আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। 


আজ শনিবার সকাল থেকেও দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে।


সকালে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের উদ্দেশে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তাঁর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিও চলছে।


গতকাল শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, বিক্ষোভে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাঁকে সাদরে ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।


নতুন উপাচার্যের এ বক্তব্য প্রকাশের পর আজ সকালে এর প্রতিবাদে ‘প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে করে একই জায়গায় শেষ হয়। 


এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি, মানব না, মানব না’ স্লোগান দেন।


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে চলমান আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে নতুন উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে।


মিছিলে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’


২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। 


এর প্রতিবাদে ওই দিন রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তাঁরা শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হিসেবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের কথা জানানো হয়েছে।